
আদমজী ইপিজেডের প্রবেশপথ
বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের সময়ে অব্যাহত লোকসানের কারণে এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিলস বন্ধ করার যে সাহসী সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তার সুফল জাতি পেতে শুরু করেছে। প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত ঐতিহ্যবাহী এ শ্রম জনপদ আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে । সেখানে এখন গড়ে উঠেছে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (এইপিজেড)।
বিগত কয়েকটি সরকার মিলটিকে বন্ধ করার উদ্যোগ নিলেও শ্রমিক রোষাণলের কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটে। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে ২০০২ সালের ৩০ জুন আদমজী জুট মিল চিরতরে বন্ধ করে দেয়। ২০০২ সালের ৩০ জুন তৎকালীন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়আদমজী জুট মিল । এরপর বিগত জোট সরকার এর আমলে ২০০৬ সালের ৬ মার্চ এইপিজেড হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
আজ ৩০ জুন বৃহস্পতিবার আদমজী বন্ধের ৯ বছর পূর্তি হলো।
বর্তমান অবস্থাঃ যেখানে ১২০০ কটি টাকা সরকারী লোকসান মাথায় নিয়ে আদমজী বন্ধ ঘোষণা করা হয় সেখানে আদমজী ইপিজেডে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ১২২ দশমিক ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময় পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে ৩১৩ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। আদমজী ইপিজেড থেকে বছরে প্রায় সাড়ে ৭শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হংকং, কানাডা, জার্মানি, ইউইএ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ভারত, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই ইপিজেডে বিনিয়োগ করেছে। দেশি-বিদেশি ২৩টি কারখানা এইপিজেডে উৎপাদন শুরু করেছে। এসব কারখানায় রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসামগ্রী, তৈরি পোশাক, জুতা, ইলেকট্রিক ক্যাবলস, বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকসামগ্রী উৎপাদন হচ্ছে।

কর্মরত শ্রমিক
কর্মসংস্থানঃ যখন আদমজী বন্ধ করে দেয়া হয় তখন তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামলীগ এবং বামদলগুলো বলেছিল শ্রমিকদের কর্মহিন হয়ে যাবার কথা। তারা এ নিয়ে আন্দোলনও করে। বন্ধ হওয়ার সময় আদমজীতে স্থায়ী শ্রমিক সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩১ জন। এছাড়া ৬ হাজার ২৫২ জন অস্থায়ী শ্রমিক ও ১ হাজার ৯৯২ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন। কিন্তু এখন সে জায়গায় স্থাপিত ইপিজেডের বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৫ হাজার ৫১৭ শ্রমিক কাজ করছেন। কিন্তু এ ইপিজেড পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এখানে কমপক্ষে ৬০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছেন এর অবকাঠামো উন্নয়নকাজের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (বেপজা) কর্তৃপক্ষ। তাহলে এদিক দিয়েও আদমজী বন্ধের সিন্ধান্ত সঠিক।
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুথানের সাক্ষী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে এক মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এশিয়ার বৃহত্তম সেই আদমজী জুট মিল আবারো দেশের জন্য বিদেশি মুদ্রা বয়ে আনছে সেটা আমাদেরকে যেমন গর্বিত করে তেমনি এর জন্য বিগত সরকার ও প্রশংশার দাবিদার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



