বর্ডার সিক্যুরিটি ফোর্স অব ইণ্ডিয়া ও একটি সাধারণ সংবাদ
০২ রা জুন, ২০১০ রাত ১২:০৯
এখন মনে হয় ব্লগ আর লেখা হবে না। স্রেফ মাইক্রোব্লগিং এর সময় পাবো। যাতে শুধু এক লাইন বা তারো ছোট গেরিলা কথাবার্তা হবে। অথবা স্রেফ একটা শব্দ দিয়ে অনুভূতি। তারো আগে নতুন ঘটনা ঘটবে। অথবা পরপর। তখন নতুন স্ট্যাটাস: এইবার আমার দেশ।..
(মাইক্রোব্লগিং বা তারো ছোট গেরিলা কথাবার্তা: আমার দেশ এর জন্য)
১০ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৩১
২০০৮ সালের কোন এক দিন বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর খুনোখুনির প্রতিবাদে একটি পোষ্ট লিখেছিলাম: রবীন্দ্রনাথ ও বিএসএফ এর খুনোখুনি। সেই পোষ্টটি দেওয়ার সময় আমাকে আন্দোলিত করেছে দুটি তাৎপর্যময় ছবি। একটি হল ১৮ জুলাই ২০০৮ তারিখে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হান্নান সরকার আর কৃষ্ণপদ দাস এর লাশ। প্রথম আলো পত্রিকায় তার বিবরণে লেখা ছিল: ''হান্নানের চাকরীর বয়স ছিল আর চার বছর। অবসরের পর হজ্বে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল তার।'' অন্য ছবিটি হল বাংলাদেশের সেইসময়কার আলোচিত সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদের একটি ছবি, তাঁর স্ত্রী নাজনীন মঈনের সাথে কমলাটে শান্তিনিকেতনী উত্তরীয় পরে শান্তিনিকেতনের গেইটে সাংবাদিকদের সামনে পোজ দিচ্ছেন। চোখে কালো সানগ্লাস। প্রথম আলো পত্রিকায় তারও একটি ক্যাপশন দেওয়া হয়েছিল: ''ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল শান্তিনিকেতন দেখার। আমার শেশবের সেই স্বপ্ন পুরণ হলো আজ।''
দুই প্রান্তে দুজনের স্বপ্ন। আমার কেন যেন হঠাৎ করেই মনে হল, একজনের আশৈশব স্বপ্ন পুরণ হলো অন্যজনের রক্তের দাগের উপরে দাঁড়িয়ে। আর হান্নান সরকারদেরকে স্বপ্ন দেখার মূল্যই দিতে হয় কয়েকশতবার করে। একবার সীমান্তে বিএসএফর কাছে জীবন দিয়ে, আর বহুবার দেশীয় শাসক শ্রেণীর কাছে আসামী হয়ে। কথাটি আবার বেশ মনে পড়ে গেল, দুটি কারণে। প্রথমত এই কয়েকদিন ধরে রবীন্দ্রনাথকে এদেশের মানুষ উদযাপন করছে। আরো বহুবার কর্তব্য হিশেবে এই কাজটি করবে। দ্বিতীয়ত: আর কয়েকদিনের মধ্যেই, বাণিজ্যমন্ত্রীর কথামত, বিডিআরের সতিদাহ ঘটে যাবে। হান্নান সরকার আর কৃষ্ণপদ দাস এর কোন ইতিহাস থাকবে না। তারা মরে যাবে বারবার, রবীন্দ্রনাথ ও বিএসএফ এর খুনোখুনিতে। আসামী হয়ে।
স্বভাবতই রবীন্দ্রপাঠ এর নতুন এবং বৈপ্লবিক প্রেক্ষিত হাজির এখন। সবাই গুরুজির পুজোতে নেমেছেন, আমি নাহয় এইবার তার সাথে অন্য বোঝাপড়া করি কিছু। আমার সেদিনকার পোষ্টে, একজন খুব অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, বিএসএফ এর খুনোখুনি এবং ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির সাথে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক কী। এটি কি সাম্প্রদায়িক আক্রোশ নয়। আমি বলেছিলাম, ভারতের পররাষ্ট্র দফতর তাদের সাম্রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি হিশেবে রবীন্দ্রনাথকে উপস্থাপন করে। বিদেশী প্রতিনিধি দলের সফরসূচীতে শান্তি নিকেতন পরিদর্শন অন্তর্ভূক্ত করে। কিন্তু, পররাষ্ট্র দপ্তরের ডিসকোর্সে কোন রবীন্দ্রনাথ উপস্থাপিত হয়? ভারত তার পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজন পূরণার্থে যে রবীন্দ্রনাথকে নির্মাণ করেছে, এই রবীন্দ্রনাথ গোঁড়া হিন্দু, ব্রাহ্মণ এবং প্রবলভাবে জাতীয়তাবাদী ''ইণ্ডিয়ান''। এই ''রবীন্দ্রনাথ'' বৈচিত্রে বিশ্বাস করে না, আধিপত্যে সহায়ক। ভারতীয় পররাস্ট্র দপ্তরের এই রবীন্দ্রনাথ সর্বভারতীয় কনফেডারেশন সহায়ক, যে কনফেডারেশন তাঁর প্রতিবেশী ক্ষুদ্র জাতি-রাষ্ট্রগুলোকে গ্রাস করতে চায়। ফলত এই রবীন্দ্রনাথ পরিদর্শনে গেলে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের কাঁধে গোলামীর ওর্না ঝুলবেই। সেনাপ্রধান বোধ হয় শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রনাথকে নিরেট ''কবি'' রবীন্দ্রনাথ ঠাউরেছেন। ভেবেছেন, তার সফরের পর ভারত গঙ্গায় পানি বইয়ে দেবে, বিএসএফ গুলি করে আর পাখির মত মানুষ মারবে না, বাণিজ্যে সমতা আসবে। কিন্তু সত্য কথা হল এই শান্তি নিকেতনী ওর্না হলো সমঝোতা ও সম আত্মীয়তার নামে গোলামীর ওর্না। এই রবীন্দ্রনাথ আমাদের আপন রবীন্দ্রনাথ নয়।
...আমরা আবার চরমভাবে সাম্প্রদায়িক বাঙালী সংস্কৃতি ও জমিদার রবীন্দ্রনাথের জমিদারীতে ঢুকে পড়েছি। রবীন্দ্রনাথ আবার আমাদের উপরে জমিদার হয়েই বোঝার মতো দাঁড়িয়ে আছেন। লাঠি দিয়ে শাসন করছেন।
আমাদেরকে এখন, একই সাথে, এই দুই রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। একজন সীমান্তে খুনোখুনি করে, একজন রাষ্ট্রে জমিদারী করে।..
(রবীন্দ্রবন্দনা: রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে)
০৩ রা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:১১
..নতুন বিডিআর নেতৃত্বের এইসব তৎপরতার পর, আমরা এই পিলখানার ঘটনা, সেনাবাহিনীকে বিডিআরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে খোদ সেনাসদস্যদের একটি শ্রেণীকে দিয়ে বিডিআর এর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এবং ঘৃণা ছড়ানো, বিডিআর বিলুপ্তির ঘোষণা, বিডিআর ডিসিপ্লিনকে বিএসএফ এর সহযোগিতায় পুনর্গঠনের প্রস্তাব, এবং ‘বাংলাদেশের মাটিতে ভারতবিরোধী কোন কর্মকাণ্ড হতে দেবো না’- এই ঘোষণাকে কোন কোন ধরণের প্রশ্ন করতে পারি? বিডিআরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টাগুলোর সাথে মুক্তিযুদ্ধে বিডিআরের তিন জন বীর শ্রেষ্ঠ, রৌমারীর যুদ্ধসহ অসংখ্য ঘটনা কি ইতিহাসে আগের মত থাকবে? মুক্তিযুদ্ধে বিডিআরের অবদানকে আমরা নতুন কোনভাবে ইতিহাসে পড়ব?..
(আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব)
১১ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:৫২
..একজন ব্লগার দেখলাম ব্লগে টিপাইমুখ বিষয়ক বিতর্কে তার ভাষায়, 'এক প্রাক্তন ছাত্রদল নেতা, বর্তমানে মার্কসিস্ট' এবং 'একজন প্রাক্তন শিবিরকর্মী' বা 'জেএমবি' জড়িত হওয়ার কারণে এর নৈতিকতার দিক হারিয়েছে- এই বলে ফতোয়া দিয়ে গেলেন বিভিন্ন পোস্টে। ভালো কথা, টিপাইমুখএর বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ তার মনোপলি কাদের আছে বলে তিনি মনে করেন? মানলাম, বিএনপি, জামাত এবং মার্কসিস্টরা সেই অধিকার রাখেন না। তাহলে কারা? আওয়ামীলীগ? প্রসঙ্গত: আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ইস্যুতে যারাই সংগঠিত হবে এবং এর জন্য কাজ করবে, জামাত-জেএমবি, চরমপন্থি- নির্দিষ্ট ইস্যুতে তাদেরকে সমর্থন করতে আমার কোন নৈতিক বাঁধা নেই। কারো কারে ব্যাপারে 'আইনি' বাঁধা থাকতে পারে, কিন্তু যারা আইন বদলানোর লড়াইয়ে লিপ্ত, তাদের কাছে এই বাঁধা তুচ্ছ। তার চেয়েও বড়ো কথা, বর্তমান শাসকগোষ্ঠির ফ্যাসিবাদিতা যে কোন প্রতিবাদকে আইনি বাঁধারও বহু আগের স্তরে টুটি টিপে ধরে। আইনের জন্য অপেক্ষা করে না।
৩. টিপাইমুখ বাঁধ, ফারাক্কা, তালপট্টিদখল বা বিএসএফ এর খুনোখুনি এইসবের প্রতিবাদ বা বিরোধিতা করতে গিয়ে আমরা যাতে 'ভারত' বা কোন একটি 'জাতিগোষ্ঠি'র প্রতি ঘৃণা এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির গহ্বরে সচেতন বা অচেতনে পতিত না হই- সে খেয়াল রেখেই আমাদের এ প্রতিবাদ করে যেতে হবে।
(ল্যামপোস্টের আলোয়: আরো কিছু জরুরী কথা-বার্তা)
৩০ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১২:০৯
..ধর্মনিরপেক্ষ বলে কথিত একটি দলের ধর্মানুভূতি যখন পোপ বা কাঠমোল্লার চেয়েও প্রখর বোধ হচ্ছে বাংলাদেশে- যথা ধর্মানুভূতিতে আঘাত- রাষ্ট্রের কথিত ধর্মাকাঙ্ক্ষার সাথে এর মিল-অমিলগুলির ভাব-বিশ্লেষণ করা দরকার। আধুনিক রাষ্ট্রের যে বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হল সেখানে লক্ষণীয়- ধর্মকে ব্যবহার করা হোক বা না হোক- রাষ্ট্র নিজেই ধর্মের জায়গা দখল করে ধর্মীয় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন রাষ্ট্র হয় নিপীড়ক। এবং রাষ্ট্র তখন হয় ধর্মের প্রতিদ্ধন্ধি- ধর্মের সহায়ক নয়। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বলে কথিত দলটির ধর্মানুভূতির উগ্রতা এবং তার কঠোর প্রয়োগের প্রতি একটু তীক্ষ্ণদৃষ্টি দিলে বুঝা যায় এখানে রাষ্ট্রের ধর্মাকাঙ্ক্ষা এবং দলীয় ভণ্ডামি একই স্বার্থের সমান্তরালে এসে মিশেছে। ধর্মানুভূতির কথা বলে একবার ফেসবুক এর মত গণযোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করা এবং আর একবার গ্রেফতার করা জামাত রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বকে- উভয় এবং দমন নিপীড়ণ ও নো টলারেন্স নীতির গন্তব্য এক। একদিকে ধর্মানুভূতির ভণ্ডামি এবং অপরদিকে রাষ্ট্রের ধর্মাকাঙ্ক্ষা।
..দুঃখজনক হলেও, আওয়ামি নেতা পাতি নেতা ও মন্ত্রীদের প্রচুর হম্বিতম্বিতে তপ্ত যুদ্ধাপরাধ প্রশ্নটি কেন জামাত নেতাদের গ্রেফতারে এমনকি ব্যবহার করারও সাহস পেল না সরকার- এর কারণটা খুব দুর্বোধ্য হবে না আপনার কাছে। যুদ্ধাপরাধ রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ে আমরা বহু আগেই সন্দেহ ও প্রশ্ন করেছি, এইবার সন্দেহ হল এই রাজনীতির গন্তব্য ধর্মানুভূতির বহুচর্চিত ব্যবসা দিয়েই সমাধা হবে বোধ হয়। কারণ, এ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধ রাজনীতির প্রধান অনুষঙ্গকে আমি যদ্দুর বুঝেছি জামাত বা ইসলামী রাজনীতির মোকাবেলার প্রশ্ন হিশেবে সংস্লিষ্টরা দেখছে, আদতে যুদ্ধাপরাধের বিচার নয়। জামাত বা ইসলামী রাজনীতিকে মোকাবেলার প্রশ্ন ও অস্ত্র হিশেবেই যে ইস্যুর জন্ম- তার পরিণতি যুদ্ধাপরাধ প্রশ্নে না হলেও অন্য যে কোন ইস্যুতে হলেও চলে- এটাই সম্ভবত বর্তমান পরিণতি। এখানে ভাষার বিবিধ ভণ্ডামি ও রূপান্তর ঘটবে ও ফতওয়া চলবে। যথা যুদ্ধাপরাধ> মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ> ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ইত্যাদি। কিন্তু গন্তব্য ও পাত্র একই।..
( রাষ্ট্রের ধর্মবাসনা, দলের ভণ্ডামি, জামাত নেতৃত্বের গ্রেফতার ও অন্যান্য প্রশ্ন)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

