somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাকশাল: অমি রহমান পিয়াল যা বলেছেন আর যা বলেননি

২০ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুক্ষন আগে অমি রহমান পিয়ালের দ্বিতীয় বিপ্লব বা বাকশাল : শুনুন বঙ্গবন্ধূর মুখেই এর পোষ্টটি পড়লাম। আর যেহেতু ওনার ব্লগে আমি ব্লকড সেহেতু নতুন পোষ্ট না দিয়ে আমার মতামত জানাবার অন্য কোন উপায় ছিলনা।

লেখার শুরুতে বাকশান সম্পর্কে ভাল-খারাপ দুই ধরনের তথ্য প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করলেও শেষ পর্যন্ত অরপির লেখায় খারাপের 'খ' ও খুজে পাইনি।

"শেষ মেষ যা দাঁড়ালো তাতে বাকশালের ওপর আলাদা একটা বইই লিখে ফেলার মতো উপকরণ আমার হাতে। পক্ষে বিপক্ষে, প্রচার-অপপ্রচার, দোষত্রুটি, মূল্যায়ন সব মিলিয়ে।" -- অরপি

ভালদিকগুল তুলে ধরতে অরপি অনেকে চেষ্টা করেছেন এবং অনেকাংশে সফল ও :) তাই আমি না হয় এর খারাপ দিকগুলই তুলে ধরলাম যাতে পাঠকরা পূর্ন চিত্রটা পান। তাহলে আসুন দেখি -

১। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী উত্থাপন করেন যা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে। আর মজার ব্যাপার হল ৪র্থ সংশেধনী রোধকারী ও সামরিক শাসনের বইধতা দানকারী ৫ম সংশেধনী এখনকার হাইকোর্ট (২০০৯) বাতিল করলেও '৪র্থ সংশেধনী রোধ কৃত' অংশটি সংবিধান ও দেশের গনতান্ত্রীক ধারার সাথে সাংঘর্ষিক বিধায় তা অবমূক্ত করা হয় নি। :) ফলে ৫ম সংশেধনী ঐ অংশটুকু এখনও বলবত :)

২।বাকশাল ব্যবস্থায় দলের চেয়ারম্যানই সর্বক্ষমতার অধিকারী। দলের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি হচ্ছে- কার্যনির্বাহী কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি, কাউন্সিল।

৩। চেয়ারম্যানের পরেই সবচেয়ে ক্ষমতা সম্পন্ন হচ্ছে, একজন সাধারণ সম্পাদক সহ ১৫ জন সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি। চেয়ারম্যান সাধারণ সম্পাদক সহ ১৫ জনকেই মনোনীত করবেন। ( বাকশাল গঠনতন্ত্রের দশম ধারার ২ উপধারা)।কেন্দ্রীয় কমিটির এক তৃতীয়াংশ চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হবেন ( দ্বাদশ ধারার ৪ (ঙ) উপধারা)।

৩। বাকশাল ব্যবস্থায় দলের সদস্য প্রাপ্তির ব্যাপারটিও দলের চেয়ারম্যানের ইচ্ছাধীন। কারণ কার্যনির্বাহী কমিটির হাতেই সদস্যপদ প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

৪। বাকশাল ব্যবস্থার অধীনে কোন অদলীয় শ্রেণী ও পেশাভিত্তিক সংগঠন এবং গনসংঠন করার কোন অধিকার নেই। ট্রেড ইনিয়ন মাত্রই তাকে বাকশালের অঙ্গদল শ্রমিক লীগের অন্তরর্ভুক্ত হতে হবে।

৫। বাকশাল ব্যবস্থায় দেশে বাকশাল চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত এক উপকমিটি দ্বারা মনোনীত না হলে কেউ মনোনীত হতে পাররে না (দশম ধারার ৭ উপধারা)। কিন্তু, এই দলের চেয়ারম্যান কিভাবে নির্বাচিত হবেন তার কোন উল্লেখ গোটা গঠনতন্ত্রে নেই।

৬। বাকশাল ব্যবস্থায় দেশে চারটি দৈনিক এবং ১শ' ২২টি সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা ছাড়া আর সকল সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়। ঐ চারটির তিনটি ছিল দৈনিক ছিল ইত্তেফাক, বাংলাদেশ টাইমস্‌, দৈনিক বাংলা।

এ থেকেই প্রতিয়মান হয় যে বাকশালের চেয়ারম্যানই মূলত সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হবেন আর কে না জানে এটা শুধু সৈরাচারী
শাসন ব্যবস্থাতেই সম্ভব। আর এ ভাবেই মুজিব ৫% কে হটিয়ে ৯৫% কে ক্ষমতাশীল করার অবাস্তব শপ্ন দেখেছিলেন। যে খানে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজের নিরংকুশ আধিপত্য স্থাপন করেছিলেন তিনি । অনেকে শেখ মুজিবের এই আত্নঘাতি পরিকলপনার কুশিলব হিসেবে, অস্তিত্বের তাগিদে আওয়ামিলীগে মিশে যাওয়া বাপপন্থিদের হাত ছিল বলে মনে করেন।

"আমার দেশের মাত্র ৫ পার্সেন্ট লোক ৯৫ পার্সেন্ট লোককে দাবিয়ে রাখছে, শাসন-শোষণ করছে। বাকশাল করে আমি ওই ৯৫ ভাগ মানুষের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক শাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তির ব্যবস্থা করেছি" - শেখ মুজিব।

" যারা বাকশালকে একদলীয় ব্যবস্থা বলেন, তাদের স্মরণ করতে বলি, ইসলামে ক’টি দল ছিলো? ইসলামী ব্যবস্থায় একটি মাত্র দলের অস্তিত্ব ছিলো, আর তা হলো খেলাফত তথা খেলাফতে রাশেদীন।" ---শেখ মুজিব।

--> মুসলিম ইতিহাসে হযরত মুহাম্মদ ( স: ) এর পর ন্যায় বিচার আর সততায় উজ্জ্বল আবুবকর ( রা: ), ওমর ( রা: ), ওসমান ( রা: ) ও আলী ( রা: ) সাথে তুলনীয় আর কেউই ছিলেন না, আর একারনেই তাদের মৃত্যুর সাথে সাথে খেলাফতে রাশেদীনের পতন ঘটেছিল। আর সম্পূর্ন শ্রদ্ধা ও সজ্ঞানেই বলছি ন্যায় বিচার ও সততায় মরহুম শেখ মুজিব খলিফায়ে রাশেদীনের নখের যোগ্যও ছিলেন না। আর সমাজতন্ত্রের বাস্তবিক উপযোগীতা যে শূন্য তা অরপি নিজেই স্বিকার করেছেন।

সকল একনায়কতন্ত্রের মেনিফেস্টোতেই সব সময় ভাল ভাল কথার ফুলঝুরিতে পূর্ন থাকে যার প্রমান হিটলারের নাযিজম থেকে শুরু করে হালের কর্নেল গাদ্দাফির মেনিফেস্টো ঘাটলেই পাওয়া যাবে। আর মুজিব প্রস্তাবিত বাকশালের উদ্দেশ্য সমূহ ও তা থেকে খুব আলাদা নয়। তাই বাইরের চেহারা দেখে নয় বরং এর সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র ও কাঠাম দেখেই এর কার্যকারিতা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকৃত ধারনা লাভ করা যায়।

যে দলের প্রাথমিক সদস্য হতেও পার্টি প্রধানের অনুমতি লাগে (পার্টি কিন্তু আবার এই একটাই ) সেখানে বিপরীত মতাদর্শের স্থান কি হত তা তৎকালীন তাজউদ্দিন আহমদের অবস্থা থেকেই অনুমান কারা যায়। সুতবাং বাকশল কিভাবে ৯৫% ভাগের প্রতিনিধিত্ব করত তা এক মাত্র বোকাদের পক্ষেই কল্পনা করা সম্ভব।

রেফারেন্স :

http://bn.wikipedia.org/wiki/ এখানে গিয়ে বাকশাল (bakshal) লিখে সার্চ দিন

রাজনীতির কথা প্রসঙ্গে, ---হায়দার আকবর খান রনো।
রাষ্ট্রের মালিকানা, ----সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৬:৫৪
৬১টি মন্তব্য ৪০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×