somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাখে আল্লাহ মারে কে!!!

২২ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লন্ডনের একটা ভয়ংকর বোকামীর গল্প আজ বলতে ইচ্ছা করছে। ২০০৭ সালের কথা। আমি ভীষন একা হয়ে পরেছিলাম। পরিচিত জনদের থেকে অনেক দূরে মোটামুটি বাঙ্গালী বিবর্জিত স্থানে বাস করি। মাঝেই মাঝেই মন খারাপ করে বসে থাকতাম। আমার সঙ্গী ছিল ইন্ডিয়ান এক মেয়ে। সে অনলাইনে চ্যাটিং করত। বড় ভদ্র মেয়ে ছিল। সকালে খুব ভোরে উঠে পড়তে বসত। কম করে ২ ঘন্টা পড়া-শুনার পর যেত ক্লাশে। ক্লাশ শেষে লাইব্রেরীতে বসে পড়া-শুনা করে ঘরে ফিরত। কিছু খেয়ে একটু বিশ্রাম করেই আবার পড়তে বসত। আর আমি ফাকিবাজ দিন ভর চুপচাপ বসে থাকতাম মন খারাপ করে। ক্লাশে যেতাম না। পড়া-শুনার তো ধার দিয়েও যেতাম না। ভাগ্য ভাল তখন পোষ্ট গ্রেডের ছাত্রী। আর আমার সঙ্গীনী আন্ডার গ্রেডের।

যা হোক, ওর এত বিষদ বর্ননা দেয়ার কারন হচ্ছে, সেই বেচারী আমার একাকীত্ত্বে অস্থির হয়ে আমাকে শিখিয়ে দিল কি করে ইয়াহুর চ্যাট রুমে যাওয়া যায়। আমি কৃতজ্ঞ এই জন্য ওর কাছে। ইয়াহু তে সে সময় অসম্ভব ভাল কিছু ভাই আর বন্ধু পেয়েছিলাম। যাহোক, সেই মেয়ে আমার সঙ্গী ছিল ৩ মাস। তারপর সে বাসা বদল করল। বিশাল বাসায় আমি একেবারে একা।

একদিন দুপুরে চ্যাটিং করছি, হঠাৎ লন্ডন প্রবাসী এক স্বদেশির সাথে কথা হচ্ছে। মনে পরে সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল। কিছুক্ষন কথার পর ফোন নম্বর বিনিময় হল। সে আবদার করল তাকে খাওয়াতে হবে। এই এক ব্যপারে আমার কখনই না ছিল না। আমার বাসায় কেউ আসত না। তাই কাউকে খাওয়ানোর কথায় আমি লাফিয়ে উঠলাম। বললাম, চলে এস, আমি রান্না করে খাওয়াবো। ওর বাসা থেকে আমার বাসা মোটামুটি ২ ঘন্টার পথ। তখন দুপুর ১টা বাজে। রওনা করলে অনেকক্ষন গল্প করার অবসর পাওয়া যাবে, এই ভেবে আসতে বলা।

আমি রান্না শুরু করলাম। পোলাও, বীফ বল, কই মাছ ভুনা, চিংরির মালাই কারী, চিকেন টিক্কা, তাড়কা ডাল করলাম। তারপর থেকে তাকে ফোন করছি, সে বলছে সে আসছে। আমার অপেক্ষার পালা শুরু হল। সন্ধ্যা যখন ৭ টা, আমি মহা বিরক্ত। এখনও আসছে না, কখন আসবে, কখন খাবে, কখন যাবে। রান্না সব ঠান্ডা হয়ে গেছে।

সেই মহাশয় রাতের প্রায় ৯টায় এসে হাজির। আমি তো রেগে আগুন। এত রাতে এসেছে, এখন খেয়ে কখন যাবে। আমি বকা-ঝকা করতে করতে তাকে নিচের বাস স্টপ থেকে উপরে নিয়ে এলাম। এনেই ওকে বসিয়ে খাবার গরম করে দিলাম। সে আমাকে বলছে, এত তাড়াহুড়ার কি আছে। আমি তো অবাক। তাড়াহুড়া করব না? “তুমি তাড়াতাড়ি বের না হলে ট্রেন পাবে না। যাবে কি করে?” সে অবাক হল। “যাব মানে? আমি তো ভাবলাম আমি আজ থাকব এখানে”। আমি

আমি কথা না বাড়িয়ে আগে খেতে দিলাম তাকে। খাইয়ে বললাম এবার বিদায় হও। ও আবারও অবাক। “সত্যিই চলে যাব?”। “যাবে না!? আমি একা থাকি এই বাসায়। তোমাকে কেন থাকতে দেব?” ও বলছে আমরা গল্প করি, পরে আমি পাশের ঘরে থাকলাম। আমি বললাম, প্রয়োজন নেই। গল্প করার জন্য আর একদিন সকাল সকাল এস। আজ যাও। চল আমি এগিয়ে দিচ্ছি। পরে তাকে আমি ট্রেন স্টেশন অবদি এগিয়ে দিয়ে এসেছিলাম।

সে যাওয়ার পর আমি ভীষন ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কত্ত বড় বোকামী হয়ে যাচ্ছিল। অজানা অচেনা একটা ছেলে এই রাতে এসে বলছে আমার বাসায় থাকবে। আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরার জোগাড়। সেদিন টের পেয়েছিলাম, রাখে আল্লাহ মারে কে!!!

পরে অবশ্য সেই বান্দার সাথে আর কথা হয়নি কোনদিন। আল্লাহর রহমত।
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজিন রিভিউ: Terminator Genisys

লিখেছেন রাজিন, ০৩ রা জুলাই, ২০১৫ সকাল ১০:৩২

মুভি নির্মাতারা অনেক কষ্টে খেটেখুটে একটি মুভি বানায়। সেটি বানানোর আগে কত কাহিনী। কাহিনী বানাও, চিত্রনাট্য লেখো, অভিনেতাদের রাজী করাও। আর কর্পোরেটদের চাপতো আছেই। টাকা ডুবলে কিন্তু তুই শ্যাষ। পরবর্তীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসা (আঃ)/যিশুর হলি গ্রেইল ও হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) এর হলি গ্রেইল (!)

লিখেছেন শান্তনু চৌধুরী শান্তু, ০৩ রা জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:১৬

আমি ইনফোরমেটিভ তথ্য সংক্রান্তই বইয়ের ফ্যান । আর ড্যান ব্রাউনের দ্যা ভিঞ্চিকোডটি আমার কাছে রীতিমত তথ্যের ভান্ডার । এই বইটি শেষ করতে আমার পুরো ১টি দিন লেগেছে । যে তথ্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

চতুর্থ চাকরীর স্মৃতি...

লিখেছেন খোরশেদ খোকন, ০৩ রা জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৫

২০০৪ সালের ২৩ জুন আমাদের এমবিএ পরীক্ষা শেষ হয়েছিলো। সে সময় শহরে ভ্যাপসা গরম চলছিল, আকাশে মেঘের দেখা ছিলনা, আমরা ক’জন সহপাঠী একটু বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছিলাম দিনের পর দিন...।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ফলিং ওয়াটার" স্থাপত্যশিল্পের অন্যতম সৃষ্টি।

লিখেছেন কাঠুরে, ০৩ রা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:৩১



বিয়ার রান উপত্যাকার ছোট ছিমছাম এক পাহাড়ী ঝর্ণা কলকল শব্দে আপনমনে বয়ে চলছে। চারপাশে ঘন সবুজ বনের আধিক্য। নিশ্চিন্তে বন্য প্রানীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। গাছপালা চারদিক ঘিরে রেখেছে। পাতা আর ডালের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এসো, মুড়ি খাওয়া যাক!!

লিখেছেন শতদ্রু একটি নদী..., ০৩ রা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৪:১৩

এসো, মুড়ি খাওয়া যাক!!

বহুপদ আমাদেরর কপালে জুটবে না।
এটা সদা সত্যের মতো ফ্যান হয়ে ঘুরছে,
রেলিং জুড়ে একটি লতা চলে গেছে;
একঘেয়ে...

মুড়ি খাও!!
মুড়ি নামের এই অনাবিল শুভ্রতা এখনও সস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার সরকারের সুনাম হলো, দেশ নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৩ রা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৫:২৪

আমরা ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ইরাক, প্যালেস্টাইন, মিশরের কাতারে এসেছি; সবাই দেশের সুনাম চায়, কেহ 'তলাহীন ঝুড়ির দেশ' ইত্যাদি বলে পরিচয় দিতে চাহে না; ভালো হলো; শেখ হাসিনার (সরকারের?) সুনাম... ...বাকিটুকু পড়ুন