![]() | আর এস এস ফিড |
পোস্ট আর্কাইভ
- এপ্রিল,২০১৩(৩)
- মার্চ,২০১৩(২)
- জানুয়ারী,২০১৩(২)
- ডিসেম্বর,২০১২(৬)
- নভেম্বর,২০১২(৮)
- অক্টোবর,২০১২(৬)
- সেপ্টেম্বর,২০১২(৫)
- আগস্ট,২০১২(৪)
- জুলাই,২০১২(৫)
- জুন,২০১২(৩)
- মার্চ,২০১২(২)
- ফেব্রুয়ারী,২০১২(৩)
- ডিসেম্বর,২০১১(১)
- নভেম্বর,২০১১(১)
- অক্টোবর,২০১১(২)
- এপ্রিল,২০১১(১)
- জানুয়ারী,২০১১(১)
- ডিসেম্বর,২০১০(২)
- নভেম্বর,২০১০(৩)
- সেপ্টেম্বর,২০১০(১)
- আগস্ট,২০১০(৪)
- জুলাই,২০১০(৬)
- জুন,২০১০(১)
- মে,২০১০(১)
- মার্চ,২০১০(৩)
- ফেব্রুয়ারী,২০১০(৩)
- ডিসেম্বর,২০০৯(২)
- নভেম্বর,২০০৯(১)
- অক্টোবর,২০০৯(৩)
- মে,২০০৯(১)
- এপ্রিল,২০০৯(৩)
- ফেব্রুয়ারী,২০০৯(২)
- জানুয়ারী,২০০৯(৪)
- ডিসেম্বর,২০০৮(৩)
- নভেম্বর,২০০৮(৫)
- অক্টোবর,২০০৮(১)
- সেপ্টেম্বর,২০০৮(৪)
- আগস্ট,২০০৮(২)
- জুলাই,২০০৮(২)
- জুন,২০০৮(২)
- মে,২০০৮(৪)
- এপ্রিল,২০০৮(৪)
- মার্চ,২০০৮(৯)
- ফেব্রুয়ারী,২০০৮(১৭)
- জানুয়ারী,২০০৮(৩)
- ডিসেম্বর,২০০৭(৪)
- নভেম্বর,২০০৭(১)
- অক্টোবর,২০০৭(২)
- সেপ্টেম্বর,২০০৭(৪)
- আগস্ট,২০০৭(২)
- জুলাই,২০০৭(১২)
- জুন,২০০৭(৭)
- মে,২০০৭(৭)
- এপ্রিল,২০০৭(৬)
- মার্চ,২০০৭(৭)
- ফেব্রুয়ারী,২০০৭(৩৩)
- জানুয়ারী,২০০৭(৩)
- অক্টোবর,২০০৬(৫)
আমার লিঙ্কস
আমার প্রিয় পোস্ট
বাংলা যখন হিন্দি হলো ... হায় রবীন্দ্রনাথ!!
০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:০৬ |
উইকিপিডিয়াতে কাজ করতে করতে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত আমার সোনার বাংলা নিবন্ধটি ভালো করে পড়ছিলাম। ওখানে, এবং আরো অনেক স্থানে গর্ব করে বলা হয়, রবীন্দ্রনাথ একমাত্র কবি, যাঁর লেখা গান দুইটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে মর্যাদা পেয়েছে।
এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের অন্য গান, "জন গণ মন" (যা ভারতের জাতীয় সঙ্গীত) এর উপরে লেখা নিবন্ধটা পড়তে গেলাম। নিবন্ধে পেলাম ভারত সরকারের ওয়েবসাইটের একটা লিংক। কৌতুহলবশতঃ খুলে দেখলাম। কিন্তু একী! ভারত সরকারের দাবী, ১৯৫০ সালের ২৪শে জানুয়ারি তারিখে এই গানটির "হিন্দি সংস্করণ" ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত হয়!!
The song Jana-gana-mana, composed originally in Bengali by Rabindranath Tagore, was adopted in its Hindi version by the Constituent Assembly as the National Anthem of India on 24 January 1950.
রবীন্দ্রনাথ আবার হিন্দি লিখলেন কবে? ঘাবড়ে গেলাম। চিরকাল পড়ে এসেছি, "জন গণ মন" গানটি বাংলাতে লেখা, ওটা আবার হিন্দি হয়ে গেলো কবে? ভাবলাম, হয়তোবা আমার জানাতে সমস্যা আছে, পালটে গেলেও যেতে পারে। তাই ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের অফিশিয়াল সংস্করণ বের করলাম - বাংলাতে লিখলে যা দাঁড়ায়
জন গণ মন অধিনায়ক জয় হে
ভারত ভাগ্য বিধাতা
পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা
দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ
বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গা
উচ্ছল জলধি তরঙ্গ
তব শুভ নামে জাগে
তব শুভ আশিস মাগে
গাহে তব জয়গাথা
জন গণ মঙ্গল দায়ক জয় হে
ভারত ভাগ্য বিধাতা
জয় হে, জয় হে, জয় হে,
জয় জয় জয়, জয় হে॥"
চোখে আমার এখনো চশমা লাগেনি, কিন্তু তার পরেও সন্দেহ হতে লাগলো চোখ খারাপ হয়েছে, কেননা এর মধ্যে কোনো "হিন্দি" তো খুঁজে পেলাম না। রবীন্দ্র রচনাবলীও ঘেঁটে দেখলাম, দাড়ি কমা শুদ্ধ একই দেখাচ্ছে।
তাহলে ঘটনা কী? আসল ঘটনা জানতে আমার এক বন্ধু আর আমি ঘাঁটতে শুরু করলাম, ভারতের সাংবিধানিক সংসদের আলোচনার পূর্ন বিবরণ। পুরা বিবরণী ঘেঁটে বের করলাম, মূল সিদ্ধান্তটি -
CONSTITUENT ASSEMBLY OF INDIA - VOLUME XII
Tuesday, the 24th January 1950
The Constituent Assembly met in the Constitution Hall, New Delhi, at Eleven of the Clock, Mr. President (The Honourable Dr. Rajendra Prasad), in the Chair.
TAKING THE PLEDGE AND SIGNING THE REGISTER
The following Members took the Pledge and signed the Register
br />
Shri Ratnappa Bharmappa Kurnbhar (Bombay States).
Dr. Y. S. Parmar (Himachal Pradesh).
STATEMENT RE: NATIONAL ANTHEM
Mr. President: There is one matter which has been pending for discussion, namely the question of the National Anthem. At one time it was thought that the matter might be brought up before the House and a decision taken by the House by way of a resolution. But it has been felt that, instead of taking a formal decision by means of a resolution, it is better if I make a statement with regard to the National Anthem. Accordingly I make this statement.
The composition consisting of the words and music known as Jana Gana Mana is the National Anthem of India, subject to such alterations in the words as the Government may authorise as occasion arises; and the song Vande Mataram, which has played a historic part in the struggle for Indian freedom, shall be honoured equally with Jana Gana Mana and shall have equal status with it. (Applause). I hope this will satisfy the Members.
উপরে কোথাও কি লেখা আছে, গানটাকে হিন্দিতে অনুবাদ করে তবেই জাতীয় সঙ্গীত করতে হবে? অনেক চেষ্টা করেও এরকম কোনো সিদ্ধান্ত খুঁজে পেলাম না।
এর পর কৌতুহল মেটাতে দ্বারস্থ হলাম, ভারতীয় বাঙালিদের। সবাই, প্রথমেই আকাশ থেকে পড়েন, আর বলেন এরকম মোটেও সম্ভব না, আর এহেন আজগুবি কথা কোথায় শুনেছি। জবাবে ভারত সরকারের ওয়েবসাইট এবং আরো অনেক প্রচারণার লিংক যখন দেই, তখন তাঁদের বিশ্বাস হয়, আর তখন জাতীয় সঙ্গীত কেনো হিন্দিতেই হওয়া উচিৎ, এই কথা বলেন অনেকে।
কিন্তু হাজারো প্রশ্নের পরেও জবাব পাইনা,
* আসল গানটার সাথে একটি শব্দে বা বাক্যেও কি ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের পার্থক্য আছে?
* গানটার যদি শব্দ, বাক্য ও ব্যকরণ না পালটায়, তাহলে "হিন্দি সংস্করণ" বলতে কী বোঝানো হচ্ছে?
কেউ কেউ বলেন, ভারতের হিন্দিভাষীরা বাংলা উচ্চারণ করতে পারেনা, তারা তাই নিজেদের মতো করে গানটার বাংলা শব্দ গুলো বলে, আর সেটাই "হিন্দি অনুবাদ"।
কিন্তু, প্রশ্ন জাগে, আমি যদি আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত বা মাইকেল জ্যাকসনের কোনো পপ গান গাই আমার বাঙালি উচ্চারণে, তাহলে কি ঐ গানটা বাংলা গান হয়ে যাবে?
রবীন্দ্রনাথ বাঙালির জনমানসের এক বিশাল অংশ। এই রবীন্দ্রনাথের লেখা বাংলা গানকে হিন্দি বানানোর অপচেষ্টা দেখে বাঙালি হিসাবে খুব খারাপ লেগেছে। আসুন, এই অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানাই। যারা ভারতীয় বাঙালি, তাঁদের অনুরোধ করি, রবি ঠাকুরের গান এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে আপনারা সোচ্চার হন। বীর বাঙালি ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে রক্ত দিয়েছে। সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসাবে এ যুগের বাঙালিদের অন্ততঃ এই প্রতিবাদটুকু করা উচিৎ।
(একটা কথা খোলাসা করতে চাই, ভারত সরকার যদি সত্যি কথা বলতো, যদি ১৯৫০ সালের ঐ সম্মেলনে আসলেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতেন যে গানটাকে হিন্দি করে তবেই জাতীয় সঙ্গীত করা হবে, তাহলে সমস্যা ছিলো না কোথাও। কিন্তু ঐ রকম সিদ্ধান্ত কোনোদিনই নেয়া হয়নি। বরং গোপনে গোপনে হিন্দির দৌরাত্তে বাংলার অবমাননা বাড়ার সাথে সাথে এই মিথ্যাচারটুকু এখন সরকারী প্রচারণার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে দূতাবাস - সর্বত্র এই কথা ফাটিয়ে প্রচার করা হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথের এই গানটা হিন্দি। যেন, জাতীয় সঙ্গীত বাংলাতে হওয়াটা "সর্বভারতীয় চেতনা"র পরিপন্থী। বাংলা যেন অচ্ছ্যুৎ একটা ভাষা!!)
আবারো আহবান জানাই, আসুন, এই অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানাই। বাংলা গানকে, বাংলা সংস্কৃতিকে অবমাননা করার, রবীন্দ্রনাথের গানকে বিকৃত করার এই হীন প্রয়াস অত্যন্ত নিন্দনীয়।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): উইকিপিডিয়া ;
প্রকাশ করা হয়েছে: উইকিপিডিয়া বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাগিব বলেছেন:
ব্লগের ভারতীয় বাঙালি ভাইদের মোটেও হেয় করতে চাইনা, সেটা আগেই বলে রাখছি। এই ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের মনোভাব কী, তা জানতে চাই। আর এরকম মিথ্যা প্রপাগান্ডা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কোনো আন্দোলন বা জনসচেতনতা গড়ে উঠেছে কি না, তাও জানতে চাই।
মদন বলেছেন:
পপ বা রক স্টাইলে কোনো দেশের জাতিয় সংগীত আছে?
রাগিব বলেছেন:
মদন ভাই,স্প্যানিশ ভাষার লেখা জাতীয় সঙ্গীত গুলো (স্পেন, আর্জেন্টিনা ইত্যাদি) বেশ ধুম ধাড়াক্কা -- রক স্টাইলের কাছাকাছি
মুকুল বলেছেন:
সহমত
এস্কিমো বলেছেন:
পশ্চিম বংগের জনগনের আরেকটু সচেতনতা দরকার ভারতে বাংলাকে বাচিয়ে রাখার জন্যে।ধন্যবাদ রাগিব।
ত্রিভুজ বলেছেন:
এই বিষয়টা নিয়ে কত তর্ক হয়ে গেল কিছুদিন আগে ব্লগে.. :-)আমি তখন তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছিলাম বেশ শক্তিশালী মাধ্যম থেকেই। রবীন্দ্রনাথের সময় তো আর আমি বেঁচে ছিলাম না... সুতরাং আমাকেও তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। অথচ তখন সেটা নিয়ে কত কিছু হলো..।
বাই দ্য ওয়ে.. এটা যদি তথ্য বিকৃতি হয়ে থাকে, তাহলে ভারত অবশ্যই অন্যায় করেছে। সেক্ষেত্রে আপনার সাথে একমত,
"রবীন্দ্রনাথের গানকে বিকৃত করার এই হীন প্রয়াস অত্যন্ত নিন্দনীয়।"
নিন্দা জানালাম!
বন্ধনহীন বলেছেন:
রাগিব, আপনাকে গুরু মান লাম। যথেষ্ঠ কষ্ট করে আপনি তথ্য সংগ্রহ করেন। এই প্রজন্মের সবাই আপনাকে মনে রাখবে। আশা করি , এই পোস্ট টি আমাদের পশ্চিমবাংলার ভাইবোনদের প্রথমে তার বাঙ্গালী চেতনায় লাগবে, ভারতীয় চেতনায় নয়।
মদন বলেছেন:
নিন্দা পরে জানাই। রাগিব ভাই আরেকটু ঝাকাঝাকি দিয়া দেখেন আসল ঘটনা কি বা তাদের সরকারে এ সম্পর্কে কি কইতে চায়।
অন্যরকম বলেছেন:
ধন্যবাদ রাগিব ভাইকে। তারা তাদের দেশের জাতীয় সংগীত নিয়েও মিথ্যা কথা বলে??? আফছোছ!!!!
বকলম বলেছেন:
একটা ব্যাপার শুনেছি সত্যি কিনা জানিনা, কলকাতার মুসলিমরা বাংলা থেকে উর্দূতে কথা বলেন বা বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। সত্য কি মিথ্যা, কেউ জানলে দয়া করে জানাবেন।ভারতীয় বাঙালিরা, অন্তত: পক্ষে শান্তিনিকেতনের এই ব্যাপারটা খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ/প্রতিবাদ করা উচিৎ বলে মনে করছি।
বন্ধনহীন বলেছেন:
"কলকাতার মুসলিমরা বাংলা থেকে উর্দূতে কথা বলেন বা বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন।"আমার মনে হয় কথাটা কিছুটা ঠিক। আমি কলকাতায় এক মুসলিম ভদ্রলোককে দেখেছি, নিজের ভাইয়ের সাথে উর্দুতে কথা বলতে। কিন্তু তিনি নিজেকে বাঙ্গালী বলে দাবী করলেন। কলকাতার অনেক মুসলিম বিহারীরা বাংলাদেশের লোকজনদের কাছে নিজেদের বাঙ্গালী বলে পরিচয় দেন পারে বলে আমার সন্দেহ হয়েছিল।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আসুন, এই অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানাই। বাংলা গানকে, বাংলা সংস্কৃতিকে অবমাননা করার, রবীন্দ্রনাথের গানকে বিকৃত করার এই হীন প্রয়াস অত্যন্ত নিন্দনীয়।ধন্যবাদ রাগিব ভাই ।
বন্ধনহীন বলেছেন:
সরি। পরিচয় দেন (পারে X) বলে আমার সন্দেহ হয়েছিল।
বন্ধনহীন বলেছেন:
গুরু, হিন্দী অনুবাদ করল কে? তাকে পেন্নাম। জয় হে, অনুবাদক।
আশরাফ রহমান বলেছেন:
কবি রবীন্দ্রনাথ যদি নোবেল পুরষ্কার না পেতেন তাহলে তার গান ভারতের জাতীয় সঙ্গীত করা হতো কিনা সন্দেহ। রবীন্দ্রনাথ নিশ্চয়ই বিশ্বের দরবারে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। কিন্তু তার গানকে হিন্দি সংস্করণ করে তার প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে। ভারতের বাঙালীরা এর প্রতিবাদ না জানানোয় কবির প্রতি তাদের মমত্ববোধ কত যে ক্ষীণ তা ফুটে উঠেছে। দুদিন আগে এক ভারতীয় ব্লগার বললেন-তিনি প্রথমে ভারতীয় তারপর বাঙালী। সব বাঙালীর যদি এই মানসিকতা হয় তাহলে আশ্চর্য হবার কিছু নেই।
রাগিব ভাইকে ধন্যবাদ তথ্যবহুল একটি পোস্টের জন্য।
বন্ধনহীন বলেছেন:
আশরাফ রহমান, আপনার ৫ কই?
অন্যরকম বলেছেন:
মারলাম টান। ৫, হেইয়ো...!!!!
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
কে এই গুরুদেব রাগিব হাসান? আমাদের একটু পিছনে ফিরে যেতে হবে।১৯৯৬ সালে চট্রগ্রাম বোর্ডে এইচ এস সি তে মেধা তালিকায় প্রথম....
১৯৯৬ সালের বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় অপ্রতিদন্দ্বী নটরডেমিয়ানদের বোল্ড করে প্রথম........
গণক তরিকায় বুয়েটে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম...এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক প্রাপ্ত....১৯৯৬ ব্যাচে বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান স্টুডেন্ট........
অন্যরকম বলেছেন:
রাগিব ভাই কি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট এর পোলা???
আনিসুজ্জামান উজ্জল বলেছেন:
এই রকম একটা কাজের জন্য ধন্যবাদ রাগিব
নিরপরাধ বলেছেন:
গানটা যখন প্রথম শুনি তখন এইটারে হিন্দিই মনে হইছিলো। পরে যখন এর টেক্স দেখলাম তখন বুঝলাম এইটা বাংলা। আবারো শুনলাম অডিওটা। ওরা পুরা হিন্দি accent এ গানটা গায়। তাই শুনলে মনে হয় হিন্দিতেই গাইতেছে। তবে কোন সন্দেহ নাই যে রবীন্দ্রনাথের লেখা টেক্স থেকেই গানটা গাওয়া হয়। তাই "adopted hindi version" কথাটা পুরাপুরি মিথ্যাচার। যদিও ভারত সরকারের এবিষয়ক মন্তব্য জানার সুযোগ হয় নাই।
জি.এম.তানিম বলেছেন:
সহমত। দামি পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
মোসতাকিম রাহী বলেছেন:
ধন্যবাদ,রাগিব ভাই, মূল্যবান কিছু তথ্য জানানোর জন্যে। বকলমকে বলছি, এখানে (আবুধাবিতে) আমার বেশ কয়েকজন বন্ধু আছেন কলকাতার বাঙালি মুসলিম। তাঁরা বিশুদ্ধ বাংলাতেই কথা বলেন, তাঁদের পরিবারের লোকজনের সাথেও কখনো উর্দু বলতে শুনি নি। ব্যাপারটা সম্পর্কে আমারও খটকা ছিলো বলে তাঁদের জিজ্ঞেস করেছি বাড়িতে তাঁরা উর্দুতে কথা বলেন কিনা! তাঁরা জানিয়েছেন, না!
তবে 'নাসিম' নামে আমার আরেকজন বন্ধু আছেন, যিনি লক্ষ্ণৌর মানুষ। কিন্তু ছোটোবেলা থেকে বড়ো হয়েছেন কলকাতাতে, যে-কারণে অনর্গল বাংলায় কথা বলেত পারেন। তাঁর পরিবার এখন কলকাতাতেই। যখন তিনি পরিবারের লোকেদের সাথে কথা বলেন, তখন উর্দুই ব্যবহার করেন।
কিন্তু এখানকার অনেক লোক নাসিমকে ক্যালক্যাশিয়ান বলেই জানেন তাই যখন তিনি উর্দুতে কথা বলেন তখন তাঁরা অবাক হন।
নাসিমের মতো অনেক বহিরাগত অবাঙালি মুসলিম কলকাতাতে আছেন। তাঁদের দেখে হয়তো এই ধারণা জন্মেছে।
দিগন্ত বলেছেন:
আমি বাঙালী মুসলিমদের উর্দুতে কথা বলতে দেখি নি, তবে পশ্চিমবঙ্গের ২৭% মুসলিম যার মধ্যে ১০% লোক উর্দুভাষী। উর্দু পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় আঞ্চলিক ভাষা (কোলকাতা ও হাওড়া জেলার), যেমন দার্জিলিঙে গোর্খা ও পুরুলিয়াতে সাঁওতালি।
দিগন্ত বলেছেন:
আমার ধারণা উচ্চারণ নির্দিষ্ট করার কারণেই হিন্দি অনুবাদের কথা। কারণ সরকারি ভাবে যে গান জাতীয় সঙ্গীত বলে জানানো হয় তা পুরো হিন্দি উচ্চারণে গাওয়া হয়। একই গান বাংলায় বা তামিলে সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা উচ্চারণে গাওয়া হয়। আমার ধারণা হিন্দি যেভাবে উচ্চারণ হয়, বেশীরভাগ ভারতীয় সেই উচ্চারণের সাথে বেশী পরিচিত, তাই উচ্চারণের দিক থেকে হিন্দি যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। শেষে বলি, আপনারা আপনাদের দেশের ৯৮%, ২১শে ফেব্রুয়ারীর সময়েও ছিলেন ৫৬%। আমরা আমাদের দেশে ৮%। কি করে আমরা বাংলাভাষার একই রকম স্ট্যাটাস দাবী করি?
বন্ধনহীন বলেছেন:
দিগন্ত, কলকাতায় বাঙ্গালীরা নাকি সংখ্যালঘু (৩০%), কথাটা কি ঠিক? খুব সম্ভবতঃ প্রথমআলোয় পড়েছিলাম।
বন্ধনহীন বলেছেন:
যখন সরকারীভাবে বাংলাকে "ন্যাশনাল" ভাষা বলা হয়, তাতে অসুবিধার তো কিছু দেখি না।
বন্ধনহীন বলেছেন:
যখন সরকারীভাবে বাংলাকে "ন্যাশনাল" ভাষা বলা হয়, তাতে বিশেষ স্ট্যাটাস পেতে অসুবিধার তো কিছু দেখি না।
দিগন্ত বলেছেন:
তবে একটা ব্যাপারে আপনি হয়ত ঠিক, যেটা আমিও একমত যে ভারতে ভাষার ব্যাপারে লোকে (হয়ত বাঙালীরা বেশী) অতটা সজাগ নয়। আমরা সবাই ভাষা নিয়ে মাথা ঘামালে দেশ চলে কি করে? এরপর জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বাংলায় দাবী করলে সব রাজ্য নিজের নিজের মত জাতীয় সঙ্গীত দাবি করতে পারে।
একটা ব্যাপার ভেবে দেখুন, ভারতে এত ভাষাভাষী মানুষ আছে, তারা একজন (বন্দেমাতরম বললে দুজন) বাঙালীর গান জাতীয় সঙ্গীত বলে মেনে নিয়েছে।
দিগন্ত বলেছেন:
"দিগন্ত, কলকাতায় বাঙ্গালীরা নাকি সংখ্যালঘু" - কোলকাতা শহরের এখন কোনো সীমা জানা নেই, থাকলেও ৫০%র কম বাঙালী হবে বলে আমার মনে হয় না। আর ভারতে 'ন্যাশনাল' ভাষা বলে কিছু নেই। অফিশিয়াল ভাষা হিন্দি, ইংরেজী আর বাকী ২২টি ভাষা 'স্বীকৃত' ভাষা।
বন্ধনহীন বলেছেন:
বিহার ও ঝাড়খন্ডে বাংলাভাষী লোকের সংখ্যা কত? কেউ কি জানেন?
দিগন্ত বলেছেন:
ঝাড়খন্ডে ২০% হবে, কারণ ওখানে স্বীকৃত দ্বিতীয় ভাষা বাংলা।
বন্ধনহীন বলেছেন:
বাংলাদেশী পত্রিকায় দেখেছিলাম, ঝাড়খন্ডে বাংলাভাষীরা ভাষা স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করছে। কোন সময় বাংলাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, জানেন?
দিগন্ত বলেছেন:
সঠিক জানিনা, আমার অফিসে এক বন্ধু মারফত জানা। তবে পশ্চিমবঙ্গে বাংলার ব্যবহার কমছে। সেটা অবশ্য স্বাভাবিক। এখানে ইংরেজী বাড়ছে।
সোনার বাংলা বলেছেন:
নিন্দা জানাই হিন্দ লাদাদের! তারা আমাদের ভাষা(বাংলা)কে অপমান করেছে। রাগিব ভাই, অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ধাক্কা দিলাম>৫
দিগন্ত দা আপনি বলেছেন, "একই গান বাংলায় বা তামিলে সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা উচ্চারণে গাওয়া হয়।"
-আমি জানতে চাইছিলাম হিন্দী ছাড়া আর সব ভাষার মানুষ কি হিন্দিতেই গানটি গায়?
আপনি আরো বলেছেন, "এরপর জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বাংলায় দাবী করলে সব রাজ্য নিজের নিজের মত জাতীয় সঙ্গীত দাবি করতে পারে।"
- এখানে বাংলায় দাবীর কথা উঠছে কেনো? গানটি তো বাংলাতেই রচিত তাই না?
রাগিব দার বক্তব্য আমাকে ভাবিয়েছে এ কারনে আপনি বললেন " ভারতে'ন্যাশনাল' ভাষা বলে কিছু নেই। অফিশিয়াল ভাষা হিন্দি, ইংরেজী আর বাকী ২২টি ভাষা 'স্বীকৃত' ভাষা"।
-জাতীয় সঙীত হিন্দিতে হতে পারে তার কোনো সমস্যা নেই কিন্তু যে গানটি বাংলায় (একটি স্বীকৃত ভাষা) রচিত তাহলে তাকে কেনো হিন্দিতে অনুবাদ করে গাইতে হবে।
অনুবাদ করা হয় ভাষা অনুধাবন করার জন্য। লিও তলস্তয় পড়তে হলে রাশিয়া জানতে হয় না। যে যার নিজের ভাষায় পড়তে পারে কিন্তু তাই বলে রাশিয়ান ভাষার গুরুত্ব ম্লান হয় না এতে বরং বাড়ে।
রবীন্দ্রনাথের "জনগনমন" সবসময় বাংলায় শুনেছি। হিন্দীতেও শুনেছি... সেই সাথে রবীন্দ্রনাথের অনেক গানের হিন্দী ভার্সন শুনেছি। এতে আমার কাছে বাংলার গুরুত্ব এতটুকু কমেছে বলে মনে হয়নি। তবে তাই বলে হিন্দী এসে জুড়ে বসে বাংলাকে ঢেকে দেবে এটা ভাবলেও খারাপ লাগে। শুধু ভারতবাসীই না অনেক বাঙালীরাও মনে করে ভারতের জাতীয় সঙীত হিন্দীতেই রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছেন অথচ এটা ঠিক না।
অবশ্য এ ব্যাপারে আরো একটা কথা ভাবার আছে যে রবীন্দ্রনাথ নিজে এ গানটিকে হিন্দীতে ব্যবহার করার ব্যাপারে অনুমোদন করেছেন কিনা। আমি এটা জানার চেষ্টা করছি।
দিগন্ত বলেছেন:
"আমি জানতে চাইছিলাম হিন্দী ছাড়া আর সব ভাষার মানুষ কি হিন্দিতেই গানটি গায়?" - অধিকাংশ ভারতীয় ভাষায় একই আকারে গানটি গাওয়া যেতে পারে।"অবশ্য এ ব্যাপারে আরো একটা কথা ভাবার আছে যে রবীন্দ্রনাথ নিজে এ গানটিকে হিন্দীতে ব্যবহার করার ব্যাপারে অনুমোদন করেছেন কিনা।" - এই গানটি কংগ্রেসের অধিবেশনে গাওয়া হয়েছিল, তাই এটা সব ভাষায় গাওয়া অনুমোদিত বলে আমার ধারণা।
"শুধু ভারতবাসীই না অনেক বাঙালীরাও মনে করে ভারতের জাতীয় সঙীত হিন্দীতেই রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছেন অথচ এটা ঠিক না। " - এই ধারণার কি কারণ? আমি এরকম কখনও শুনিনি।
পাগলা বাবু বলেছেন:
ভাষা নিয়ে আমরা অতটা মাথা ঘামাইনা ? তবু ,আমার মনে হয় , রবীন্দ্রনাথ অতো বোকা লোক না , তিনি অনেক ভেবেই গান টা লিখেছন । যা ভারতের যে কোন ভাষাতেই দেখুন একই শব্দ । আর ভারত নানা ভাষার দেশ ? অতটা ভাবলে চলে না । মুল কথা আমরা ভারতীয় কি না । সে টা দেখুন ?
সরোদ বলেছেন:
কলকাতার এক লোকের কাছে শুনেছি কলকাতায় গত কয়েক দশকে বিহারিদের সংখ্যা কয়েক গুন বেড়েছে। বিহারিরা সবাই হিন্দিতে কথা বলে, সাথে কলকাতাবাসিরাও হিন্দি বলা শুরু করেছে। যে ভদ্রলোক আমাকে কথা গুলো বলেছেন উনি নিজে দেশে ফোন করলে আত্নিয় স্বজনের সাথে হিন্দিতে কথা বলেন। একমত হতে পারলামনা "পাগলা বাবু"। আমার মনে হয়ন রবীন্দ্রনাথ ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের জন্য আলাদাভাবে কোন কিছু লিখেছেন।
দিগন্ত বলেছেন:
"বিহারিরা সবাই হিন্দিতে কথা বলে, সাথে কলকাতাবাসিরাও হিন্দি বলা শুরু করেছে।" - এরকম ধারণার কারণ দেখি না। আমিও আমার অনেক বন্ধুর সাথে হিন্দিতে কথা বলি। আমাদের অফিসে হিন্দিতে অনেকসময়েই কথা হয়। কলকাতাবাসীরা হিন্দিতে কথা বলে হিন্দি সিনেমা আর সিরিয়ালের প্রভাবে পড়ে ... বিহারীদের দলে পড়ে নয়।
রাগিব বলেছেন:
এই বিষয়ে সবার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, এই বাংলার মর্যাদা আমাদের জীবনের অংশ।
মানবী বলেছেন:
পোস্টের সাথে সহমত, ধন্যবাদ রাগিব।যারা আস্বীকার করছে, তারা সত্য জেনেও মানতে চাইছেনা। হাজার প্রমান উপস্থিত করলেও তারা ভুল স্বীকার করবেনা।
রাগিব বলেছেন:
দিগন্ত ভাই, আপনি বলেছেন -"আমার ধারণা উচ্চারণ নির্দিষ্ট করার কারণেই হিন্দি অনুবাদের কথা।"
এই সিদ্ধান্ত কে, কবে নিয়েছে, তা জানেন কী? কারণ মূল সিদ্ধান্তে গানটিকে "হিন্দি সংস্করণ" করার ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। (আমি যে অংশের উদ্ধৃতি দিয়েছি, তা ভারত সরকারের প্রকাশিত ট্রান্সক্রিপ্টের থেকে নেয়া)। তাহলে কে কবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আর আপনি সহ তাবৎ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি "হিন্দি সংস্করণ" এর কথা কেনো আমার মুখেই প্রথম শুনেছেন? অধিকাংশ ভারতীয় বাঙালিই প্রথমে আমার কথা বিশ্বাস করেন না, আর পরে বলেন, নিশ্চয়ই উচ্চারণের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া, কিন্তু কোনো তথ্যসূত্র আর পাইনা।
"আমার ধারণা হিন্দি যেভাবে উচ্চারণ হয়, বেশীরভাগ ভারতীয় সেই উচ্চারণের সাথে বেশী পরিচিত, তাই উচ্চারণের দিক থেকে হিন্দি যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত।"
তামিলদের কাছে হিন্দি যা, বাংলাও তাই। তার পরেও প্রশ্ন থাকছে, গানের কথা, সুর, ব্যকরণ কিছুই যদি না পালটায়, তাহলে কি গানের "অনুবাদ" হয়ে যায়? নোয়াখালীর বা চট্টগ্রামের কেউ যদি "আমার সোনার বাংলা" নোয়াখালীর বা চট্টগ্রামের টানে গান, শব্দগুলোকে অন্যভাবে উচ্চারণ করেন, তবে কি তা পালটে যাবে? আর বাংলা একটা গানকে জাতীয় সঙ্গীত বলতে এতোই কি সমস্যা? বাংলাতো বিদেশী ভাষা না, বরং ভারতের ২২টি স্বীকৃত ভাষার একটা। ভারতের জাতীয় মটো "সত্যমেভ জয়তে" এইটা তো সংস্কৃতে আছে, হিন্দিতে না, তাতে কি কোনো সমস্যা হচ্ছে?
আমি এই ব্যাপারে পুরাই নিশ্চিত, কোনো কমিটি বা কেউই কখনোই "হিন্দি সংস্করন" এর মতো দুনিয়াতে অদ্বিতীয় কিছু বানায়নি। এটা সম্ভবত সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের হিন্দিভাষী কারো অতি উৎসাহের ফল, যা এখন দুনিয়ার সর্বত্র প্রোপাগান্ডা হিসাবে প্রচার পাচ্ছে। আমি অনেক চেষ্টা করেও কবে কোথায় এরকম সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, রেফারেন্স জানতে পারিনি। হয়তো আপনি পারতে পারেন, কিন্তু সন্দেহ হচ্ছে আদৌ এরকম অদ্ভুত সিদ্ধান্ত কেউ নিয়েছে কি না।
তানভীর বলেছেন:
হিন্দি, বাংলা, উর্দু- উপমহাদেশের প্রধান সব ভাষাই সংস্কৃত হতে উপজাত। কাজেই, এক্ষেত্রে বাংলা ও হিন্দি অনুবাদ যদি একই হয়, তাতে আর্শ্চয হবার কিছু নেই। আর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষার কথা বিবেচনা করে 'হিন্দি সংস্করণ'ই গ্রহণযোগ্য। প্রসংগত, আমরাও কিন্তু আমাদের জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথের দেয়া সুরে গাই না। জাতীয় সংগীত হিসেবে যে অংশটুকু বাজানো হয়, তা বেশ দ্রুত লয়ের। কম্পোজিশনটা মনে হয় অজয় রায়ের করা। এতে রবীন্দ্রনাথের সম্মান যেমন এতটুকু ক্ষুন্ন হয় নি, তেমনি ভারতের জাতীয় সংগীত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিবেচনা করে 'হিন্দি সুরে' বা 'হিন্দি অনুবাদে' অথবা 'হিন্দি সংস্করণ' যে হিসেবেই গাওয়া হোক না কেন, তাতে রবীন্দ্রনাথ বা বাংলা ভাষার কোন অপমান হয়েছে বলে আমি মনে করি না।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবিভক্ত ভারতের বাঙ্গালী কবি। সে হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত-দু'দেশই তাঁর দাবীদার। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে রবীন্দ্রনাথ একজন বিশ্বকবি এবং তা শুধু বাংলা ভাষাকে অবলম্বন করেই। একটা বিখ্যাত উক্তি আছে-'বিশ্বমানের মানুষ হবি, যদি শ্বাশত বাঙ্গালী হ।' রবীন্দ্রনাথ আমাদের সেই বিশ্বমানের মানুষ। কাজেই, তাঁর কবিতা, গান শুধু হিন্দি কেন, স্প্যানিশ, হিব্রু পৃথিবীর নানা ভাষার সংস্করণে যে ভাবেই প্রকাশিত হোক না কেন, তা শুধু বাংলা ভাষাকেই সম্মানিত করে। ধন্যবাদ।
তানভীর বলেছেন:
একটা বাংলা গান, যেটা হিন্দি-তেও একই অর্থ বহন করে এবং হিন্দি সুরে গাওয়া হয়, তাকে সরাসরি 'বাংলা গান' বলার চাইতে 'মূল বাংলা গানের হিন্দি সংস্করণ' বলাই যুক্তিসংগত নয় কি? (যেটা ভারতের সংবিধানে বলা হয়েছে)
রাগিব বলেছেন:
তানভীর ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। তবে সমস্যাটা হলো, ভারতের সংবিধানের কোথাও গানটার "হিন্দি সংস্করণ" এর ব্যাপারে বলা নেই। প্লাস, মূল সাংবিধানিক সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ট্রান্সক্রিপ্ট ঘেঁটে দেখেছি, কোথাও ওরকম সিদ্ধান্ত নেয়া হয় নি। এই "হিন্দি সংস্করণ" প্রচারণার মূল উৎস হচ্ছে ওয়েবসাইট এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রচারণা। (যা মূল সাংবিধানিক সম্মেলনের ট্রান্সক্রিপ্টে দেয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অসত্য দাবী পেশ করেছে)। ভারত সরকার সরকারীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলে বাঙালি হিসাবে আহত হওয়া ছাড়া আর সমস্যা থাকতো না। কিন্তু যেখানে সিদ্ধান্তটা নেয়া হয়নি, কিন্তু অল্প কিছু উৎস থেকে বিপুল প্রচারণা চলছে একটা মিথ্যা কথার, সেখানেই সমস্যা।
এই ব্যাপারে !@@!1287156 !@@!1287157 !@@!1287158 !@@!1287159। সেখানেও পাঠ্যপুস্তক বিকৃতির প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
দিগন্ত বলেছেন:
"পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি "হিন্দি সংস্করণ" এর কথা কেনো আমার মুখেই প্রথম শুনেছেন?" - আমার ধারণা আমি অনেকদিন ধরেই জানি। কবে কোথায় কিভাবে জেনেছি খেয়াল নেই। তবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্যটার জন্য ধন্যবাদ। আমার ধারণা আপনারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে আমাদের থেকে অনেক গুণে বেশী ভালবাসেন। সেজন্য আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা রইল।
রাগিব বলেছেন:
দিগন্ত ভাই, তাহলে "সব" এর বদলে "অধিকাংশ" হবে বাঙালিরা এক প্রাণ। আগের একটা পোস্টে সুনীল, আর মমতাজউদ্দিনের কথা বলেছিলাম। আরবানার টেগোর ফেস্টিভালে এঁদের দুইজনের বৈপরীত্য আর মিল দেখেছিলাম। সুনীল পূর্ববঙ্গের ফরিদপুরের মানুষ, কলকাতায় কেটেছে ১৯৪৭ পরবর্তী জীবন। মমতাজউদ্দিন মালদহের মানুষ, ১৯৪৭ পরবর্তী জীবন কেটেছে পূর্ববঙ্গ/বাংলাদেশে। দুজনেই বাঙালিদের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির মূর্তমান প্রতীক।
বাংলাভাষা উদ্ভুত হয়েছে হিন্দী থেকে (চর্যাপদ)। যে শব্দ হিন্দীতে নেই সে শব্দ বাংলাতেও নেই। অর্থাৎ বাংলাভাষার মূল ধাতু এসেছে সংস্কৃত>হিন্দী>বাংলা। সেই জন্য হিন্দীর সঙ্গে বাংলার বা বাংলার সঙ্গে হিন্দীর এত মিল।
রবীন্দ্রনাথের অনেক গান এবং রচনা হিন্দী সহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এটা সত্যি যে, ভারতের জাতীয় সঙ্গীত "জন গণ মন" গানটি হিন্দীতে অর্থাৎ দেবনাগরীতে রুপান্তর করেই সংবিধানে গৃহীত হয়েছিল। তাতে হিন্দী এবং বাংলাতে শব্দের কোন তফাৎ হয়নি।
বাংলাভাষা উদ্ভুত হয়েছে হিন্দী থেকে (চর্যাপদ)। যে শব্দ হিন্দীতে নেই সে শব্দ বাংলাতেও নেই। অর্থাৎ বাংলাভাষার মূল ধাতু এসেছে সংস্কৃত>হিন্দী>বাংলা। সেই জন্য হিন্দীর সঙ্গে বাংলার বা বাংলার সঙ্গে হিন্দীর এত মিল।
রবীন্দ্রনাথের অনেক গান এবং রচনা হিন্দী সহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এটা সত্যি যে, ভারতের জাতীয় সঙ্গীত "জন গণ মন" গানটি হিন্দীতে অর্থাৎ দেবনাগরীতে রূপান্তর করেই সংবিধানে গৃহীত হয়েছিল। তাতে হিন্দী এবং বাংলাতে শব্দের কোন তফাৎ হয়নি।
দিগন্ত বলেছেন:
হিন্দী থেকে বাংলা এসেছে এরকম তো শুনিনি, চর্যাপদ বাংলায় লেখা বলেই জানি। আপনার কোনো রেফারেন্স?
রাগিব বলেছেন:
অনুমান, আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনি লিখেছেন:
"বাংলাভাষা উদ্ভুত হয়েছে হিন্দী থেকে (চর্যাপদ)।"
এই কথাটা একেবারেই ঠিক না। বাংলাভাষা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে। চর্যাপদের ভাষা ছিলো এরকম প্রাকৃত বা প্রাকৃত অপভ্রংশ। তদানিন্তন ভারত বর্ষের পূর্বাঞ্চলের অপভ্রংশ অবহট্ট তিনটি ভাগে ভাগ হয় ৫ম-৭ম শতাব্দীর দিকে - বাংলা/অসমীয়া, বিহারী, এবং উড়িয়া ভাষায়।
অন্যদিকে হিন্দি ভাষার উৎপত্তি প্রাকৃত হতে, খর বোলী এবং অযোধ্যায় বলা আঞ্চলিক ভাষা থেকে, ১০ শতকের দিকে। উর্দু আর হিন্দি - দুটোই সেনা শিবিরে ব্যবহৃত ভাষা হিসাবে বিস্তার লাভ করে, আর শব্দ চয়ন ছাড়া এদের মধ্যে পার্থক্য কমই। (আমার এই সব তথ্যের উৎস উইকিপিডিয়ার বাংলা ও হিন্দি ভাষার উপরে নিবন্ধ। ঐখানে আসল রেফারেন্স পাবেন)।
"ভারতের মত বিশাল দেশ যেখানে মোট কথ্যভাষা ৪০০ এর ওপরে সেখানে সব ভাষাভাষীকে বেঁধে রাখতে হলে একটি ইউনিভার্সাল ভাষা চাই। হিন্দী সেই ভাষা।"
সরকারী কাজে হিন্দি সর্বভারতে ব্যবহার নিয়ে তো বলছিনা। বলছি ভাষা হিসাবে বাংলাকে অবহেলা করা নিয়ে ... বাংলা তো ভারত সংবিধানের ৮ম শিডিউলে মর্যাদা প্রাপ্ত ভাষাগুলোর একটা, তাহলে ঐ ভাষাতে জাতীয় সঙ্গীত হতে অসুবিধা কী?
আর, একটা শব্দ বা বাক্যাংশও অনুবাদ না করে একটা বাংলা গানকে কীভাবে "হিন্দি সংস্করণ" বলা যায়?
"রবীন্দ্রনাথের অনেক গান এবং রচনা হিন্দী সহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এটা সত্যি যে, ভারতের জাতীয় সঙ্গীত "জন গণ মন" গানটি হিন্দীতে অর্থাৎ দেবনাগরীতে রূপান্তর করেই সংবিধানে গৃহীত হয়েছিল। তাতে হিন্দী এবং বাংলাতে শব্দের কোন তফাৎ হয়নি।"
অনুবাদ তো হয়নি জন গন মন। সেটাই সমস্যা, অনুবাদ না করেই কেউ যদি অন্য ভাষার গানকে হিন্দি বলে, সেটা কি হিন্দি হবে? আর এই "হিন্দি সংস্করণ" ব্যাপারটা বিতর্কিত এবং মিথ্যা প্রচারণা, মূল সংবিধান বা সাংবিধানিক কাউন্সিলে এটা মোটেও বলা হয়নি। তা নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার রিপোর্টের রেফারেন্স দিয়েছি উপরে।
রাগিব বলেছেন:
ভারতীয় বাঙালি ভাইদের আবারও বলছি, আপনাদের রাষ্ট্রভাষাকে হেয় মোটেও করতে চাইনা, কিন্তু যে সিদ্ধান্ত নেয়াই হয়নি, সেই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মিথ্যা প্রচারণা করছে ভারত সরকারের ওয়েবসাইট এবং এনসার্ট। ভারতীয় পত্র-পত্রিকাতেও তা নিয়ে লেখালেখি চলছে। তাই আপনারা এই ব্যাপারটা একটু খতিয়ে দেখুন। পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস বিকৃতির শিকার আমরা বাংলাদেশীরা (বিশেষত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে!!), তাই এই ব্যাপারটার ভয়াবহতা বুঝতে পারি।
ডাক্তার আইজউদ্দিন বলেছেন:
রাগীব ভারত তার জাতীয় সংগীত যেভাবে গেতে পারে। আমেরিকান জাতীয় সংগীতের তো কোন সুর নেই যার ইচ্চা সে তার সুরে গেতে পারে। আমই ঠিক বুজে উটতে পারছিনা কি যায় আসে ওরা যদি হিন্দি ভারসনে অথবা বাংলা ভার্ষনে গায়। আর পশ্চিম বাংলায় বন্দে মাতরম তো হিন্দিতে গায়
রাগিব বলেছেন:
ডাক্তার ভাই, অবশ্যই, ভারত সরকার সরকারীভাবে ঘোষণা করতে পারে, ভারতের জাতীয় সংগীত হবে হিন্দিতে। সমস্যাটা হলো, এরকম কোনো সিদ্ধান্ত অফিসিয়ালভাবে কোনোদিন নেয়া হয় নি, কিন্তু তথ্য মন্ত্রণালয় ও ভারত সরকারের ওয়েবসাইটে এই প্রচারটা চলছে। বাঙালি হিসাবে তাই একটু চিল্লা ফাল্লা করছি আর কি। তবে ভারতের বাঙালিরা যদি এতে কোনো সমস্যা না দেখে থাকেন, তাহলে হয়তো চুপ করে যাবো। আসলে মাথা ঘামাবার মতো অনেক বড় সমস্যা তো আমাদের দেশেই আছে ... বন্যা নিয়েই বরং পোস্ট দিবো ... মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ডাক্তার আইজউদ্দিন বলেছেন:
সাঈফ শেরিফ একটু অশ্রুর ত্রিভুজ প্রেমের মতো হইয়া যাইটাসে তোমার রাগীব বন্দনা
আই অনুর এলাকার পুয়া। অনে আরে নচিনিবেন, আই অনুরে চিনি।
আসল ট্র্যাপ বলেছেন:
ডাক্তারের সাথে একমত, রাগিব ভাইরে এমনিতেই সবাই চিনে। সাঈদ শেরিফের গুরু বন্দনার দরকার নাই।
আমি দুঃখিত, আমি আপনার বক্তব্যের মূল সুরটি ধরতে পারিনি।
স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের শাসকবর্গের বাংলা ভাষার প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ সুবিদিত।তা নিয়ে কোনোকালেই কোনো বঙ্গভাষীর (এপারের) কোনো সংগঠিত আন্দোলন দানা বাঁধেনি।
ভারতের দক্ষিণের বিভিন্ন প্রদেশগুলির মানুষেরা হিন্দিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাক্ষান করেছেন।এটা তারা করতে পেরেছেন দীর্ঘ সংগ্রাম আন্দোলনের মধ্য দিয়েই । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেরকম কোনো কিছু হয়নি। হতে দেওয়া হয়নি। এখানকার শাসক তথা বুদ্ধিজীবিরা বাংলাভাষার প্রতি দরদ দেখিয়েছেন বটে, তবে বাংলা নিয়ে কিছু বলতে গেলে প্রাদেশিকতাবাদকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। তাই বাংলাভাষার আন্দোলন হালে পানি পায়নি।
ভারতের অন্যান্য প্রদেশের যেকোনো সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতে হিন্দিকে মূল ভাষা এবং ইংরেজীকে দ্বিতীয়ভাষা হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজীকে মূলভাষা এবং হিন্দিকে দ্বিতীয়ভাষা হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে । সেখানে বাংলাভাষার কোনো স্থান নেই । সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠানে, ব্যাঙ্কে,রেলে সুচতুরভাবে হিন্দিকেই মূলভাষারূপে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাঝে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাভাষার প্রসারে প্রাথমিকে ইংরেজী তুলে দিয়েছিলেন। আনণ্দবাজারের মতো বাংলা পত্রিকা কৌশলগতভাবে দীর্ঘ বিশ বছর এর বিরোধিতা করেছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলতো ছিলই। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাধ্য হয়েই আবার প্রাথমিকে ইংরেজী ফিরিয়ে এনেছেন। সুনীল গাঙ্গুলীর মতো বঙ্গ-ব্যক্তিত্বের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে ।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারও তাদের সরকারী কাজে এখনও বাংলাভাষা ব্যবহার করেননা। এমনকি জেলা বা মহকুমা দপ্তরগুলিতে চিঠির প্রাপ্তিস্বীকারটুকুও বাংলাতে করা হয়না ।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারও তাদের সরকারী কাজে এখনও বাংলাভাষা ব্যবহার করেননা। এমনকি জেলা বা মহকুমা দপ্তরগুলিতে চিঠির প্রাপ্তিস্বীকারটুকুও বাংলাতে করা হয়না ।
এপারের আমরা বাঙ্গালীরাও যে কোনো কাজে, তা স্কুল কলেজে ভর্তি, যে কোনো আবেদন-নিবেদন-দরখাস্ত বা জমির দলিল, যাই হোকনা কেন, ইংরেজীতেই কাজ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি । এবং আমরা ইংরেজীতে কাজ করতেই গর্ব বোধ করি ।
তবে আশার কথা, বাংলাদেশের বাঙ্গালীদের সৌজন্যে বাংলাভাষা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবেনা । বাংলাভাষা ছিল, আছে এবং থাকবে। হয়তো থাকবেনা এপার বাংলায়।
বন্ধনহীন বলেছেন:
অনুমান, বাংলা যে হিন্দী হয়ে আসেনি, তা গুরু (রাগিব) ইতিমধ্যে উত্তর দিয়েছেন। আমি এখানে একটু যোগ করতে চাই, ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ দেখিয়েছেন চর্যাপদের রচনা কাল ৭৫০ দিকে পাল রাজা দের শুরুর সময়কালে। অনেক ইতিহাসবিদদের মতে ঔ সময়টা প্রাচীন বাংলা মূলতঃ বৌদ্ধপ্রধান দেশ ছিল। পালরাজারাও বৌদ্ধ ছিলেন এবং প্রথম পাল রাজা গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত (বাছাই হয়ে) ছিলেন। আর অপভ্রংশ থেকে টুপ করে বাংলা আসেনি। যখন অপভ্রংশ থেকে বাংলার আদিরূপ তৈরী হয়েছিল, তখনো অপভ্রংশ প্রচলিত ছিল দূর্বলভাবে।
আমার নিজের ধারণা, শশাংকের সময়কাল থেকে প্রাচীন বাংলার মানুষ নিজেদের প্রাচীন মাগধী জনগোষ্ঠী থেকে সাংস্কৃতিকভাবে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছিল। তা নাহলে শশাংকের পক্ষে গৌড়ের স্বাধীন নরপতি হওয়া সহজ ছিল না।
"তবে আশার কথা, বাংলাদেশের বাঙ্গালীদের সৌজন্যে বাংলাভাষা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবেনা । বাংলাভাষা ছিল, আছে এবং থাকবে। হয়তো থাকবেনা এপার বাংলায়।"
ওপারে বাংলা না থাকলে বাংলাদেশে হিজরত করুন। সাদরে গ্রহন করবো। বাংলার কথা বললে সীমান্ত গিয়ে সবাই বসে থাকবে স্বাগত জানানোর জন্য।
বিজলীর খড়ি বলেছেন:
ব্যাপারটা নিয়ে অনেক আলোচনা করা হল, কিন্তু আমারদেরকে বাস্তবতা মাথায় রাখতে হবে। ভারত বিশাল দেশ, বহুভাষী দেশ, কাজেই বাংলা ভাষায় গান করলে তা হিন্দীতে গাইতে গেলে সমস্যা হবেই। গানটি যে পুরোটা বাংলা তা আমিও জানিনা। এখন জানলাম। কোটি কোটি লোক গাইতে গাইতে হিন্দী উচ্চারনে তা হিন্দী ভার্সন হয়ে গেছে। হিন্দীভাষীদের জন্য বাংলা বলা টাফ, কিন্তু উল্টোটা বেশী টাফ নয়। আমার মতে ভারতের জাতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজীকে গ্রহন করা এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত--যা সেদেশে ভয়াবহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক বৈষম্য সৃষ্টি করছে।ভারতে অফিসিয়াল ইংরেজি, হিন্দী, ৪০ কোটি হিন্দীভাষী, সারাক্ষন হিন্দী সিনেমা গান, এসবের প্রভাবে শুধু বাংলা নয় অন্য সবগুলো ছোট ছোট ভাষাই হারিয়ে যাবে মনে হয়।
অনুমানের মন্তব্য:
তবে আশার কথা, বাংলাদেশের বাঙ্গালীদের সৌজন্যে বাংলাভাষা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবেনা । বাংলাভাষা ছিল, আছে এবং থাকবে। হয়তো থাকবেনা এপার বাংলায়।'
আমার কাছে যেন বুকফাটা হাহাকারের মতো শোনাল। আমরা গর্বকরে বলি, উর্দু-হিন্দীর প্রভাব বেশী হতে পারে, কিন্তু সাহিত্যের দিক দিয়ে বাংলা উপমহাদেশে অদ্বিতীয়, এই গর্ব একসময় হয়ত থাকবে না।
আমি আমার ঢাকা বিশ্ব: ক্যাম্পাসেও পোলাপানকে হিন্দী গান গাইতে দেখি। গান গাওয়া, স্মার্ট হওয়া এগুলো এক জিনিস, আর সরকারি ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ভাষা ব্যবহার করা একজিনিস। বাংলাদেশে অন্তত এখন ইংরেজী বা হিন্দীর প্রভাবে বাংলা হুমকির সম্মুখীন একথা ভাবা হয় না।
তবে আমি মনে করি বাংলা ভাষার বিস্তারে প্রকৌশল-চিকিতসা সর্বত্র বাংলায় পড়াশোনা করার সুযোগ থাকা উচিত, কোরিয়ান-জাপানিজ দের মতো আগ্রাসি ক্যাম্পেইন করা উচিত। না হলে এই বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকা যাবে না।
দিগন্ত বলেছেন:
Click This Link সবশেষে রবীন্দ্রনাথের নিজের গলায় জন-গণ-মন শুনে নিন। শুনে বলুন তো এটা কি বাংলা না হিন্দি উচ্চারণে গাওয়া? নাকি একটা নিরপেক্ষ উচ্চারণ? ব্যাকগ্রাউন্ডে গাওয়া গানটা বাংলা কিন্তু রবীন্দ্রনাথেরটা ...?
লীন বলেছেন:
৫ দিলাম। এতো ভালো পোস্টের জন্য রাগিব ভাই(স্যার)কে অশেষ ধন্যবাদ।
মিরাজ বলেছেন:
খুব চমত্কার একটা লেখার জন্য রাগিব হাসানকে ধন্যবাদ। গণক বিদ্যার মিস্তিরি
হয়েও আপনার ভাষা নিয়ে আপনার সচেতনতা এবং এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক মন্তব্যে মুগ্ধ হলাম।
তারিফএজাজ বলেছেন:
দারুণ
ব্লগারু বলেছেন:
আমি দিব্বী দিযেও চুপ থাকতে পারলাম না। আমি জানি ভগবান আমাকে ক্ষমা করবেন না। তবুও আমি ভগবানের কাছে প্রথনা করব, "এখন আমি জা লিখব তা দেশের হয়ে লিখব"।"রাগিব বাবু" আমি আপনাকে চিনতে ভূল করেছিলাম। আপনার এই লেখা ও আপনার প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদশন করে, আমাদের মত প্রকাশ করছি।
"রাগিব বাবু", আপনি জখন পোষ্ট টি লিখেছিলেন তখন আপনি ভারতকে বাংলাদেশের মত করে ভেবেছেন। এখানেই আপনার ভুল হয়েছে। কারন ভারতের প্রত্যেকটা রাজ্যের নিজেস্য ভাসা আছে। এবং প্রতেকটা রাজ্য একাংশে সাতন্ত্র ও একটি বিশেষ ভাসা কে represent করে। যেমন পশ্চিমবঙ্গ বাংলাকে, বিহার ভোজপুরী কে ইত্যাদী। সেই দিকথেকে বিবেচনা করতে গেলে ভারতীয় হিসেবে আমাদের কাছে বাংলার গুরুত্ব আঞ্চলিক। আমাদের কাছে হিন্দী, english এর গুত্ব আনেক বেশী। আমাদের কে একজন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালী না ভেবে ভারতীও ভারলে বেশিখুশী হব। আর থাকল জাতীয়সঙ্গীতের ব্যপার! এটা আমাদের মত ভারতীয় বাঙালী দের কাছে অতন্ত গব ও সন্মানের ব্যপার য়ে একজন "বাঙালীর লেখা গান বাংলা গান" এর হিন্দী রূপ (ভারতের রষ্ট্র ভাষা হিন্দী) ভারতের জাতীয়সঙ্গীতের মযাদা পেয়েছে। ধন্যবাদ।।
হাসিব বলেছেন:
ইংরেজী/হিন্দি ব্লগে গিয়ে ব্লগাইলেই হয় @ ব্লগারু
রাগিব বলেছেন:
@ব্লগারু - আমার মূল পয়েন্টগুলোর জবাব তো দিলেন না। আপনার কাছে মাতৃভাষার গুরুত্ব কি হিন্দির চেয়ে কম?আমার পোস্টের মূল বিষয়টা আবার পড়ে দেখুন। ভারত সরকার সত্যি সত্যি পার্লামেন্টে বা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাকে হিন্দি বানালে এক কথা ছিলো। এখানে যা ঘটেছে, তা রীতিমত কতিপয় জাতীয়তাবাদী আমলা বা তথ্যমন্ত্রণালয়ের কর্মীর হাতে তৈরী করা মিথ্যা প্রচারণা। আর আশ্চর্য লাগে, আপনাদের মতো তথাকথিত বাঙালিরা এই ব্যাপারে উলটো সাফাই গান সর্বভারতীয়ত্বের!! পুরা ভারতে বাঙালিরা অবদমিত হয়ে আছে সব দিক থেকে। সাম্প্রতিক স্টেট অফ স্টেটস হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান কোথায়, একবার তাকিয়ে দেখুন।
মনের সুখে হিন্দি বলেন। বাংলা বলা ও লেখা ভুলে গিয়ে হিন্দিতে বাতচিত করেন। আপত্তি নাই আমাদের কারো। কিন্তু হিন্দির দাসত্বে আনন্দিত হয়ে থাকতে থাকতে ডাহা মিথ্যা কথাকে "গুরুজী বলেছেন, তাই নির্ঘাৎ সত্যি" এরকম মানসিকতার মাধ্যমে গ্রহণ করাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভারতের দুই একটা পত্র পত্রিকায় এই ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে, চাইলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের লিংক দিতে পারি। কিন্তু আপনারা যেভাবে মনের আনন্দে মিথ্যাকে গ্রহন করছেন, তাতে মনে হয় কয়েকদিন পরে আপনারা ছোটবেলা থেকে মাতৃভাষা হিসাবেও হিন্দিই বলবেন।
আপনাকে "বাঙালি" না ভেবে "ভারতীয়" ভাবতে বলছেন? চমৎকার, আজ থেকে তাই ভাববো। আমি হিন্দি জানি না, তাই আপনার কমেন্টের জবাবটা বাংলাতেই দিতে হলো ... বাংলা বুঝতে সমস্যা হলে দরকার পড়লে ইংরেজিতে অনুবাদ করে দিতে পারি ...
রাগিব বলেছেন:
অবশ্য "ব্লগারু" যদি ভারতীয়-বাঙালির-বেশ ধরে থাকা গ্যাঞ্জাম লাগাতে চাওয়া ঘোড়েল আদমী হয়, তাহলে অন্য কথা ... অন্য পোস্ট পড়ে এখন তাই মনে হচ্ছে ... স্ট্রম্যান সক পাপেট। ভারতীয় বাঙালি সেজে আজেবাজে কথা বলে ভারত-বিদ্বেষ ছড়ানোই তার কাজ!!
ব্লগারু বলেছেন:
হুম ! আমি এই বিবাদের এখানেই ইতি টানছি। আপনি Highly qualified একজন মানুষ। আমার ছোটবেলা থেকই উচ্চশিক্ষীত মানুষদের খুব ভালাগে। আমি নিজে হয়ত Highly qualified হতে পারিনি। তবে চেষ্টাচালাচ্ছি। আমি এইটুকু জোরগলায় বলতে পারি "আমি যেটুকু জানি তাতে কেউ ভুল বের করতে পারবে না"। আমি আমার "মা" এর সপথ নিয়ে বলছি, আমার কোন বাজে উদ্দেশ্য নেই। আমার মা, বাবা, বন্ধু রা বলে আমি খুব শান্ত প্রকৃতির ভালমানুষ। আমি খুব "আপ্রীয়সত্য কথা" বলতে ভালবাসি। সেটাই হয়ত সবজায়গায় বিবাদের মূল কারন। আপনার Knowledge কে শ্রদ্ধাকরি।
রাগিব বলেছেন:
ব্লগারু, অপ্রিয় সত্যটা এই পোস্টে বলেছি বলেই তো এতো সমস্যা ...
ব্লগারু বলেছেন:
OK আপনিও বুঝলেন না, ধন্যবাদ।।
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
এই পোষ্টটি পড়ে খুবই ভাল লাগল।
আলেক্সান্দার দ্যুমা বলেছেন:
অামার মনে হয় ওরা যখন গানটা গায় তখন তাদের উচ্চারণ হিন্দিতে হয়। কারণ অািম যখন গানিট ভালমত শুনি তখন জন গণ মন বোধ হয় শুনি নাই- ওটা ছিল জানা গাণা মানা...............
উদাহরণস্বরূপ ধরুন, আপনি বা আমি ইংরেজি একটা গান গাইছি। আপনার কথা জানি না, আমার বেসুরো গলায় আর বাঙালি-টানযুক্ত ইংরেজিতে গানটা গাইলে সেটা অ্যাক্সেন্ট যুক্ত ইংরেজি শোনাবে। সেরকম ভারতীয়-টানযুক্ত ইংরেজিতে গাইলে ওদের মতো লাগবে। তাই বলে গানটা কি বাংলা বা হিন্দি হয়ে যাবে? মানে, গানের শব্দ, ভাষারীতি, ব্যকরণ, বাক্যগঠন - কিছুই যদি না পালটায়, তাহলে কেবল গায়কের অ্যাক্সেন্টের কারণে তো গানের ভাষাটা আর পাল্টাবেনা।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন:
Sohomot...+
'লেনিন' বলেছেন:
এখানে একটি ব্যাপার আছে.. স্টেটমেন্টটিতে পরিস্কার অল মেম্বারসদেরকে স্যাটিসফাই করার জন্য 'বন্দেমাতরম' সমমর্যাদার ঘোষণা করতে হয়েছে। বাংলা/হিন্দী/সংস্কৃত এর উচ্চারণ বা শব্দমূলে অনেক মিল থাকায় এই ধোঁকাটুকু ব্যাবহার করা হয়েছে। সংখ্যালঘু একটি জনগোষ্ঠী'র ভাষায় জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হয় এটা জেনে অনেকেই বিরুদ্ধপন্থী হতে পারে বা হয়েছিল তাই এমনটা... আমার ধারণা।আমাদের দেশেই জাতীয় সঙ্গীত বদলানোর চেষ্টা হয়েছে আর আপনি বলছেন আমরা বাঙালি হয়ে বাংলা গানের অপমানের প্রতিবাদ জানাতে... বরং ফলাফল উল্টোটা হবে... বলবে যা বাংলা গান দরকার নাই একটা হিন্দী গান বানানো হোক।
ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি জাতীয় হা হা হা।
---
আমার খারাপ লেগেছে এটাই, ভারত সরকারের এই চাপাবাজিটা ভারতীয় বাঙালিরা জানতোই না, আর জানার পরেও উলটো "এটাই ঠিক" বলে সাফাই গেয়েছে। তামিল, তেলুগু, এসব ভাষাভাষীরা দিব্যি নিজের ভাষা নিয়ে সগর্বে আছে, আর কেবল বাঙালিরাই নতজানু হয়ে হিন্দির শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছে, এটা দেখতে খারাপ লাগে। কপাল ভালো, আমরা স্বাধীন দেশে আছি।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















আপনার মন্তব্য লিখতে লগইন করুন ।