অনুসন্ধান:
cannot see bangla? সাধারণ প্রশ্ন উত্তর বাংলা লেখা শিখুন আপনার সমস্যা জানান ব্লগ ব্যাবহারের শর্তাবলী
স্বপ্ন বলেই সুন্দর তুমি
ভালবাসা বলেই এত কাছের
আমার না হয়েও আমার তুমি
বুকের গহীন মাঝে...
আর এস এস ফিড

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

আমার প্রিয় পোস্ট

যে বিশ্বাস নিয়ে একটা ছোট্ট শিশু হেসে ওঠে তাকে পরে ছুড়ে দেয়া হলে, তেমনি বিশ্বাস আমি করি তোমাকে। আমি জানি তুমি দুঃখ কখনও দেবেনা আমাকে।

রাখে আল্লাহ মারে কে!!!

২২ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ১:২১ |

শেয়ারঃ
0 0

লন্ডনের একটা ভয়ংকর বোকামীর গল্প আজ বলতে ইচ্ছা করছে। ২০০৭ সালের কথা। আমি ভীষন একা হয়ে পরেছিলাম। পরিচিত জনদের থেকে অনেক দূরে মোটামুটি বাঙ্গালী বিবর্জিত স্থানে বাস করি। মাঝেই মাঝেই মন খারাপ করে বসে থাকতাম। আমার সঙ্গী ছিল ইন্ডিয়ান এক মেয়ে। সে অনলাইনে চ্যাটিং করত। বড় ভদ্র মেয়ে ছিল। সকালে খুব ভোরে উঠে পড়তে বসত। কম করে ২ ঘন্টা পড়া-শুনার পর যেত ক্লাশে। ক্লাশ শেষে লাইব্রেরীতে বসে পড়া-শুনা করে ঘরে ফিরত। কিছু খেয়ে একটু বিশ্রাম করেই আবার পড়তে বসত। আর আমি ফাকিবাজ দিন ভর চুপচাপ বসে থাকতাম মন খারাপ করে। ক্লাশে যেতাম না। পড়া-শুনার তো ধার দিয়েও যেতাম না। ভাগ্য ভাল তখন পোষ্ট গ্রেডের ছাত্রী। আর আমার সঙ্গীনী আন্ডার গ্রেডের।

যা হোক, ওর এত বিষদ বর্ননা দেয়ার কারন হচ্ছে, সেই বেচারী আমার একাকীত্ত্বে অস্থির হয়ে আমাকে শিখিয়ে দিল কি করে ইয়াহুর চ্যাট রুমে যাওয়া যায়। আমি কৃতজ্ঞ এই জন্য ওর কাছে। ইয়াহু তে সে সময় অসম্ভব ভাল কিছু ভাই আর বন্ধু পেয়েছিলাম। যাহোক, সেই মেয়ে আমার সঙ্গী ছিল ৩ মাস। তারপর সে বাসা বদল করল। বিশাল বাসায় আমি একেবারে একা।

একদিন দুপুরে চ্যাটিং করছি, হঠাৎ লন্ডন প্রবাসী এক স্বদেশির সাথে কথা হচ্ছে। মনে পরে সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল। কিছুক্ষন কথার পর ফোন নম্বর বিনিময় হল। সে আবদার করল তাকে খাওয়াতে হবে। এই এক ব্যপারে আমার কখনই না ছিল না। আমার বাসায় কেউ আসত না। তাই কাউকে খাওয়ানোর কথায় আমি লাফিয়ে উঠলাম। বললাম, চলে এস, আমি রান্না করে খাওয়াবো। ওর বাসা থেকে আমার বাসা মোটামুটি ২ ঘন্টার পথ। তখন দুপুর ১টা বাজে। রওনা করলে অনেকক্ষন গল্প করার অবসর পাওয়া যাবে, এই ভেবে আসতে বলা।

আমি রান্না শুরু করলাম। পোলাও, বীফ বল, কই মাছ ভুনা, চিংরির মালাই কারী, চিকেন টিক্কা, তাড়কা ডাল করলাম। তারপর থেকে তাকে ফোন করছি, সে বলছে সে আসছে। আমার অপেক্ষার পালা শুরু হল। সন্ধ্যা যখন ৭ টা, আমি মহা বিরক্ত। এখনও আসছে না, কখন আসবে, কখন খাবে, কখন যাবে। রান্না সব ঠান্ডা হয়ে গেছে।

সেই মহাশয় রাতের প্রায় ৯টায় এসে হাজির। আমি তো রেগে আগুন। এত রাতে এসেছে, এখন খেয়ে কখন যাবে। আমি বকা-ঝকা করতে করতে তাকে নিচের বাস স্টপ থেকে উপরে নিয়ে এলাম। এনেই ওকে বসিয়ে খাবার গরম করে দিলাম। সে আমাকে বলছে, এত তাড়াহুড়ার কি আছে। আমি তো অবাক। তাড়াহুড়া করব না? “তুমি তাড়াতাড়ি বের না হলে ট্রেন পাবে না। যাবে কি করে?” সে অবাক হল। “যাব মানে? আমি তো ভাবলাম আমি আজ থাকব এখানে”। আমি

আমি কথা না বাড়িয়ে আগে খেতে দিলাম তাকে। খাইয়ে বললাম এবার বিদায় হও। ও আবারও অবাক। “সত্যিই চলে যাব?”। “যাবে না!? আমি একা থাকি এই বাসায়। তোমাকে কেন থাকতে দেব?” ও বলছে আমরা গল্প করি, পরে আমি পাশের ঘরে থাকলাম। আমি বললাম, প্রয়োজন নেই। গল্প করার জন্য আর একদিন সকাল সকাল এস। আজ যাও। চল আমি এগিয়ে দিচ্ছি। পরে তাকে আমি ট্রেন স্টেশন অবদি এগিয়ে দিয়ে এসেছিলাম।

সে যাওয়ার পর আমি ভীষন ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কত্ত বড় বোকামী হয়ে যাচ্ছিল। অজানা অচেনা একটা ছেলে এই রাতে এসে বলছে আমার বাসায় থাকবে। আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরার জোগাড়। সেদিন টের পেয়েছিলাম, রাখে আল্লাহ মারে কে!!!

পরে অবশ্য সেই বান্দার সাথে আর কথা হয়নি কোনদিন। আল্লাহর রহমত।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 


১৮টি মন্তব্য

১. ২২ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ১:৫১

মনে নাই বলেছেন: পরে আর আপনাদের যোগাযোগ হলোনা কেন?
বাংলাদেশী ছেলেরা সহজেই আরেকজনের বাসায় রাতে থাকতে চায়না বলেই জানতাম, এই ছেলের বেলাতে ঠিক উল্টো ঘটনা দেখছি।

২২ শে নভেম্বর, ২০১২ সকাল ৮:৩২

লেখক বলেছেন: সবাই এক হয়না ভাই। আমি নিজেই অবাক হয়েছিলাম এর কথায়। যাইহোক, মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল থেক।

২. ২২ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৩:১৪

আল ইফরান বলেছেন: রাখে আল্লাহ মারে কে B-)) B-)) B-))
কাহিনীর সাথে পারফেক্ট টাইটেল :P :P :P

২২ শে নভেম্বর, ২০১২ সকাল ৮:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

৩. ২২ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৩:৩৯

হাসান৭৭৭ বলেছেন: কিছু মনে করবেন না একটা কথা বলি। আমি মনে করি ইয়াহু মেসেঞ্জার একটা নোংরা জায়গা । আমিও প্রথম প্রথম ইয়াহু মেসেঞ্জারে অনেক সময় দিতাম। কিন্তু সত্য বলতে বাধা নেই যে ওখানে মোটামুটি সবাই (বিশেষ করে ছেলেরা) শুধুমাত্র বিপরীত লিঙ্গের খোজেই যায় যেটা অতিমাত্রায় বিরক্তিকর। দুই একজন বাতিক্রম হতে পারে। আর মেয়েদের ব্যাপারটা ঠিক বলতে পারব না।


আপনি হয়ত সময় কাটানোর জন্য যেতেন কিন্তু ওখানকার পরিবেশ আসলেই নোংরা।


কয়েক বছর থেকে ইয়াহু মেসেঞ্জার থেকে ১০০ হাত দূরে আছি।

২২ শে নভেম্বর, ২০১২ সকাল ৮:৩৮

লেখক বলেছেন: আমি বোধ করি ভাগ্যবতী। আমার অনেক অনে-----ক ভাল কিছু বন্ধু জুটেছিল পরে। যারা আমাকে অনেক ভাবে অনুপ্রানিত করেছে। পড়া-শুনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে। এদের মধ্য কাউকে চেন কিনা জানিনা। ওদের চিনলে জানতে, সবাই এক রকম হয় না। ইয়াহু অনেক খারাপ। সেটা আমি ভাল করেই জানি। এর মধ্যেও আমি স্পেনের মাসুম, ইউ কের নাজ, জাপানের নিলাঞ্জনা, কাতারের সৈকত ভাই, মামুন ভাই, ঢাকার স্বপন আর কোলকাতার আরিফের মত অসাধারন কিছু বন্ধুর দেখা পেয়েছিলাম। যারা সত্যিকার অর্থে ভাল মানুষ।

ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। ভাল থাকবেন।

৪. ২২ শে নভেম্বর, ২০১২ সকাল ৮:২১

সূখী মানব বলেছেন: আপনি হয়ত সময় কাটানোর জন্য যেতেন কিন্তু ওখানকার পরিবেশ আসলেই নোংরা। আর মুল কথা অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আখরা ।

২২ শে নভেম্বর, ২০১২ সকাল ৮:৫২

লেখক বলেছেন: মস্তিষ্কের দোষ ছিল না। সে অলস ও ছিল না। সে ছিল একা। তাই ইয়াহুতে যাওয়া। অনলাইন সম্পর্কে ছেলেদের থেকে আমার ধারনা কিছুটা ভিন্ন। হয়ত, ছেলেরা মূলত যায় মেয়ে পটানোর জন্য। কিন্তু, আমি অনেক ভালো ভালো মানুষকে ইয়াহু তে যেতে দেখেছি। তারা যেমন শিক্ষিত, তেমনি মার্জিত। এটা বলব না যে আমার দেখা সবাই এক রকম। এই হাতে গোনা ৭-১০ জন বন্ধু পাওয়ার জন্য আমাকে অন্তত লাখ খানেক অমানুষের সাথে কথা বলতে হয়েছে। কিন্তু ভাল মানুষ নিশ্চয়ই আছে।

আমি নিজেকে খারাপ বলব না। বা, এভাবে বলা যায়, যে আমি খারাপ অভিপ্রায় নিয়ে অনলাইনে চ্যাট করতাম না। আমি যদি থাকি, তাহলে আরও ভাল মানুষ আছে, এটাই আমার বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসই জয়ী হয়। তবে, অনলাইনে ৯৯%-ই খারাপ। এটা নিঃসন্দেহে সত্য। ভাল থাকবেন।

৫. ২২ শে নভেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:৪৭

আবহমান বাংলা বলেছেন: একা বাসায় কখনোই কাউকে নিমন্ত্রন করবেন না। ছেলেই হোক বা মেয়ে (আমি শুনেছি মেয়েরা আরও বেশি ভয়ংকর) দিনেই হোক বা রাতে। ১১ বছরের বালক হোক, কিংবা ৮০ বছরের বুড়ো।

২২ শে নভেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য। আর কখনও এমন ভুল হবে না। ভাল থাকবেন।

৬. ২৩ শে নভেম্বর, ২০১২ দুপুর ১২:৪০

অপ্‌সরা বলেছেন: হা হা


তোমার পোস্ট পড়ে হাসছি আপুনি!:P

২৩ শে নভেম্বর, ২০১২ দুপুর ১২:৫০

লেখক বলেছেন: হাসো আ্পুনি। কাউকে হাসাতে পারলে সওয়াব পাওয়া যাওয়ার কথা। আমি কিন্তু সেদিন অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। লন্ডনের জীবন আমার অনেক সুখেরই ছিল। সেই জীবনে যত ভেজাল লাগানোর সেটা বাঙ্গালীরাই লাগানোর চেষ্টা করেছিল। ভাল থেক আপুনি।

৭. ২৩ শে নভেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:০৮

শার্লক বলেছেন: হুম মাঝে মাঝে মানুষ খুব বোকার মতো কাজ করে ফেলে। ব্যাপার না মানুষই তো। তবে ভয়ানক কিছু হয়নি সেটাই রক্ষে। :)

২৩ শে নভেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:৪০

লেখক বলেছেন: :)

৮. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ৯:১২

প্রিন্স হেক্টর বলেছেন: কানের নিচে ঠাটায়া একটা চড় মারতে পারলেন না? X(( X(

কিছু মনে কইরেন না, আমার মনে হয় আপনার মাথায় বুদ্ধি কম। বোকা কিসিমের আরকি! B-))

যাই হোক একদিন আমারে খাওয়াবেন? ;)

ঢাকায় এসে ঘাস খায়া খায়া পেট সুন্দরবন হয়ে গেছে। :| তয় আমি সকাল সকাল আসপানি, আর আমার বয়সও ছোট। :P :P

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:০৭

লেখক বলেছেন: হাহাহা...। ভাই, একা থাকার আমার অভ্যাস নেই। বোকা বল, আর যাই বল, বাঙ্গালী দেখার জন্য আমার জীবন বের হয়ে যেত তখন। আর, কানের নিচে মারলে আমার লাভ হত কি? আমি একা থাকতাম। এলাকায় আশ-পাশে বাড়ি ঘর কম। সে আমাকে খুন করে রেখে গেলেই কে জানত? তাই মনে হয় চড় না মারাটা বুদ্ধিমানের কাজ হয়েছে।

তুমি কবে খাবে জানিও। নিজের রান্না আর খাওয়াতে পারব বলে মনে হয় না। তবে তোমার সুন্দরবনের থেকে ভাল অবস্থা হবে নিশ্চয়ই। ভাল থেক।

৯. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৫৪

ইখতামিন বলেছেন: ২১১ বার পঠিত.
৮ টি কমেন্ট.

তবে কেউ ১ বারও রেটিং দেয়নি.

প্রথম ভালো লাগা.
সম্ভবত ইশ্বর আপনার পাশেই ছিলেন.
ভালো থাকবেন.

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৬

লেখক বলেছেন: :)

 

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

 

© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি | বিজ্ঞাপন