কোন একটি মোবাইল কম্পানি ‘গ্রাহকরা বন্ধ সিম চালু করলে টক টাইম বা বোনাস দেয়া হবে’ এমন অফার দেবার পর অন্যরাও উঠে পড়ে লেগেছে বন্ধ সিম চালুর অফার নিয়ে। কে কার চেয়ে কতটা ভালো অফার দিতে পারে তাই নিয়েই এখন পাল্লা পাল্লি চলছে মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে!
ভাসমান কিছু ইউজার যারা মূলত উঠতি বযসের, একাধিক সিম দিয়ে কথা বলে তাদের জন্যই হয়তো এ অফারটি মোবাইল কম্পানিগুলো দিচ্ছে, তাই-ই কিন্তু অন্যদের ধারণা। কারণ যারা মোবাইলের নিয়মিত ইউজার তারা কিন্তু সিম বন্ধ রাখে না। আর এসব নিয়মিত ইউজাররা যে পরিমাণ টাকা ব্যবহার করে তা-ই মূলত মোবাইল অপারেটরদের বেসিক ইনকাম।
বাস্তবতা হলো এমন অফারের ফলে কতগুলো সিম একটিভ হচ্ছে, তা একটু চিন্তা করলেই বের হয়ে আসবে। কারণ যারা তাদের সিমগুলো বন্ধ করেই রেখে দিয়েছেন তারা সেটি বা সেই অপারেটরের সিম আর ইউজ করবেন না বলেই তা করেছেন। এক্ষেত্রে তাদের কে বিভিন্ন অফার দিয়ে সিম চালুর বিষয়টি কতটকু প্রলুব্ধ করবে তাও কিন্তু ভাববার বিষয়। অথচ মোবাইল অপারেটরা টিভি, রেডিও আর প্রিন্ট মিডিয়ায় কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে বন্ধ সিম চালু করার ব্যাপারে। আদৌ এই বিজ্ঞাপনের টাকাই উঠে আসবে কিনা তাও কিন্তু ভাববার বিষয়!
অল্প কিছু গ্রাহক হয়তো বন্ধ সিমের অফারটি গ্রহণ করে তাদের সিম একটিভ করবেন। কিন্তু তারপর? তারা কিন্তু বন্ধ সিমের বেনিফিট নিয়ে এরপর নিজেরা যে সিমটি নিয়মিত ইউজ করছেন তাই-ই কিন্তু ইউজ করতে থাকবেন। ফলে বন্ধ সিমটি কিছুদিন পর আবার বন্ধ সিমেই রূপান্তরিত হবে! এরপর হয়তো দেখা যাবে, আরো ভালো অফার ঘোষণা করবে মোবাইল অপারেটররা। কোন কোন গ্রাহক তাদের সিম আবার একটিভ করে বেনিফিট তুলে আবার সিম বন্ধ করবে। ইঁদুর-বিড়ালের চিরন্তর দৌড়াদৌড়িও এক্ষেত্রে অব্যাহত থাকবে।
আর তাই যাদের সিম একটিভ আছে তাদের জন্যই ভালো ভালো কিছু অফার মোবাইল অপারেটরা দিতে পারে। কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন না দিয়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক ভালো করতে পারে। এতে করে গ্রাহকরা অন্য অপারেটরের প্রতি ইন্টারেস্টটেড হবে না। নেটওয়ার্ক আর কল রেট কম থাকলে এত বিজ্ঞাপন না দিলেও চলবে। কারণ সকলে এখন অনেক সচেতন। অনেককেই আমি বলতে শুনেছি যে, ‘পত্রিকা টিভিতে এত সব বিজ্ঞাপন না দিয়ে এরা নিজেদের নেটওয়ার্কের পেছনে এই টাকা খরচ করলে শান্তিতে কথা বলকে পারতাম।’
কোন অপারেটরের কল রেট কম বা কাদেরটার নেটওয়ার্ক ভালো মোবাইল ইউজাররা ভালোই তা খোঁজ রাখেন। আমার জানা মতে, প্রচুর টেলিটক গ্রাহক শুধু তাদের নেটওয়ার্কের প্রতি বিতশ্রদ্ধ হয়েই অন্য সিম ব্যবহার শুরু করেছে। আবার একটেল যেখানে ৬৮ পয়সা মিনিট যে কোন সময় যে কোন মোবাইলে দিচ্ছে, সেখানে গ্রামীণ ফোনের কলরেট এর দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ। সিটিসেলের নিজ নেটওয়ার্কে সবসময় ২৫ পয়সা থাকলেও অন্য অপারেটরার তাদের নিজ নেটওয়ার্কেই অনেক বেশি কলরেট নিচ্ছে। এত অসামঞ্জস্যও কেন?
সুতরাং মোবাইল কম্পানিগুলোর উচিত আলতু-ফালতু অফার বাদ দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখে ও গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করে এমন অফার দেয়া সম্পর্কে চিন্তা ভাবনার করা।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




