আমার প্রিয় পোস্ট

রায়হান রাইন

কবিতার কৃত্য

১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪৬

শেয়ারঃ
0 1 0

বইতে ছাপা কবিতার বাইরেও যে আছে নানা রকম কবিতা তা আমরা জেনেছিলাম কৈশোরে, যখন বিস্ময় খুলে দিচ্ছে আধফোটা চোখ, আমাদের চোখ আমাদেরকে বেড়াতে নিয়ে যাচ্ছে নানা জায়গায়, যখন মানুষ নয় আমরা ছুটছি মানুষের গানের দিকে, তার নানা ঘটনার আনন্দ ও বেদনার দিকে। গাছে গাছে কুড়াপাখি বসতো বলে যে হাটের নাম কুড়াগাছার হাট সেই হাটে গিয়ে দেখি, লোকের ভিড় থেকে একটু দূরে, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কবি সুর করে করে কবিতা পড়ে চলেছেন। দুটাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এক ফর্মার ভাঁজ করা কাব্যপত্র। অনেকে না কিনলেও কবিকে বৃত্তাকারে ঘিরে দাঁড়িয়ে মোহাবিষ্ট হয়ে শুনছেন নতুন ছাপা কবিতা। ধূলিমলিন পাজামা-পাঞ্জাবি পরা শ্যাম-বর্ণের লোকটির মাথাভরতি ঝাঁকড়া চুল আর দুই চোখ অদ্ভুত রকম উজ্জ্বল। নিজের লেখা কাব্যপত্রটি থেকে যখন সৃষ্টিতত্ত্ব পাঠ করছেন তখন সৃষ্টিলগ্নের উষার আলো যেন এসে পড়েছে তার চোখে। সুর করে পঞ্চ পাঞ্জাতন বর্ণনা শেষে তিনি পাঠ করেন: তারপর বারিতালা/ নাম তার লাশারিকালা/ যে কালিতে কোরান লেখা হয়।/ আছে কোরান লহু মাফুজে,/ আসল কোরান তারে কয়,/ আদমের কালেবে কোরান/ সেইটাকে আরশ মাল্লা কয়\ পাঠক কিন্তু এরপর ক্রমশ এক কাহিনির আঙিনায় প্রবেশ করে। সবাই বুঝতে পারে, এ কাহিনি অনতিপূর্ব কালে কোথাও ঘটে গেছে। এতে কবিতা ও সংবাদ দুই-ই আছে। আমরাও সেই কাহিনির সঙ্গে দারুণ এক বিষাদ কিংবা আনন্দ নিয়ে যুক্ত হয়ে পড়ি। হাট থেকে বাড়ি ফিরতে ফিরতে আমাদের মনে গুঞ্জরিত হতে থাকে সেই কবিতার সুর আর ছন্দ।

একদিন শোনা গেল, ভানুডাঙা থেকে দুজন কবি আসতেছেন; পশ্চিমের ভিটায় মঞ্চ বানানো হয়েছে; কবির লড়াই হবে। সন্ধ্যা নামতেই হ্যাজাকের আলোয় ভিটা আলোকিত হয়ে গেল। কালচে হয়ে যাওয়া পাতার বহু পুরাতন আমগাছগুলোর যে বাগিচা রাতের বেলায় ছিল ভুতপ্রেতের বাসস্থান সেই জায়গা ঝকঝকে আলোর এক রহস্যভূমি হয়ে উঠল। আশপাশের গ্রামগুলো থেকে কত যে মানুষ এসে জড়ো হলো, ভিটা উপচে পুকুর পাড়, পাশের বাড়ির উঠান থেকে কুয়াতলা পর্যন্ত লোকজনের ভিড় ছড়িয়ে গেল। অনেক মানুষের চীৎকার চেঁচামেচি আর কথাবার্তার গুঞ্জন একেবারে থেমে গেল যখন প্রতিদ্বন্দ্বী দুই কবি মঞ্চে উঠলেন। গায়ে শাল জড়ানো দুধশাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা সৌম্যকান্তি দুই কবি মঞ্চের দুদিকে যার যার দোহার দলের লাগোয়া হয়ে দাঁড়ালেন। যন্ত্রসংগীত বাজলো কিছুক্ষণ। একসময় কবিদের একজন উঠে দাঁড়ালেন। শুরু হয়ে গেল জীব পরম কি গুরু-শিষ্যের পালা। কেউ একে বলেন বিচারগান। পালাক্রমে একজনের পর আরেকজন বলেন বলে কেউ এর নাম দিয়েছেন পালা। যে নামেই বলা হোক, সুর যুক্ত করে ছন্দ-মিল উপমা উৎপ্রেক্ষা দিয়ে তারা যা বলে যাচ্ছিলেন তা কবিপদবাচ্য। আমরা দেখতে পাই চারদিকে ভিড়ের ভেতর আন্দোলিত হয়ে চলেছে অপূর্ব সেই কথাবস্তু। তাদের কথার যমক গমক শ্লেষ বা ব্যাজুক্তির সবটা না বুঝলেও এটুকু বুঝতে পারি যে, জীব হোক আর পরম হোক তা নিয়ে যে কথাই তারা বলছেন, তাকে সুন্দর করে বলবার একটা ব্যাপার আছে, কল্পনার মিশেল দিয়ে অলঙ্কারের এমন এক একাত্মতা, জহুরি শ্রোতাকে তা তৃপ্ত করবেই। কিন্তু রাত গভীর হলে কবিতার ছন্দস্পন্দন আমাদের তন্দ্রার সঙ্গে ক্রমশ সেলাই হয়ে যায়।

কোনো রাতে পাশের বাড়ির বারান্দায় দেখা গেল, সামান্য একটু ভিড়, হারিকেনের আলোর পাশে একজন লোক ঝুঁকে আছেন একখানা পুঁথির উপর আর তাকে ঘিরে বারান্দায় এবং উঠানের নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে অনেকে। পরে জেনেছি, লোকটাকে নৌকায় করে পাশের গ্রাম থেকে অনেক বলে-কয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। জীর্ণ হয়ে যাওয়া একখানা খাতা থেকে তিনি যা পড়ে চলেছেন তা ছন্দমিল যুক্ত কথামালা, পড়াও হচ্ছে সুর করে করে। বিষয়বস্তু রূপকথার মতো, কাহিনিতে আছে পরির দেশ, পাতালপুরি, রাক্ষস-খোক্ষস, অলৌকিক ফলফুল, এইসব। কুড়াগাছার হাটে পথের ধারে দাঁড়িয়ে যে কবিতা শুনেছি, তাতেও আখ্যান ছিল। কিন্তু সেটা ছিল বাস্তবে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নিয়ে। পড়ার সুরও আলাদা। অনেক পরে বুঝেছি, পাশের গ্রাম থেকে আসা লোকটা হারিকেনের আলোয় যে কাহিনি-কবিতাটি পড়েছেন, সেটা অবাস্তব কাহিনি হলেও তার তাৎপর্যের জায়গাটি সত্য। সত্য হচ্ছে কারো ষড়যন্ত্রে সৃষ্টি হওয়া জটিলতা আর সঙ্কটগুলো, বন্ধুর জন্য মন্ত্রীপুত্রের আত্মদান, নিয়তির নির্মমতা, উড়ন্ত ঘোড়ার পিঠে চড়ে বিপদ পাড়ি দিয়ে যাবার আকাঙ্ক্ষা। বারান্দায় ও উঠানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যে লোকেরা বসে ছিলেন তাদের কেউ চাষী, কেউ দিন-কামলা, কেউ কামার, কেউ করাতি, কেউ ক্ষুদ্র ব্যবাসায়ী; তাদের চোখগুলোকে আমি ভাবাচ্ছন্ন হতে দেখেছিলাম। বৃষ্টি হয়ে যাবার পরে নিচু জায়গায় যেভাবে জল জমে যায়, কাহিনি থেকে সেভাবে সত্যগুলো আটকে যাচ্ছিল তাদের মনের আনন্দ-বেদনার সঙ্গে। আরেকবার শুনলাম, উত্তর পাড়ায় বহ্মগাছা থেকে একটা দল এসেছে একদিল গাইবে। রাত একটু গভীর হলে বেরিয়ে পড়লাম। পুবের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় প্রতি বাড়ির আঙিনাতেই আড়া বেঁধে কাঁচা পাট শুকাতে দেয়া হয়েছে; মাদকতাময় একটা গন্ধ বাতাসে। পুবের বাড়ির বাঁশঝাড় থেকে নেমেই ছোট একটা খাল। বাঁশের সাঁকোতে পার হয়ে অল্পদূর হেঁটে গেলে উত্তর পাড়া। গিয়ে দেখলাম, আঙিনায় খড় বিছিয়ে বসার ব্যবস্থা হয়েছে। বাদ্য বাজছে, দলের প্রধান লোকটি দাঁড়িয়ে আসর বন্দনা শেষ করে কাহিনি বর্ণনা শুরু করছেন। পূঁথির কাহিনির সঙ্গে এর মিল আছে। গল্পটি কাল্পনিক আর অলৌকিক ঘটনা দিয়ে গড়ে ওঠা। পুঁথি-পাঠক যেভাবে বসে সুর-ছন্দ-অন্তমিল বজায় রেখে পড়ে যাচ্ছিলেন, এখানে ব্যাপারগুলো ঐরকম ভাবে ঘটছে না। গায়েন লোকটি অঙ্গভঙ্গি করে উড়–নি উড়িয়ে কাহিনির চরিত্রগুলোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। আবার কাহিনির বর্ণনাকারীও তিনিই। কখনো কখনো দোহারেরাও তার সঙ্গে সংলাপে অংশ নিচ্ছে, কোনো চরিত্র হয়ে। দেখতে পাচ্ছিলাম কখনো কখনো গায়েনের বর্ণনা কবিতার উচ্চতা পাচ্ছে, যখন তিনি একদিলের ভাইদের বিদায়দৃশ্য বর্ণনা করছেন বা নায়িকার স্নানের দৃশ্য বর্ণনা করছেন কিংবা মায়ের নির্দেশে স্বর্গের বাকোয়ালি ফুল খুঁজে আনতে গিয়ে গভীর অরণ্যে এক কুহকী রাজকন্যার প্রাসাদে তার সঙ্গে পাশা খেলায় হেরে একে একে সব ভাই যখন বন্দী হয়ে পড়ছে আর যখন কনিষ্ঠ ভাইটি প্রাসাদের বাইরে সেই অরণ্যে বসে মায়ের কথা ভাবছে। গায়েন কাহিনির এই আর্কিটাইপাল জায়গাগুলোতে এসে কখনো কবিতা থেকে চলে যাচ্ছিলেন গানের দিকে, বেজে উঠছিল বাদ্য।

অনেক পরে ব্যালাড বা গীতিকার কাহিনিগুলোর ক্ষেত্রে দেখেছি এর বেশির ভাগের আখ্যানই বাস্তব ঘটনানির্ভর আর সমস্ত কাহিনি জুড়েই বিষাদের একটা সুর। অত্যন্ত করুণ কোনো বিয়োগ-বিধুর ঘটনাকে মনে রেখেই কোনো কবি রচনা করেন এই গীতিকা। এটি শুনতে গিয়েও মন এক ব্যথাতুর আবেগে ভরে ওঠে। কিন্তু যখন লীলাগান শুনতে গেছি বংশাই নদীর ধারে প্রসিত দাদার বাড়িতে, অষ্টকালীন সেই লীলাগান যা দূরদূরান্ত থেকে আসা কীর্তনীয়ারা পালাক্রমে গেয়ে চলেন, তাতে ধর্মীয় আবেগেই আপ্লুত হতে দেখেছি বেশির ভাগ মানুষকে। কানাইয়ের ঘুম ভাঙে, তিনি রসোদগার করেন, গোষ্ঠে যান এবং ফিরে আসেন, এইভাবে তার আট প্রহর কাটে। তার সঙ্গে ভক্ত শ্রোতারাও তাকে অনুসরণ করে চলেন। গোষ্ঠলীলায় শ্রীরাধিকার গায়ে যখন ব্রজের বাতাস লাগে, কৃষ্ণ ছাড়া কিছুই তার ভাল্লাগে না, শ্রোতা তখন ভক্তিগদগদ হয়ে ওঠেন, কান্নার রোল পড়ে যায় চারদিকে। ভগবৎ প্রেম শ্রমঘামরক্তমাংসের মানুষকে চিরায়তের নিকটবর্তী করে। আমরা কীর্তনীয়াদের কথা আর গানের বাণীকে ঘিরে কবিতার কৃত্যই অনুষ্ঠিত হতে দেখি। বংশাইয়ের তীরে প্রসিত দাদার বাড়ির আঙিনা থেকে সামান্য দূরে ছোট ছোট সামিয়ানার নিচে নেশায় বুঁদ হয়ে বসে থাকতে দেখি রক্তচক্ষু বাউলদের। কীর্তনের মূল আসর থেকে নিরাপদ দূরেই তারা আস্তানা গেড়ে বসে। কোনো এক কালে নদীয়ার তিন পাগল যে ভাবের সাগরে ভাসিয়েছিল মানুষকে তার স্রোতে ব্রাহ্মণের পিতৃতর্পণের জল মিশতে শুরু করলে এই বাউলেরাই সহজ ভাবকে গান আর কবিতার আশ্রয় দিয়ে বাঁচিয়েছিলেন ওই আসর থেকে। বসিয়েছিলেন নতুন আসর। বাউলদের মাধ্যমে আমরা পেয়ে যাই কবিতার নতুন কৃত্য। সহজিয়া সিদ্ধারা বুঝি ফিরে এসেছেন আরেক রকম চর্যা নিয়ে, এই বাংলা মুল্লুকে।

কবিতার আনন্দকে তখন বুঝেছি, সেই বয়সের মতো করে। বহুকার পরে সংস্কৃত অলঙ্কার শাস্ত্র পড়ে জেনেছি, কবিতার সারাৎসার এক অনির্বচনীয় কথাবস্তু। বেঁচে থেকে মানুষের প্রাপ্তি কী হিতোপদেশে এই প্রশ্নের এক বিস্ময়কর জবাব আছে। বলা হয়েছে দুটি জিনিসের কথা; কবিতার আনন্দ ও সজ্জনের সঙ্গ। এই দুটো বস্তুই মানুষ হয়ে বেঁচে থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, সব থেকে বড় লাভ।

মানুষের ভাবুকতা, সাধন-চর্চা জীবন নিয়ে তার বিস্ময়, জিজ্ঞাসা সিদ্ধান্ত এসব জানানোর জন্য হাজার বছর ধরে আমাদের প্রাচীনজনেরা বেছে নিয়েছেন কবিতার ভাষাকে। সে-কারণেই যেন খানিকটা বেশি করে মহত্ব ও কল্যাণ ভাবনা, কিছু রহস্যিকতা, মরমীচেতনা যুক্ত হয়ে কবিতার পাঠ পেয়েছে কৃত্যের মর্যাদা। সহজিয়া বুদ্ধদের রচিত চর্যাগীতিকার পদগুলো কিংবা বৈষ্ণব কবিদের রচনা এর সাক্ষ্য দেয়। মঙ্গলকাব্য, ব্যালাড বা গীতিকাগুলোর পাঠাভিনয়ের সঙ্গে আমাদের যৌথজীবনের মননধর্মিতার উদযাপন অচ্ছেদ্যরূপে যুক্ত হয়ে আছে।

কোথাও যেন কাব্যের অনির্বচনীয়ত্ব তার ভেতরের রহস্যময়তা ধর্মরহস্যের ছদ্মবেশ নিয়ে মানুষের আত্মাকে আচ্ছন্ন করে, সেই নিশ্চেতনার মর্মমূল থেকেই কি শাস্ত্রগুলো মন্ত্রের মতো করে ছন্দ সুর নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে? জগৎ-কারণের ভেতর অস্তিত্ব, চেতনা সহ যে আনন্দ থাকে, অস্তিত্ব ও চেতনার প্রকাশটাই যদি হয় আনন্দ, তবে ভাষার সব উচ্চারণই আনন্দের। সেই আনন্দটাই স্ফটিকীকৃত হয়ে থাকে কবিতায়। গসপেলের জন কথিত সুসমাচারের শুরুতে বলা আছে, আদিতে বাক্যই ছিলেন ঈশ্বর। তাহলে প্রকাশিত হবার ব্যাপারটি কেবল আনন্দেরই নয়, তা ঐশীও বটে এবং তারই অব্যবহিত উপস্থিতি আছে কবিতায়।

একবার কোনো এক রাত্রিতে আমরা কয়েকজন এক গ্রামের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, দেখলাম, উঠানে চন্দ্রালোকে এসে বসেছেন বিভিন্ন বয়সের কিছু মানুষ। সঙ্গে দোতরা খঞ্জনি ঢোল খোল ইত্যাদি আছে। বোঝা যাচ্ছিল, অনেক রাত অব্দি তারা বসবেন, সেখানে, উঠানের সেই চন্দ্রালোকে। আমরা তাদের পাশে গিয়ে বসি। সেখানে বসে আমরা যা শুনি, সুরসহ তাদের সেই উচ্ছারণের সকলই ছিল কবিতা, কেউ বলবেন ভাবসঙ্গীত। পরম মমতা ও বিনয় নিয়ে তারা গাইছিলেন সেইসব পদাবলি। বলছিলেন দয়ালচাঁদের কথা, যিনি আনন্দ দিয়ে গড়া এবং ঐশী। তাদের ভক্তির কারণ, আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ভাষা রূপে তাদের সঙ্গে যিনি ছিলেন তিনি আনন্দ-স্বরূপা-- সকল সৃষ্টির মাতা-- তিনি পরমেশ্বরী-- কবিতা।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নিবন্ধ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বারামখানা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৩:০৩
ফারহান দাউদ বলেছেন: আপনার কথার বুনন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেল,দারুণ।
১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:১৯

লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ, ফারহান।

৩. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:০১
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: রায়হান দা,
আমাদের মেইনস্ট্রিম চিন্তা যখন তার ভাবনায়ও অনাগরিক কবিদের স্থান দেয় না, ইতিহাস তো দূরের কথা, তখন আপনের এই কবিতা-চিন্তা আমারে ভীষণ আপ্লুত করলো। খুব ভাল হয়েছে লেখাটা। লেখাটা কি ব্লগের জন্যই লেখছেন, নাকি অন্য কোথাও ছাপা হইছে?
ক্ষ গুলা খোয়া গেছে। খিয়াল কইরেন।
১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:২৯

লেখক বলেছেন: লেখাটা একটা আবৃত্তি সংগঠনের সুভেনির (বিজ্ঞাপন-সংগ্রহ-পত্র)-এর জন্য লেখছিলাম, এখানে কিছুটা ঠিকঠাক করে পোস্ট করেছি। কিছু ক্ষ উদ্ধার করার পরও আরও অনেকগুলা থেকে গেছে।


৪. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৩৭
ফয়সাল খালিদ বলেছেন: রায়হান ভাই অনেক দিন অপনার লেখা পড়লাম এবং খুব মজা পাইলাম। আর্যু ভাই থিকা নিয়া আপনার একটা গল্প সংকলন পড়ছিলাম। সেই মজা পাওয়াটা ভুইলাম যাই নাই ... আপনার স্টাইলটা দারুণ। মরক্কোর গল্পকার যাফযাফের গল্প পড়ছেন ? পারলে পইরেন.. তার সাথে আপনার কিছুটা মিল আছে ..

ভাল থাইকেন ...
১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:২৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ফয়সাল। মরক্কোর ঐ লেখকের গল্প কিভাবে পেতে পারি? বই পাওয়া যায়, ঢাকায়? অথবা অন্য কোনো উপায়ে কি পাওয়া যেতে পারে?

৫. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৪১
রবিউলকরিম বলেছেন: খুব ভালো লাগল, রায়হান। তোমার হাতের গদ্য অসাধারণ এটা তো বলার অপেক্ষা রয় না। কিন্তু কবিতা নিয়ে তোমার এ ভাবনা অনেক চিন্তাকে উস্কে দেয়।
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, রবিউল ভাই।

৬. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৬
ফয়সাল খালিদ বলেছেন: যাফযাফ মূলত আরবীতে লেখেন। তবে ইংরেজী-ফরাসী-ইটালিয়ান ভাষায় তার লেখা অনুদিত হয়েছে। বাংলায় আমি তার কয়েকটা গল্প অনুবাদ করেছি। সুযোগ হলে দেখবেন। কেমন লাগল জানাবেন :

Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link


তার আরবী বই সংগ্রহ করতে চান ? তাহলে আপনার ঠিকানাটা দিয়ে রেখেন। সুযোগ মত পাঠিয়ে দিব। ত্রিপলিতে তার মূল বইগুলো পাওয়া যায়। ইংরেজী অনুবাদ পাওয়া যায় কিনা দেখে নাই। যদি আপনার লাগে খোঁজ নিয়ে দেখব।
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:২৬

লেখক বলেছেন: ইংরেজি অনুবাদে বই পাবার বিষয়টিই ভাবনায় ছিল। আরবী জানা নাই। বাংলায় অনুবাদ করা গল্পগুলো অবশ্যই পড়ব। আপনার অনুবাদে ইমাম গাজ্জালীর আত্মজীবনীমূলক একখানা দার্শনিক গ্রন্থ ইতোপূর্বে পড়েছিলাম। দেখেছি, বাংলায় অনুবাদের সময় আপনি মূলের সিনট্যাক্স অক্ষুন্ন রাখতে চান। এতে বাক্যাংশগুলোর আনকোরা বিন্যাস দার্শনিক গদ্যের সঙ্গে কবিতার ভাব যুক্ত করেছে। সর্বোপরি, সেই অনুবাদটি আমার ভালো লেগেছিল।

অনুবাদের লিংক পাঠানোর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:৫৮

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

৮. ২২ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:৪৮
মজনু শাহ বলেছেন: bloge tomay peye valo holo. onek kisu share kora jabe.

rat govir hole kobitar chondosponder songe amader tondrar selai hoye jaoatuku koto na osadharon...

ei lekhatao temni.
৯. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:২৭
ফকির ইলিয়াস বলেছেন: চমৎকার একটা ভাবনাগদ্য পড়া হলো ।
১০. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:০২
তারিক টুকু বলেছেন: অনেক, অনেক ভালো লেখা।

২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:১২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, টুকু।

২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে, হে কালপুরুষ।

১২. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:১১
সুমন চৌধুরী বলেছেন: চৈতন্যস্বারক অন্যান্য প্রক্রিয়ার মতো কবিতাও কোন না কোন চিপা দিয়া সূর্যাস্তের আগে এবং পরে সংশ্লিষ্টব্যক্তির বস্তুগত অভিজ্ঞতার রসায়নে বন্দি। সেই রসায়ন দিমিত্রি মেন্ডেলেফের তালিকায় সীলকৃত থাকা অসম্ভব। উহাও দৌড়ের উপর থাকে।

নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতার সুলুক যিনি জানেন তিনি নাই। সুতরাং অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণের রকমফের কবিতায় ঠেকানো অসম্ভব। তাই নাগরিক অভিজ্ঞতা যাদের কবিতায় থাকে তাদের মুন্ডুপাতের পক্ষপাতী নই।

তবে রাজনীতির একটা প্রশ্ন থেকে যায়। যখন বলা হয় এই পোয়েটিকস ভালো ঐ পোয়েটিকস দূর্বল তখন সেটা রাজনৈতিক। এমন কি এইটা এবং ঐটা এই সচেতন বিভাজনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক দ্বান্দ্বিকতা আড়ালের চেষ্টাও রাজনৈতিক।

যারা তথাকথিত নাগরিক কবিতা লেখেন তারা জোর করে অনভ্যস্ত, কার্যত অচেনা দেহাতী তড়িকা ধরতে গেলে, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁর আসলে যা বলার ছিল সেখান থেকে ক্রমশ ভেগে যেতে থাকেন।

কবির লড়াই দেখে কবিতাকে আরো ব্যপকভাবে চেনা যায়। সেখান থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে যে সিদ্ধান্ত টেনেছিলাম তা হলো পোয়েটিকসের চারদিকে অ্যাকাডেমিক সীমা টানাটানির কিছু নেই।


অনেক হুদা প‌্যাচাল পাড়লাম। :D
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৯

লেখক বলেছেন: সুমন, খুবই প্রাসঙ্গিক তোমার পর্যবেক্ষণ। ব্যক্তির অভিজ্ঞতার হেরফের যে নিয়মে ঘটে, একই কানুন পোয়েটিকসের ক্ষেত্রেও বিভাজন টেনে দেয়। সচেতনভাবে সেই বিভাজন টানা তো রাজনৈতিক বটেই। তবে অভিজ্ঞতার বাইরে যা, সেই অজ্ঞানকে কাছে টানবার মধ্য দিয়ে আমির একপ্রকার বিস্তার বোধয় ঘটে।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪০

লেখক বলেছেন: ভালো লাগলো, অনেক ধন্যবাদ লেখাটি পড়েছেন এ জন্য।

১৬. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২৫
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: খুবই ভালো লাগলো......
প্রিয় পোষ্ট.......
শুভেচ্ছা থাকলো।
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৩

লেখক বলেছেন: আপনাকেও শুভেচ্ছা। ভালো লেগেছে জেনে আমারও ভালো লাগলো।

১৭. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২০
ফাহমিম বলেছেন: প্রবল স্রোতের মতো টেনে নিয়ে গ্যালো,কখন যে শেষে পৌঁছে গেলাম টেরই পেলাম না।
এতো ফ্লুইড লেখা অনেকদিন পড়িনি।

ভালো থাকবেন স্যার।
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফাহমিম। শুভকামনা।

১৮. ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৯
মজনু পাটোয়ারী বলেছেন: আজকের পৃথিবীতে কবিতার দরকার কি?
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩১

লেখক বলেছেন: অতীতের পৃথিবীতেও কারো কারো কাছে কবিতার কোনো দরকার ছিল না। সম্ভবত ভবিষ্যতের পৃথিবীতেও তেমন কিছু মানুষ থেকে যাবে এবং নিঃসন্দেহে থেকে যাবে কবিতাও।

১৯. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:২০
চাক্ষিক বলেছেন: এত ভালো একটা লেখা পড়ার পর একদিন তার ঘোরে কাটনো উচিত। তা-ই কাটাব।
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, চাক্ষিক। শুভকামনা।

২০. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৩
তপন বাগচী বলেছেন: দেরিতে হলেও পড়লাম। ভালো লেখা একদিন-না একদিন চোখে পড়েই। ধন্যবাদ রায়হান।
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪২

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ, তপন দা।

২১. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:২২
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: কিন্তু রাত গভীর হলে কবিতার ছন্দস্পন্দন আমাদের তন্দ্রার সঙ্গে ক্রমশ সেলাই হয়ে যা...

ভাললাগা রেখে গেলাম। আপনার গদ্যপাঠ করলাম বহুদিন পর। 'আপনার' গদ্যভাষা অনুযায়ী এ বাক্যটি কি বিনির্মিত হওয়ার দাবী রাখে---বইতে ছাপা কবিতার বাইরেও যে আছে নানা রকম কবিতা তা আমরা জেনেছিলাম কৈশোরে,
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, গেওর্গে আব্বাস। কী অর্থে বিনির্মাণের দাবি রাখে আরেকটু বিস্তারিত করে লিখলে বুঝতে পারতাম। কবিতার চেনা রূপটি যা আমরা পাঠ্যপুস্তকে দেখেছি, বাংলা পড়ানোর শিক্ষক যাকে কবিতা বলে আমাদেরকে চিনিয়েছেন, তার বাইরের আরও ধরনগুলোকে আমরা চিনতে শিখছিলাম আমাদের ব্যাঙাচি বয়স থেকেই, কেননা অজস্র ঐ রূপের জলেই সাঁতার কেটে কেটে আমদেরকে বাঁচতে হয়েছে।

২২. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৬:৩২
কাক্কা বলেছেন: ``যন্ত্রসংগীত বাজলো কিছুক্ষণ। একসময় কবিদের একজন উঠে দাঁড়ালেন। শুরু হয়ে গেল জীব পরম কি গুরু-শিষ্যের পালা। কেউ একে বলেন বিচারগান। পালাক্রমে একজনের পর আরেকজন বলেন বলে কেউ এর নাম দিয়েছেন পালা। যে নামেই বলা হোক, সুর যুক্ত করে ছন্দ-মিল উপমা উৎপ্রেক্ষা দিয়ে তারা যা বলে যাচ্ছিলেন তা কবিপদবাচ্য। আমরা দেখতে পাই চারদিকে ভিড়ের ভেতর আন্দোলিত হয়ে চলেছে অপূর্ব সেই কথাবস্তু। তাদের কথার যমক গমক শ্লেষ বা ব্যাজুক্তির সবটা না বুঝলেও এটুকু বুঝতে পারি যে, জীব হোক আর পরম হোক তা নিয়ে যে কথাই তারা বলছেন, তাকে সুন্দর করে বলবার একটা ব্যাপার আছে, কল্পনার মিশেল দিয়ে অলঙ্কারের এমন এক একাত্মতা, জহুরি শ্রোতাকে তা তৃপ্ত করবেই। কিন্তু রাত গভীর হলে কবিতার ছন্দস্পন্দন আমাদের তন্দ্রার সঙ্গে ক্রমশ সেলাই হয়ে যায়।''


ভাইজান আপনার কথাগুলো খুব ভাল লাগলো। কিন্তু আমাদের মতো মানুষদের জন্য কী একটু সহজ করে বলা যায় না। আপনার কবিতা পড়ি মাঝে মাঝি পত্রিকায় সেইগুলা খারাপ লাগে না। কিন্তুক এইটা একটু বেশি কঠিন মনে হইতাছে। আচ্ছা ভাইজান কী মাষ্টারী করেন না কী। লেখার ধরণে তো তাই মনে হয়। আমি আবার মাষ্টারদের একটু ভয় পাই। স্যার খারাপ কথা মনে হইলে মাফ কইরা দিয়েন। স্যরি।
২৭ শে জুন, ২০০৯ রাত ২:০১

লেখক বলেছেন: তদুপরি আপনাকে ‌'কাক্কা' সম্বোধনই করতে হচ্ছে, সুতরাং ভয় পাবার কিছু নাই।

২৩. ২৬ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:১৯
হুমায়রা হারুন বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম। অসম্ভব ভাল লাগলো।
০১ লা আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৪৪

লেখক বলেছেন: হুমায়রা হারুন, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, পড়েছেন এজন্য; প্রিয়তে রেখেছেন এজন্যেও।

২৪. ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৮
তরু বলেছেন: ভালো লাগলো।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, তরু।

২৫. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:৩২
সেলিনা শিরীন শিকদার বলেছেন: চমৎকার একটা লেখা। ভাষা আর ভাবের বিনুনী গাথা মনোযোগ টেনে নিয়ে গেলো শেষ অবধি। শুভেচ্ছা সীমাহীন। :)
২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৩০

লেখক বলেছেন: সেলিনা শিরীন শিকদার, আপনাকেও অশেষ শুভেচ্ছা।

২৬. ১৮ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:০৮
জুলফিকার বলেছেন:
খুব ভালো লাগল, রায়হানভাই। চমৎকার।

লেখাটি দেরিতে চোখে পড়ল যদিও।
প্রিয়-তে রাখলাম।
ধন্যবাদ আপনাকে।
২২ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৫০

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৪৪৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ