কিছুক্ষন আগে অমি রহমান পিয়ালের দ্বিতীয় বিপ্লব বা বাকশাল : শুনুন বঙ্গবন্ধূর মুখেই এর পোষ্টটি পড়লাম। আর যেহেতু ওনার ব্লগে আমি ব্লকড সেহেতু নতুন পোষ্ট না দিয়ে আমার মতামত জানাবার অন্য কোন উপায় ছিলনা।
লেখার শুরুতে বাকশান সম্পর্কে ভাল-খারাপ দুই ধরনের তথ্য প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করলেও শেষ পর্যন্ত অরপির লেখায় খারাপের 'খ' ও খুজে পাইনি।
"শেষ মেষ যা দাঁড়ালো তাতে বাকশালের ওপর আলাদা একটা বইই লিখে ফেলার মতো উপকরণ আমার হাতে। পক্ষে বিপক্ষে, প্রচার-অপপ্রচার, দোষত্রুটি, মূল্যায়ন সব মিলিয়ে।" -- অরপি
ভালদিকগুল তুলে ধরতে অরপি অনেকে চেষ্টা করেছেন এবং অনেকাংশে সফল ও
১। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী উত্থাপন করেন যা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে। আর মজার ব্যাপার হল ৪র্থ সংশেধনী রোধকারী ও সামরিক শাসনের বইধতা দানকারী ৫ম সংশেধনী এখনকার হাইকোর্ট (২০০৯) বাতিল করলেও '৪র্থ সংশেধনী রোধ কৃত' অংশটি সংবিধান ও দেশের গনতান্ত্রীক ধারার সাথে সাংঘর্ষিক বিধায় তা অবমূক্ত করা হয় নি।
২।বাকশাল ব্যবস্থায় দলের চেয়ারম্যানই সর্বক্ষমতার অধিকারী। দলের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি হচ্ছে- কার্যনির্বাহী কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি, কাউন্সিল।
৩। চেয়ারম্যানের পরেই সবচেয়ে ক্ষমতা সম্পন্ন হচ্ছে, একজন সাধারণ সম্পাদক সহ ১৫ জন সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি। চেয়ারম্যান সাধারণ সম্পাদক সহ ১৫ জনকেই মনোনীত করবেন। ( বাকশাল গঠনতন্ত্রের দশম ধারার ২ উপধারা)।কেন্দ্রীয় কমিটির এক তৃতীয়াংশ চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হবেন ( দ্বাদশ ধারার ৪ (ঙ) উপধারা)।
৩। বাকশাল ব্যবস্থায় দলের সদস্য প্রাপ্তির ব্যাপারটিও দলের চেয়ারম্যানের ইচ্ছাধীন। কারণ কার্যনির্বাহী কমিটির হাতেই সদস্যপদ প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
৪। বাকশাল ব্যবস্থার অধীনে কোন অদলীয় শ্রেণী ও পেশাভিত্তিক সংগঠন এবং গনসংঠন করার কোন অধিকার নেই। ট্রেড ইনিয়ন মাত্রই তাকে বাকশালের অঙ্গদল শ্রমিক লীগের অন্তরর্ভুক্ত হতে হবে।
৫। বাকশাল ব্যবস্থায় দেশে বাকশাল চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত এক উপকমিটি দ্বারা মনোনীত না হলে কেউ মনোনীত হতে পাররে না (দশম ধারার ৭ উপধারা)। কিন্তু, এই দলের চেয়ারম্যান কিভাবে নির্বাচিত হবেন তার কোন উল্লেখ গোটা গঠনতন্ত্রে নেই।
৬। বাকশাল ব্যবস্থায় দেশে চারটি দৈনিক এবং ১শ' ২২টি সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা ছাড়া আর সকল সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়। ঐ চারটির তিনটি ছিল দৈনিক ছিল ইত্তেফাক, বাংলাদেশ টাইমস্, দৈনিক বাংলা।
এ থেকেই প্রতিয়মান হয় যে বাকশালের চেয়ারম্যানই মূলত সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হবেন আর কে না জানে এটা শুধু সৈরাচারী
শাসন ব্যবস্থাতেই সম্ভব। আর এ ভাবেই মুজিব ৫% কে হটিয়ে ৯৫% কে ক্ষমতাশীল করার অবাস্তব শপ্ন দেখেছিলেন। যে খানে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজের নিরংকুশ আধিপত্য স্থাপন করেছিলেন তিনি । অনেকে শেখ মুজিবের এই আত্নঘাতি পরিকলপনার কুশিলব হিসেবে, অস্তিত্বের তাগিদে আওয়ামিলীগে মিশে যাওয়া বাপপন্থিদের হাত ছিল বলে মনে করেন।
"আমার দেশের মাত্র ৫ পার্সেন্ট লোক ৯৫ পার্সেন্ট লোককে দাবিয়ে রাখছে, শাসন-শোষণ করছে। বাকশাল করে আমি ওই ৯৫ ভাগ মানুষের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক শাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তির ব্যবস্থা করেছি" - শেখ মুজিব।
" যারা বাকশালকে একদলীয় ব্যবস্থা বলেন, তাদের স্মরণ করতে বলি, ইসলামে ক’টি দল ছিলো? ইসলামী ব্যবস্থায় একটি মাত্র দলের অস্তিত্ব ছিলো, আর তা হলো খেলাফত তথা খেলাফতে রাশেদীন।" ---শেখ মুজিব।
--> মুসলিম ইতিহাসে হযরত মুহাম্মদ ( স: ) এর পর ন্যায় বিচার আর সততায় উজ্জ্বল আবুবকর ( রা: ), ওমর ( রা: ), ওসমান ( রা: ) ও আলী ( রা: ) সাথে তুলনীয় আর কেউই ছিলেন না, আর একারনেই তাদের মৃত্যুর সাথে সাথে খেলাফতে রাশেদীনের পতন ঘটেছিল। আর সম্পূর্ন শ্রদ্ধা ও সজ্ঞানেই বলছি ন্যায় বিচার ও সততায় মরহুম শেখ মুজিব খলিফায়ে রাশেদীনের নখের যোগ্যও ছিলেন না। আর সমাজতন্ত্রের বাস্তবিক উপযোগীতা যে শূন্য তা অরপি নিজেই স্বিকার করেছেন।
সকল একনায়কতন্ত্রের মেনিফেস্টোতেই সব সময় ভাল ভাল কথার ফুলঝুরিতে পূর্ন থাকে যার প্রমান হিটলারের নাযিজম থেকে শুরু করে হালের কর্নেল গাদ্দাফির মেনিফেস্টো ঘাটলেই পাওয়া যাবে। আর মুজিব প্রস্তাবিত বাকশালের উদ্দেশ্য সমূহ ও তা থেকে খুব আলাদা নয়। তাই বাইরের চেহারা দেখে নয় বরং এর সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র ও কাঠাম দেখেই এর কার্যকারিতা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকৃত ধারনা লাভ করা যায়।
যে দলের প্রাথমিক সদস্য হতেও পার্টি প্রধানের অনুমতি লাগে (পার্টি কিন্তু আবার এই একটাই ) সেখানে বিপরীত মতাদর্শের স্থান কি হত তা তৎকালীন তাজউদ্দিন আহমদের অবস্থা থেকেই অনুমান কারা যায়। সুতবাং বাকশল কিভাবে ৯৫% ভাগের প্রতিনিধিত্ব করত তা এক মাত্র বোকাদের পক্ষেই কল্পনা করা সম্ভব।
রেফারেন্স :
http://bn.wikipedia.org/wiki/ এখানে গিয়ে বাকশাল (bakshal) লিখে সার্চ দিন
রাজনীতির কথা প্রসঙ্গে, ---হায়দার আকবর খান রনো।
রাষ্ট্রের মালিকানা, ----সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৬:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



