ইন্টারনেটবিহীন আধুনিক জীবন কল্পনা করা যায় না। আপনি যদি কক্সবাজারে বা সেন্টমার্টিনে যেতে চান তাহলে সেখানকার আবহাওয়া কেমন কিংবা সেখানকার কোন হোটেলে আপনি থাকবেন তার খবর ইচ্ছে করলে ইন্টারনেট থেকে জেনে নিতে পারবেন। ইন্টারনেটের অবদান কম-বেশি আমরা জানি। আমরা যারা কলেজে বা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করি তারা সবাই পকেট খরচ চালানোর জন্য পার্টটাইম জবের কথা চিন্তা করি । অনেক ক্ষেত্রে সময়ের অভাবে এসব করা সম্ভব হয় না। কিন্তু ইন্টারনেটে এমন কিছু পথ রয়েছে যার মাধ্যমে খুব সহজেই আয় করতে পারেন এবং এর জন্য কোনো বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা কিংবা অধিক সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। শুধু ইন্টারনেট জানা থাকলে এবং এ বিষয়ে কিছু ধারণা থাকলেই চলবে। ইন্টারনেটে এমনই একটি আয়ের মাধ্যম ডোমেইন পার্কিং। ডোমেইন পার্কিং হলো সহজ উপায়ে ডোমেইন ক্রয়ের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করা। আপনি শুধু ডোমেইন কিনে পার্কিং করে রাখবেন। পার্কিং কোম্পানিই হোস্টিং এবং বিজ্ঞাপন ডিজাইনের কাজ করবে। ডোমেইন পার্কিং এবং পিপিসি-এর প্রযুক্তি একই।
ডোমেইন পার্কিং কি?
ধরুন আপনি ভালো মানের একটি ডোমেইন কিনে রেখেছেন যার চাহিদা ভবিষ্যতে বাড়তে পারে, কিন্তু এতদিনে ডোমেইনটি ফেলে না রেখে সেটিকে বিক্রির জন্য কোনো ওয়েবসাইটে রাখার নাম ডোমেইন পার্কিং। যেমন ধরুন http://worldcupcric.com এই ডোমেইনটির চাহিদা এক সময় বাড়তে পারে। কারণ সামনে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১০ এবং এই ইভেন্টকে সামনে রেখে অনেকে খেলার খবর জানার জন্য ওয়েবসাইটে সার্চ করবে। সেই ক্ষেত্রে এই ডোমেইনটি হতে পারে সবচেয়ে উপযুক্ত। অর্থাৎ আপনি যদি কোনো ডোমেইনের মালিক হন তাহলে নির্দিষ্ট কোনো ওয়েবসাইটে পার্ক করে রাখলে যদি কেউ ওই ডোমেইন ভিজিট করে তাহলে কিছু ওয়েব পেজ দেখা যাবে। আপনার ওয়েব পেজে ভিজিটর ক্লিক করলে আপনার এ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে। এই পদ্ধতির নাম ডোমেইন পার্কিং।
ডোমেইন পার্কিং কতটা লাভজনক?
ভালো ডোমেইন নিয়ে যদি পার্ক করেন তাহলে অবশ্যই সেটি ভালো দামে বিক্রি হবে। এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। মাত্র ১০ ডলারে কেনা http://www.unipaybank.com ৭ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। বারাক ওবামার নামে কেনা একটি ডোমেইন এখন পর্যন্ত ২১ লাখ ডলার দাম উঠেছে। শুধুই কি বড় দামের আশায় ডোমেইন পার্ক করবেন? না, কারণ বড় দামের আশায় ডোমেইন পার্ক করলে কবে প্রত্যাশিত দাম পাবেন তা বলা দুরূহ। যদি আপনি কয়েক শ ডলারে ডোমেইন বিক্রির চিন্তা করেন তাহলে খুব সহজেই এর ক্রেতা পাবেন। কারণ একটি ডোমেইনের দাম মাত্র ৭৫০ টাকা বা ১০ ডলার। এখন আপনার মধ্যে প্রশ্ন আসতে পারে ১০ ডলারে কেনা একটি ডোমেইন কেনার পর যদি বিক্রি করতে না পারেন তাহলে প্রতিবছর ডোমেইন রিনিউ করতে হবে, এতে ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে। ক্ষতি হবার কোনো কারণ নেই, আপনি যে ওয়েবসাইটে ডোমেইনটি পার্ক করবেন সেখান থেকে আপনার কম হলেও ডোমেইন রিনিউ করার ফি উঠে আসবে। আরেকটি লাভ হবে সেটি হলো : আপনার ডোমেইনের ট্রাফিক বৃদ্ধি পাবে, যেটি ডোমেইন বিক্রি হবার অন্যতম কারণ।
কীভাবে করবেন ডোমেইন পার্কিং?
অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে ডোমেইন পার্কিং করতে পারেন। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় ডোমেইন পার্কিং ওয়েবসাইট হলো http://www.sedo.co.uk। এটিই ডোমেইন পার্কিংয়ের সবচেয়ে ভালো জায়গা। এ ছাড়া গুগল এডসেন্স-এ ডোমেইন পার্কিং করা যায়। এখানে আমি শুধু http://www.unipaybank.com -এ কীভাবে ডোমেইন পার্কিং করা যায় সে সম্বন্ধে আলোচনা করছি।
http://www.moneyexchangetoday.com -তে ডোমেইন পার্ক করার নিয়ম
আপনি যদি একটি ডোমেইনের মালিক হোন তবে খুব সহজেই এখানে পার্ক করতে পারেন। প্রথমে আপনার সঠিক ইনফরমেশন দিয় সাইনআপ করুন। শুধু সাইনআপ করলেই এ্যাকাউন্ট পুরোপুরি এ্যাকটিভ হয় না। এ্যাকাউন্ট তৈরি হবার পর লগ ইন করে আপনার হোম পেজ আসলে মাই স্যাডো নামক লিংকে ক্লিক করুন। সেখানে এ্যাকাউন্ট পুরোপরি এ্যাকটিভেট করার জন্য একটি পেজ আসবে। এখানে সার্টিফাই নামক লিংকে ক্লিক করলেই একটি মেইল আসবে। মেইলের সঙ্গে এটি পিডিএফ ফর্ম পাবেন, সেটি ডাউনলোড করে এর নির্দেশনাবলী অনুযায়ী পূরণ করে এবং উক্ত পেজটি স্ক্যান করার পর মেইল করে পাঠিয়ে দিন। সবকিছু ঠিক থাকলে কিছুদিন পর একটি নিশ্চিতকরণ মেইল পাবেন। এর পর থেকে আপনার এ্যাকাউন্ট পুরোপুরি এ্যাকটিভ।
এবার লগ ইন করার পর আপনার ডোমেইনটি যুক্ত করুন। আপনি ইচ্ছা করলে এটি বিক্রি করার জন্য এর দাম উল্লেখ করে দিতে পারেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনার ডোমেইনটি পার্ক ডোমেইন হিসেবে এ্যাকটিভ হয়ে যাবে। যেমন : http://moneyexchangetoday.com ডোমেইনটি sedo-তে পার্কিং করা হয়েছে এবং এটি বিক্রি করার জন্য দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও এই ডোমেইনটি ফ্রি 10 USD কিন্তু নামটি গুরত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে buyer ডোমেইনটি কিনতে পারে। আপনি ইচ্ছে করলে ফ্রি ডোমেইন দ্বারা পার্কিং করতে পারেন। তবে অবশ্যই সেই ডোমেইনের DNS থাকতে হবে। তবে কমার্শিয়াল ডোমেইন ব্যবহার করা ভালো।
আরো কয়েকটি ডোমেইন পার্কিং ওয়েবসাইট
http://www.godaddy.com
http://www.aftermarket.com
http://www.google.com/adsense
http://www.activeaudiance.com
গুগলের এ্যাডসেন্স ফর ডোমেইন প্রোগ্রাম
গুগল এ্যাডসেন্স হতে আয় করা যায় এটা আমরা সবাই কম-বেশি জানি। আমাদের দেশে যারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয় করছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই গুগল এ্যাডসেন্সের ওপর নির্ভরশীল। গুগল এ্যাডসেন্সে আরেকটি প্রোগ্রাম রয়েছে সেটা হলো এ্যাডসেন্স ফর ডোমেইন।
ডোমেইন পার্কিং করার জরুরি তথ্য
অনেকে ডোমেইন পার্কিং ব্যবসা শুরুর পর পরই অভিযোগ করে, খুব বেশি লাভ তো হচ্ছে না। তাদের জন্য জানা জরুরি, আপনি হয়ত মাসে ৫০,০০০ ডলার শুধু ডোমেইন পার্কিং থেকে আয় করতে পারবেন না। কিন্তু একটি ডোমেইন বিক্রি করে এর চেয়ে বেশিও আয় করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য। ডোমেইন পার্কিং ব্যবসাকে রিস্ক ফ্রি বলা হয়, কেননা এক বছর যে কোম্পানিতেই ডোমেইন পার্কিংয়ে থাকুক না কেন, তাতে বছরে কিছু না হলেও রিনিউ এর টাকা উঠে আসে।
শেষ কথা
ডোমেইন পার্কিং ব্যবসা সম্পর্কে ন্যূনতম না জেনেই অনেকে শুরু করেছে এ ব্যবসা। সে ক্ষেত্রে ভুল নাম নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো লাভের মুখ দেখছে না। এ ছাড়াও পার্কিংয়ের মাধ্যমে আয় করার প্রযুক্তিটা সম্পর্কে ধারণা না থাকার ফলে শুধু ডোমেইনই কিনে যাচ্ছে। ফলে প্রতি বছর রিনিউয়ের সময় গুনতে হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা। তাই পুরো পদ্ধতিটার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে তারপর শুরু করা উচিত এ ব্যবসা। আশা করি উপরোক্ত বিষয়টি জানার পর একটু হলেও এ পদ্ধতি পরিষ্কার হয়েছে। সূত্র বদলেযাওবদলেদেও
আমার যে মন্তব্যটি মুছে দেয়া হয়েছেঃ সাবধান !!! বিশ্বে ডোমেইন পার্কিংয়ের মত আরও কিছু ক্ষেত্র নিয়ে ডোমেইন ডেভলপমেন্ট নামে এই ট্রাকের ব্যাবসাটির জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময় গেছে ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ এর ভেতর।সে সময় ২ ডলারে কেনা একটি ডোমেইন মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হওয়ার ঘটনাও আছে অনেক।ইউরোপ আমেরিকার স্কুলের ছেলেমেয়েরা এই ব্যাবসাটি চুটিয়ে করেছে সে সময়, তখন গড়ে ওঠা বিখ্যাত গোডেডি ডটকম সাইটটি এমনই কয়েকজন স্কুলের ছেলেদের কান্ড।এই ট্রেডে বিদেশে এখন আর কেউ নেই তারও অনেক কারন আছে। আর সে সময় বাংলাদেশের ইন্টারনেট ও ইকমার্স কোনটাই না থাকায় সাধারন কেউ ডোমেইন ডেভলপমেন্টে বিনিয়োগ করবে দূরের কথা খবরই রাখে না।এমনকি আজও আমাদের তথ্য প্রযুক্তির অবকাঠামো এ পেশায় বিনিয়োগ করার বেসিক যোগ্যতাটিই একজন নাগরীককে দিতে পারেনি। এ কাজটি করতে হলে একজনের বেসিক যে দুটি যোগ্যতার প্রয়োজন তা হলো একটি ইন্টারনেট সংযোগ ও পেপল এ্যাকাউন্ট বা ইকমার্স/ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের সুবিধা থাকা। প্রথমটি আমরা ৫ কেবিপিএস এর নেট দিয়ে রকম অর্জন করলেও এখনও দ্বিতীয় যোগ্যতাটি ২০% অভারকাম করতে পারেনি।তাই আমার মনে হয় নতুন আর একটি ট্রাকে কিছু মানুষকে অনলাইনে ধরা খাওয়ানোর বন্দবস্ত করতেই এরকম লেখা প্রায়ই দেখবেন।
তবে এই ট্রাকটিতে এখনও দেশের ক্রিয়েটিভ কিছু ছেলেমেয়ের ভালো করার সুযোগ রয়েছে কিন্তু দেশে পেপল না থাকায় এটা সম্ভব না। তাই ধরা খাইতে না যাইয়া আগে পেপল চান।পরে এমন হাজারটা লাইন পাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



