somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ বছরের নতুন প্রযুক্তি

২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রযুক্তি দিন দিন উপহার দিচ্ছে অভিনব নতুনত্ব। নতুন নতুন প্রযুক্তির বদৌলতে পুরো বিশ্ব আজ মানুষের হাতের মুঠোয়। আসুন জানা যাক যে প্রযুক্তিগুলো এ বছর সারা জাগাবে সেগুলোর কথা।

ক্ষুদ্রাকৃতির প্রসেসসর ও গ্রাফিক্স কার্ড

ইনটেলের এটম, ভায়ার ট্রিনিটি ইত্যাদি ক্ষুদ্রাকৃতির প্রসেসরের বছর হবে এটি। এগুলোর গতি গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ(১.৬ গিগাহার্জ) হয়ে যাবে। তার উপর গত বছরের শেষ দিকে এনভিডিয়া এটম প্রসেসরের সঙ্গে ব্যবহার উপযোগী ক্ষুদ্রাকৃতির গ্রাফিক্স ‘আইত্তন’ বাজারে ছাড়ে। এতে এনভিডিয়ার সর্বাধুনিক ৯৪০০ চিপ ব্যবহার করা হয়। ক্ষুদ্র প্রসেসর ও গ্রাফিক্সের মান এ বছর আরো বৃদ্ধি পাবে। তাই ছোট ল্যাপটপকে আর ‘ছোট’ বলে অবজ্ঞা করা যাবে না। আইটি বাজারে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলবে ছোট ল্যাপটপকে ঘিরে। এইচপি, ডেল, আসুস, লেনোভো, এসারসহ প্রায় সবাই নানা ফিচার, ডিজাইন এবং দাম কমিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে। বছর শেষে কারা সফল হল আর কারা হল না তা জানার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে বছরের শেষ পর্যন্ত।

ক্ষুদ্রাকৃতির ল্যাপটপ

‘এটম’ ও ‘আইওন’-এর ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আকার ছোট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে ছোট ল্যাপটপ বা নোটবুকের ক্ষমতা এবং কমে আসবে তাদের আকার ও ওজন। গত বছর ছোট বড় সব কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের ল্যাপটপ বাজারে ছাড়ে। দামে কম ও হালকা ছোট ল্যাপটপগুলোর পারফরম্যান্সের সীমাবদ্ধতা এ বছর উঠে যাবে। এ কারণে ল্যাপটপগুলোর ব্যবহার বহুগুণে বেড়ে যাবে।

ব্লু-রে ডিস্ক

এ বছরটা মূলত ব্লু- রে ডিস্কের বছর। অপটিক্যাল ডিস্ক ড্রাইভ জগতে ডিভিডিকে সরিয়ে একক রাজত্ব করবে সনির এ নতুন প্রযুক্তি। ডিভিডির তথ্য ধারণের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৭.৩ গিগাবাইটের বিপরীতে ব্লু-রে ডিস্কের ক্ষমতা ৫০ গিগাবাইট। তাই বোঝাই যাচ্ছে, আমেরিকা ও ইউরোপের মত ধনী দেশগুলোতে ব্লু-রে ডিস্ক ডিভিডির স্থান কেড়ে নেবে। কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র দেশগুলোতে ব্লু-রে ডিস্কের ব্যবহার সর্বজনীন হতে সময় লাগবে। এ বছর ধীরে ধীরে ব্লু-রে ডিস্কের দামও অনেকটা কমে আসবে।

সলিড স্টেট ড্রাইভ (এসএসডি)

উচ্চমূল্য এবং অপেক্ষাকৃত কম ধারণক্ষমতার জন্য গত বছরটা আশানুরূপ হয়নি ‘এসএসডি’র জন্য। ২০০৮-এর ডিসেম্বরে তোশিবা ৫১২ গিগাবাইটের এসএসডি তৈরি করার পর ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আর নেই। অপরদিকে স্যামসাং গত বছর থেকেই ২৫৬ গিগাবাইট ‘এসএসডি’র ব্যাপক উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে। আর ইন্টেল তার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ৮০ গিগাবাইট ও ১৬০ গিগাবাইটের এসএসডি বাজারে ছাড়ে গত বছর। এ বছর ‘এসএসডি’র ধারণক্ষমতা টেরাবাইট ছাড়িয়ে যাবে এবং ৩২, ৬৪, ১২৮ গিগাবাইট ‘এসএসডি’র দামও অনেক কমে আসবে। সব ধরণের ল্যাপটপে এ বছর থেকে হার্ডডিস্কের বদলে অধিকতর হালকা ও দ্রুতগতির ‘এসএসডি’র ব্যবহার শুরু হবে। আগামী ২০১০ সালের পর থেকে হার্ডডিস্কের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে এবং তার জায়গা কেড়ে নেবে ‘এসএসডি’।

টাচস্ক্রিন

এ বছর কীবোর্ডের ব্যবহার দ্রুতই কমতে শুরু করবে। তার স্থান দখল করে নেবে টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি। কিছু কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যেমন এইচপি, ডেল ইতোমধ্যেই টাচস্ক্রিন মনিটরযুক্ত ল্যাপটপ বাজারে ছেড়েছে।

উইন্ডোজ সেভেন

টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে মাইক্রোসফট এ বছরই বাজারে ছাড়বে উইন্ডোজ সেভেন। এতে মনিটরে হাতের স্পর্শেই চলবে আপনার কম্পিউটারটি। ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের মাঝামাঝিতে বাজারে আসবে এ নতুন অপারেটিং সিস্টেম। ভিসতা বিপর্যয়ের পর মাইক্রোসফট উইন্ডোজ সেভেনের সাফল্যের দিকে তাকিয়ে আছে।

ওয়াই-ফাই

ইন্টারনেট জগতে ‘ফাইবার অপটিক’ বুমের পর এ বছরটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে ওয়াই-ফাই বুমের জন্য। বাংলাদেশের মত ঘনবসতিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ‘ওয়াই-ফাই’ ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি খরচও অনেক কমিয়ে দেবে। মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়াই-ফাইকে ব্যবহার করে সেবার পদ্ধতি ও মানে এগিয়ে যাবে অনেকখানি।

থ্রিজি প্রযুক্তি
সমগ্র পৃথিবীতেই ‘থ্রিজি’র জোয়ার বয়ে যাবে এ বছর। উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও এ বছর থেকে চালু হবে থ্রিজি সেবা। থ্রিজি মোবাইল সেটের দামও অনেকটা কমে আসবে বলে অনেকেরই হাতের মুঠোয় স'ান করে নেবে থ্রিজি মোবাইল।




২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×