প্রহসনের দিকে এগোচ্ছে সরকার : ড. কামাল

১১ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:১৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

নির্বাচনের নামে প্রহসনের দিকে এগোচ্ছে সরকার : ড. কামাল
সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নমনীয় মনোভাব এবং নতুন নির্বাচনী আইন শিথিল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দরকষাকষির কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন-ইসির কঠোর সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। তিনি সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, 'সাংবিধানিক পদ গ্রহণ করে কীভাবে একজন দরকষাকষি করতে পারেন? আইনের প্রয়োগে কি দরকষাকষির কোনো সুযোগ আছে?'
সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব বিরাজ করায় বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১/১১-পরবর্তী সংস্কার কর্মসূচির অন্যতম সমর্থক ড. কামাল এ কথা বলেন। এখন পর্যন্ত আগামী ১৮ ডিসেম্বর ওই নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের 'পাইকারি হারে' জামিন দেওয়া, নির্বাচনী আইন ও রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নীতিমালা শিথিল করা এবং যথাযথভাবে আইন প্রয়োগ না করা নিয়ে প্রখ্যাত এই আইনজ্ঞ হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশনের হেরে যাওয়া উচিত হবে না। তাদের অবশ্যই সফল হতে হবে।'
ড. কামাল বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০ মাস ধরে জনগণের সমর্থন পেয়ে আসছে। তবে এখন মনে হচ্ছে তারা যেন যেতে পারলেই বাঁচে। এখন তারা নির্বাচনের নামে প্রহসনের দিকে এগোচ্ছে। এটি কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।'
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল বলেন, ইসির পুনর্গঠন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কমিশন সচিবালয় আলাদা করা, নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিভক্তি দূর করা এবং ডিজিটাল ভোটার তালিকা তৈরির প্রস্তুতির জন্য তাঁরা কমিশনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন চাপের মুখে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন ও অন্যান্য বিষয়ে তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছে। এ ক্ষেত্রে তারা বলছে, নির্বাচনের স্বার্থে তারা ছাড় দিচ্ছে। এটি কাঙ্ক্ষিত নয়।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর গৃহীত সংস্কার কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, আইনকানুন মেনেই একজনকে নির্বাচনী দৌড়ে অংশ নিতে হবে। তিনি হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন বেঞ্চে দুই শর বেশি সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজকে জামিন দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তুলে বলেন, 'আইন পেশায় আমার ৫০ বছরের কর্মজীবনে আমি এ রকম আর দেখিনি।' তিনি বলেন, এটি কীভাবে হলো তা তদন্তের দায়িত্ব তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিচার বিভাগকেই নিতে হবে। ওই গণজামিনের ঘটনার সার্বিক তদন্তের দাবি জানিয়ে এই আইনজ্ঞ বলেন, জামিনের আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করা উচিত হবে না। আপিল বিভাগ এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে। তিনি দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের 'রাজনৈতিক বন্দী' হিসেবে মুক্তির দাবি জানানোর সমালোচনা করেন। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'তাঁরা মিথ্যা বলছেন, জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছেন। মিথ্যার জন্য তাঁদের অস্কার পুরস্কার দেওয়া উচিত।'
দাবি না মানলে বড় দুটি দল নির্বাচনে যাবে না বলে অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে চলেছে। তাদের এ আচরণের সমালোচনা করে ড. কামাল অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নিয়মকানুনের কথা তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, ডোপ টেস্টে ধরা পড়ার পর কি কোনো প্রতিযোগীকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়? বরং আয়োজকেরা এ ধরনের প্রতিযোগীর পুরস্কার জব্দ করেন, এমনকি তাদের আজীবনের জন্য ওই প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ করেন।

 

 

  • ৩ টি মন্তব্য
  • ৭২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ৪ জনের ভাল লাগেনি
১. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:১৮
comment by: আল-আমিন বলেছেন: কামাল সাহেবের মুখে এমন কথা মানায় না।
২. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৩০
comment by: ড. স্ট্যালিন আজাদ বলেছেন: দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের 'পাইকারি হারে' জামিন দেওয়া, নির্বাচনী আইন ও রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নীতিমালা শিথিল করা এবং যথাযথভাবে আইন প্রয়োগ না করা নিয়ে হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করছি।
১১ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৩২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

 



 


বাংলাদেশের মানুষ যতগুলো জাতীয় সম্পদ নিয়ে গর্ব করতে পারে সংস্কৃতি তার অন্যতম।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ২১৯৫৪