২৮ অক্টোবর কী ভয়াবহ নির্যাতনই না সহ্য করতে হয়েছে তাকে। পল্টনের কস্তুরী হোটেলের সামনে মিরপুর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের শিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সহকর্মীদের নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। হঠাৎ করে ১৪ দলের কর্মীরা হামলা চালায়। রাস্তায় পড়ে যাওয়ার পর শুরু হয় লাঠি বৈঠার নির্মম পিটুনি। আঘাতের পর আঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা নিবৃত্ত হয়।
আর মা-বাবা পরিবারের বড় ছেলেকে হারিয়ে যেন নির্বাক। মুজাহিদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ ছিল তার মা আর নানা মানসুর আহম্মদ। সন্তান হারা সেই মাকে বুঝ দেয়ার ছিল না কেউ। ব্যবসায়ী বাবা দেলোয়ার হোসেন কাঁদ ছিলেন নিভৃতে। অঝোর ধারায় পড়ছিল চোখের পানি। ১২ বছরের ছোট ভাই কাঁদল চিৎকার করে। বোনও ভারী করে তুললো আকাশ বাতাস। কিন্তু মুজাহিদ নেই। রাত ৯টায় তাকে রাখা হলো মিরপুর কবরস্খানে। তখন উপস্খিত অনেকেই সেই নৃশংসতার কথা মনে করে কাঁদছিল ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে।
এভাবে মুজাহিদকে হারাতে হবে তা ভাবেনি কেউই। বìধুদের কাছে মুজাহিদ ছিল খুবই সাদাসিদে। সদা হাস্যোজ্জ্বল। সুঠাম দেহ। চুলছিল লম্বা। আর ছিমছাম গড়ন। বেশ ভদ্র বলেই জানত সবাই। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়ত সে। হজরত মুহাম্মদ (সা
মুজাহিদের রক্ত আজও কথা বলছে, বলবে সারা জীবন। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হয়ে থাকবে পল্টনে পড়ে থাকা তার সেই নিথর দেহ। তার আদর্শে উজ্জীবিত হবে আরো হাজারো যুবক। রক্ত দিয়ে যদি মুজাহিদ পরপারে ভালো থাকে, সেই রক্ত দিতে বেঁচে থাকা ওইসব যুবকের সামান্য পরোয়া নেই। এমন শপথই তার বন্ধু ও সহপাঠীদের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



