BUET। নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে আসে একগুচ্ছ বন্ধু । যাদের সাথে কাটিয়েছি কষ্টের কিন্তু আনন্দদায়ক চারটি বছর। চোখের সামনে ভেসে আসে কিছু দারুন স্মৃতি । সবগুলি মনে পড়ছে না। এখন যেগুলি লিখছি সেগুলিই এখন একটু মনে আসছে।
Level-1 Term-1
"বাবা, একটু ভালমতো পড়াশুনা করো। BUET এ চান্স পেলে আর পড়তো হবে না।"
কোন হালার পুত যে এই কথাটা বলেছিল তাকে এখনো খুঁজছি। BUET এ চান্স পেলাম একটু "ভাব-টাব" দেখাবো তা না এমন পড়ার চাপে পড়লাম যে "ভাব " শব্দের বানানটাই ভুলে গেলাম।
আমাদের Chemistry Teacher মানোয়ার স্যার। চূড়ান্ত Boring। হাতটা ঘুরিয়ে বলতো : " ব্যাপারটা এরকম আরকি।" কিন্তু মনে হতো বলছে :"বাবারা একটু ঘুমাও।" একদিন আমার চরম ঘুম আসলো । ব্যাপারটা কী?
আমি কি এতই খারাপ Student? পিছনে তাকিয়ে দেখি সবার চোখ ঘুমে লাল হয়ে আছে। স্যার এর নাম Relaxen হলে অধিক ভালো হতো।
English Teacher মুশফিকুল আলম । তার ক্লাসে সবাই ঘুমে বেঞ্চে পড়ে থাকতো, কিন্তু আমাদের তন্বী দেথলাম পড়ে আছে বীথির ঘাড়ে। পরে শুনলাম তন্বী আসলে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। সাথে সাথে Ambulance। আল্লাহর রহমতে তন্বী তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়।
ক্লাস হতো আর্কি চিপাতে। সেদিন আর্কির Rag Day। সাড়ে সর্বনাশ! লিফটে সবাই উঠেছে । Ground Floor এর দরজা খুলতেই দশ বালতি রংয়ের "সুনামি" ঝাপিয়ে পড়লো সবার উপর। মৌ আর মুনিয়া গেল Wash Room এ । একজন বললো :"এই মেয়েরা কোথায় যাও?" । মৌ বললো: " মুখ ধুতে।" সাথে সাথে রংয়ের বালতির উচ্ছাস। পরের মুনিমুল হক স্যার এর ক্লাসে আমাদের একেক জনকে একেকটা Cartoon লাগছিল।
Level-1 Term -2
Electrical Lab এ Ameter এর Range 0.1mA ~ 100mA। মহসিনের Ameter টা কাজ করছে না। বোধহয় কম Current যাচ্ছে। দেখি 220V এর Line এ ঢুকিয়ে । এরপর চরম "বিস্ফোরণ"! আমাদের V.C. ও বোধহয় ভয়ে খাট থেকে পড়ে গিয়েছিল। তেমন কিছুই হয়নি শুধু Ameter আর স্যারদের মেজাজ দুটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
Physics Lab এর Group ঠিক হচ্ছে। আমাদের BUET থেকে "ওয়াফা" নামের মেয়েটি আগেই চলে গিয়েছে। রায়হান কোন গ্রুপমেট পাচ্ছে না। সবার গ্রুপ ঠিক হয়ে গেছে । তখন হঠাৎ একগ্রুপে দেখা গেল "ওয়াফা" র নাম উপস্থিত। আতিক - সায়েম তাদের গ্রুপে "ওয়াফা"কে নিয়ে সামান্য সম্মান প্রদর্শন করেছে। কিন্তু "ওয়াফা" যেহেতু Out সেহেতু পুরোপুরি Out। রায়হানের গ্রুপ ঠিক হলো।
Level-2 Term-1
কাওসার আলম স্যার একদিন বেশ দেরী করে ক্লাস শেষ করলেন। পরের সাইদুর রহমান স্যারের ক্লাসে সবাই পৌছালাম ১৫ মিনিট পরে । সাইদুর রহমান স্যার পরে কাওসার স্যারের সাথে কী করেছেন জানি না তবে পরের দিন কাওসার স্যার বেশ কাচুমাচু হয়ে ঢুকে বললেন: " আমার ক্লাসের পর সাইদুর স্যারের ক্লাস সেটা আগে বলবা না?"
নিশাত ২-১ এর রেজাল্ট নিতে ফরহাদ স্যারের কাছে গেল। ফরহাদ স্যার বললেন : " তুমিতো একটা Subject এ খারাপ করেছ।" নিশাতের মাথায় বজ্রপাত! তারমত ছাত্রী আর খারাপ? মানে ফেল নাকি? হাত থেকে কলমটা পরে গিয়ে দুভাগ হয়ে গেল। “হে ধরণী তুমি দ্বিধা হও”। পরে জানা গেল নিশাত সবগুলোতেই A+ শুধু এক বিষয়ে খারাপ মানে "A"।
Level-2 Term-2
রায়হানের হলো জন্ডিস। DEPT Sessional এর ৩টি ক্লাসে সে আসতে পারেনি। শেষের দিন তানভির স্যারকে Medical Certificate দেখানোর পর স্যার বললেন : "ঠিক আছে । তাহলে ৩টা Practical আজকেই করো।" রায়হানের মুখের দিকে তাকায়নি কিন্তু আমার মুখ পুরা হাঁ। যে Prcatical একদিনে ৩ জন মিলে করি সেটা একা একদিনেই ৩টা?? রায়হান মাঠে নেমে পড়লো। সবাই মিলে কোনরকমে রায়হানকে ৩টা Practical করাতে সফলতা পেলাম। পরে স্যার বলে:"ঠিক আছে। আজকে বিকেলের মধ্যে ৩টা Practical এর Report নিয়ে আস। এরপর আমাদের মেজাজটা যে কোথায় গেল তা বুঝাই যাচ্ছে।
EEE এর শিক্ষক আরিফ স্যার। মওলানা Type এর । আমাদের ক্লাসে ৫ জন মাত্র মেয়ে । তখন পর্যন্ত কোন Couple নাই। হঠাৎ একদিন স্যার বলে:" আচ্ছা! ছেলে আর মেয়ে একসাথে বসা কি ঠিক??"
আজব! স্যার চলে গেলেন । এর মধ্যে অমিত বলে: " মেয়েরা এক বেঞ্চে বসবে , আর ছেলেরা এক বেঞ্চে বসবে তাহলে রশীদ কার সাথে বসবে??" রশীদ খুবই ভালো একটা ছেলে । চার বছর ধরে সবাই আমরা তাকে পচিয়েছি আর সুবিধা নিয়েছি । সে কখনও কাওকে কিছু বলে নাই।
Level -3 Term -1
First Bench এর কোণার জায়গায় সবসময় আমি বসতাম। একদিন ক্লাসে আসতে দেরী হলো। এসে দেখি ফ্লিন্ট আমার জায়গায় বসে আছে। পিছনের দিকে গিয়ে বসলাম। জ্যোতি ছিল ফ্লিন্টের পাশে। দেখি কানে কানে কী যেন বললো। সাথে সাথে ফ্লিন্ট বেঞ্চ থেকে উঠে হন্তদন্ত হয়ে পিছনের দিকে বসলো। আমি ঐ জায়গায় এসে বললাম: "কীরে জ্যোতি? কী বললি?" জ্যোতি বললো:" কিছুই না। বলেছি এখন আকবর স্যারের ক্লাস।"
আকবর স্যারের ক্লাসগুলো আসলেই বেশ রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
Compiler Sessional এর শেষ Assignment। কেউ কিছুই Code করতে পারেনি। কিন্তু আমি পেরেছিলাম। সবার মনে আছে কিনা জানি না কিন্তু প্রায় ৪০-৫০ জন আমার Code টা নিয়েই Submit করে।
তার মধ্যে অন্যতম ছিল "রিদু"। Code টা Run করতেই বিপত্তি! সব ঠিক আছে কিন্তু কোণার এক জায়গায় লেখা আছে :"My name is Rajin"। পাভেল স্যার হয়তো জানতেন যে কে রাজিন, তবুও জিজ্ঞেস করলেন: " রাজিন টা কে?" রিদু তার চূড়ান্ত বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে বললো:" আমিই রাজিন।" স্যার একটা হাসি দিল। রিদুর এই আকিকার খাওয়া এখনো পাইনি।
Level -3 Term -2
এই Term এ হঠাৎ সামি স্যার ও আহসানের মধ্যে বিশেষ সক্ষতা তৈরী হয়। একদিন স্যার বোর্ডে লিখতে গেলেন, দেখলেন মার্কারে কালি নেই।
"এই আহসান, মার্কারে কালি নেই কেন?"
কোন দুর্বোধ্য থেকে দুর্বোধ্য বিষয় নিয়ে যখন সবার মাথা ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন হঠাৎ :" এই আহসান! বল তুমি কী বুঝলা?"
একদিন আমরা অনেকে আহসানের সাথে দাড়িয়েছিলাম। সামি স্যার দুর থেকে আহসানকে দেখে তারপথ ৩৭.৫ ডিগ্রী কোণে বিচ্যুত করে এসে বলেন: " এই আহসান! তোমার রেজাল্ট কী?"
সামি স্যার সত্যি একজন দারুন শিক্ষক এবং রসিক মানুষ ছিলেন।
এই টার্মে আমরে গিয়েছিলাম আমাদের কুমিল্লা পিকনিকে। যেখানে আমরা সবাই চূড়ান্ত মজা করেছিলাম।একটা খেলাছিল। নিজের বন্ধুর পায়ের সাথে নিজের পা বেঁধে দৌড়। শুরু হলো দৌড়। কেই কচ্ছপের বেগে তো কেই চিতা বাঘের বেগে দৌড়াচ্ছে। প্রথম হলো হাবিবের দল। তৃতীয় কে জানি হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় কে? আমিত আর মামনুন চিৎকার করে বলে :"আমরা দ্বিতীয়!" পেল পুরস্কার। পরে Video Replay তে ধরা পড়ে তারা আসলে দ্বিতীয় নয় ছিল "ষষ্ঠ"।
আমিত এহতেশাম স্যারকে তার Code বুঝাচ্ছে। অমিত বুঝাচ্ছে বুঝাচ্ছে বুঝাচ্ছে আর স্যার তাকিয়ে আছে তো তাকিয়েই আছেন। ব্যাপারটা কি? অমিত শেষমেষ বলেই ফেললো: "স্যার, আপনি বুঝতে পারছেন তো?"
চারিদিকে নিশ্চুপ নীরবতা, পিনপতন শব্দও নেই। হঠাৎ স্যারের কন্ঠ হতে কয়েকটা ধ্বনি নির্গত হলো:"তোমার কি ধারণা আমি কিছু বুঝি না?"
Level-4 Term-1
এত কষ্ট করেছি এই টার্মে যে বেশীরভাগ অশালীন গালাগালি এই টার্মেই শিখি। এরজন্য সুখকর স্মৃতি বেশি নেই এই টার্মে। ড. হুমায়ুন কবির, ড. মাসুদ হাসান , আবদুস সাত্তার স্যারের মত অসাধারণ শিক্ষকদের ক্লাস পেলেও Sessional এর ক্লাসে চরম কষ্ট হয়।আমার আর জুমার এর সেই রিকশাতে পাটুয়াটুলি ভ্রমণ, রমযান মাসে BUET এসে ECG এর Signal Simulate করা, জুমার এর রুমে এসে DSD এর তার লাগানো কখনই ভোলা যাবে না।
DSD এর একটি ছিল Assignment ALU Design and Implementation। এটি সফলভাবে শেষ করার পর নিজেদের বিশ্বজয়ী মনে করতে শুরু করলাম। একটি বিশেষ খাওয়া-দাওয়া দরকার। দুপুরে ভাতও খাওয়া হয়নি। ঢুকলাম তিতুমীর হলের ক্যান্টিনে। সোহাগ বললো:"কী আছে?" ব্যাস শুরু হলো খাওয়া। পুরা Nonstop! খিচুড়ী, নুডুলস, জিলাপী , বুট , পিয়াজু , বেগুনি , চপ , জুস , পানি , হাওয়া , আলো , বাতাস , মাটি যা পাইলাম শুধু গল:ধকরণ। খাওয়ার সময় দেখি ক্যান্টিনের সবাই আমাদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। বেশ মজাই হয়েছিল।
CSE Festival 2008 । রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা! দিন-রাত এক করে ,খাওয়া-ঘুম বিসর্জন দিয়ে আমরা Wireless ECG System তৈরী করলাম । কোন পুরস্কার না পেলেও দর্শকদের আগ্রহ আর আমাদের Stall এ চরম ভীড় খুবই Enjoy করি। দর্শকদের মন্তব্যের মোটা খাতাটা এখনও মাঝে মাঝে উল্টে দেখি।
Cultural Night এ প্রথমবারেরর মতো আমি অভিনয়ে অংশগ্রহণ করি। দারুন এক অভিনয়ের অংশ হয়ে আমি গর্বিত। পাঁচ Director হই হাসান, প্রসুন, মুরাদ, আমি ও তাওসিফ। উপস্হাপক হয় ফাহাদ ও শিমন। সবকিছুর মূল দায়িত্বে থাকার জন্য ফাহাদকে ধন্যবাদ দিতেই হয়।
Level-4 Term-2
শেষ টার্ম। আমি এখনো শেষ হইনি। একরাতে আহসানের ফোন:"কালকে IPE madam Extra class নিবেন।"
আশ্চর্য!! আমি Class Representative আর আমি জানলাম না কিন্তু আহসান জানলো? ।অনেককে ফোনে জানালাম। পরের দিন রাগে একটু গজগজ করতে ক্লাসে ঢুকে দেখি, "একি??"
সেদিন ছিল আমার জন্মদিন। তাই Extra Class এর ভুয়া কথা বলে একটা Surprise Party আয়োজন করে বন্ধুরা। বিশাল কেক , Poster , বেলুন , খাওয়া , Drinks , ... বিশাল আয়োজন!!
সত্যিই! এরকম বন্ধুত্বের ভালোবাসা কয়জন পায়? তাই এটাই আমার BUET জীবনের সেরা প্রাপ্তি ও সুখকর স্মৃতি।
শেষে এটাই বলবো লেখা শেষ হলো, BUET শেষ হলো, একদিনও ইহজীবনও শেষ হবে , তবে রয়ে যাবে শুধু "স্মৃতি"।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




