প্রথমেই শিরোনামের মাধ্যমে বলে নিয়েছি এটি একটি ১৮+ পোস্ট।তারপরও যদি ১৮ বছরের নিচের কেউ এই লেখা পরে তবে আমার কিছু করার নেই।
যা হোক,মোবাইল পর্নোগ্রাফি সম্পর্কে আমরা কমবেশী সবাই জানি।এখন এই মূহুর্তে যারা কথাটা শুনে বলবেন, “এটা আবার কি?” তাদের জন্য আবার বলছি-“মোবাইল পর্নোগ্রাফি হচ্ছে মোবাইল দাড়া প্রকাশিত ও প্রসারিত এমন কিছু ভিডিও চিত্র বা ছবি যা কোন অশ্লিল বিষয়কে ইঙ্গিত করে অথবা প্রকাশ করে।”
বর্তমানে আমাদের দেশে এটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।ব্যক্তিসার্থে হোক অথবা ব্যবসায়ীক দৃস্টিতে হোক এটি এখন আমাদের সমাজে একটা বিরাট জায়গা নিয়ে নিয়েছে।সোজা কথা আমাদের সমাজে কিছু বজ্ঝাত খুটি গেড়ে এই ব্যবসায় নামছে।আপনি হয়তো এখন ভাবছেন কারা এরা? কেন করে এসব? বলছি...বলছি...ধীরে ধীরে সব জানতে পারবেন।আমার এই লেখাটি লেখার জন্য প্রায় ২ সপ্তাহ ইন্টারনেটে এবং ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে।আশা করছি আপনাদের সঠিক তথ্যই দিতে পারবো।
বাংলাদেশে মোবাইল পর্নোগ্রাফির শুরু হয়েছে মুলতো যখন দেশে মাল্টিমিডিয়া ফোন গুলো আসতে শুরু করলো এবং মোবাইল ফোনের দাম কমতে শুরু করলো ঠিক তখন থেকে।বাজারে এত এত মাল্টিমিডিয়া ফোন আছে যা এখন আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছি।স্কুল বাচ্চা থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্ক সবাই ব্যবহার করছে এই ফোন গুলো।কতই না উপকার করছে এই ফোন গুলো।দুরত্ব যতই হোক কাছে থাকেন আর দিন বদলের চেস্টায় ব্যস্ত আছেন।এত সব উপকারের মাঝে কাল হয়ে দাড়াল পর্নোগ্রাফি গুলো।বাজারে পাওয়া যায় হাজারো সিডি-ডিভিডি।যা কিনে নিয়ে ইউ এস বি পোর্ট দিয়ে খুব সহজে ফোনে ঢুকিয়ে যৌন আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।কিন্তু কারা কিনছে এই সিডি বা ডিভিডি গুলো? একটা হিসেবে দেখা গেছে মোট পর্নো ভিডিও ক্রেতাদের মধ্য ৮০ ভাগ অপ্রাপ্ত বয়স্ক।তাহলে বুঝতেই পারছেন,জেনারেশন এখন কোন সেশনে আছে!
এতো গেল ক্রেতা সাধারনের কথা,এবার বলি এর অভিনেতা-অভিনেত্রি,চিত্রগাহক ও নির্মাতার কথা।
ব্রিটনি যখন ছোট খাটো জামা-কাপর পরে নাচে তখন আপনার কাছে ভালো লাগে,কিন্তু না দেখলেও আপনি খুব বেশী আফসোস করবেন না।এখন যদি পাড়ার কোন মেয়ের একটা অশ্লিল ভিডিওর কথা কোন বন্ধুর মুখে শুনেন তবে আর না হলেও ৮-১০ জনকে আপনি জিজ্ঞেস করবেন-“এই,ওর ভিডিওটা কি তোর কাছে আছে?” অথবা একের পর এক ইউটিউবে সার্চ মেরে যাবেন।সমস্যাটা আসলে এখানেই।সবাই দেশী স্বাদ নিতে চায়।আর এই সুযোগটাই নিয়েছে একদল কুচক্র।এরা মুলোত কয়েক ভাবে এই ভিডিও চিত্র গুলো সংগ্রহ করে থাকে।নিচে ক্রমানুসারে এই পদ্ধতি গুলো লেখা হলো-
১.প্রেম করে আবেগের জালে জড়িয়ে বিভিন্ন ভাবে ভালো ও উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়েদের নিয়ে এই ভিডিও চিত্র তৈরী করা হয়।
২.জোর করে ধর্ষনের ভিডিও গ্রহন করা হয়।
৩.বিভিন্ন হোটেল বা যে কোন জায়গা থেকে পেশাদার যৌনকর্মী দ্বারা করানো হয়।
৪.ইয়াবা,ভায়াগ্রা বা অন্যান্য যৌন উত্তেজনা সৃস্টিকারী মাদক বিভিন্ন ছলের মাধ্যমে বা খাবারের সাথে মিশিয়ে খাইয়ে তার পর এসব ভিডিও গ্রহন করা হয়।
বর্তমানে আমাদের দেশে যারা এসব মোবাইল পর্নোগ্রাফ ব্যবসায়ীক স্বার্থে করে তারা বেশীরভাগ ৪ নং পদ্ধতি বেশী অনুসরন করে।আর এটা সবচাইতে ভয়ংকরে পদ্ধতি।শুধু ব্যবসায়ীক স্বার্থে নয়,অনেকে ব্যক্তিগত আক্রোশের অবশান মিটাতেও এসব ভিডিও চিত্র গ্রহন করে থাকে।যার উদাহরন হিসেবে আছে আমাদের বিখ্যাত মডেল প্রভা।এই দুই ধরনের ভিডিওই এখন এমএমএস মিডিয়ায় সবচাইতে বেশী প্রচলিত।অনেকে আবার অনলাইনে আয়ের জন্য গুগলের হিট প্রাপ্তির আশায় এসব ভিডিও নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে নিজস্ব পর্নো সাইটে।স্কুল কলেজের ছাত্র হতে ভার্সিটি,সবাই এখন এসব ভিডিওর দর্শক।বাজারে পাওয়া যায় এসব সিডি বিভিন্ন দামে।তাছাড়া মোবাইলেও আপলোড করা হচ্ছে এসব ভিডিও অনেক চড়া দামে।২০০ টাকা ১ জিবি আর ৪০০টাকা ২ জিবি এই দামে এখন মোবাইলের মেমোরী কার্ডে এসব ভিডিও দিচ্ছে বিভিন্ন মার্কেট থেকে।যার শীর্ষে আছে ঢাকার ইস্টার্ন প্লাজা,মোতালেব প্লাজা,বসুন্ধরা মার্কেট ও স্টেডিয়াম সুপার মার্কেট সহ বিভিন্ন নামিদামি মার্কেট।একটা কুচক্র সবসময় লিপ্ত থাকে এসব ভিডিও সংগ্রহ ও বাজারজাত করনের কাজে।শুনলে অবাক হবেন যে শুধু ঢাকার মার্কেট গুলো থেকে প্রতিদিন এসব ভিডিওর মাধ্যমে আয় করা হচ্ছে প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা।
আজ এখানেই শেষ করছি।আশা করি আপনাদের মাথায় এর ভয়াবহতা ইতিমধ্য আমি ঢোকাতে সক্ষম হয়েছি।আর যাদের এখনো মনে হচ্ছে এটা খুব বেশী সমস্যার বিষয় না তাদেরকে আমার লেখার দ্বিতীয় অংশ পড়ার অগ্রিম আমন্ত্রন রইলো।সকলের মতামত আমাকে দ্বিতীয় অংশ প্রকাশে অনুপ্রেরনা জোগাবে।
ধন্যবাদ সবাইকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



