somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভবিষ্যৎ অন্ধকার - পাওয়ারে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করিতেছে।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উন্নয়নের অন্যতম অপরিহার্য ইন্ডিকেটর বিদ্যুৎ বা পাওয়ার।পাওয়ার ছাড়া সব অচল।আর অদূর ভবিষ্যতে যে সেক্টরে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে, তাহলো বিদ্যুৎ। কারন বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রচলিত পানি, কয়লা, গ্যাস, পরমানুর এর একটা সম্পদ ও সামর্থও আমাদের নেই। সামনে শুধু অন্ধকার।আপনি মানেন আর নামেন!

কথাটা শুনে যেকেউ টাশকি খেতে পারেন! বলে কি ? কেউ কেউ বায়ু বিদ্যুৎ, সোলার বিদ্যুৎ ইত্যাদীর আশ্বাস দিতে পারেন।তাদের জন্য নিচের ব্যাখ্যাটি পঠিতব্য।

উইন্ড পাওয়ার বলে তো, আমাদের যা অফসোর আছে তা ঐ একটু কক্সবাজার আর ল্যান্ডে আসলে সিলেটের হওর অঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গ সবে মিলে দেশের ভবিষ্যৎ চাহিদার ৫% বিদ্যুৎ সাপোর্ট উইন্ড দিতে পারলে আমি খুশি। তাছাড়া বাংলাদেশে উইন্ড পাওয়ার ইমপোট করতে হলে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকার উপর খরচ পরবে সে তথ্যটি অবশ্যই ভাববার বিষয়।

আর সোলারে, - গত কয়দিনের শীতে দেশের সোলার গুলো ৬০% কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে - আমার একটা হিসাব করে দেখতে ইচ্ছে করে, পুরো বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল সোলার প্লান্ট বসালে কি পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে ?এটা চিন্তা করতে পারেন বাংলাদেশে শতশত একর ভূমিতে এক একটা ৫ মেগাওয়াট ১০ মেগাওয়াট সোলার প্লান্ট স্থাপন করছেন ? ছাদই এখানে সোলারের একমাত্র জায়গা, বাংলাদেশের মত ঘন বসতির দেশে সোলার দিয়ে ভবিষ্যতে যদি ৫% চাহিদারও যোগান দেয়া যায়, তা যথেষ্ট। তবে দামের কথা বললে বলতে হয় আমাদের পাশের বিশাল দেশ ভারতে প্রযুক্তিতে অনেক উন্নত হয়েও, নিজেস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করেও আজও প্রতি ইউনিট সোলার বিদ্যৎ উৎপাদন খরচ ২০ টাকার নিচে নামাতে পারছে না।

যা হউক, অন্য সব দেশ রেখে বাংলাদেশের জন্যই কেন সবচেয়ে ভয়ংকর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে ? তার যুক্তি সংগত বাস্তব কারন আছে!

কারন একটা দেশের ৮০ ভাগ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর প্রচলিত সম্পদ গুলো একটাও নেই আমাদের। বর্তমান বাজারে ১ টাকা থেকে ৩ টাকা প্রতি ইউনিটে খরচ করে যেসকল সম্পদ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তার মধ্য পানি সর্বনিম্ন। বাংলাদেশের পানি বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ একেবারে শূন্যের কোঠায়। কয়লা দিয়ে দ্বিতীয় খরচের তাপ বিদ্যুৎ খুবই পরিবেশ বিরোধী হলেও আমাদের স্থাপনের তেমন লোকেশনও দূরলভ। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রকৃত পক্ষে কোন কয়লা নেই। যা আছে তা খুবই অল্প ও নিম্ন মানের। আর ভারত থেকে কয়লা আমদানী করে কিছু ইটখলা চালানোর স্বপ্ন দেখা যেতে পারে কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র না। গ্যাস তৃতীয় খরচের রিসোর্স হলেও আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্যই এলপি গ্যাস সিলিন্ডার জাহাজে করে ইমপোর্ট করতে হবে। আমি জানি না তখন কৃষি প্রধান বাংলাদেশের সারফেক্টরি গুলো কিভাবে চলবে ? এরপর আসা যাক কম খরচের ও বিতর্কিত পরমানু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। প্রকৃত পক্ষে একটি ছোট সাইজের পরমান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনেরও উপযুক্ত স্থান বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশের যা আছে তা হলো ডিজেল, ফার্নেস ওয়েল ইমপোর্ট করে প্রতি ঘন্টায় ৩০০ লিটার ফুয়েল পুড়িয়ে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ।এটা আরও অনেক দিন চালানো যাবে।আর এতে প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ আগামী বছরের শুরুতেই ১৫ টাকা হচ্ছে।দেশে বর্তমানে তেলে চালিত ২০০০ মেগাওয়াটের বেশি কেপটিভ ও রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের লাইসেন্স দেয়া আছে।

এছাড়াও আরও শত পথে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবই তথইবচ।

একবার নিবিষ্ট মনে ভেবে দেখুন এই মুহুর্তে বাংলাদেশে মুটামুটি ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় আর স্বয়ং বিদ্যুৎ বিভাগের ভাষ্যমতে তাঁরা বাংলাদেশের প্রকৃত বিদ্যুৎ চাহিদা সম্পর্কে ধারনা রাখে না, হিসেব করাও কঠিন।সরকার থেকে বলা হয় মুটামুটি ৭ হাজার মেগাওয়াট। আমরা ধরে নিলাম ১০ হাজার মেগাওয়াট।ঐদিকে আমরা যেই ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা ভাবছি সেখানে ১৬ কোটি মানুষের জন্য অন্তত ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার।কেবল তথ্যপ্রযুক্তির অপরিহার্য কাজ সার্ভার স্থাপনের অন্যতম পূর্ব শর্ত অন্তত ১০ লোকেশনে আনইন্টারাপটেড বিদ্যুৎ রাখতেই দৈনিক একটা বড় ডিমান্ড তৈরী হবে।যাহউক, ২০ হাজার মেগওয়াট কিন্তু খুব একটা বড় পরিমান না।যেমন গেল সুনামিতে জাপানের যে একটা পরমানু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ২২ হাজার মেগাওয়াট, ওদের এরকম আরও ৪ টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে এবং পরমানু বিদ্যুৎ জাপানের ৩০% চাহিদা পুরন করে।

আর আমরা পুওর বাংলাদেশ মাত্র ২ হাজার মেগাওয়াট নতুন কেপটিভ রেন্টালেই নিয়েই পুরো অর্থনীতি নিয়ে শুয়ে পরেছি।একবার ভাবুন তো ২০ হাজারে কি হবে ?

সরকার বলছে ২০১৩ সালের পর দেশে বিদ্যুৎ সমস্যা থাকবে না।কিন্তু কি ভাবে তা কি দয়া করে বলবেন ?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:২৩
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×