আলু চপ (কিমা চপ)
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২১
আলু চপের এই রেসিপিটা ঈদের সময়, বিশেষ করে রোজার ঈদে আমার মেয়েরা সব সময়ই করে। প্রতিবেশি আর আত্মীয়দের প্রিয়। আমার ঘরেও সবার খুব প্রিয় এই রেসিপিটি। আলু চপ মজা হওয়ার পেছনে আলুর ভেতরে পুর হিসাবে কিমা দেয়াটা একটা বড় কারণ। তাছাড়া চপ ভাজার পর দেখতেও ভাল দেখাতে হবে, সুন্দর পরিবেশনাও জরুরী। কিভাবে আলু চপ করতে হবে দেখুন।
উপকরণঃ
আলু - আধা কেজি
পেঁয়াজ ভেরেস্তা - ২ টেবিল চামচ
গোলমরিচ গুঁড়া - ১/৩ চা চামচ
ধনেপাতা কুচি - ১ চা চামচ
কাঁচামরিচ কুচি (মিহি করে) - ১ চা চামচ
লবণ পরিমাণমতো
ডিম - ১ টা
টোস্ট বিস্কুট গুঁড়া করা - আধা কাপ
বিট লবণ - ১/৩ চা চামচ
তেল (ভাজার জন্য)
প্রস্তুতপ্রণালীঃ
চপ বানানোর পূর্বপ্রস্তুতি-
ভেরেস্তা তৈরীঃ প্রথমে পেয়াজের ভেরাস্তা করে নিন। চুলায় পাতিল চাপিয়ে খানিকটা গরম হলে পরিমাণমতো তেল দিন। তেল গরম হলে পেয়াজ কুচি দিয়ে নাড়তে থাকুন। চুলার আঁচ কমিয়ে পেয়াজ ভেজে বাদামী করে তুলে রাখুন।
কিমা তেরীর প্রক্রিয়াঃ মাংসের কিমা ২৫০। প্রথমে কড়াইতে ২ টেবিল চামচ তেল গরম করে তাতে ২ টেবিল চামচ পেঁয়াজ কুচি ও লবণ দিয়ে নাড়ুন । এবার আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা আধা চা চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, দারুচিনি ২ টুকরা, লবঙ্গ ও এলাচ ২টা এবং মাংসের কিমা দিয়ে নাড়তে থাকুন । সামান্য একটু পানি দিন। পানি উঠে শুকিয়ে তেলের ঊপর ঊঠলে নামিয়ে রাখুন। ডিমের ওমলেটের কিমা দিয়েও করতে পারেন।
এবার আলু চপ তৈরী করুন -
আলু ধুয়ে সিদ্ধ করুন। সিদ্ধ আলুর পানি ঝরিয়ে নিন। এবার সাথে সাথেই এই সিদ্ধ করা আলুগুলো চুলায় খালি গরম পাতিলে দিয়ে আলুর গায়ে লেগে থাকা পানি শুকিয়ে নিন। খোসা ছাড়িয়ে আলুগুলো চটকে নিন।
এখন পেঁয়াজ ভেরেস্তা, গোলমরিচ গুঁড়া, বিটলবণ, ১ চা চামচ টোস্টের গুঁড়া, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ, লবণ একসাথে ভাল করে মেশান। এবার এই মিশ্রণটি আলুর সাথে ভাল করে চটকে মেখে নিন। ভাল করে মেশানোর জন্য মলতে পারেন বেশি করে।
তারপর মাখানো আলু ১০ ভাগ করে মাংসের এর ভেতরে আগেই করে রাখা মাংসের কিমার পুর দিয়ে আলুর চপ ইচ্ছামত বিভিন্ন আকারের [যেমন- ডিম্বাকার, গোলাকার] করে তেরী করে নিন। দেখবেন কিমার পুর এর উপর যেন আলু দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন। এখন কাচা চপ ফেটানো ডিমের মধ্যে চুবিয়ে তা টোস্টের গুঁড়ায় গড়িয়ে নিন, তাতে ডিমে চুবানো চপের গা শুকিয়ে যাবে। এবার ডুবো তেলে ভাঁজুন।
এবার টমেটো সস কিংবা চিলি সস সাথে শশা কেটে সাজিয়ে পরিবেশণ করুন। ছবিতে যে টমেটো সস দেখতে পাচ্ছে তা আমার রান্না ঘরেই করা, টমেটোর সিজনে করে রাখি বছরের অনেকখানি চলে যায়। বাজারের সসে নাকি টমেটোই থাকে না।
টিপসঃ
ভেরেস্তা এবং কিমা আপনি আলুগুলো সিদ্ধ করার পর করতে পারেন। অথবা কিমা সবার আগে করে রাখতে পারেন। আমি কখনো বিশেষ করে ঈদেরদিন করতে গেলে আগের রাতেই ন্যনপক্ষে কিমা করে রাখি।
চট্টগ্রাম, ০২/১০/০৯
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আলু চপ, কিমা চপ, নাস্তা, ঝাল নাস্তা ;
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নুশেরা বলেছেন:
উফফফফ আপা, "টা" ছাড়া চা খাওয়ার দুঃখটা আরও বাড়িয়ে দিলেন! তবে প্রতিটা রেসিপির শেষে চট্টগ্রামের ডেটলাইনটা দেখে যথারীতি মন ভরে গেলো। আমি চট্টগ্রামে গিয়ে আপনার বাসায় হামলা করবোই করবো বলে রাখছি লেখক বলেছেন: আমি চট্টগ্রামেইতো, লিখিও সেখান থেকে তাই ডেটলাইনটা দিতে ভাল লাগে, আর আমারো মনে থাকলো। তুমি এত সুন্দর করে বল, ভাল লাগে। ধন্যবাদ ভাই।
ভাল থেকো। চট্টগ্রাম এলে জানাবে।
লেখক বলেছেন: আমি থাকি চট্টগ্রামে। আর আমাকে এই ব্লগে পাবেন, আমিতো শুধু রেসিপি গুলো করে আর বলেই খালাস, বাকীটা আমার ছেলে-মেয়েরাই করে। ওদের ব্যস্ততায় সবসময় রেসিপি দেয়া হয়ে ওঠেনা।
অনেক ধন্যবাদ।
আলুর চপ খাইতে ইচ্ছা করে। কিন্তু বানাইতে জানতাম না। আবার রেসিপি দেইখ্যা বানানির শখও মিট্যা যাইতাছে। খুব ঝামেলা মনে হৈতাসে
লেখক বলেছেন: এত্ত বড় রেসিপি দেখে ভয় পেয়েছেন। আমি সবার বোঝার জন্য বিস্তারিত করে লিখেছি। আপনি পড়ে দেখেন আসলে সহজ, এবং সহজ করার জন্যই এত কিছু লিখতে হয়েছে। যেমন ধরুন - ভেরেস্তা করা কোন ব্যাপারনা, আর কিমা তৈরী করা যেকোন ভাবে মাংসের কিমাটা আপনি পেয়াজ মরিচ দিয়ে রান্না করলেন। বাকী থাকে আলু চটকে তার সাথে সব উপকরণ মিশিয়ে কিমার পুর তার ভেতরে দিয়ে গোল করুন আলুটা। ফেটানো ডিমে চুবিয়ে বিস্কুটের গুড়ায় গড়িয়ে তেলে ভেজে নিন।
ব্যস হয়ে গেল আলু চপ। কি জটিল নাকি সহজ? জানাবেন কিন্তু।
নকীবুল বারী বলেছেন:
খাইতে ইচ্ছা করতেছে............................
জেরী বলেছেন:
+
পথে-প্রান্তরে বলেছেন:
ইয়াম্মি ইয়াম্মি .... খাইতে মন্চায় । +++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই আপনাকে। টমেটো সসের রেসিপিটা আমি দেব সময় করে। প্রতিবছরই আমি ঘরের জন্য সস করে রাখি, বছরের অনেকটা সময় ধরেই তা আমার চলে যায়।
কার ছায়া জলে বলেছেন:
আগামী কাল বানাবার চেষ্টা করে দেখব। অনেক ধন্যবাদ।
ভূলু বলেছেন:
সবাইকে আবারো অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের মন্তব্যগুলো আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা যোগায়।
ভূলু বলেছেন:
মন্তব্যের জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের আগ্রহ দেখলে নতুন নতুন রেসিপি নিয়ে আসতে ভাল লাগে। সবাই ভাল থাকবেন, ভাল খাবেন, সুস্থ থাকবেন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















