somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজনীতি
২০০৬ এর ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে হাসিনার দ্বারা লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ফাসি চাই।২২৮ অক্টোবর রাজপথে হাসিনার দ্বারা লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ফাসি চাই।

বাংলাদেশের মানুষের ইতিহাস , ঐতিহ্য কি এই খুনের? তপ্ত তাজা রক্ত দিয়ে যারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে তাদেরকেও অসম্মান করেছে যে হত্যাকান্ড। বিশ্ববাসী এই হত্যাকান্ডের প্রকাশ্য বিচার চায়।

২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিচারের বানী কাদে হায় হায়..................................!!!!!!!! আজ ২৮শে অক্টোবর। রাজনীতির স্বার্থে প্রকাশ্য রাজপথে জীবন্ত মানুষ হত্যার স্মৃতি বিজড়িত সেই কলঙ্কিত ঘটনার বর্ষপূর্তির দিন। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজধানীর পল্টন মোড়ে জামায়াত-শিবিরের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের হামলায় ছয়টি তাজা প্রাণ তাৎক্ষণিকভাবে ঝরে যায়। এই দিন বিশ্ববাসী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কিভাবে রাস্তায় সাপের মত পিটিয়ে মানুষ হত্যা করে, পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট মানুষনামধারী আরেকটি দল মৃত দেহের উপর নাচানাচি করতে পারে তা প্রত্যক্ষ করেছে। জাতিসংঘের শান্তি মিশনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মানব কল্যাণের প্রতিভূ হিসেবে বিশ্বব্যাপী যে সুনাম অর্জন করেছিল এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের একজন অর্থনীতিবিদ শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করে এই দেশের জন্য যে সুনাম কুড়িয়ে এনেছিলেন ২৮ অক্টোবরের এই কলঙ্কিত ঘটনা আমাদের এই গর্বিত অর্জনের মুখে চুনকালি লেপন করেছিল। পাঠকদের নিশ্চয়ই স্মরণ আছে যে, ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে ২৯শে অক্টোবর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সারাদেশে হত্যা, সন্ত্রাস, খুন, রাহাজানি, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উপর সশস্ত্র হামলার যে হোলিখেলা শুরু করেছিল তার ফলে ঢাকাসহ সারাদেশে ৩০ জন নিরীহ লোক প্রাণ হারিয়েছেন। মারাত্মকভাবে আহত শতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করেছেন। কয়েক হাজার লোক বিভিন্ন জখম নিয়ে হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেস এবং বাড়িঘরে চিকিৎসা নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন চৌদ্দ দলীয় মোর্চা জোট সরকারের শেষের দিকে কয়েক মাস ধরে সংস্কার দাবি আদায়ের নামে সশস্ত্র আন্দোলনের যে মহড়া দিয়ে আসছিল জোট সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের মুহূর্তে তারা তার আদিম ও নিকৃষ্টতম অভিব্যক্তি প্রদর্শন করেছেন। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে নিরস্ত্র মানুষকে বিনা উস্কানিতে বিনা অপরাধে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হবার কারণে কি অমানুষিকভাবে তারা পিটিয়ে হত্যা করেছে­ বিশ্ববাসী তা প্রত্যক্ষ করেছে। মৃতদেহের উপর অত্যাচার করতেও তাদের বুক কাঁপেনি। তাদের পৈশাচিকতা দেখে অনেক নারী, শিশু ও নরম হৃদয়ের মানুষ অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। তারা চিৎকার করে কেঁদেছেন। নৃশংসতার যে ইতিহাস সে দিন আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করেছে দুনিয়ার ইতিহাসে তার নজির নেই, সে দিন কি হয়েছিল? কেয়ারটেকার সরকারের নিকট ঐদিন জোট সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা ছিল। জামায়াত উত্তর গেটে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সমাবেশ করছিল, মুক্তাঙ্গনে চৌদ্দ দলের সমাবেশ ছিল এবং শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী তারা লগি-বৈঠা ও লাঠিসহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এই সমাবেশ করছিল। জামায়াত ও শিবির কর্মীরা ছিল নিরস্ত্র। তাদের হাতে কোনও লাঠি ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী চৌদ্দ দলের সন্ত্রাসীরা বিনা উস্কানিতে জামায়াতের সমাবেশে হামলা চালায় এবং বৃষ্টির মতো তাদের উপর ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে এবং হতাহতদের উপর লাঠি-বৈঠা দিয়ে আঘাত করতে থাকে। সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে ২টা পর্যন্ত তাদের এই হামলা অব্যাহত থাকে। কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবন এবং কম্যুনিস্ট পার্টির অফিসের ছাদ দখল করে সেখান থেকে তারা ইট-পাটকেল ও বোমা নিক্ষেপ করেছে বলে পত্র-পত্রিকায় রিপোর্ট বেরিয়েছে। জামায়াত কর্মীরা খালি হাতে, তাদের ছোঁড়া ইটের টুকরা এবং তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া লাঠি দিয়ে হামলার মোকাবেলা করেছে। তিনটার পর চৌদ্দ দলের হামলায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়, লাঠির সাথে তারা বোমা, ককটেল ও পিস্তলের গুলীও ছুঁড়তে থাকে এবং তাদের হাতে জামায়াত ও শিবিরের ৬ জন কর্মী শহীদ হন। খালি হাতে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সে দিন ১৪ দলীয় সন্ত্রাসীদের যেভাবে মোকাবেলা করেছে এবং ময়দান দখলে রেখেছে তা ছিল অভাবিতপূর্ব। সুকৃতির প্রতিষ্ঠা ও দুষ্কৃতি প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা ছিল অনন্য এবং প্রশংসা পাবার যোগ্য।

২৮ অক্টোবর যুগ যুগ ধরে একটি অগণতান্ত্রিক শক্তির প্রতিহিংসা ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতার প্রতিভূ হয়ে বিশ্ব মানবতাকে পীড়া দিবে। সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ যথার্থই বলেছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে প্রকাশ্য রাজপথে মানুষ হত্যার ঘটনাকে ভোলা যায় না। এই ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয় বরং ক্ষমতালি≈ু একটি রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর পরিকল্পিত প্রয়াসেরই অভিব্যক্তি ছিল বলে আমার বিশ্বাস।

এই ঘটনার পেছনের দিকে যদি তাকানো যায়, তাহলে দেখা যায় যে ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুথানের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার শুরু থেকেই একটি গোষ্ঠী নির্বাচনে পরাজিত হয়েই বহি:শক্তির ছত্রছায়ায় দেশকে অকার্যকর প্রমাণের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে এবং সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তারা মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। '৯১ সালের নির্বাচনে হেরে গিয়ে তারা সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ তুলে নবগঠিত সরকারকে প্রথম দিন থেকেই “শান্তিতে থাকবার দেবো না” বলে ঘোষণা করে এবং এই সরকারের পতনের জন্য পাঁচ বছর ধরে নৈরাজ্যকর এমন কর্মসূচি ছিল না যা তারা দেয়নি। অথচ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে দেশ-বিদেশের সকল পর্যবেক্ষকই অবাধ, নিরপেক্ষ ও কারচুপিমুক্ত বলে ঘোষণা করেছিলেন। একইভাবে ২০০১ সালের নির্বাচনে দেশবাসী বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তাদের হারিয়ে দেয় এবং চারদলীয় জোট ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই নির্বাচনকেও দেশ-বিদেশের সবাই অবাধ ও নিরপেক্ষ বলেছে, কিন্তু প্রধান বিরোধী দল ও তার নেত্রী এতে স্খূল কারচুপি আবিষ্কার করেছেন। পরাজিত হয়ে তিনি তার নির্বাচিত ও পছন্দের প্রধান নির্বাচন কমিশনার, রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টাসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ-বিডিআর সবাইকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করলেন। এই দল ও গোষ্ঠীটি কারচুপির প্রমাণ দেখাতে পারলেন না, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলাও করলেন না। যারা নির্বাচিত হলেন বললেন, শপথ নেবেন না, শপথ নিয়ে বললেন, অধিবেশনে যোগদান করবেন না। আবার সুবিধামত অধিবেশনে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলের নেতা-নেত্রী হিসেবে সব রকমের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ওয়াক আউট করে দীর্ঘকাল অধিবেশনে যোগদান থেকে বিরতও থাকলেন। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে একের পর এক সরকার পতনের আন্দোলন দিতে থাকলেন। ঝধনড়:ধমব করলেন। এটা কি গণতান্ত্রিক শিক্ষা? একদিকে সরকার ৫ বছর ধরে দেশকে এগিয়ে নেবার সংগ্রাম করেছে অন্যদিকে প্রধান বিরোধীদল প্রথমে এককভাবে পরে ঠিকানাবিহীন আরো তেরটি দল নিয়ে জাতির পিঠে ছুরিকাঘাত করেছে। সরকার কোনটা করবে, তাদের বিদ্রোহ থামাবে, না উন্নয়ন কাজের আঞ্জাম দেবে?

চার বছর ধরে তারা সরকারবিরোধী আন্দোলন করলেন। একাধিকবার এক দফা তথা সরকার পতনের কর্মসূচি দিলেন, সংসদের সদস্যপদ রক্ষা ও সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণí রাখার জন্য প্রান্তিক সময়ে গিয়ে পার্লামেন্টে হাজিরাও দিলেন এবং সংসদকে উপেক্ষা করে রাজপথে সংস্কারের দাবি উথাপন করলেন। পার্লামেন্টে এসে এই দাবি উথাপনের জন্য সরকারি অনুরোধ তারা রাখলেন না। পার্লামেন্টের মেয়াদ যখন শেষ হবার পথে, তখন তারা পার্লামেন্টে এসে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে পুনরায় রাজপথে ফিরে গেলেন এবং একের পর এক হরতাল-অবরোধ দিয়ে জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুললেন। বিচারপতি কেএম হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা করার ব্যাপারে তাদের আপত্তি ছিল। তিনি যখন সরে গেলেন, তখন তারা গোঁ ধরলেন মাহমুদুল আমিনকে প্রধান উপদেষ্টা করতে হবে, অন্য দলগুলো রাজি হলেন না। একইভাবে জাস্টিস আজিজকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানোর জন্যও তারা আন্দোলনকে তীব্রতর করলেন। তার বাসায় চাল, ডাল, তরিতরকারি সরবরাহ ব করে দেয়ার ঘোষণা দিলেন। শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে তারা সংলাপে রাজি হলেন কিন্তু শর্ত দিলেন যে, জামায়াতের সাথে তারা সংলাপে বসবেন না। অনেক কালক্ষেপণ করে তারা বিএনপির মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সাথে সংলাপে রাজি হলেন। কিন্তু এই সংলাপ কোনও ফল বয়ে আনলো না। তারা দেশকে নৈরাজ্যের দিকেই নিয়ে গেলেন। তাদের কার্যক্রম এটাই প্রমাণ করলো যে, তথাকথিত সংস্কার প্রস্তাবের নামে জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর, অসহিষäুতা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার উস্কানির পেছনে একটাই উদ্দেশ্য ছিল এবং তা হচ্ছে জোটকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় যেতে না দেয়া এবং বিশৃংখলা সৃষ্টি করে ক্ষমতায় যাওয়া। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পেট্রেসিয়া বিউটেনিসের বাসায় সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে তারা এটাও প্রমাণ করেছেন যে পরাশক্তির পা ধরে তারা ক্ষমতায় যেতে চান।

বলা বাহুল্য ইতোপূর্বে তারা দেশ এবং সরকারকে অকার্যকর প্রমাণ করার জন্য দেশ বিদেশে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন। এগুলো যে, নিছক অভিযোগ ছিল না তার প্রমাণও মিলেছে পরে। তাদের নৈরাজ্য থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য পরবর্তীকালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় গঠিত কেয়ারকেটার সরকার তাদের অনেক গোপন তৎপরতার রহস্যই উন্মোচন করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের কারারুদ্ধ জেনারেল সেক্রেটারী জনাব আবদুল জলিল ও প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিমের জবানবন্দী অনুযায়ী একটি বৈধ সরকারকে উৎখাতের জন্য দলটির প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা ছিল লোমহর্ষক; গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী। সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় তারা শেরাটন হোটেলের পাশে বিআরটিসির বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ১১ জন নিরীহ লোককে হত্যা করেছিল। জনাব জলিল ও সেলিমের ভাষ্য অনুযায়ী এর নেপথ্যে ছিলেন যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মীর্জা আজম। তারা যুবলীগের অফিসে বৈঠক করে নাশকতার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হরতাল অবরোধের মাধ্যমে দেশের স্খিতিশীলতা বিনষ্টকরণ, স্খল ও নৌবন্দর ব করে দিয়ে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে স্খবিরতা সৃষ্টি, ট্রেনে অগ্নিসংযোগ গার্মেন্টস শিল্পে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিঘিíতকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাদের দলের প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতার কথাও এই দু'জন নেতা অকপটে স্বীকার করেছেন।

পল্টন হত্যা ছিল তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতার একটি অংশ। নিরীহ নিরপরাধ মানুষের জীবনহানি ছাড়াও তাদের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের ফলে দেশের অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবে না। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দু'লাখ কোটি টাকা। এর জের এখনো দেশকে টানতে হচ্ছে। গার্মেন্টস খাতে রফতানি হন্সাস এই সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যেরই একটি প্রতিফলন। এই অপশক্তির আন্দোলনের ফলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতি যে হুমকির সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য গত ১১ জানুয়ারি দেশব্যাপী জরুরি অবস্খা ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেনা সমর্থিত নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকার সংস্কারের বহু যুগান্তরকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন। দেশবাসী তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু যাদের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অগ্নিসংযোগ, ভাঙ্গচুর ও লুটপাটের ফলে মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিঘিíত হলো, যারা প্রকাশ্য রাজপথে পিটিয়ে এবং পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করলো আজো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের বিচার না হওয়ায় দেশবাসী বিচলিত এবং উদ্বিগ্ন। তারা মনে করছেন যে, দুর্নীতিবাজদের চেয়ে সন্ত্রাসীদের অপরাধ কোন অংশেই ছোট নয়। সন্ত্রাসীরা যদি শাস্তি না পায় তাহলে সুযোগ পেলেই তারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। যেমন জরুরি অবস্খার মধ্যেও গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার তারা পরিকল্পিত ও সংগঠিত সন্ত্রাস করে অর্থনীতির ক্ষতিসাধন করেছে এবং মূল্যবান অবকাঠামো ও যানবাহন ধ্বংস করেছে। এ প্রেক্ষিতে ২৮ অক্টোবরের অপরাধীদের বিচার ত্বরানিðত করা যেমন বাঞ্ছনীয় তেমনি দুর্নীতিবাজদের পাশাপাশি সামাজিক, রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদেরও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্খা করা অপরিহার্য। তা করতে না পারলে স্বাধীন সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন কখনো বাস্তবায়ন হতে পারে না, যেমন পারেনি অতীতে।

এ ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রসঙ্গে কয়েকটি কথা বলা জরুরি বলে মনে হয়। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্খার বিভিন্ন দলের মতপার্থক্য একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ চিন্তা কারুর একচেটিয়া অধিকার হতে পারে না। এই ভিন্ন চিন্তার জন্য প্রতিদ্বন্দবী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা বা চিন্তা-ভাবনা সুস্খ রাজনীতির পরিচায়ক নয়। এটা নেতৃত্বের কাজও নয়। সহনশীলতা, দূরদর্শিতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে নেতা হওয়া যায় না।
নেতৃত্ব হচ্ছে গতিপথ নির্দেশনার মাধ্যম। একটি দলকে তার লক্ষ্য অর্জনের সহায়তা করাই হচ্ছে একজন নেতার কাজ। দৃষ্টির তীক্ষîতা এবং আস্খার পথে অধ:স্তন নেতা-কর্মীদের দলের জন্য কাজে উদ্বুদ্ধ করার সামর্থ্যই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে নেতৃত্ব। এর পরোক্ষ অর্থ হচ্ছে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মীরা যা করবেন তার সামগ্রিক দায়িত্ব নেতাকেই বহন করতে হবে।এ প্রেক্ষিতে লগি-বৈঠা নিয়ে সমাবেশে যোগদানের নির্দেশ এবং প্রতিপক্ষের উপর হামলা ও মানুষ হত্যা, হরতাল অবরোধের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি। লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ভাঙ্গচুরের সঠিক দায়িত্ব নেতা-নেত্রীরা কি উপেক্ষা করতে পারেন? আমার দৃষ্টিতে পারেন না। আর একটা স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষের যারা ক্ষতি করেন, জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করেন তারা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার বিরোধিতাই করেন। এই স্বাধীনতা বিরোধীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব। আগামী নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এর দাতভাঙা জবাব দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহন করতে হবে। আর এই নির্মম পৈশাচিক হত্যাকান্ডের বিচার প্রকাশ্য দিবালোকে হতে হবে।
২৫টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×