somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে!!!

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অমর একুশে বইমেলার প্রথম সপ্তাহে বাংলা একাডেমি একটা নামকা ওয়াস্তে আন্তর্জাতিক লেখক সম্মেলন করে। সেই লেখক সম্মেলনে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কবি-লেখকদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। বাংলা একাডেমিতে একটা পুরনো তালিকা আছে। কিছু বিশিষ্ট ব্যতিত সেই তালিকায় সঙ্গীত শিল্পী, নৃত্যশিল্পী, মুখাভিনয় শিল্পীরাও ওই লেখক সম্মেলনে আমন্ত্রণ পান।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কবি-লেখকদের সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। তবে কিছু চাটুকার এরকম অনুষ্ঠানে সবসময় আমন্ত্রিত হয়। এটাই বাংলাদেশের এখন একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে কথা বেশি বলব না। বিদেশি অনেক কবি লেখকদের বাংলা একাডেমি খরচ দিয়ে আনেন। তাঁদের সাথে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কবি-লেখকদের ইনট্রোডাকশান করানো থেকে শুরু করে, ইন্টার-অ্যাক্টিভ কোনো অ্যাকশন প্লান আজ পর্যন্ত আমার নজরে পড়েনি। এমনকি বাংলাদেশের প্রকাশক সমাজকে সেই লেখক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয় না।

বাংলা একাডেমি'র প্রতি অনুরোধ, আগামী অমর একুশে বইমেলার সময় যদি এমন আন্তর্জাতিক লেখক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, দয়া করে দেশের নতুন প্রজন্মের কবি-লেখকদের সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হোক। পত্রপত্রিকায়-মিডিয়ায় বলে বেড়াবেন আন্তর্জাতিক লেখক সম্মেলন, আর দেশের নতুন প্রজন্মের লেখকরা তা টের পাবে না, এটা কী ধরনের তামাশা?

কোনো একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের করা লেখক সম্মেলনে গাল ফুলিয়ে বড় বড় অনেক কথাই বলা সম্ভব। কিন্তু একাডেমির উচিত সেই কাজটি এবার নিজেদের দায়িত্ব নিয়েই করে দেখানো। অমর একুশে বইমেলার আয়োজন করার দায়িত্ব জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের নেতৃত্বে প্রকাশকদের। একাডেমি সেটা কেবল সমন্বয় করতে পারে। কিন্তু সেই দায়িত্বটি বাংলা একাডেমি নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়ে খবরদারি করার পাশাপাশি, একাডেমির অন্যান্য সকল কাজ দায়সারাভাবে করে, সারা বছর নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে কাটাবে, এটা কোনোভাবেই মানা যায় না।

আমরা চাই, বাংলা একাডেমি একটি আন্তর্জাতিক লেখক সম্মেলন আয়োজন করুক। সেখানে দেশের তরুণ প্রজন্মের কবি-লেখক-প্রকাশকদের একটা মিলনমেলা হোক। আর সেজন্য একাডেমিকে অবশ্যই তরুণদের গুরুত্ব দিয়েই আমন্ত্রণ জানাতে হবে। মানদাতা-আমলের তালিকা দিয়ে আর কত দিন চলবে বাংলা একাডেমি? বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বঙ্গভবন, গণভবনসহ সরকারি অনেক অফিসে এমন একটা গোজামিলের তালিকা প্রায়ই দেখা যায়। সেই তালিকা নিয়ে বছর যায়, সরকার বদল হয়, কিন্তু সেই তালিকা আর নবায়ন হয় না। এভাবে একটা জাতির সৃজনশীল অগ্রসর কল্পনা করা যায় না।

আমি আশা করব, বাংলা একাডেমি'র শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। আর নতুন প্রজন্মকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে একাডেমি আগামীতে সকল উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বাংলা একাডেমি থেকে তরুণ কবি-লেখকদের বই প্রকাশ হবে না কেন? একাডেমিকে তরুণদের বই প্রকাশে বাধ্য করতে প্রয়োজনে আগামীতে আমরা আন্দোলনের ডাক দেব।

বাংলা একাডেমি থেকে কেন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকদের উপন্যাস প্রকাশ পাবে না? তরুণ কবি'র কবিতার বই প্রকাশ পাবে না? তরুণ গবেষকের প্রবন্ধের বই প্রকাশ পাবে না? সেজন্য একাডেমিকে একটি নিয়মের মধ্যে অবশ্যই আসতে হবে। প্রতি বছর জুলাই/আগস্টের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের কবি-লেখক-গবেষকদের থেকে পাণ্ডুলিপি আহবান করতে হবে একাডেমিকে। সেখান থেকে বাছাই করে অমর একুশে বইমেলায় তরুণদের বই প্রকাশের উদ্যোগ বাংলা একাডেমিকেই নিতে হবে।

সম্ভাবনাময় বইকে প্রয়োজনে ইংরেজিতে অনুবাদ করে প্রকাশের পাশাপাশি, একাডেমিকেই বিদেশে তা প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। শুধুমাত্র কিছু পুরস্কার প্রবর্তন করে, তা বিতরণ করাই বাংলা একাডেমির কাজ নয়। এখন থেকে তরুণ প্রজন্মের কাছে একাডেমিকে জবাবদিহি করতে হবে। জবাবদিহি ছাড়া একটা একাডেমি এভাবে বছরের পর বছর অচল পয়সার মত চলতে পারে না।

বাংলা একাডেমিকে এই কাজগুলো করতে বাধ্য করার জন্য আমি তরুণ প্রজন্মের কবি-লেখক-প্রকাশকদের আহবান জানাই। আমারা যদি না জাগি ভাই কেমনে কী যে হবে!

বিনীত নিবেদক

রেজা ঘটক
কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা
৩০ নভেম্বর ২০১৭
ঢাকা





সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ৮:৫৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা বাংগালীদের চেয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বেশী রক্ষা করছেন?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪৬


News Link

ভারতের মাটির নীচে তেল নেই, তারপরও বাংলাদেশ সরকার জ্বালানী তেলও ভারত থেকে আমদানী করছে, এবং ভবিষ্যতে ওদের উপর নির্ভরশীল থাকার জন্য "পাইপ লাইন" গড়ার প্রকল্প উদ্বোধন করেছে;... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাকালের মহানায়ক(কবিতা) -তামিম-মুশির বীরোচিত লড়াইকে কবিতার ফ্রেমে বন্ধী করার আমার অতি ক্ষুদ্র প্রয়াস ।

লিখেছেন রাকু হাসান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৫৬

কবিতাটি উৎসর্গ করলাম-তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহমানকে ।



আমি চোখের সামনে দেখেছি পাঁজর ভাঙ্গতে ,
শুনেছি বিশ্বজয়ী যৌবনা শুকনো পাতার মড়মড় করে উঠা কান্না ,
কখনও বা চঞ্চলা অবিচল যাত্রায় কেঁদে উঠেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশে অমুসলিমদের অবদান “বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়”!!!

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ভোর ৪:২৯



২০০ বছর আগেও বাংলাদেশে হিন্দু রাজা ছিলো !!! ২০০ বছর আগে বাংলাদেশে হিন্দু রাজা ও পরবর্তীতে হিন্দু জমিদার দ্বারা স্কুল, কলেজ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠিত হয়, যার কিছু নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ দেশ করে মাথা খাচ্ছে তারা, যত নক্সালবাদীর দল !

লিখেছেন অভিশপ্ত জাহাজী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ভোর ৬:০০


একজন মানুষ তার জীবনের খুব কম সময় নিরপেক্ষ ভাবে কোনো কিছু চিন্তা করে বা করতে পারে। আবার সাময়িক ভাবে মনে হতে পারে সে নিরপেক্ষ ভাবে চিন্তা করছে। কিন্তু আসলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

শ্বশুরবাড়ি আসল বাড়ি" কিন্তু মুসলিম আইন কী বলে? (জানাটা খুবই জরুরী)

লিখেছেন সৈয়দ ইসলাম, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:১৪


(একজন বোনের থেকে পাওয়া ম্যাসেজ..)

মুসলিম আইনে স্ত্রীর ‘শ্বশুরবাড়ি’ নামক বাসস্থান বা এই শ্বশুরবাড়ি সংশ্লিষ্ট দায়-দায়িত্বের কোনই অস্তিত্ব নাই। এই ‘শ্বশুরবাড়ি কালচার’ আমাদের নিজস্ব আবিষ্কার।
বিয়ের পর স্ত্রীর ভরণপোষণ স্বামীর আইনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×