somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুসা ইব্রাহিমের কষ্টের কথা এবং প্রথম আলোর ভন্ডামি..

১৪ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুসা ইব্রাহিমকে নিয়ে প্রথম আলো যেভাবে উঠে পরে লেগেিছল এবং এখেনা েলেগ অােছ তাতে মনে হচ্ছে প্রথম আলো-ই একমাত্র মুসা ইব্রাহিমের হিতাকাংখি। আজ এই বিশাল বিজয়ের জন্য প্রথম আলো দাবীদার। হায় কি বিচিত্র দেশ!!!
অথচ আমরা অনেকেই জানি, এই মুসা ইব্রাহিমকে প্রথম আলো একটি চাকরি পর্যন্ত দেয়নি। তারা বলছে, সে তাদের প্রদায়ক ছিল। সেটাতো ৪ বছর আগের কথা। একটি পত্রিকায় কয়েকশ কিংবা হাজার প্রদায়ক থাকতে পারে। কিন্তু তারাতো কোন পত্রিকার নিয়মিত কিংবা বেতনভিত্তিক স্টাফ না। আপনারাতো স্ট^ীকার করেন না, এই প্রদায়করাই লেখালেখি করে আপনাদের পত্রিকার মান বাড়িয়েছেন। ফলে আজ আপনারা মতিউর রহমান, আনিসুল হক হয়েছেন। কিন্তু সে প্রদায়ক বা কন্ট্রিবিউটরদের খোঁজ কি রাখেন?
আমরা জানি, প্রথম আলোতে মুসা ইব্রাহিম প্রদায়ক হিসেবে লেখালেখি শুরু করেছিল সেই ৪/৫ বছর আগে। দীর্ঘদিন সুনামের সাথে লেখালেখি করার ৪ বছর পর তার ইচ্ছে ছিল- স্থায়ী চাকরিটা প্রথম আলোতে যদি হয়।
কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বা আনিসুল হক কেউ তাকে সে সময়ে চাকরি দেয়নি।
যখন নয়া দিগন্ত পত্রিকা প্রকাশিত হয় তখন একেবারে বাঁচার তাগিদেই মুসা সেখানে জয়েন করেছিল একটি পাতার দায়িত্ব নিয়ে সাব এডিটর পদে।
নয়াদিগন্ত পত্রিকায় জয়েন করার আগে সে মতিউর রহমানের সাথে সাাত করে অনুনয় করে বলেছিল, ‘আমার নয়া দিগন্তে অফার আছে। কিন্তু আমি যেতে চাচ্ছিনা।’ সেই সময়ে মতিউর রহমান তাকে নীতিবাক্য শুনিয়ে বলেছিল-‘কোন কিছুতে মোহগ্রস্থ হয়ে থেক না।’ এরপর অনন্যোপায় হয়ে সেই সময় মুসা ইব্রাহিমসহ অনেক নয়া দিগন্তে জয়েন করেছিল।
এর পরের ঘটনা হলো- যায়যায়দিন যখন আসার কথা শোনা গেলে, তখন মুসা ইব্রাহিম উন্নত ক্যারিয়ারের কথা ভেবে সেখানে জয়েন করল। এরপর কিছুদিন যেতে না যেতেই ২০০৭ সালে যখন যাযায়দিন থেকে বিশাল সংখ্যক কর্মী ছাটাই হলো-তখন মুসাও বাদ পড়লো।
এরপর মুসা ইব্রাহিম মরিয়া হয়ে লাগলো কীভাবে প্রথম আলোতে চান্স পাওয়া যায়। এই সময়ে সে প্রথম আলোর আশপাশে ঘোরাঘুরি করত বেশি বেশি। তার পরিচিতরা সবাই তখন এই পত্রিকায়। সবাই-র প্রিয় পাত্র ছিল সদা হাস্যোজ্বল এই মুসা ইব্রাহিম।
দীর্ঘদিন সে চাকরি না পেয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে লেখালেখি অব্যহত রাখছিল। সে সময়ে তাকে দেখলে খুব খারাপই লাগত। বেচারি বৌকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেত একটা হোন্ডাতে করে। স্ত্রী তখন সহকারী জজ হয়ে গেছেন।
এরও অনেক দিন পর ডেইলি স্টারে সে জয়েন করল একজন সাধারন সাব এডিটর হিসেবে।
অথচ ততোদিনে তার সমকরা অনেকেই বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। অনেকেরই পদবী তখন তার থেকেও অনেকে ওপরে, বেতন ভাতার কথাতো বলাই বাহুল্য।
এতকিছুর পরও কিন্তু তার পাহাড় অভিযান থেমে থাকেনি মুসার। বলা যায়-ব্যাক্তিগত উদ্যোগে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি নিয়ে সে এভারেস্ট জয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। আজ তার সে সপন পুরন হয়েছে। এরজন্য প্রথম আলোর ভুমিকা কি?
বরং এই পর্যন্ত এসে সে তার ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করেছে। ক্যারিয়ারের অনেক অবনতি হয়েছে। কিন্তু টার্গেট থেকে সে বিচ্যুত হয়নি।
পত্রিকায় আনিসুল হক লিখেছেন-তাকে টাকা যোগার করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি, শুধুমাত্র টাকার কারনেই তার অভিযান থেমে ছিল। চেষ্ঠা যা ছিল-তার একান্তর নিজের।
গতকাল (২৪ মে, ২০১০) প্রথম আলোতে সুমনা শারমিনের লেখায় জানলাম-মুসার স্ত্রী বলেছেন, এই সাফল্য সম¢ব হয়েছে মুসার প্রবাসী বোন ও মতি ভাইয়ের জন্য। একথা কি সঠিক? অন্তত: মুসা ইব্রাহিমের বৌ একথা বলতে পারেন বলে মনে হয় না। এখানে মতিউর রহমানের কি ভুমিকা? পাঠকের কাছে এ প্রশ্ন রেখে দিলাম।
আজ এভারেস্ট বিজয়ের পর আনিসুল হক ছুটে গেছেন নেপালে। কিন্তু আপনারা কি পারতেন না, এই ছেলেটিকে একটা চাকরি দিতে। সেতো যথেষ্ঠ যোগ্য ছিল। আইটি সাংবাদিকতা করতো। যোগ্যতা না থাকলে কেউ আইটি সাংবাদিকতা করে না। আজ যদি তার পারিবারিক অবস্থা তেমন ভাল না হতো কিংবা তার সুযোগ্য স্ত্রী না থাকতো তবেতো এই ছেলে অভাবের তাড়নায় হারিয়ে যেতো। আজ এত বড় বিজয়ের পর বলছেন-সে আপনাদের প্রদায়ক ছিল। প্রদায়ক মানে কি? সাধারন জনগন এটা তেমন না বুঝলেও সাংবাদিকরা তো বুঝেন।
মোটকথা, মুসা ইব্রাহিম যখন চাকরি চান প্রথম আলোতে তখন হয়তো তার যোগ্যতা ছিলনা। এখন সে এভারেস্ট জয় করে প্রমান করেছে তার যোগ্যতা আছে। ঐ সময় মুসা ইব্রাহিম ঘুরতেন মতিউর রহমান, আনিসুল হকদের পেছনে পেছনে। আজ মতিউর, আনিসুল হকরা ঘুরছেন মুসার পেছনে। এই হলো প্রথম আলোর রাজনীতি। আর এই রাজনীতি করেই প্রথম আলো আজ এই পর্যায়ে পৌছেছেন।
বড়ো কষ্ট হয়। প্রথম আলোর মতিউর রহমান, আনিসুল হকদের কাছে এ রকম ভন্ডামি আমরা আশা করিনা। মুসা ইব্রাহিমের এতবড় সাফল্যে আপনারাও যে তাকে হতাশার মধ্যে রেখেছিলেন সেই কথাগুলোই আজ বেশি বেশি বলে জাতির কাছে মা চান। আপনাদের ভন্ডামি এবার বন্ধ করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:১৮
১৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×