আমার প্রিয় পোস্ট

জাদুনগরের কড়চা

এলোচিন্তা ১: আবদুস সালাম, সারাবিশ্বে সমাদৃত, নিজগৃহে নিপীড়িত জ্ঞান-তাপস

৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:৪৩

শেয়ারঃ
0 1 0



১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের সংসদ আহমেদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম হিসাবে সরকারীভাবে ঘোষণা করে। রীতিমত আইনে লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয় এটা। এর প্রতিবাদে পদার্থবিজ্ঞানী ডঃ আবদুস সালাম চলে যান স্বেচ্ছা নির্বাসনে। মুশকিল হয় যখন ১৯৭৯ সালে আবদুস সালাম নোবেল পুরস্কার পেয়ে বসেন। ধর্মান্ধ জেনারেল জিয়া তখন ক্ষমতায়, সংবিধান পালটে আহমেদীয়াদের উপরে খড়গহস্তে চালাচ্ছেন নিপীড়ন, সেই জেনারেল জিয়াকেই টিভিতে কাষ্ঠ হাসি দিয়ে আবদুস সালামের পাশে দাঁড়াতে হয়। কাটমোল্লাদের খুশি করতে অবশ্য জিয়া কাঁচি নিয়ে নেমে পড়েন, যেখানেই আবদুস সালাম ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত কোনো শব্দ উচ্চারণ করেন তাঁর ভাষণে, আল-কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দেন, কেটে দেয়া হয় সেই অংশ।



(ছবি, CERN-এ সালামের নামে রাখা হয়েছে রাস্তার নাম)

প্রচন্ড প্রতিভাবান আবদুস সালাম ম্যাট্রিক পাস করেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ নম্বর পান তিনি। ইতালির ত্রিয়েস্তে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার গবেষণাকেন্দ্র। শেলডন গ্লাসো আর স্টিভেন উইনবার্গের সাথে ১৯৭৯ সালে পদার্থে নোবেল পান সালাম, মৌলিক কণিকার দুর্বল নিউক্লীয় বল ও তড়িৎচুম্বকীয় বলকে একীকরণের তত্ত্ব ও দুর্বল তড়িৎ প্রবাহের উপরে তাঁদের কাজের জন্য। নোবেল পুরস্কারের ঘোষণায় বলা হয়,


"... for their contributions to the theory of the unified weak and electromagnetic interaction between elementary particles, including inter alla the prediction of the weak neutral current."

নোবেল পেয়েও কেবল ধর্মের কারণে আবদুস সালাম ছিলেন পাকিস্তানে উপেক্ষিত। সারা বিশ্বের কাছে সম্মাননা পেলেও লাহোরে তাঁর নিজের বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মান দেয়নি কোনো। দায়সারা গোছের একটা ডাকটিকিট পাকিস্তান সরকার প্রকাশ করেছে বটে, কিন্তু মৃত্যুর পরেও ছাড়েনি তাঁকে। ১৯৯৬ সালে অক্সফোর্ডে মারা যান সালাম। কবর হয় রাবওয়া শহরে। পাকিস্তান সরকারের আক্রোশের শিকার এই শহরের নাম সরকারী খাতায় পালটে চেনাব নগর করে দেয়া হয়েছে ততোদিনে, কারণ একটাই, এখানে আহমেদীয়া সম্প্রদায়ের বাস।

সালামের কবরের এপিটাফে লেখা ছিলো, "FIRST MUSLIM NOBEL LAUREATE"। সালামের মৃত্যুর দুই বছর পরে এই এপিটাফটিও রেহাই পায়নি। স্থানীয় এক ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুছে ফেলা হয় "MUSLIM" শব্দটি, এপিটাফের শূন্যস্থানে এখন কেবলই লেখা রয়েছে,


"FIRST __ NOBEL LAUREATE"


(এখানে ক্লিক করে ছবিটি দেখে নিন)

ধর্মান্ধতার আক্রোশ এখনো রেহাই দেয়নি প্রফেসর সালামকে, মৃত্যুর এতো পরেও। ২০০৬ সালে সালামের মৃত্যুর ১০ম বার্ষিকীতে পাকিস্তানের ডেইলি টাইমসে তাই দুঃখ করে লেখা হয়,

Pakistan needs to feel guilty about what it has done to the greatest scientist it ever produced in comparison to the lionisation of Dr AQ Khan who has brought ignominy and the label of ‘rogue state’ to Pakistan by selling the country’s nuclear technology for personal gain. Can we redeem ourselves by doing something in Dr Salam’s memory on this 10th anniversary of his passing that would please his soul and cleanse ours?

এতো বঞ্চনার পরেও সালাম ছিলেন দেশপ্রেমিক, দেশ ছেড়ে চলে যেতে হলেও নোবেল পুরস্কারের অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তাঁর এই সম্মানকে তাঁর দেশের সম্মান বলে তুলে ধরেছেন। তবে সালামের চোখে পদার্থবিজ্ঞান ছিলো সার্বজনীন, সারা বিশ্বের সব দেশের জ্ঞানপিপাসু বিজ্ঞানীদের পরিশ্রমের ফল, সালামের ভাষায়,

"The creation of Physics is the shared heritage of all mankind. East and West, North and South have equally participated in it." Nobel prize Banquet speech

(ছবি - উইকিপিডিয়া)

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বিজ্ঞানআবদুস সালামএলোচিন্তা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:৪৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:৫১
মাসুম আহমদ ১৪ বলেছেন: ডঃ আবদুস সালাম কে লাল সালাম ও শ্রদ্ধা
২. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:৫৪
পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: কুনো লাভ নাই; আমাগো মোসলেম দরদীরা যহনই দেখবো সালাইম্মা কাদিয়ানী আছিলো তহনই নাউজুবিল্লাহ কইয়া সইরা যাইবো। এইহানে সকল কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে ধর্ম, আর সেইডাই তার ব্যর্থতা।

পোস্টের লাইগ্যা পেলাচ।
(কিঞ্চিত অ.ট.- আমাগো হুয়াজাদ বা তনাস্রিন নুবেল পাইলে ভি এইরমই ট্রিট পাইতো।)
৩. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:৫৫
সাম্যবাদী বলেছেন: মাসুম আহমদ ১৪ বলেছেন: ডঃ আবদুস সালাম কে লাল সালাম ও শ্রদ্ধা
৫. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:৫৮
কঠিনলজিক বলেছেন: লেখক আপনার কি ধারণা ? হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে শেষ নবী না মেনে "গোলাম আহমদ কাদীয়ানী" কে নবী মানলে কি তাকে মুসলমান বলা যাবে ? তা সে নোবেল পেলেই কি ? আর এরকম কাউকে পাকিস্তান মুসলিম স্বিকৃতি দেয় নাই , আপনি বা অন্য কোন মুসলিম বা মুসলিম দেশ কি তাকে মুসলিম স্বিকৃতি দিবে ?
৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০০

লেখক বলেছেন: মাইনাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৬. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০০
নষ্ট ছেলে বলেছেন: আমি একটা কথা শুনেছিলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিতের অধ্যাপক জামান নজরুল ইসলাম নাকি আবদুস সালাম এর ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। কথাটা কি সত্যি ?
৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০২

লেখক বলেছেন: হতে পারে ... প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম পদার্থবিদ হিসাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, আর দুজনে সম্ভবত কাছাকাছি সময়ের।

৭. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০১
স্বল্পজ্ঞানী বলেছেন: আমাগো হু.আজাদ বা ত.নাসরিন কে নো-বেইল দেয়া হোক।
৮. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০১
কঠিনলজিক বলেছেন: ডঃ আবদুস সালাম কে শ্রদ্ধা জানাই। আবার এটাও বিশ্বাস করি উনি মুসলিম ছিলেন না । তাতে শ্রদ্ধায় কোন হের ফের হবে না। যেমনটা করি অর্মত্য সেন কে ।
৯. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০৩
কঠিনলজিক বলেছেন: লেখক বলেছেন: মাইনাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
মাইনাসের কারণ টা বুঝতে পারছেন আশা করি ।
৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০৪

লেখক বলেছেন: যে কারণে ম্যাজিস্ট্রেট বাটালি হাতে নেমেছিলেন :)

১০. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০৩
স্বল্পজ্ঞানী বলেছেন: ত্যাঁনা প্যাঁচানি লেখায় মাইনাস দিলাম।
১১. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০৫
স্বল্পজ্ঞানী বলেছেন: শুনেছি প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম গণিতবিদ, পদার্থবিদ নন। এনিওয়ে, তিনিও নাকি নোবেল পাওয়ার যোগ্য। কোন এক অজানা কারণে নাকি পাচ্ছেন না, সবই শোনা কথা।
৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০৭

লেখক বলেছেন: ডঃ জামাল নজরুল ইসলামের পিএইচডি ছিলো কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের Department of Applied Mathematics and Theoretical Physics থেকে। তবে উনি মূলত তত্ত্বীয় পদার্থবিদ্যা নিয়ে কাজ করেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে উনার বেশ কয়েকটি বই বের হয়েছে।

১২. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০৫
ডিজিটালভূত বলেছেন: আহমাদিয়া সম্প্রদায় অমুসলিম।
১৩. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০৭
kisuna বলেছেন: তাঁকে শ্রদ্ধা করি। এই মানুষটিকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।

++
১৫. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:১২
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: পাকিস্তানের আহমদিয়া বিরোধী এসব অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি নিন্দনীয়। তবে আহমদিয়ারা অনেক দেশেই অমুসলিম হিসেবে চিহ্নিত। যেমন, সাউথ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি। যদিও পাকিস্তানে এ বিষয়টিকে রীতিমত সাংবিধানিক করা হয়েছে।

মরিশাস প্রথমে আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষনা করে।

Click This Link


আহমদিয়া নিয়ে উইকির তথ্য বিভ্রান্তিকর। সেখানে রয়েছে এক পাকিস্তানেই শুধু আহমদিয়ারা অমুসলিম বলে গন্য। যা আসলে ব্যাখার দাবী রাখে।

(http://en.wikipedia.org/wiki/Ahmadiyya)
"Today, the Ahmadiyya community has a presence in 195 countries [18], and in every country but Pakistan, they are legally identified as Muslims"

যে বিষয়টি বলতে চাই তা হল, আহমদিয়াদের সাহিত্যে সাধারন অআহমদিয়া মুসলিমদের মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় নি। তাই বিষয়টি একপাক্ষিক নয়।


In his book Anwar-i Khilafat, published in 1916, Mirza Mahmud Ahmad wrote:

"It is our duty that we must not consider non-Ahmadis as Muslims, and we must not pray following them, because we believe that they are denying a prophet of Almighty God."

(Click This Link )


প্রফেসর সালাম সম্পর্কে জেনে ভাল লাগল। তাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন।
০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১২:০৬

লেখক বলেছেন: প্রফেসর সালামকে নিয়ে আসলে পাকিস্তানীরা পড়েছে ব্যাপক সমস্যায়। না পারে ফেলতে, না পারে রাখতে। প্রথম (এবং একমাত্র) পাকিস্তানী নোবেল জয়ী, পদার্থবিদ্যায় সারা বিশ্বে অবদান রাখা ব্যক্তি, বিশ্ব জুড়ে যার খ্যাতি। আবার অন্যদিকে পাকিস্তানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আহমেদীয়দের উপরে বৈষম্য করার আইনও আছে।

নোবেল জয়ের পরেও পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে তাই সালামের সম্মান জুটেনি, যা সারা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পেয়েছেন।

১৬. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:১৩
বিপরীত স্রোত বলেছেন:
কতটা নিম্নরুচির হলে মানুষ এরকম একটা পোষ্টে মাইনাস দিতে পারে
১৭. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:১৬
খোশনবীশ বলেছেন: ড. সালামের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। একজন প্রতিভাবানকে ধর্মের বিচারে লাঞ্ছিত করা উচিত নয়। তিনি এই উপমহাদেশের জনগোষ্ঠীর মেধার প্রতিক। পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। মাইনাসগুলো আমার কাছে অনর্থক মনে হচ্ছে।
১৮. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:১৮
১২৩৪ বলেছেন: :( সবকিছুই মানুষ কেমন জানি জটিল করে ফেলে...নাকি আমি কিছু বুঝিনা কে জানে.....ধর্মের মত এত ব্যক্তিগত একটা ব্যাপার এতো বড় সমস্যা হয় কেমনে তাও বুঝিনা....
১৯. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:১৯
উদাসীফাহিম বলেছেন: লেখক আপনার কি ধারণা ? হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে শেষ নবী না মেনে "গোলাম আহমদ কাদীয়ানী" কে নবী মানলে কি তাকে মুসলমান বলা যাবে ? তা সে নোবেল পেলেই কি ? আর এরকম কাউকে পাকিস্তান মুসলিম স্বিকৃতি দেয় নাই , আপনি বা অন্য কোন মুসলিম বা মুসলিম দেশ কি তাকে মুসলিম স্বিকৃতি দিবে ?


একমত
২০. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:২২
পিটার প্যান বলেছেন: আইজকাল দেখি হাবুল-কাবুল সবাই মুসলিম সার্টিফিকেট বিতরণ করা শুরু করছে। ভালু, উন্নতির লক্ষন।

পোস্টে প্লাস।
২১. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:২৭
পথভূলো পথিক বলেছেন: "ডঃ আবদুস সালাম কে শ্রদ্ধা জানাই। আবার এটাও বিশ্বাস করি উনি মুসলিম ছিলেন না । তাতে শ্রদ্ধায় কোন হের ফের হবে না। যেমনটা করি অর্মত্য সেন কে ।"

সহমত।
২২. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:৩১
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: সুন্দর পোস্ট। এক জন মহান মানুষ সম্পর্কে অনেক জানলাম। মাঝে মাঝে মনে হয়, পৃথিবীতে এতো বেশী ধর্ম না থাকলে কতই না ভাল হত।
২৩. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:৩২
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: সচলায়তনে গতকালই পড়েছি এবং সেখানে কতিপয় অতিবিপ্লবীদের উপস্থিতিতে যথেষ্ট বিরক্তি বোধ করেছি। অতি-আবেগী "দেশপ্রেমিক"সুলভ আচরণে ক্রমেই বিমর্ষবোধ করছি। এটাও একধরনের সাম্প্রদায়িক আচরণ।

আমি একটা কথা শুনেছিলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিতের অধ্যাপক জামান নজরুল ইসলাম নাকি আবদুস সালাম এর ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। কথাটা কি সত্যি ?

প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম আবদুস সালাম প্রতিষ্ঠিত ICTP'র বাংলাদেশের প্রথম প্রতিনিধি ছিলেন।আমার এক বন্ধুর পিতা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক উনার কাছে শুনেছিলাম; উনি সেইসময়, ২০০২ সালের দিকে, আইসিটিপি'র বাংলাদেশের সভাপতি ছিলেন।

২৪. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:৩২
এস এইচ খান বলেছেন:


আমি আপনাকে মাইনাস দিয়েছি।

ব্যপারটা হল, আমি এ দেশের সুশীলদেরকে ভাল নাপিত হিসেবেই জানি, সে ব্লগেই হোক আর অন্য কোন মিডিয়াতেই হোক।

আচ্ছা, আপনি কাদিয়ানীদের মুসলিম বানাতে চান কেন? সেটা কি আপনার কথায়? নাকি আপনার মন চাইল তাই?

চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি ড: সালামকে সম্মান সূচক ডিলিট উপাধি দিয়েছিল এবং ঐ অনুস্ঠানে ছাত্রলীগের পোলাপাইন প্লাকার্ড ফ্যাস্টুন নিয়ে হৈ চৈ করে। কি জন্য হৈ চৈ? ড: সালাম পাকিস্তানী। মনে আছে, আজকের আউয়ামী ইনকিলাব পত্রিকা পরের দিন মজাদার একটা কার্টুন ছেঁপেছিল। কার্টুনটা এরকম, ড: সালাম ডায়াস থেকে অপলক দৃষ্টিতে লীগের পোলাপাইনের দিকে তাকিয়ে আছে আর ক্যাপশন ছিল: পদার্থে নোবেল পেলাম, এবার লীগের পোলাপাইনের ব্রেইন নিয়ে একটি অভিসন্দর্ভ করব।

আপনি একজন একনিস্ঠ আউয়ামী সমর্থক বলেই জানি, কথাগুলো এ জন্য বললাম।

৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:৩৯

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মাইনাসের জন্য।

এই পোস্টটি ছিলো আবদুস সালামের জীবন নিয়ে, সেটা কে মুসলমান আর কে নয়, তা নিয়ে ব্যক্তিগত অভিমত নিয়ে নয়।

আপনি আরেকটি ভুল করেছেন, আমি আওয়ামী লীগ নয়, বরং ৪টি দলের সমর্থক, যেগুলো হলো, "বাংলাদেশ দল", "বাংলাদেশ লীগ", "বাংলাদেশ পার্টি", "বাংলাদেশ গ্রুপ" ইত্যাদি। আমি যে বাংলাদেশের দালালি করি ও করবো, সেটা বহু আগেই ঘোষণা দিয়েছি।

২৫. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:৪৭
অনন্ত দিগন্ত বলেছেন: ১৯৯২ (অথবা ১৯৯৩ এ) ড: আব্দুস সালাম যখন শেষবারের মত ঢাকায় আসেন তখন কয়েকবার তার কাছাকাছি থাকার সুযোগ হয়েছিলো , খুব বেশী কিছু মনে নাই ... তবে একটা জিনিস এখনো স্পষ্ট মনে আছে শেরাটনের উনার রুমে যতক্ষন থাকতেন ঘুমের সময়টা ছাড়া সবসময় কোরআন শরীফ পড়তেন ... প্রয়োজন ছাড়া কথা খুব কম বলতেন আর অসুস্হ হওয়া স্বত্বেও নিজের কাজ যতটা সম্ভব নিজেই করতে চেষ্টা করতেন ....

২৬. ৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:৪৮
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: মাঝে মাঝে এমন দিশেহারা লাগে একজন একক মানুষের সবকিছুই কেন তাঁর ধর্মীয়, সম্প্রদায় গোষ্ঠিগত কিংবা জাতিগত পরিচয় দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।এই ব্যাপারটা আমার কাছে ঘ্বন্য ঠেকে।

একদল পন্ডিত আছে যারা সালামকে পাকিস্তানি মনে করে অচ্ছ্যুত্‌ মনে করেন, আরেকদল আছে যাদের কাছে সালামের আর কোন কিছু ছাপিয়ে তিনি যে আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন এইটা মুখ্য।

এই পন্ডিতরাই বার হলিউড ছবিতে যখন সন্ত্রাসী বলতেই একজন মুসলিমকে দেখানো হয় কিংবা দারিদ্র্যের পোষ্টকার্ড কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ'কে দেখানো হয়, তখন কথার তুবড়ি ফোটানো শুরু করেন।

এমন দ্বিমুখী আচরণ শুধু এখানেই বুঝি সম্ভব!
২৮. ০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১২:০৮
হরিসূধন বলেছেন:
আমার প্রশ্ন হলো কাদিনীরা কেন নিজেদের মুসলিম বলে দাবী করে? তারা যেহেতু ইসলাম ধর্ম তথা কোরআনের কিছু অংশের বিরুধীতা করে তাহলে তারা আবার দাবী করে মুসলিম?
কাদিয়ানীদের জন্ম বৃট্রিশের ওরশে। আর কাদিনীদের নবীর জীবনী সম্পর্কে জানেন? সে একবার কইচে ইমাম মাহাদী আবার কইচে সে ঈসা। আসলে সে কি ছিলো?

এখন কোন মুসলিম যদি কাদিনীদের অমুসলিম বলে তাহলে সেই ধর্মান্ধ মৌলবাদী ইত্যাদি। যা আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়.... একটা উদাহরন দিই.....

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক আ.লীগ বাদে সবাই বলে জিয়া আবার আ.লীগারেরা জিয়া কে বলে পাকিস্তানের চর। একন আ.লীগ পক্ষের হেরা কয় তোমরা মুক্তিযোদ্ধা না রাজাকার! এখন আপনার কাছে প্রশ্ন এই আ.লীগারেরা কি অন্ধ আ.লীগ ধর্মালম্বী মৌলবাদী?

সে বিগ্গানী ছিলো আর সত্যকারের বিগ্গানীদের তো বলে ধর্ম দেশ থাকে না। কিন্ত সব পাকি এবং ৭১ রে পাকিস্তানের অনুসারীদের গালি দিয়ে বেড়াই আমরা অথচ আজ সালামের জন্য সেই কি দুঃখ!!! মাজেজাটা বুঝি নাই:(

উদ্দেশ্য সন্দেহজনক মনে হৈছে তাই গদাইয়া মাইনাস দিলাম।

০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১২:২০

লেখক বলেছেন: মাইনাসের জন্য গদাইয়া ধন্যবাদ দিলাম।

২৯. ০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৪৩
নুভান বলেছেন: ঢাকা বিশ্বঃবিদ্যালয়ের এলামনি এ্যসোসিয়েশন কর্তৃক প্রকাশিত একটা বই পড়েছিলাম অনেকদিন আগে, নাম "আমারে তুমি অশেষ করেছ"। সেখানে পড়েছিলাম ঢাবি-র এক ছাত্রী ১৯৭১ সালে অক্সফোর্ডে পড়ার সময় প্রফেসর সালাম তাকে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশের পাকি হানাদার বাহিনী কর্তৃক সংঘঠিত নারকিয় হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছিলেন।
৩০. ০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৫২
শ্বেত সওদাগর বলেছেন: পদার্থ বিজ্ঞান বইয়ে উনার নাম পড়েছিলাম প্রথম। কিন্তু নিজ দেশে যে তিনি এরকম নিগৃহীত ছিলেন জানা ছিল না। অবশ্য পাকিস্থানের মত দেশের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশাও করা যায় না। লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো।
৩১. ০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৫৫
ইচ্ছেফড়িং বলেছেন: হুমম। দেশের হাওয়া বাতাস বুইঝা ইদানিংকার পোস্টের ফোকাস-পয়েন্ট ঠিক করতাছেন দেখি। ভাল ,আগায় যান,আমরা আছি।
০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১:০৬

লেখক বলেছেন: "সাথে থাকার" জন্য ধন্যবাদ।

৩২. ০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৫৫
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: একচোট হেসে নিলাম। যাদের অবদানের উপরে আজকের এ আধুনিক পৃথিবী, জ্ঞান-বিজ্ঞান দাঁড়িয়ে আছে তাদের নিয়ে যারা ত্যানা পেচায়, তাদের প্রতি করুণ করুণা থাকল। আবদুস সালামরা এক একটা স্তম্ভ। এইসব ছাগলের দলের হাতুড়ি বাটালে এই স্তম্ভ নড়বে না, বরং উল্টো তাদের ভেতরের দুর্গন্ধ বের হবে।
৩৩. ০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১:২৪
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: পোস্টটা এইখানে দিয়া ভাল করছেন। ছাগুগো কমিকিও হাহাকার দেইখ্যা বিনোদিত হই :P
৩৪. ০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ২:৩৯
কঠিনলজিক বলেছেন: কঠিনলজিক বলেছেন: লেখক বলেছেন: মাইনাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
মাইনাসের কারণ টা বুঝতে পারছেন আশা করি ।
৩০ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০৪
লেখক বলেছেন: যে কারণে ম্যাজিস্ট্রেট বাটালি হাতে নেমেছিলেন।

না ভাই আপনি আমার মাইনাসের কারণ বুঝতে ভুল করেছেন।

এক জন মনিষী কে প্রাপ্য সন্মান দেবার জন্য ধর্ম কোন ভাবেই বিবেচ্য বিষয় নয় ।
আবার কোন পার্থিব অর্জন এমন কিছুই না যার জন্য ধর্মের সাথে সমোঝতা করতে হবে ।
আঃ সালাম কে শ্রদ্ধা করতে আমি যে রকম উদার সে রকম ভাবে উনাকে বা একজন কাদিয়ানী র অমুসলিম হবার বিষয়ে পরিস্কার ।

কাউকে সন্মান/শ্রদ্ধা করতে হলে তাকে আমার নিজের ধর্মের হতে হবে বা তাকে আমার ধর্মের একজন স্বীকার করতে হবে এমন কোন কথা আছে কি ?

মাইনাস দিয়েছি কারণ আপনি বলতে চাচ্ছেন আঃ সালাম কে কাদিয়ানী হওয়া সত্যেও "মুসলমান" স্বিকৃতি না দিয়ে অসন্মান করা হয়েছে,এবং উনাকে মুসলমান স্বীকার না করলে অশ্রদ্ধা/অসন্মান হবে !!! ? তা হলে আইনস্টাইন কে মুসলমান মানি না এর অর্থ কি দাড়াইল তা হলে ?

বোল্ড করা অংশটুকুর ভিত্তি তে মাইনাস দিয়েছি । যদি আপনার বক্তব্য বুঝতে আমার ভুল হয়ে থাকে পরিস্কার করে দিন।
০১ লা জুলাই, ২০১০ ভোর ৫:৪৮

লেখক বলেছেন: বোল্ড করা অংশটি আপনার লেখা। ওটা আমার লেখা নয়। কাজেই মাইনাস নিজেকেই দিতে পারেন। :) ভাব সম্প্রসারণ করতে থাকা ভালো অভ্যাস নয়।

--

আমি এই পোস্টটিতে কেবল আবদুস সালামের কথাই লিখেছি।

--
ধন্যবাদ।

৩৫. ০১ লা জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:২০
বিডিআর বলেছেন: অনেক কিছু জানতে পারলাম।
৩৬. ০১ লা জুলাই, ২০১০ ভোর ৫:৫১
রাজসোহান বলেছেন: পোস্টটা এসেছে আব্দুস সালামকে নিয়ে অথচ কিছু পাবলিক হুদা ত্যানা প্যাচায়তেসে /:)
৩৯. ০১ লা জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:৩০
পথে প্রান্তরে বলেছেন:



অনেকের কমেনট এ ধর্মিয় বিদ্বেষ উপচে পড়া দেখে ২০০৫ সালের দিকের কথা বিএনপি জামাত সরকারের সময়কালিন কাদিয়ানিদের হুমকি ধামকি দেওয়ার কথা মনে পড়ে গেল।
০১ লা জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:৫২

লেখক বলেছেন: :(

৪১. ০১ লা জুলাই, ২০১০ বিকাল ৫:৪৬
মাইক্রোস্টেপ বলেছেন: Click This Link
৩. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ২:২১

রাগিব বলেছেন: দয়া করে পতাকার ছবিটি পাল্টান। বাংলাদেশের পতাকার রঙ এরকম নয়। বাংলাদেশের পতাকার সবুজ বর্ণটি গাঢ় সবুজ - এখানে প্রদত্ত ছবিটির মতো হালকা টিয়া-সবুজ বর্ণের নয়।

রাগিব ভাই দয়া করে বলবেন কি বাংলাদেশের পতাকার সবুজ ও লাল রং এর RGB ও CMYK ভ্যালু কি হবে ?

০২ রা জুলাই, ২০১০ রাত ২:০৭

লেখক বলেছেন: পতাকার সিএমওয়াইকে মান জানি না, তবে রঙগুলোর অফিশিয়াল বর্ণনা পতাকা আইনে বলা আছে।

"The green base of the flag will be of Procion Brilliant Green H-2RS 50 parts per 1000. The red circular part will be of Procion Brilliant Orange H-2RS 60 parts per 1000."

৪২. ০২ রা জুলাই, ২০১০ রাত ১:৩৮
সন্যাসী বলেছেন: কিছু ব্লগারের ত্যানা প্যাচানি দেখে বিস্মিত। ইসলাম কখনোই ধর্মের উর্ধে উঠে মানুষকে সম্মান দিতে পারেনি। মোহাম্মদের ভাষায়ই বলছি, "এদের জ্ঞান দাও, এদের ক্ষমা কর প্রভু।"

পোস্টে প্লাস।

৪৩. ০২ রা জুলাই, ২০১০ রাত ২:১৬
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: আমি ওনারে ভালা পাই। উনি আরেকখান কারনে পাকিস্তানের মৌলাবাদীদের টার্গেট আছিলো। উনি বিশ্বাস করতেন পৃথিবীতে প্রান র হস্যের সাথে মঙ্গল গ্রহ থেকে আসা জীব অনু র একটা সম্পর্ক আছে। এই কথাটা মৌলবাদীরা আরেকখান ইস্যু করে। যতদূর শুনছি উনারে যখন কবর দেয় তখন ঐ এলাকায় মানুষের ঢল নামে শুধু একবার তাকে দেখবার জন্য তার জানাযায় শরিক হবার জন্য!


পাকিস্তানে নিগৃহিত আরেকগুনী আছেন নুশরাত ফতেহ আলি খা। যদিও উনি মরবার সময় উনার জানাযার ঢল নাকি দ্বিতীয় স্হানে, প্রথম স্হানে আছে মনে বেনজীরের জানাযা! যাই হোউক, পাকিস্তান হলো দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃস্ট মানের দেশ, আল্লাহ এই দেশের ওপর তার রহমত নাযিল করে ওদেরকে হেদায়েত নাযিল করুন (যদিও মন চায় কইতে গজব পড়ে না কেন এই দেশে, তবুও কই না!)
০২ রা জুলাই, ২০১০ সকাল ৮:০৪

লেখক বলেছেন: উইকিতে এই পাকিস্তানী উগ্রপন্থীদের আনাগোনা ব্যাপক। একদল এসে বলে, জিন্নাহ ছিলো শিয়া, আবার আরেকদল পাকিস্তানের আদালতের রায় দেখিয়ে বলে জিন্নাহ নাকি সুন্নী। এই নিয়ে মারামারি লাগার দশা। খোদ শিয়াদেরই এই অবস্থা, সেখানে কাদিয়ানীদের কথা তো বলাই বাহুল্য!!

৪৪. ০২ রা জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:২১
এস এইচ খান বলেছেন:


সন্যাসী বলেছেন: কিছু ব্লগারের ত্যানা প্যাচানি দেখে বিস্মিত। ইসলাম কখনোই ধর্মের উর্ধে উঠে মানুষকে সম্মান দিতে পারেনি। মোহাম্মদের ভাষায়ই বলছি, "এদের জ্ঞান দাও, এদের ক্ষমা কর প্রভু।"

পোস্টে প্লাস।


----------------------------------

আপনার এ পোস্টটি দেয়ার আসল উদ্দেশ্য সার্থক হয়েছে।
ধন্যবাদ আপনাকে।

০২ রা জুলাই, ২০১০ দুপুর ১:২০

লেখক বলেছেন: আসল উদ্দেশ্য সফল হয়নি, তবে আপনার ভাবসম্প্রসারণ অনুশীলন ভালো হয়েছে :)

৪৫. ০৪ ঠা জুলাই, ২০১০ রাত ১২:২৫
বিলাশ বিডি বলেছেন: চমৎকার লেখা।
কয়েক'শ বছর আগে ইউরোপে গ্যালিলিও এবং অন্যরা এধরণের বৈষম্য/নির্যাতনের শিকার হতো। ওটাকে মধ্যযুগ বলা হয়!
০৪ ঠা জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:০২

লেখক বলেছেন: বিলাশ, ইতিহাস দেখতে গেলে দেখা যায়, বিজ্ঞানীদের উপরে ধর্মীয় নিপীড়ন করাতে মধ্যযুগীয় ক্যাথলিকেরাও বেশ তৎপর ছিলো। কিন্তু সেটা মধ্যযুগেই থেমে যায়। আবদুস সালামের এই হেনস্তা হওয়াটা এই যুগে হয়েছে, এমনকি তার কবরও রক্ষা পায়নি। :( ১০০-১২০ কোটি মুসলমানদের মধ্যে ১১০ বছরে ১জন মাত্র পদার্থবিদ নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন (আর আরেকজন রসায়নবিদ আছেন, ১৯৯৯ সালে), কিন্তু সেই সবেধন নীলমণি সালামকে নিয়েও পাকিস্তান সরকারী পর্যায়েই এহেন বৈষম্য দেখিয়েছে। ট্র্যাজেডি এটাই।

৪৬. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৮:১২
স্মরন বলেছেন: ১। রাগিব, আপনার মন্তব্য “...মুশকিল হয় যখন ১৯৭৯ সালে আবদুস সালাম নোবেল পুরস্কার পেয়ে বসেন...” কিছুটা সমস্যাসংকুল। কারন ১৯৭৯ সালেই তাকে সর্বোচ্চ সিভিল এওয়্যার্ড সিতারা-ই-ইমতিয়াজ দেয় পাকিস্তান। হাইযেনবার্গের ছাত্র রিয়াজউদ্দিন, যিনি পাকিস্তানের সেরা মুসলিম বিজ্ঞানিদের অন্যতম, পেয়েছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিভিল এওয়্যার্ড হিলাল-ই-ইমতিয়াজ। এছাড়া প্রফেসর সালাম পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার গবেষনা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন সব পদে অধিষ্টিত ছিলেন।

২। Nobel পুরস্কার কাউকে necessarily noble করেনা। মোনাচিম বেগিন আর শিমন পেরেজের মত কসাইরা নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন (এডওয়ার্ড সাঈদ, চমস্কির মতো লোকজন পাওয়ার প্রশ্নই আসেনা)। ইতিহাসে সবচেয়ে কম এফোর্টে সর্বাধিক সংখ্যক লোকের ভয়াবহ মৃত্যুর বাহন/অবলম্বন বানানোর উদ্যোগ ম্যানহাটান প্রজেক্টে শ’খানেক শীর্ষ বিজ্ঞানী কাজ করেছিলেন যাদের মধ্যে ২০ জন নোবেল পেয়েছেন (আগে বা পরে), আর যার ফসল হলো লাখে লাখে নিরপরাধ মানুষের যন্ত্রণাকাতর মৃত্যু, আরো মৃত্যুর সম্ভাব্য প্রতিশ্রুতি। Skill/IQ আর careeristic hard work এ ধারে কাছে না হলেও, এদের চেয়ে Rachel Corie–র মতো কেউ more noble।

৩। অজ্ঞতার কারনে মুসলিমরাও শত্রুমিত্র চিন্থিত করতে পারে না। আব্দুস সালাম কাদিয়ানি ছিলেন, মুসলিম ছিলেন না (মুসলিম হওয়াটা ইসলামিক্যালি ডিতারমাইন্ড, ethnic বা অপিনিওনেটেড ব্যাপার নয়) কিন্তু তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিলেন না। অথচ পাকিস্তানেই আছেন মুসলিম নামধারী লোকজন যারা ইসলামিক্যালি ইসলামের গন্ডির বাইরে পড়েন, আর ইসলামের বিরুদ্ধে কলম যুদ্ধে রত আছেন অর্থাৎ তাগুতের শ্রেণীতে পড়েন। এদের এক-আধজনের কথা প্রফেসর শহিদ আলমের একটি গুরুত্বপুর্ণ লেখায় কিছুটা প্রসংগান্তরে এসেছে [http://dissidentvoice.org/2009/12/native-orientalists-at-the-daily-times/]। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই শহিদ আলম যাদের নাম উল্লেখ করেছেন এদের অন্তত একজন আমাদের দেশিয় নাস্তিকতা ধর্মধারী জংগি ইসলামোফোবিক গোষ্টীর ফেভারিট, যার লেখা তারা তাদের ওয়েবসাইটে দিয়েছে।

৪। আপনি আশা করি একি রকম বিষয়ে দেশের প্রেক্ষিতেও লিখবেন।
যেমন ধরুন, অধ্যাপক আবু সালেহ এর কথা। আপনি চট্রগ্রামের স্কুলে কলেজে পড়ে বড় হয়েছেন, সম্ভবত সাধারণ জ্ঞানে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারও পেয়েছিলেন। কিন্তু ওনার কথা আপনি না শুনে থাকলে অবাক হবো না, যদিও সেটা কিছুটা লজ্জাজনক। তিনি সম্ভবত ক্যাম্ব্রিজে পিএইচডি করা একমাত্র বিজ্ঞানী (কেমিস্ট্রি) ছিলেন যিনি চট্রগ্রামে অবস্থান করতেন। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সেরা শিক্ষক ও গবেষকদের অন্যতম, বছর দুয়েক আগে মারা গেছেন। সাবেক আওয়ামী তথ্যমন্ত্রী আবু সায়ীদের ভাই ছিলেন তিনি, একাত্তর সালে স্বাধীনতা যুদ্ধও করেছেন বলে শুনেছি। কিন্তু most consequential ব্যাপার সম্ভবত তার ইসলামপন্থী হওয়া; স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ের একাডেমিক ও কোকারিকুলার কত বিষয়ে কত টম, ডিক ও হ্যারিদের মতামত মোস্টলি উগ্রভাবে দলান্ধ ইসলামোএলার্জিক মিডিয়া উপস্থাপন করে থাকে, আর ডঃ আবু সালেহ যে উপেক্ষা পেয়েছেন সেটা ইনস্ট্রাকটিভ। ।
চট্রগ্রামের বাইতুশ-শারফের মরহুম পীর আব্দুল জাব্বার দরিদ্রদের বিনামুল্যে চিকিৎসা দেয়া, এতিম ও ছিন্নমূলদের লালনপালনের ব্যবস্থা করাসহ ব্যাপক স্কেলে অসংখ্য জনসেবামূলক কাজকর্মের ভিশনারী/উদ্যোক্তা/প্রতিষ্ঠাতা; র্যা মন মাগসেসাই টাইপ কিছু বাদ দিন, দেশী ইসলামোফোবিক আর ইসলামোএলার্জিকদের কাছ থেকে তিনি কি স্বীকৃতি পেয়েছেন?
সরদার সজলুল করিম কয়েকটা বই এর অনুবাদ করেছেন, তিনি এমন ট্রিটমেন্ট/কাভারেজ পান দেশি ইসলামোএলার্জিক মিডিয়া সম্রাটদের কাছ থেকে, অথচ মরহুম দেওয়ান আজরফের নামই মুখে আনে না এরা।
আনিসুজ্জামান বাংলার অধ্যাপক, কিছু গবেষণা করেছেন, পড়িয়েছেন -- কিন্তু তিনি জাতির মনীষা কি কারনে সেটা তাদের strict party-line ফলো না করলে কোন বিবেচক লোকের বোঝা মুশকিল; জিল্লুর রাহমান সিদ্দিকি et al. কে নিয়ে ও একি প্রশ্ন। অধ্যাপক কবির চৌধুরি অনেক নাটক অনুবাদ করেছেন, তিনি হলেন শিক্ষানীতির রুপকার! অধ্যাপক জাফর ইকবালের কল্প কাহিনী লেখায় দক্ষতা আছে, তবে বিজ্ঞানে তার এরিয়ায় নিজের এডভাইজার, অফিসমেট ও বন্ধুরা ছাড়া আর কেঊ তাকে চিনেন এমন মনে করার কোন কারন নেই; অথচ তাকে ইসলামোএলার্জিক সম্প্রদায় সাংঘাতিক বিজ্ঞানী হিসেবে প্রচার করেছে (কিছুটা ‘নয়ন’ যেরকম যুগান্তকারী সুপারকম্পিউটার ছিলো :-D )! এমন পাব্লিসিটি দিয়েছে যে তরুনদের একটা বড় gullible অংশ তাকে প্রায় নবী হিসেবে নিয়েছে কার্যত, বিনা কথায় তার ইসলামোএলার্জিক ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং গিলে নিয়ে ব্রেইন-ওয়াশড হচ্ছে। একটা প্রসংশনীয় কাজ অবশ্য তিনি করেছেন তা হলো গণিত অলিম্পিয়াডের ব্যাপারে ভুমিকা রাখা, যদিও তিনি সেখানেও সুযোগমতো মিশনারীদের স্টাইলে ডিপ্লোম্যাটিক উপায়ে তার ধর্মীয়-রাজনৈতিক এযেন্ডা – উগ্র ইসলামোএলার্জি – নিয়ে আসেন; আর এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো আসল অবদান যার, প্রচারবিমুখ কোচ মাহবুব মজুমদার (যিনি এমাইটি, স্ট্যানফোর্ড ও ক্যাম্ব্রিজ এ পড়েছেন, আর যার ইসলামোএলার্জির কথা জানা যায় না (তিনি ইমেইল এ সালাম দেন)), তার নাম মনে হয় গনিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীরাই অনেকে শুনেনি, জাতীয় পর্যায়ে কোন প্রচার/স্বীকৃতির কথা দূরে থাক; এছাড়া বাংলাদেশি কম্যুনিটিতে ডঃ মজুমদারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার আবেদন প্রত্যাক্ষ্যাত হওয়ার প্রসংগটা অনেক বছর আলোচনা হওয়া উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে, “অফিশিয়াল শত্রু” পাকিস্তানিদের আব্দুস সালামের কদর করতে উনিশ-বিশ করার খুত বের করে আত্নপ্রাসাদ লাভ করার চেয়ে।
প্রফেসর আতাউল করিম সম্ভবত সবচেয়ে প্রলিফিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি একাডেমিক্যালি সেলিব্রেটেড দেশি সায়েন্টিস্ট। অথচ দেশি লোকজনের মধ্যে ডিজিটাল সিস্টেমস বা অপ্টোইলেক্ট্রনিক্স এর সেরিয়াস ছাত্র বা আইসিসিয়াইটি-র অথর-রা ছাড়া কেউ তার নাম শুনেছে বলে মনে হয় না। [একটু বলা ভালো তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কয়েদিদের মধ্যে ইসলাম প্রচারে কাজ করেছেন, নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশি ইসলামিক কম্যুনিটি (নাবিক)-র ফাউন্ডিং-ডিরেক্টরদের একজন]। প্রফেসর আতাউল করিম বা প্রফেসর শমশের আলি (অথবা আবেদ চৌধুরির কথাই ধরুন, যিনি আবার ঘটনাচক্রে অল্পকিছু কাভারেজ পেয়েছেন) কি সবচেয়ে যোগ্য দুয়েকজন লোকের মধ্যে পড়েননা শিক্ষানীতি প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দিতে, নাটক অনুবাদক আর কল্প-কাহিনী লেখক -- যারা আবার বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম দেশে উগ্র ইসলামোএলার্জিক এজেন্ডা নিয়ে আছেন – তাদের চেয়ে? যারা এদের সম্বন্ধে ডক্ট্রিনাল বায়াস ছাড়া জানেন তারা বলবেন যে এদের ভার্সাটাইলিটি ও সামগ্রিকভাবে একাডেমিক স্মার্টনেস প্রশ্নাতীত [ডঃ করিম IEEE Trans on Education এর Assoc. Editor.]।

প্রো-ইসলাম/ইসলামোএলার্জিক আর রাজনৈতিক বিভাজন সম্ভবত সবচেয়ে গুরুতর উপাদান, কিন্তু আমি সেটাকেই একমাত্র উপাদান বলছি না। অজ্ঞতা আর কূপমন্ডুকতা অনেকক্ষেত্রে একটা প্রধান ফ্যাক্টর।
আপনার ব্যাচমেট সায়ীফ সালাহউদ্দিন যিনি বার্কলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, যার গবেষনা নেচার এ প্রকাশিত হয়েছে – তিনি কি বাংলাদেশের মতো দেশে কিছু প্রচার পাওয়ার যোগ্য নন? এর বিপরিতে, ধরুন, ব্যারিস্টার তানজিব উল আলমের কথা। প্রথম আলো গোষ্টী তাকে হিরো বানিয়েছিলো, তাদের সাপ্তাহিক এক সাময়ীকিতে রাইজিং-স্টার হিসেবে প্রোফাইল ও পড়িয়েছিলো তাদের বিশাল পাঠকগোষ্ঠীকে। ভদ্রলোকের প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডেনশিয়াল হলো তিনি ভুইয়া একাডেমি থেকে ল পড়েছেন, পরে নিয়ম-মাফিক বাবার টাকায় ব্যারিস্টার হয়েছেন (এরপর ডঃ কামাল হোসেন এর ফার্মে জয়েন করেছেন)। আসল ব্যাপার হলো তিনি বিচারক ফায়েজি সংশ্লিষ্ঠ মামলায় কামালের ফার্মের পক্ষে কাজ করেছিলেন এবং ওই মামলা প্রথম আলো গোষ্টীর কাছে status-quo ছিলো রাজনৈতিক কারনে (; বলা দরকার ফায়েজির বিরেদ্ধে দেয়া তখনকার অদ্ভুত রায় পরে কোর্টে টেকেনি, আর বোধগম্য কারনেই, স্পষ্ঠ ও গুরুতর কেইস -- স্বরাষ্ঠ্র প্রতিমন্ত্রি সোহেল তাজের সার্টিফিকেট জালিয়াতি -- তাদের ইনভেস্টিগেটিভ রেপোর্টিং আর ফলো-আপের প্রায়োরিটি তালিকায় ছিলোনা)।
দেশী প্রেক্ষাপটে কিছু ইলাস্ট্রেশন দিলাম, আর এসব অবশ্যই non-exhaustive। অন্যের দোষ খুজে দেখা সহজ কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম; কিন্তু নিজেরটা দেখা আর সৎভাবে চিন্থিত করাটাই কঠিন, যদিও সেটাই গুরুত্বপুর্ণ – নৈতিকভাবে আর কৌশলগত দুদিকদিয়েই, এবং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত দুই স্কেলেই। বিশেষভাবে যখন সেটা এমন কারো ব্যাপারে হয় যার সাথে আদর্শিক/ডক্ত্রিনাল ভিন্নতা আছে। এইসব বেইনসাফ দেশে এতো ব্যাপক, অন্যদেরগুলো নিয়ে কথা বলা, সেটা সঠিক হলেও, প্রায় অশিষ্ঠতা গোষ্ঠিগত স্কেলে বললে।

৫। জামাল নজরুল ইসলাম মুলত ম্যাথেম্যাটিসিয়ান; কসমোলজি, এস্ট্রোনমি ও ম্যাথেমাটিকাল ফিজিক্স এ তার ভালো কাজ আছে। ওইসব এরিয়াতে ম্যাথ-ফিজিক্স বিভাজনটা যদিও বেশ কিছুটা blurred, ম্যাথেম্যাটিসিয়ানরা নোবেল পাননা, ফিজিক্স এ দেয়া হয়; আর পেনরোজ বা হকিং সহ ডজন ডজন সর্বোচ্চ মানের গবেষক নোবেল পাননি; যেসব বিষয়ে নোবেল দেয়া হয় ওই সব বিষয়েও গ্রাউন্ডব্রেকিং গবেষণা করা অনেকে নোবেল পান নি। জামাল নজরুল ইসলামকে তার কাজের জন্য ফ্রিম্যান ডাইসন, পেনরোজ এর মতো সেরা গবেষকদের অনেকে গন্য করেন; তিনি সত্তরের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে ফাইনম্যান এর ঘরে ও দাওয়াত খেয়েছেন বলে বলেছেন। সাম্প্রতিক কালে তিনি নন-লিনিয়ার ওপটিমাইযেশন, গেইম থেওরি ও বায়ো-ফিজিক্স এ স্টাডি করেছেন। যদিও অনেকটা বয়সের কারনে ইদানিং কমিয়ে দিয়েছেন rigorous research। আব্দুস সালাম ছিলেন তার অপ্রতিষ্ঠানিক/অনানুষ্ঠানিক গুরু/শিক্ষক/পরামর্শক।

ভালো থাকবেন।
[--একজন ক্যাজুয়াল ভিজিটর, এক বন্ধুজনের নিক থেকে লিখলাম]
৪৭. ০৭ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১০:১৩
মুহিব বলেছেন: সারা বিশ্বের লোকজন যখন ড. ইউনূসকে সম্মাননা দিচ্ছে তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাকে নিয়ে কটুক্তি করেন।
৪৮. ০৯ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:১৩
পরিবেশবাদী ঈগলপাখি বলেছেন: আপনার পোস্টে প্লাস ।

তবে দেখে মজা লাগছে "নয়া পেমেন্ট পাওয়া সৈনিক" রা কিভাবে পোস্টের কথা না দিয়ে অন্য দিকে কথা পেচাচ্ছে :D
৪৯. ১২ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১:৪৪
সাদাচোখ বলেছেন:

রাগিব ভাই,
মোল্লাদের মগজের অবস্থান মাথায় না হয়ে হাঁটুতে হওয়ার জন্য এমন বিভ্রাট তারা প্রায়ই ঘটায়। এজন্য তারা প্রফেসর সালাম কে কখনো অমুসলিম বলে নিপিড়ন করা হয় আর কখনো লোক দেখানো সন্মাননা দিতে ভালবাসে। কখনো কাজী নজরুল তাদের কাছে হয় মুরতাদ, কখনো তাকে দাড় করানো হয় রবীন্দ্রনাথের বিপক্ষে মুসলিম কবি হিসেবে। এজন্যই তাদেরকে ব্যাস্ত থাকতে হয় কোন মহান আবিষ্কারের সাথে কুরানের আয়াতের মিল রয়েছে তা হাতিয়ে বের করতে। সেজন্যই মৌলিক আবিষ্কার আর করা হয়ে ওঠে না। চাঁদের কোথায় ফাটল দেখা গেল, আজান শোনা গেল কিনা এসব শিশুতোষ গবেষণায় তাদের জীবনের অধিকাংশ সময় কাটে।

খুব সম্ভবত মাধ্যমিক পর্যায়ে পদার্থবিদ্যা বইয়ে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী পরিচিতি অংশে মুসলিম বিজ্ঞানী নামে একটা অনুচ্ছেদ ছিল। হাসতে হাসতে মরে যাই, বিজ্ঞানীর আবার হিন্দু মুসলিম ভাগ কিসের? মুসলিম বিজ্ঞানী কি শুধু মুসলমানদের জন্যই গবেষণা করেন? অথবা হিন্দুরা শুধু হিন্দু আর খ্রীষ্টানরা শুধু খ্রীষ্টানদের জন্য? আমি মনে হয় কোথাউ কাউকে কখনো খ্রীষ্টান বিজ্ঞনী বলে অ্যাড্রেস করতে দেখিনি।

ব্লগ মোল্লাদের ফালাফালি বিষয়ে আপনাকে নিশ্চয় আর নতুন করে কিছু বলতে হবেনা। তারা প্রগৈতিহাসিক কাল থেকে ব্লগে কি করে আসছে তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই।

@এস এইচ খান,
রাগিব ভাই আওয়ামিলীগে জয়েন করছে, এমন বিষ্ফোরক তথ্য দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আচ্ছা একটু গবেষণা করে দেখেন তো, উনি কাদিয়ানী কিনা? তা না হৈলে হুদাই এমন পোস্ট দিবো ক্যান। /:)

@কঠিনলজিক,
ভাইজান লজিক ব্যাপক টাইট হৈয়া গেছে। প‌্যাঁচ কাইট্টা যাইতে পারে। সহজ কথাটা চোখে দেখা যায়না? দেশের শাষকরা নিজের সুবিধার জন্য ধর্ম বিষয়টাকে বারবার ব্যবহার করেছে, রাগিব ভাই সেই কথাই বলতে চেয়েছেন। কোন এক সময় হাইকোর্টের রায়ে অমুসলিম ঘোষণা করে নির্যাতন হয়েছে, আবার কখনো সামরিক শাষক তাকে পাশে দাঁড় করিয়ে কাষ্ঠ হাসি দিয়ে প্রথম নোবেল পাওয়া পাকিস্থানী বিজ্ঞানী বলে পরিচয় দিয়েছে।

সব কিছু কঠিন করে দেখতে গেলে সেটাকে "বলদামি" বলে। বোঝা গেছে? যে নিজেই নিজের লজিক কে কঠিন ( সঠিক) বলতে পারে, তার কাছে এরচেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায় না।
৫০. ১২ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৩:৪৮
ইনক্রেডিবল বলেছেন: সাদাচোখ বলেছেন: এজন্যই তাদেরকে ব্যাস্ত থাকতে হয় কোন মহান আবিষ্কারের সাথে কুরানের আয়াতের মিল রয়েছে তা হাতিয়ে বের করতে। সেজন্যই মৌলিক আবিষ্কার আর করা হয়ে ওঠে না। চাঁদের কোথায় ফাটল দেখা গেল, আজান শোনা গেল কিনা এসব শিশুতোষ গবেষণায় তাদের জীবনের অধিকাংশ সময় কাটে।

অতি সত্য কথন। ধন্যবাদ।
৫১. ১২ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১১:৫৭
এস এইচ খান বলেছেন:



সাদা চোখে ওল্লা পরলে যা হয়!
আরে, আমিতো দেখছি এ ঘরানার মানুষদের মগজ পায়ের তলায় ঠেকেছে।

এরা কি ভাবে নিজেদের?

৫২. ১৩ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:২০
স্বল্পজ্ঞানী বলেছেন: ওই ছাগল, পিএইচডি করেছ সত্য-মিথ্যা আলাদা করতে শেখো নাই। ৪৬ নং মন্তব্যের জবাব কবে দিবা!!! ছাগল জানি কুনহানকার। আবালীয় সুশীল সেজেছো তাই না!!
১৩ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১০:১১

লেখক বলেছেন: হে মহাজ্ঞানী, ৪৬ নং মন্তব্যের কোন প্রশ্নের জবাব দিতে হবে, তা বললে ভালো হয়। #৪৬এ প্রশ্নের বদলে তো মন্তব্যকারীর অভিমতই দেখলাম। '


আর পাকিস্তানী হিসাবে আপনার আতে ঘা লেগেছে এই পোস্ট পড়ে, আপনার দেশের সরকারের মানহানী করেছি, এসবের জন্য আমি আসলেই দু:খিত :)

৫৩. ১৩ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১০:২৩
স্বল্পজ্ঞানী বলেছেন: হ, পাইছো তো ঐ একটা কথা। তা না হলে কাভারেজ পাইবা কেমনে!!! তুমি ভুয়া হইলেও কাভারেজ কিভাবে পাইতে পারো সেটাও বলা আছে ওখানে। মিডিয়া যেমন পুরা জাতিরে আবাল বানাইয়া রাখে, তুমিও তেমনি জাতিরে আবাল পাইছো। আসলে তুমিই যে আবাল সেটা যে বোঝার সে ঠিকই বোঝে।
১৩ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১১:৩৩

লেখক বলেছেন: মহাজ্ঞানী, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। জাতিকে এই সত্য জানাবার জন্য আপনার কাছে পুরো জাতিই চিরকৃতজ্ঞ হয়ে থাকবে। ভালো থাকুন।

৫৪. ১৬ ই জুলাই, ২০১০ রাত ২:৩৭
গরম কফি বলেছেন:

ফাকিস্তানে মূলাবাদী মুল্লারা যে মোল্লা যুদ্ধ করচে সেই স্বভাব টা এদেশে জন্ম গ্রহনকারী ফাকিস্তানী বংশদ্ভূত ছাগু গুলা এখানে এসেও ব্যা ব্যা করছে আর ছাগলামী করতে যেয়ে ধরা খাচ্ছে তার পরেও লজ্জা হয়না ।

এতো উস্টা খায় তার পরেও এরা নিজ দেশে যায়না কেন ?
৫৫. ১৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:৫৬
সাদাচোখ বলেছেন:

@গরম কফি,

পাকাস্থানীরা কি এত গবেট নাকি যে এই কালসাপদের নিজের দেশে নিয়ে নিজেদের সর্বনাশ করবে?

এ নিয়ে এক রাজাকার কন্যার স্বীকারোক্তি দেখুন। শেষ প্যারা দেখুন।
৫৬. ২৪ শে জুলাই, ২০১০ ভোর ৬:৩৫
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: পাকিস্থানিরা ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণেই শেষ হয়ে গেছে। পুরো পাকিস্থানে ধর্মীয় ভাইরাস ঢুকে গেছে!!
৫৭. ২৬ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ১:৩৫
সিসিপাস বলেছেন: হুমম, তথ্যবহুল। উইকি ইংলিশ থেকে অনেক আগেই পড়া ছিল। আশা করি এরকম অনুবাদ আরও পাব।

ধন্যবাদ।
৫৮. ২৬ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:০৪
সিসিপাস বলেছেন: @স্মরন

মরহুম অধ্যাপক আবু সালেহকে নিয়ে আপনার জন্য কিছু তথ্য--

১। উনি বোধয় লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজের ভিজিটিং প্রফেসরও ছিলেন। ঢাঃ বিঃ তেও তাকে যথেষ্ঠ শ্রদ্ধার সাথেই অনেকে স্মরণ করেন।

২। না, উনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেননা। ৭১ এর সময় তিনি পি,এইস,ডি শেষ করে সবে দেশে এসেছেন, জীবন বাঁচানোর তাগিদে তাকে সবাই একসময় ভারতে পাঠিয়ে দেন। এবং সেখানেই তিনি দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত ছিলেন। ডঃ আবু সালেহ এর ছোট ভাই আওয়ামী প্রতিমন্ত্রী আবু সাঈদ যুদ্ধ ইস্যুতে আগে থেকেই ইন্ডিয়া ছিলেন এবং তাকে যথেষ্ঠ সাহায্য করেন। তবে যুদ্ধপরবর্তি সময়ে তার ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ভাবে জামায়াত ঘরাণার হয়ে যাওয়াকে পারিবারিকভাবে অনেকেই অপছন্দ করতেন। সম্ভবত একসময় কোরাণের ব্যাখ্যা ও তাফসীরের সাথে নিজেকে বেশী যুক্ত রাখতেন এবং তা থেকেই হয়তো তার পরিবর্তিত রাজনৈতিক উপলব্ধির সূত্রপাত।

৩। কিছুদিন আগে তাকে জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের কারণে পুরস্কৃত করা হয়েছে; এটা আর কিছুই নয় ডঃ সালেহ এর মৃত আত্নার সাথে একধরণের প্রতারণা করা। উনার ছেলেদের উচিত ছিল এধরণের পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করা, খুব সম্ভবত উনারা সেটা করেননি।

৪। ডঃ সালেহ জামায়াত রাজনীতির জড়িত হয়ে পড়েন, তবে ইসলামফোবিক মিডিয়া যেমন উনাকে মূল্যায়ন করেনি বলে আপনার অভিযোগ, তেমনি জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে ইসলাম-বন্ধক মিডিয়া তাকে নিয়ে ঠিক কি ধরণের দেশ মাতানো কাজ করেছেন?

৫। ব্যক্তিজীবনে ডঃ সালেহ কিছুটা নিভৃতচারী টাইপের মানুষ ছিলেন। খুব সম্ভবত প্রচার-প্রসার বিরোধী মানুষ ছিলেন এবং তা কাছে দেখে কিছুটা দেখার সূযোগ হয়েছিল আমার।

৬। ডঃ সালেহ বিয়ে করেছেন জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুর ফুফাতো/মামাতো বোনকে। বি,এন,পি পোষ্য কোঠায় জাতীয় অধ্যাপক হওয়া তালুকদার মনিরুজ্জামান উনার ভাগ্নি-জামাই। (আওয়ামী পোষ্য কোঠায়ও জাতীয় অধ্যাপক হওয়া যায়) তবে বেশী দূর আর যাচ্ছিনা। (একটু ব্যাক্তিগত তথ্য দিয়ে ফেললাম, দূঃখিত) এতে করে আসলে উনার পারিবারিক বন্ধনে রাজনীতির কিছুটা মিশ্র পরিচয় পাওয়া যেতে পারে।

৭। পরিশেষে, ডঃ সালেহ এর পারিবারিক পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কিছু জানতে চাইলে জিজ্ঞেস করতে পারেন, চেষ্টা করবো সাধ্যমত সত্য উপস্থাপন করতে। তবে উনাকে নিয়ে আওয়ামী-বি,এন,পি বা জামায়াত ইস্যুতে তেনা পেঁচাবেননা দয়া করে, তার বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা করুন, এই প্রত্যাশা করি।

ধন্যবাদ।
৫৯. ২২ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৪০
রিফাত হক বলেছেন: ভাইজানেরা, আপনারা যারা কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষনার দাবিতে সোচ্চার তারা কি কখনো "প্রাণ" এর কোন জিনিস ব্যবহার করেছেন??? তাহলে এখনি আস্তাগফেরল্লা পড়ে নিন এবং আবার কলেমা পরে মুসল্মান হোন। কারন প্রান কোম্পানীটিও একজন আহমাদিয়ার। উনার নাম জেনারেল আমজাদ। আপ্নারা কি কনকর্ড গ্রউপের পার্কগুলাতে গিয়েছেন, তাহলেও তউবা পরুন, কারন ওনাদের একজন ডাইরেক্টর যিনি কন্সট্রাকশন সাইড দেখেন তিনি ও কিন্তু আহমেদিয়া। এরকম আরও অনেকেই আছেন।

ভাই, একজন বিজ্ঞানী শুধুমাত্র একজন বিজ্ঞানী। তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন মানুষ এবং একজন বিজ্ঞানি।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩৮৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি রাগিব হাসান। ভুট্টা ক্ষেতের মাঝে বসে আমি গণক মশাইকে পাহারা দিতাম। আর পাহারা দেয়ার তরিকা নিয়ে গবেষণা করতাম।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ