somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'আম-আঁটির ভেঁপু' এবং অন্যান্য

১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দৈনিক কালের কণ্ঠের শিলালিপির চতুর্দশ সংখ্যায় প্রকাশিত মৃত্যুঞ্জয় রায়ের "বিশেষ রচনা" "বাংলার উৎসব চৈত্রসংক্রান্তি" পড়তেছিলাম৷ রচনাটার শুরু হয়েছে এভাবে-

'চড়কের আর বেশি দেরি নাই। বাড়ি বাড়ি চড়কের সন্ন্যাসীরা নাচিতে বাহির হইয়াছে। দুর্গা ও অপু আহার-নিদ্রা ত্যাগ করিয়া সন্ন্যাসীদের পিছনে পিছনে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরিয়া বেড়াইল। অন্য গৃহস্থদের বাড়ি হইতে পুরাতন কাপড়, সিধা, পয়সা দেয়_কেউবা ঘড়া দেয়; তাহারা কিছুই দিতে পারে না দুটি চাল ছাড়া। দশ-বারো দিন সন্ন্যাসী নাচনের পর চড়কের পূর্বরাত্রে নীলপূজা আসিল। নীলপূজার দিন বৈকালে একটা ছোট খেজুর গাছে সন্ন্যাসীরা কাঁটা ভাঙে। প্রতি বৎসরই একই খেজুর গাছে কাঁটা ভাঙা হয় না। কাঁটা ভাঙার নাচ হইয়া গেলে সকালে চড়কতলাটাতে চড়ক পূজার আয়োজন করা হয়।
খেজুরের ডাল দিয়া নীলপূজার মণ্ডপ ঘিরিয়াছে। চড়কতলার মাঠের মধ্যে কুমির বানিয়ে সন্ন্যাসীরা শ্মশান জাগাইতে যাইবে। একজন মড়া হইবে। তাহাকে বাঁধিয়া নিয়া যাইবে শ্মশানে। তাহাকে আবার বাঁচাইবে। তাহার পর মড়ার মুণ্ডু নিয়া আসিবে, ছড়া বলিতে বলিতে আসিবে, উহার সব মন্তর আছে। ছড়াটি হইল_
স্বগগো থেকে এলো রথ, নামল খেতু তলে।
চব্বিশ কুটি বাণবর্ষা শিবের সঙ্গে চলে।
সত্যযুগের মড়া আর আওল যুগের মাটি।
শিব শিব বলরে ভাই ঢাকে দ্যাও কাঠি।'
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত 'আম আঁটির ভেঁপু' উপন্যাসে চড়কপূজা ও নীলের গাজনের এই চমৎকার চিত্রটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

এই পর্যন্ত এসে ভ্রূ আপনি কুঁচকে এলো৷ 'আম আঁটির ভেঁপু' নামে বিভূতিভূষণের কোনো উপন্যাস আছে বলে আমার জানা নাই৷ নাকি আমি ভুল জানি? কাহিনী কি? অতএব কাহিনীর খোঁজে বিভূতিভূষণের রচনাবলী টেনে বের করতে হলো৷ স্কুল ছাড়ার পর পথের পাচালী আর পড়া হয় নি, স্মৃতিতে অনেক মরিচা পড়েছে (যদিও বিভূতিভূষণের অন্য লেখাগুলো স্কুল ছাড়ার পরই পড়া)৷ তবু অপু-দুগ্গার নাম আছে বলেই সন্দেহ হলো, এই অংশটা পথের পাঁচালীর কোনো অংশ হবে৷ পথের পাচালীর পাতা উল্টে দেখলাম, সেটার প্রথম পরিচ্ছেদ শুরু হয়েছে "বল্লালী-বালাই" নামে, চলেছে ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত৷ এরপর সপ্তম পরিচ্ছেদ শুরু হয়েছে "আম-আঁটির ভেঁপু" নামে, এটা চলেছে ত্রিংশ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত৷ তো এখন এই যে মৃত্যুঞ্জয় রায়ের লেখায় আম-আঁটির ভেঁপুকে স্বতন্ত্র উপন্যাস হিসেবে উল্লেখ করা, এটা কি লেখকের জানার ভুল নাকি কি ভালো বুঝলাম না৷ এটা যদি লেখকের কোনো ভুল হয়ে থাকে, তাহলেও শিলালিপির সম্পাদক পর্ষদের তো এটা চোখে পড়ার কথা৷ নাকি সম্পাদক পর্ষদ আদতে কোনো লেখাই পড়েন না?

বিভূতিভূষণের কথা বলতে গিয়ে মনে পড়লো, বিভূতিভূষণ আসলে উপন্যাস লিখতেই জানতো না৷

প্রিয় পাঠক, আগেই আমার উপর ক্ষেপে উঠবেন না৷ এই কথা আমার বলা না৷ শিলালিপির ত্রয়োদশ সংখ্যায় মানবেন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের রচনা "এলোমেলোভাবে মনে এলো"তে উল্লেখ আছে- "ইউনেস্কোর বিশ্বসাহিত্য বিভাগে 'অনুগ্রহ করে' বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালী তর্জমা করে দিয়েছিলেন 'আর্থার সি ক্লার্ক' ও 'তারাপদ মুখার্জি'- লন্ডনের সোয়াসের দুই মাতব্বর৷ তারা ভূমিকায় বলেছিলেন- বিভূতিভূষণ ঠিক নভেল লিখতে জানতেন না- তাই দূর্গা মারা যাওয়ার পর হরিহর রায় যখন গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তখনই সত্যি সত্যি নভেল শেষ হয়ে গেছে- সেই জন্য তারা আর 'পথের পাঁচালী'র শেষটুকু তর্জমা করেন নি৷ তারা বিভূতিভূষণকে শুধরে নভেলটি যেমন হওয়ার কথা ছিলো তেমন করে দিয়েছেন৷'

এই কথা পড়ার পর বলার আর কিছু থাকে না৷ শুধু এইটুকু বলতে চাই, তারাপদ মুখার্জি কে আমি চিনিনে, কিন্তু আর্থার সি ক্লার্কের কাছ থেকে এরকম কিছু কখনো আশা করিনি৷

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদ ১০০১ টি অবশ্য পাঠ্য বইয়ের তালিকা তৈর করছেন৷ তালিকার প্রথম অংশ প্রকাশ করেছেন তিনি৷ অবশ্যপাঠ্য বইয়ের প্রথম তালিকা-
লেখক : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
লেখা:
১. পথের পাঁচালী
২. দৃষ্টি প্রদীপ
৩. আরণ্যক
৪. ইছামতী
৫. দেবযান

(এই তালিকা থেকে 'অপরাজিত' বাদ গেলো কি করে আমার জানা নাই৷)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:১০
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×