somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুরে এলাম হাবারানা

২০ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন ধরেই জামিল স্যার হাবারানা ঘুরে আসার জন্য বলছিলেন। হাবারানাতে হাই ওয়ে কন্স্ট্রাকশনের যে কাজ চলতেছিল জামিল স্যার ঐখানে চীফ রেসিডেন্স ইন্জিনিয়ার হিসেবে আছেন। অবশেষে গত ২রা মে হাবারানা ঘুরে এলাম। সকাল ৭টায় আমরা বাসা থেকে কলোম্বর পেটাতে অবস্থিত হাইওয়ে বাস টার্মিনালের জন্য রওয়ানা হলাম।



ম্যাপে দেখুন কলোম্ব, হাবারানা, ট্রিন্কোমালি
পেটাতে পৌছে দেখি শ্রীলংকার হাইওয়ে বাস সার্ভিসের অবস্থা বড়ই শোচনীয়। ম্যাপে হাবারানার অবস্থান দেখুন। কলোম্ব থেকে ট্রিনকোমালি যাওয়ার বাস গুলাতে করে হাবারানা যেতে হয়। কলোম্ব থেকে হাবারানায় পৌছায় ৬ ঘন্টায় আর ট্রিনকোমালি যেতে আরও ৩ ঘন্টা। একেতো বাসের ভিতর খুবই কম জায়গা, তারপর আবার বাস ট্রিনকোমালি পর্যন্ত যাওয়ার জন্য মাত্র একবার থামে। আর সেই থামার জায়গাটা হলো হাবারানা:|।তাই পুরা ৬ ঘন্টা ননস্টপ যাত্রা:((

হাবারানাতে রোড কন্স্ট্রাকশন টিমের ক্যাম্পে জামিল স্যারের জন্য আলাদা একটা ক্যাম্প হাউস আছে। ক্যাম্প হাউস গুলো অস্থায়ী হলেও ভিতরে বাইরে খুব সুন্দর করে ডেকরেশন করা। মনেই হয়না এগুলো আবার ভেংগে ফেলা হবে। দুপুরে খেয়ে দেয়ে ঘুম দিলাম আর বিকালে ঘুম থেকে উঠে হাই ওয়ের পাশে সাফারী পার্ক দেখতে বের হলাম।



হাইওয়ের পাশে সাফারী পার্ক
হাবারানায় অনেক সাফারী টীম আছে যারা জীপ গাড়ীতে করে পর্যটকদের সাফারী পার্ক ঘুরিয়ে দেখায়। আমরাতো জামিল স্যারের গাড়ীতেই ঘুরছিলাম। আর আমাদের গাইড হিসেবে ছিল জামিল স্যারের সিংহলিজ ড্রাইভার। সাফারী পার্কে দেখার মতো উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বন্য হাতী। অনেক সময় হাতী গুলো হাই ওয়ের উপর চলে আসে। আবার অনেকেই হাতী দেখতে পায়ানা। কারণ বাশীর ভাগ সময় হাতী গুলা পাহাড়ের উপর থাকে।

যাই হোক আমাদের গাইড কাম ড্রাইভার আমাদের হাতী দেখানোর জন্য দৃড় প্রতিগ্গ। কিন্তু যাওয়ার সময় কোন হাতী না পেয়ে তাকে হতাশই মনে হলো। তবে ফেরার সময় একটা হাতী পাওয়া গেল। কিছুক্ষণ পর আরও একটা। এবার তাকে বেশ সফল মনে হল।

আসার সময় যেহেতু বাসে অনেক কষ্ট হইছিল তাই যাওয়ার সময় ট্রেনে যাবো বলে ঠিক করলাম আর সেজন্য সাফারী পার্ক থেকে ফেরার পথেই হাবারানা স্টেশনে ঢু মেরে গেলাম।



হাবারানা স্টেশনে লংকান ডাব
স্টেশন দেখে আমাদের গ্রাম এলাকার চায়ের দোকানের কথা মনে পরে গেল। স্টেশন মাস্টার একটা লুংগী আর একটা গেংজী পড়ে ছিল। আর তার স্টেশনের সামনে এই ডাব গুলা ঝুলতেছিল। স্টেশন মাস্টারের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম পরের দিন দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে একটা ট্রেন পাওয়া যাবে। যাই হোক রাতে আমরাই খিচুড়ী রান্না করলাম। এরই মধ্যে আমার কলিগ মেহেদী ভাই ক্যাম্পের ভিতরে একটা সুইমিং পুলের সন্ধান পেয়ে একচোট ঝাপাঝাপি করে এল। ওখানেই আমাদের সেই শ্রীলংকান বন্ধু সুনেতের সাথে পরিচয় হয়।



হাবারানা ক্যাম্পের ছোট্ট সুইমিং পুল
সকালে উঠে নাস্তা খেয়েই পুলে নেমে গেলাম। পুলের অন্য পাশে কাটা তার দিয়ে ঘেরা উচু পাহাড়ী জায়গা দেখা যাচ্ছিল। পুল থেকে উঠে ঐ পাহাড় দেখতে গেলাম। উপরে উঠে তো দেখি এত্ত সুন্দর:)




পাহাড়ের উপরে উঠে













এই ছবিটাতে অনেক দূরে হালকা যেই পাহাড় ২টা দেখতে পাচ্ছেন তার মধ্যে ছোটটা হল সিগিরিয়া। এই সিগিরিয়া অনেক বিখ্যাত একটা দূর্গ। রাজা কসপ্পা (৪৭৭-৪৯৫) এর আমলে এটি তৈরী হয়।

দূর থেকে সিগিরিয়া দেখে আরও কাছে থেকে দেখার ইচ্ছা হল। তাই ট্রেনে যাওয়ার যে পরিকল্পনা আগের দিন করছিলাম সেটা বাদ দিলাম। কিন্তু সিগিরিয়া দেখার জন্য সারাদিন সময় হাতে থাকতে হয়। পাহাড়ের ভিতরে গুহা আর উপরে দেখার অনেক কিছু আছে। কিন্তু আমাদের হাতে সময় কম। আজই ফিরতে হবে কারণ কাল সকালে অফিস। অবশ্য জামিল স্যার বললেন পাহাড়ে না উঠে চারপাশেও দেখার মত অনেক কিছু আছে।

দুপুরের খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলাম সিগিরিয়ার উদ্যেশ্যে। যাওয়ার সময় রাস্তা টা খুব সুন্দর ছিল। দুইপাশে ঘন গাছপালা মাঝে চিকন রাস্তা। সিগিরিয়ার যাওয়ার পথেই একটা বিখ্যাত টেম্পল। এর বৌদ্ধ পুরহিত আবার আমাদের ড্রাইভারের বাল্য বন্ধু। ছোট বেলায় ২জন একসাথেই পড়ত। কিন্তু আমাদের ড্রাইভার ধর্মীয় লাইনে না পড়ে পালিয়ে গেছে।



সিগিরিয়ার আগে সেই টেম্পল(নাম ভুলে গেছি)



টেম্পলের সামনে জামিল স্যার, আমার ২ কলিগ, ড্রাইভার আর বোদ্ধ পুরহিত



গাড়ী থেকে সিগিরিয়ার প্রবেশ পথ



সিগিরিয়ার চূড়া


সিগিরিয়া দেখলাম কিন্তু বাহির থেকে (দুধের সাধ ঘোলে মেটানো আরকি)।
ভিতরে যাওয়ার ইচ্ছাটা অপূর্ণই রয়ে গেল।


আসার পথে একটা পাগলা হাতিকে শিকলে বাধা অবস্থায় দেখলাম



লং জার্নির আগে ফ্রেশ হওয়ার জন্য একটা রেস্ট হাউসে থেমেছিলাম। এগুলা সেই রেস্ট হাউসের সামনে ছিল

জামিল স্যার আমাদের ডাম্বুলা বাস স্টেশনে বাসে উঠিয়ে দিলেন। তবে এবার আর টানা ৫ ঘন্টা জার্নি করতে হয়নি। বাসটি মাঝপথে একবার থেমেছিল।



আসার সময় যাত্রা বিরতিতে হাইওয়েতে চলমান মটর বাইকের ছবি।




সিগিরিয়ার আরও ছবি
উইকিপিডিয়ায় সিগিরিয়া

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৫২
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×