বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ এর খুনোখুনি এবং ইণ্ডিয়ান ইউনিয়নের সাম্রাজ্যবাদী অভিপ্সা আমাদের রাষ্ট্র-ভাবনা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন নিয়ে নতুন করে ভাবতে উসকানি দেয়। ২০০৮ সালে সীমান্তে খুনোখুনির এমন একটি ফয়সালার মুহূর্তে তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈনউআহমেদ এর শান্তি নিকেতনী ওর্না পরে আসার ঘটনায় আমরা এ ভাবনার কিছু প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলাম। বলেছিলাম, শান্তি নিকেতন, রবীন্দ্রনাথ, বাঙালী জাতীয়তাবাদ এইসব কোন বিমূর্ত বিষয় নয়। রোমান্টিক ভাববিলাসকে পাশে রেখে একে রাজনৈতিক ভাবেই পাঠ করা দরকার। কারণ যে রবীন্দ্রনাথ আমাদের সেনাপ্রধানকে বাউলা উত্তরীয় পরিয়ে দেন, আমাদের রবীন্দ্রসংগীতবিলাসীদেরকে প্রার্থনার আনন্দ দেন, তাদেরকে বিশুদ্ধ 'বাঙালী' জাতীয়তার মদে উষ্ণ করেন, একই সময়ে এই রবীন্দ্রনাথই 'সর্বভারতীয়' জাতীয়তাবাদী হিশেবে সীমান্তে লাঠিয়াল হয়ে, খুনি হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র, তার নাগরিক ও সার্বভৌমত্বের উপর হামলা চালান। স্বভাবতই সেনাপ্রধানের গায়ে পরা সেই উত্তরীয় তখন সীমান্তে নিহত বাংলাদেশীদের খুনে লাল হয়ে উঠে। মূলত ভারতীয় পররাস্ট্র দপ্তরের এই রবীন্দ্রনাথ গোঁড়া হিন্দু, ব্রাহ্মণ এবং প্রবলভাবে জাতীয়তাবাদী ''ইণ্ডিয়ান''। যে ''ইণ্ডিয়ান'' বৈচিত্রে বিশ্বাস করে না, আধিপত্যে সহায়ক। সর্বভারতীয় কনফেডারেশনের জন্য আগ্রাসী, যে কনফেডারেশন তাঁর প্রতিবেশী ক্ষুদ্র জাতি-রাষ্ট্রগুলোকে গ্রাস করতে চায়। এই পরিপ্রেক্ষিতেই, মূলত আমাদের এই মুহূর্তের কাজ হতে পারে চরমভাবে সাম্প্রদায়িক "বাঙালী" সংস্কৃতি ও "বাঙালী" জাতীয়তাবাদ এর সাথে এই "সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী ও সম্প্রসারণবাদে"র সখ্যতার রাজনৈতিক পাঠ। এই পাঠের নাম হতে পারে, "বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও ইণ্ডিয়ান ইউনিয়নের নিরাপত্তা ভাবনা" বা এরকম কিছু।
আরো কিছু প্রাসঙ্গিক পোষ্ট:
''রবীন্দ্রনাথ'' ও বিএসএফ এর খুনাখুনি
রবীন্দ্রবন্দনা: রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে
আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

