somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হয়তো একদিন

২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেমন আছ? জানি খুব একটা ভালো থাকার কথা নয়। তবুও জিজ্ঞেস করলাম। জিজ্ঞেস করতে হয় বলে। এখন রাত প্রায় দুটো। ঘুম আসছে না। লেপের ওম ছেড়ে বিছানা থেকেও উঠতে ইচ্ছে করছিল না। প্রায় প্রতিরাতেই এখন এমন হয়। অবশ্য এখানে নতুনত্ব বলে কিছু নেই। এটা আমার পুরনো অভ্যাস। তুমি কী করছ? ঘুমাচ্ছ? কেন জানি মনে হচ্ছে হয়তো তুমিও জেগে আছ। ফোন করে দেখলেই হয়। কিন' ফোন করতে ইচ্ছে করছে না। কারণ সারাদিনের দীর্ঘশ্বাসগুলো রাত দুপুরেও নতুন করে উজ্জীবিত করার কোনো মানে নেই।

জানো নীল হঠাৎ করে আমি খেয়াল করলাম আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই ‘হয়তো’ শব্দটা বেশ অনেকখানি স্থান দখল করে আছে। আমি প্রতিদিন ভাবি হয়তো একদিন আমাদের জীবনটা অনেক সুন্দর হবে। ঠিক তেমন সুন্দর, যে সুন্দরের প্রত্যাশায় আমরা দীর্ঘ প্রহর প্রতীক্ষায় ছিলাম কিংবা এখনো আছি। আমার মনে হয় হয়তো আগামীকাল কোনো ভালো খবর আসবে। হয়তো আমাদের দুর্দশা অনেকখানি কেটে যাবে। কিন্তু না, একেকটা আগামীকাল চোখের পলকে চলে যায় কিন্তু সেই কাঙিক্ষত সুখবরটি আর আসে না। সেই কাঙিক্ষত আগামীকালটি কেন আসে না বলতে পার।সময় কাটতে চায় না। কোনো কিছু করতে ভালো লাগে না। এমনকি কারো সাথে যোগাযোগ করতেও চায় না। যে কোনো ভালো সম্পর্ককে অনেকদিন সুন্দরভাবে ধরে রাখার ক্ষেত্রে আমি যথেষ্ট আনাড়ি। আর তাইতো কাছের মানুষদের সাথে প্রায় আমার দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। বন্ধু বান্ধবদের কাছে কোনো কালেই আমি খুব একটা প্রিয় ছিলাম না আমার স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের কারণে। এটা নিয়ে অবশ্য আমার তেমন কোনো দুঃখবোধ কিংবা অভিযোগও নেই। বাস্তবতাকে আমি খুব সহজভাবেই মেনে নিয়েছি। আমার সঙ্গে যখনই কোনো নতুন মানুষের পরিচয় হয় দেখা যায় এদের মধ্যে যারা আমার প্রতি খুব আগ্রহের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছে কিছুদিন পর তাদের সেই আগ্রহ নামতে নামতে তলানিতে এসে ঠেকে। আবার যাদের প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয়, যাদেরকে আপন মনে হয় কিছুদিন পর খেয়াল করি তাদের প্রতিই কেমন জানি বিরক্তি জন্ম নেয় মনে। অদ্ভূত তাই না? আমার কাছেও অদ্ভূত মনে হয়। কোনো কিছুই যেন স্থিতাবস্থায় থাকে না।

নীল শোনো তোমাকে খুব গোপনীয় একটা কথা বলি। ইদানীং না প্রায় আমার মনে হয় আচ্ছা মরে গেলে কেমন হয়? তুমি কি হাসছ? আমি হেরে যাচ্ছি বলে? হ্যাঁ, আমি নিজেও খুব অবাক হই এমন একটা চিন্তা আমার মাথায় ঘুরপাক খায় কী করে। আমি খুব আশাবাদী মানুষ ছিলাম। যে কোনো দুঃসময়ে আমার মনে হতো এটাই শেষ কথা নয়, কোনোভাবে এই সময়টা কাটিয়ে দিতে পারলেই সবকিছু বদলে যাবে। জীবন আবার রঙ্গিন হয়ে উঠবে। আমার এই প্রচণ্ড মানসিক শক্তি আমার বন্ধু-বান্ধবদের চাইতে আমাকে অনেক সময় অনেক জায়গাতেই অনেকখানি এগিয়ে দিত। সেই আমিই কিনা এখন জীবনবোধ নিয়ে খুবই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছি। আমার মনে হচ্ছে সব মিথ্যা। আমার ভাবনাগুলো মিথ্যা, স্বপ্নগুলো মিথ্যা, এমনকি যে আগামীকালের স্বপ্নে আমি বিভোর ছিলাম কিংবা এখনো আছি সেই আগামীকালও মিথ্যা।

জানো নীল আমার সব সময় ইচ্ছা ছিল আমি সবার জন্য (আমার আপনজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব) আমার সাধ্যমতো কিছু না কিছু করব। খুব ছোট বেলা থেকে এই বোধটা আমার মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল। সেই আমি যখন নিজেই সবার উপর বোঝার মতো চেপে আছি, তুমিই বলো এই পরিস্থিতিতে আমি কী ভাবতে পারি? আমি জানি তুমি বলবে, আমার এখনকার ভাবনাগুলো সব এলোমেলো, মানসিক বিকারগ্রস্ত রোগীর মতো। কারণ সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। সময় তার নির্দিষ্ট গতি ধরেই চলে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোনো কিছু চাওয়া কিংবা কোনো কিছু পাওয়া খুব বেশি সুখবর কিছু নয়। কারণ খুব সহজে পাওয়া কিছু আবার খুব সহজেই চলে যায়। কষ্ট করে কিছু অর্জন করলে তার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। এক্ষেত্রে তোমার তালগাছ আর সুপারি গাছের উদাহরণটা প্রায়ই আমার মনে পড়ে। সুপারিগাছ খুব দ্রুত লকলকিয়ে বড় হয়ে যায় বলে সামান্য ঝড়-ঝাপটাতেই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। আর তাল গাছ বড় হতে এত দীর্ঘ সময় নেয় যে প্রায় সময় মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। কিন' একবার বড় হয়ে গেলে আর পিছু তাকাতে হয় না। প্রজন্মের পর প্রজন্মের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কিন' মানুষ তো গাছ না। আমার এই অভিযোগে তুমি প্রতিবারই বলো, প্রক্রিয়াটা কিন' প্রায় কাছাকাছি। অন্তত বেঁচে থাকার প্রক্রিয়া। তোমার এই উদাহরণ আমার ভাঙা মনোবলকে আবার চাঙা করতে অনেকখানি ভুমিকা রাখে। কে জানে এটাও বোধহয় বেঁচে থাকারই একটা প্রক্রিয়া। ভালো থেকো। ভালো থাকতে হবে আগামীকালের সুন্দর দেখার জন্য।




৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×