এই সাইট ঘুরে দেখি ধর্ম নিয়ে নানা কথা (পক্ষে-বিপক্ষে) ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এখানে ওখানে। ধর্ম কে মানে আর কে মানে না তা লেখা দেখে স্পষ্ট করে বুঝা দায়। কারন যিনি ধর্মের পক্ষে লিখছেন তিনি স্বয়ং তার আপন আলয়ে ধর্ম দ্বারা আরোপিত বিধি নিষেধ কতটা মেনে চলছেন, আপন জীবন বোধে ধারণ করে আছেন তা নেহায়ত প্রমাণ সাপেক্ষ। তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার- ধর্ম খুবই জনপ্রিয় অন্তত আলোচনার বিষয় বস্তু হিসেবে। যুগে যুগে ধর্ম নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে আর হতেই থাকবে।
ধর্মকে যদি আমরা একটি আদর্শ, একটি বিশ্বাস আর যদি একটি দর্শন হিসেবে মনে করি তাহলে এই বাদানুবাদ অবসম্ভাবী। আদর্শ আসলে আসবে অনুসারি, আসবে ক্ষমতার কেন্দ্রায়ন। আর সেখানেই শুরু সংকট। এই সংকট ভোগের, এই সংকট ক্ষমতা দখলের। ফলে সংঘাত হয়ে উঠে অনিবার্য। এই সংঘাত আদর্শে আদর্শে, অনুসারী বাগাতে।
বিশ্বাস মানুষের অন্তরের অন্তস্থলে বাস করে। তার আবাস স্থল মানবের সূক্ষ অনুভূতি দিয়ে তৈরি। তাই বিশ্বাসের গায়ে একটু খানি আঘাতেই অনুভূতির দেয়াল চৌচির হয়। তখন মানুষ চিত্কার করতে থাকে তার ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেয়া হয়েছে বলে। মানুষ আহত হয়। সেই আহত হওয়ার ক্ষত মানুষকে করে তুলে অপর বিশ্বাস বিদ্বেষী, বিদ্রোহী। তাই পাল্টা আঘাত হানতে চায় অমিল বিশ্বাসে বিশ্বাসীদের।
দর্শন সার্বজনিন নয়; বস্তু, সময়, সমাজ নিরপেক্ষ নয়। সুতরাং দর্শন থেকে দর্শনে রুপান্তর/পরিবর্তন হতেই থাকবে, হতেই হবে। কিন্তু কোন পরিবর্তনই সহজে মেনে নেওয়ার নয়। প্রতিরোধ প্রত্যাশিত। সেই প্রতিরোধ ডিঙ্গিয়েই নতুনের প্রতিষ্ঠা। এই রুপান্তরের মাঝে তাই ঘটে যায় অনেক আন্দোলন আর কোন্দল, বিদ্রোহ-বিগ্রহ।
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যে অধর্মের কাজ - তা সব ধার্মিকেরা জানার পরও আপন ধর্মের উত্কৃষ্টতা প্রমাণে ব্যস্ত থাকবেন, তর্কে জড়াবেন, যুদ্ধ বাধাবেন এবং বাধাবেন-ই। এর মধ্য থেকে নিজেকে যতটুকু বাচিয়ে রাখা যায় সে চেষ্টাই করা উচিত আমরা-আপনারা যারা মানি- মানেন "সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই"।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



