“হ্যালো, রিতা বলছিস?”
রিতা একটু থমকায়৷ ওপাশের গলাটা ভাঙা ভাঙা, কেমন যেনো খ্যাসখেসে৷ চেনা চেনা লাগে তার, কিন্তু ঠিক যেনো চিনতে পারে না৷ কণ্ঠে একটু বিস্ময় নিয়ে সে বলে, “হ্যাঁ, আমি রিতা৷ আপনি কে বলছেন?”
খ্যাসখেসে কণ্ঠময়ী বলে, “আরে আমি শায়লা, কলেজে তোর পাশে বসতাম৷ চিনতে পারছিস না?”
রিতা চিনতে পারে৷ আর চিনতে পেরেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে সে, “আরে হ্যাঁ হ্যাঁ চিনতে পারছি৷ মাগো, তুই শায়লা? ইস, কতোদিন পর!”
“হ্যাঁ অনেকদিন পর৷”
“ঠিক কতোদিন পর বল তো?”
“নির্দিষ্ট করে কি করে বলি৷ তা বছর তিনেক তো হবেই!”
“হ্যাঁ তা হবে। বাব্বা, কি ভালো লাগছে তোর ফোন পেয়ে! আচ্ছা তুই আমার ফোন নাম্বার পেলি কোথায়?”
শায়লা গি গি করে হাসে, “সেটা বলা যাবে না৷”
“কেনো বলা যাবে না?”
“হা হা, সব বলে দিলে কি আর রহস্য থাকে? তার চেয়ে তোর কথা বল৷ কেমন আছিস তুই?”
“ভালো আছি৷ খুব ভালো আছি৷”
“ওমা তাই? বাহ, আজকাল কাউকে খুব ভালো থাকতে শুনি না৷ তুই আছিস শুনে ভালো লাগলো৷ শুনলাম তুই বিয়ে করেছিস?”
রিতার মনটা আনন্দে ভরে ওঠে এ কথায়৷ কণ্ঠে একটু লাজুকতা এনে বলে, “হুঁ৷”
“বাহ বাহ বেশ৷ মেনি কনগ্রাচুলেশন্স!”
“থ্যাংক ইউ৷ কিন্তু তুই কি করে জানলি?”
“এ সব কথা কি আর চাপা থাকে? সব বাতাসে ভেসে বেড়ায়৷”
“না দ্যাখ ইয়ার্কি করিস না৷ বল না কোথায় শুনলি?”
“সেটা আমি তোকে বলতে যাচ্ছি না৷ আচ্ছা তোর হাসবেণ্ডটি কেমন?”
রিতা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, “ভালো৷ খুব ভালো৷”
“আহা একটু ভেঙে বল না বাবা!”
“উম... ও দারুণ হ্যাণ্ডসাম৷ টকটকে ফর্সা, অনেক লম্বা৷ এক মাথা ঝাকড়া চুল, তীক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন দুই চোখ৷ খুব ভদ্র, আর অনেক ব্যক্তিত্ববান একটা মানুষ৷ ঠিক আমি যেমনটা চেয়েছিলাম জানিস! আমি চেয়েছিলাম আমি যাকে বিয়ে করবো সে হবে লম্বা, হ্যাণ্ডসাম, বুদ্ধিমান, ভালো একটা কাজ করবে, আর আমাকে খুব ভালোবাসবে৷ আমি ঠিক সেরকমটাই পেয়েছি৷ ও আমাকে অনেক ভালোবাসে৷”
“ওয়াও সত্যি? তোর তো দারুণ রাজ কপাল রে!”
রিতা আনন্দে কুল কুল করে হাসতে থাকে৷ পুরানো বান্ধবীর কাছে নিজের স্বামীর প্রশংসা করতে পেরে গর্বে তার বুক ফুলে ওঠে। শায়লা আবার প্রশ্ন করে, “তা তোর ও এর নাম কি রে?”
“ওর নাম রাসেল৷ রাসেল আহমেদ৷”
“ওয়াও, দারুণ নায়োকোচিত নাম তো! আমার কিন্তু ভাই হিংসে হচ্ছে৷ তা দে না তোর নায়ককে, একটু কথা বলি৷”
“ও তো এখন বাসায় নেই, বাসায় থাকলে নিশ্চয় দিতাম৷ তুই আয় না একদিন আমার বাসায়, অনেক গল্প করা যাবে৷”
“সে কি রে? এখনও বাসায় ফেরেনি?”
“আর বলিস না, অফিস নিয়ে ও যা ব্যস্ত থাকে না৷ সে না থাকলে তো অফিসই চলে না৷ কতো করে বলি একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে, কিছুতেই পেরে ওঠে না৷ এই দ্যাখ না, একটু আগেই ওর সাথে কথা হয়েছে, অফিসে খুব ব্যস্ত, আসতে দেরী হবে৷”
“হুম৷ তা বেশ তো৷ পুরুষ মানুষ ব্যস্ত থাকাটাই ভালো৷ আচ্ছা রাখি রে৷ ভালো থাকিস৷”
“আরে শোন শোন, তোর কথা তো কিছু...”
রিতা বাকি কথা শেষ করার আগেই শায়লা ফোন রেখে দেয়৷ বিছানায় তার পাশে শুয়ে থাকা অর্ধ উলঙ্গ মানুষটার দিকে চেয়ে চোখ নাচায় সে, “তো রাসেল আহমেদ সাহেব, আপনি নাকি অফিসে? খুব ব্যস্ত?”
রাসেল আহমেদ হা হা করে হাসে৷ বিছানায় উঠে বসে হাত বাড়িয়ে শায়লাকে ধরতে যায় সে৷ শায়লা চট করে তাকে এড়িয়ে বিছানা থেকে নেমে পরে৷ ঘরের মাঝখানে গিয়ে অত্যন্ত মোহনীয় ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে শরীর থেকে সব কাপড় খুলে মেঝেতে ফেলে দেয় সে৷ রাসেল আহমেদের দিকে মুখ করে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে কামনাময়ী ভঙ্গিতে দাঁড়ায়৷ ডান হাতের তর্জনী নাড়িয়ে মোহনীয় ভঙ্গিতে ডাকে, “এসো, এসো জনাব হ্যাণ্ডসাম ব্যক্তিত্ববান রাসেল আহমেদ, আমাকে তোমার ব্যস্ততা দেখাও দেখি!”
রাসেল আহমেদ লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নামে৷ উম্মত্তের মতো শায়লার নগ্ন শরীর দু'হাতে চেপে ধরে সে৷ তারপর ব্যস্ত হয়ে পড়ে, খুব ব্যস্ত...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

