আমার এখনো মনে আছে,একদিন এমন হয়েছিলো--
আমার অসুস্থ, যণ্ত্রণা-কাতর মায়ের শিয়রে বসে আমি
অসহায়ের মতো নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে ছিলাম
তার চোখ বরাবর-- তীব্র গরমে হাঁপিয়ে ওঠা আমার মাকে
একটুখানি প্রশান্তির বাতাসেও ভাসাতে না পারার অসহ্য
ব্যর্থতা নিয়ে যখন আমি তীব্র অপরাধবোধে
নুব্জ হয়ে বসেছিলাম নত মস্তকে,
মা তার চিরন্তন মায়াময় এক প্রশান্তির হাসি দিয়ে
আমার কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন বলেছিলেন--
কাঁদিস না বোকা, দেখিস একদিন অনেক ক্ষমতাবান হবি তুই;
মাগো, আজ অনেক ক্ষমতাবান আমি,
শত শত মানুষ আজ আমায় কুর্ণিশ করে,
প্রবল দাম্ভিকতায় মানুষের মুখে লাগাম লাগাতে পারি আজ আমি মা,
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের তীব্র হিমে আমি আমার জগৎটাকে
এক মুহূতেই বানিয়ে দিতে পারি একটা ছোট-খাটো এন্টার্কটিকা,
অথচ মা, আমি তোমায় ফিরিয়ে আনতে পারিনা আবারও--
সেই আঁধারের জগৎ থেকে এই আলোর পৃথিবীতে;
প্রবল ক্ষমতাবলে আমি আদেশও করতে পারি না এই সময়কে--
হে সময়, তুমি আমাকে নিয়া চলো সেই সময়ে--
তীব্র যন্ত্রণায় কাতর আমার মায়ের পদতলে আমি
জগতের সমস্ত প্রশান্তি এনে লুটায়ে দিবো,
জগতের সমস্ত ব্যাধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমি মায়ের পদধূলি দিয়ে
রচনা করবো অমরত্বের পথ;
হায়, আমার ক্ষমতায় এসবের কিছুই হয়না,
তুমিও আর ফিরে আসো না মা,
তবে আমিও আর চাই না সময়ের অফোঁড়ে প্রাপ্ত আমার এই
অথর্ব নিরর্থক ক্ষমতার ঝনঝনানি,
আমিও আজ পরিত্যাগ করলাম এই অকর্মক ক্ষমতাকে,
এই দূষিত আলোর পৃথিবীর সমস্ত লেনদেন চুকিয়ে দিয়ে--
তুমি দেখে নিও মা,
আমি আবার ফিরে আসবো তোমার বুকে;
প্রবল ক্ষমতাবান কেউ হয়ে নয়,
তোমার আদেরের সেই ছোট্ট ছেলেটা হয়ে--
এই আলোর পৃথিবী ছেড়ে তোমার জগতে,
চির অভয়ারণ্যের প্রতীক তোমার সেই শান্ত মায়াময় কোলে--
আমি আবার ফিরে আসবো মা;
তুমি তৈরী থেকো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

