somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুষ্টের শিরোমনি, লংকার রাজা : উইকিলিকসের প্রতিবেদন তোমার মুখোশ খুলে দিচ্ছে

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া বাংলাদেশ সম্পর্কিত তারবার্তায় একক ব্যক্তি হিসেবে তার নামটাই এখন পর্যন্ত সবচে' বেশি এসেছে। সূত্র
ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং ভারতপ্রেমের নমুণা অবিসংবিদিত । সূত্র : এখানে তৃতীয় পাতায়
তার একটা বক্তব্য উদ্ধৃত করছি : "‘৪০ বছর অপেক্ষা করেছি, আর নয়, ট্রানজিট হবেই।’" এই ভারতপ্রেমী দুষ্টের শিরোমনি কে?

অনেকেই বুঝতে পারছেন তিনি কে। যারা পারছেন না, তাদেরকেও জানাচ্ছি । তবে তার আগে একটা ক্ষুদ্র ভূমিকা এবং নিজের ঢোল খানিকটা পিটিয়ে নিচ্ছি ।
৪/৫দিন আগের কথা । ঈদের ছুটি অলস সময় কাটাচ্ছিলাম । এই ফাঁকে ভাবলাম আমার দীর্ঘদিনের গবেষণায় পাও্য়া কালপ্রীটদের নাম ব্লগে প্রকাশ করি ।বাংলাদেশে সক্রিয় সিক্রেট সোসাইটি: গত ৫ বছর ধরে (কমপক্ষে) তারাই চালাচ্ছে বাংলাদেশ (এই লেখাটা পড়ার কারণে তারা আপনাকে খুন করতে পারে, সাবধান!!!) এই শিরোণামে লেখাটা পোস্টাইলাম । তখনো উইকিলিকসের নথি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু হয় নি বাংলাদেশের সংবাদ মাদ্হ্যমে , তাই তার নামটাও সেইভাবে সন্দেহের তালিকায় আসে নি হয়তো । তবে তখনো তনি টক অব দ্য কান্ট্রি ছিলেন মনমোহন-সফর ইস্যুতে। মজা হইলো ব্লগটা ছাপানোর পর বেশীরভাগ পাঠক আমারে পাগল ঠাউরাইসে, পাত্তা দেয় নাই । কিন্তু এরপর উইকিলিকসের নথিগুলা দেইখা বুঝলাম, আমার ঢিলটা ঠিক জায়গাতেই ছিল ।
এবার দেখা যাক উইকিলিকস কী বলে এবং এই প্রসংগে তিনি কী বলেন ; বক্তব্য জোরালো করতে আগের মতই পর্যাপ্ত লিংক সরবরাহ করা হয়েছে , সুতরাং মতামত দিতে চাইলে গঠনমূলক মতামত দিন ।

প্রথমেই দেখি প্রথম আলো পত্রিকা(পৃষ্ঠা # ৩)

গওহর রিজভী: হাসিনা ও রেহানার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত লোক গওহর রিজভী। তিনি জয়েরও পরামর্শক। রিজভী হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টের (কেএসজি) আশ ইনস্টিটিউটের প্রধান ছিলেন। জয়কে এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেন। ২০০৭ সালের শীতে তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদকে হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেওয়ার আয়োজন করেন গওহর। ওই সফরের সময় হাসিনার মুক্তির বিষয়ে জয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে আলোচনা করেন মঈন। সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে ২০০৮ সালের গ্রীষ্মে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা গোলাম কাদের ও হোসেন জিল্লুর রহমান ওয়াশিংটনে হাসিনা ও রেহানার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। সেখানেও রিজভী উপস্থিত ছিলেন। তিনি হাসিনাকে নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। ভারতে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হিসেবে রিজভী অতীতে কাজ করেছেন এবং ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।

এরপর মানবজমিন
শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মতৎপরতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি ওয়াশিংটনে পাঠানো গোপন তারবার্তায় একথা উল্লেখ করেছেন বলে উইকিলিকসে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে। জেমস এফ মরিয়ার্টি ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় লিখেছেন, গওহর রিজভী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তাদের সৃষ্টিশীলতা ও লক্ষ্যের অভাব রয়েছে। ওই বার্তায় বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ১০ই জানুয়ারি সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রিজভী জানান, নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সফরের প্রেক্ষাপট সৃষ্টির লক্ষ্যে চতুর্থ দফা আলোচনা শেষে ৮ই জানুয়ারি দিল্লি থেকে তিনি ঢাকা ফিরেছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে গওহর রিজভী জানান, ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এসব আলাপ-আলোচনা সরকারের মধ্যে গোপন রাখা হবে। শেখ হাসিনার ভারত সফর একদিন দীর্ঘায়িত করাকে গওহর রিজভী ‘অন্তর্ঘাতমূলক’ বলে মত দেন। রিজভীর মতে, এই ২৪ ঘণ্টার বিলম্ব বিরোধী দল ও গণমাধ্যমকে ভারত সফরের বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা করে দেয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।



এবং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতবছর ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর পুরো আস্থা রাখতে পারেননি। উইকিলিকস জানাচ্ছে, সফরের পুরো পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা।

এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয় সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগে।

২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি শেখ হাসিনা যেদিন দিল্লি পৌঁছান, সেদিন সকালে এক বৈঠকে এই সফরের উদ্দেশ্য ও নির্ধারিত বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি ১০ জানুয়ারি রাত ৯টার পর ওই বার্তাটি ওয়াশিংটনে পাঠান। গত ১৬ মার্চ ওই বার্তাটি প্রকাশ করে উইকিলিকস।

ভারতে রূপান্তরমূলক (ট্রান্সফরমেশনাল) সফরের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তুতি শিরোনামের ওই বার্তায় দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী যাতে কলকাতায় যাত্রাবিরতি না করে একদিন আগেই দেশে ফিরে আসেন তা নিয়ে যথেষ্টই চিন্তিত ছিলেন রিজভী। ভারতে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা রিজভী ভণ্ডুল (স্যাবোটাজ) করে দেন বলেও মরিয়ার্টির বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

আমলাদের ওপর অনাস্থা

গোপন বার্তার সার সংক্ষেপে মরিয়ার্টি বলেন, ২০০৯ সালের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে ১০ জানুয়ারি নয়াদিল্লি পৌঁছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমলাতান্ত্রিক মন্থরতার বিষয়টি উপলব্ধি করে সফরের যাবতীয় প্রস্তুতির দায়িত্ব নিজের কার্যালয়ের ওপর ন্যস্ত করেন তিনি।

"তার উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, এই সফরের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের রূপান্তর ঘটবে বলে আশা করছেন তারা।"

বার্তায় মরিয়ার্টি বলেন, "হাসিনা ও তার সহযোগীরা মনে করেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতির মাধ্যমে নয়াদিল্লি তার প্রতিবেশীদের দেখাতে চাইবে যে, আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে ভারত নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে চায়।

কিন্তু ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তিকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে 'প্রধানমন্ত্রীকে যথেষ্ট মনোযোগী বলে মনে হচ্ছে না' বলেও মন্তব্য করেছেন মরিয়ার্টি।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়ন হলে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি আসবে উল্লেখ করে মরিয়ার্টি বলেন, "এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থ রক্ষা হবে।"

উইকিলিকসে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে চার দফা বৈঠক শেষে ৮ জানুয়রি নয়াদিল্লি থেকে ঢাকা ফেরেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এরপর ১০ জানুয়ারি সকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।

উপদেষ্টা মরিয়ার্টিকে জানান, ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের 'রূপান্তর' ঘটানোর লক্ষে সমঝোতার 'মঞ্চ' প্রস্তুত করা হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের অল্প কয়েকজন ছাড়া সবার কাছেই গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও (দিপু মনি) এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় মাত্র এক সপ্তাহ আগে। চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও মশিউর রহমানকে শেষ মুহূর্তে এতে সম্পৃক্ত করা হয়।

বার্তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমলাতন্ত্রের বিষয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিজভী। আমলাদের সৃজনশীলতা ও দূরদৃষ্টির অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভীর প্রস্ততি বৈঠক


উইকিলসের নথির তথ্য অনুযায়ী, রিজভী রাষ্ট্রদূতকে বলেন, হাসিনা-মনমোহন শীর্ষ সম্মেলনের আগে ভারতীয়রা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ট্রানজিট ও আন্তঃযোগাযোগ-সংক্রান্ত চুক্তিগুলোর ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিল। রিজভীর সঙ্গে ভারতীয় কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি বৈঠকে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করতে দেওয়া নিয়ে যে আলোচনা হয় তার মধ্যে সবচে বেশি বিতর্ক হয় মংলা বন্দর নিয়ে। কারণ এর ফলে কলকাতা বন্দরের বাণিজ্য খুলনায় স্থানান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রস্তুতি বৈঠকে সমুদ্রসীমা নিয়ে সবচেয়ে বেশি জটিলতার সৃষ্টি হয় বলে মরিয়ার্টিকে জানান রিজভী। তিনি জানান, বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছে 'একতরফা' দাবি পেশ করায় ভারতীয়রা হতাশ হয়েছে।


'স্যাবোটাজ'


রিজভীকে উদ্ধৃত করে মরিয়ার্টির বার্তায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী আজমির জিয়ারত শেষে ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় না ফিরে কলকাতায় যাত্রাবিরতি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি 'ভুল' করতে যাচ্ছিলেন। তবে যাত্রাবিরতির সেই পরিকল্পনা 'স্যাবোটাজ' করে দিয়েছেন বলে রাষ্ট্রদূতকে জানান রিজভী।

এর পেছনে নিজের যুক্তি তুলে ধরে রিজভী তাকে বলেন, দেশে ফিরতে ২৪ ঘণ্টা দেরি হলে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে নিজের সফরের অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য তুলে ধরার আগেই সংবাদমাধ্যম ও বিরোধী দল অপপ্রচার চালানোর সুযোগ পেয়ে যাবে।



ঢাকায় নয়, ব্রিফ করেছি ওয়াশিংটনে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী দিলি্ল সফরের দিন সকালে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির কাছে যাননি। তিনি দিলি্ল থেকে ওয়াশিংটন গিয়েছিলেন ব্রিফ করতে। বিকল্পধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস বিতর্কের মুখে পতিত ড. গওহর রিজভী গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য জানান। বলেন, উইকিলিকস যা বলেছে তা পুরোটাই অসত্য। ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি যেদিন সকালে শেখ হাসিনা দিলি্ল পেঁৗছান সেদিন সকালেই নাকি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়ে সফরের উদ্দেশ্য ও নির্ধারিত বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে অবহিত করেন। উইকিলিকসের এমন তথ্যকে ড. রিজভী তিনবার অসম্ভব, অসম্ভব, অসম্ভব বলে উড়িয়েই দেননি, বলেছেন একেবারেই মিথ্যা, বাজে কথা ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, সেদিন সকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েই ছিলেন এবং তার মরিয়ার্টির সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎই হয়নি। ১৩ জানুয়ারি ড. গওহর রিজভী দিলি্ল থেকে ওয়াশিংটন যান এবং সেখানে তিনি এই সফর নিয়ে ১৪/১৫ তারিখের দিকে ব্রিফ করেন। কারণ বিষয়টিতে দেশের অর্থনেতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় যুক্ত ছিল। আমেরিকার সাহায্য-সহযোগিতা, বিশ্বব্যাংকের অর্থনৈতিক সহায়তার দরকার ছিল জানিয়ে গওহর রিজভী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তিনি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ কাউন্সিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও সংস্থাকে ব্রিফ করেন। ড. গওহর রিজভী জানান, দিলি্ল থেকে ঢাকায় ফিরে ব্রিফ করার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির। তিনি ব্রিফ করেছিলেন কি না তা তার জানা নেই। এ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। ভদ্র-বিনয়ী-মেধাবী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়ে উইকিলিকস তথ্য দিয়েছে, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভারতে গুরুত্বপূর্ণ সফরে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর পুরো আস্থা রাখতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উইকিলিকসে প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক নথির তথ্য বলছে, অতি গোপনে সেই সফরের পুরো পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয় সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগে। ড. গওহর রিজভী বলেন, এমন তথ্য প্রদান মানুষকে বিভ্রান্ত করাই নয়, তার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির যে সুসম্পর্ক রয়েছে তা শিথিল করানোর লক্ষ্যে এমনটি কেউ করিয়েছে। এতে তিনি ব্যথিত। এটা দুঃজনক বলে মন্তব্য করে গওহর রিজভী জানান, তারা পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ। ডা. দীপু মনির স্বামীর সঙ্গে তার ৫০ বছরের পুরনো সম্পর্ক।

উইকিলিকসের তথ্যে বলা হয়, ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টি ১০ জানুয়ারি রাত ৯টার পর ওই বার্তাটি ওয়াশিংটনে পাঠান। গত ১৬ মার্চ বার্তাটি প্রকাশ করে উইকিলিকস। 'ভারতে রূপান্তরমূলক সফরের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তুতি' শিরোনামের ওই বার্তায় দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী যাতে কলকাতায় যাত্রারিতি না করে একদিন আগেই দেশে ফিরে আসেন তা নিয়ে যথেষ্টই চিন্তিত ছিলেন রিজভী। ভারতে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা ড. রিজভী ভণ্ডুল (স্যাবোটাজ) করেছেন বলেও মরিয়ার্টির বার্তায় উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিস্ময়ভরা কণ্ঠে ড. গওহর রিজভী বলেন, কি বাজে কথা। তিনি এটা করতে যাবেন কেন? তিনি বলেন, আপনারা মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টির সঙ্গে কথা বলুন। দেখবেন, তিনিও বলবেন, উইকিলিকসের বার্তায় সত্যের চিহ্ন নেই। উইকিলিকসের তথ্যানুযায়ী গোপন বার্তায় মরিয়ার্টি বলেন, ২০০৯ সালের শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি নয়াদিলি্ল পেঁৗছেন শেখ হাসিনা।

আমলাতান্ত্রিক মন্থরতার বিষয়টি উপলব্ধি করে সফরের যাবতীয় প্রস্তুতির দায়িত্ব নিজের কার্যালয়ের ওপর ন্যস্ত করেন তিনি। তার উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, এই সফরের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের রূপান্তর ঘটবে বলে আশা করছেন তারা। বার্তায় মরিয়ার্টি বলেন, হাসিনা ও তার সহযোগীরা মনে করেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতির মাধ্যমে নয়াদিলি্ল তার প্রতিবেশীদের দেখাতে চাইবে যে, আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে ভারত নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে চায়। কিন্তু ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তিকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে যথেষ্ট মনোযোগী বলে মনে হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেছেন মরিয়ার্টি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়ন হলে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি আসবে উল্লেখ করে মরিয়ার্টি বলেন, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থ রক্ষিত হবে। উইকিলিকসে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে চার দফা বৈঠক শেষে ৮ জানুয়ারি নয়াদিলি্ল থেকে ঢাকা ফেরেন উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এরপর ১০ জানুয়ারি সকালে মরিয়ার্টির সঙ্গে দেখা করেন রিজভী। ড. রিজভী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান, ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের 'রূপান্তর' ঘটানোর লক্ষ্যে সমঝোতার 'মঞ্চ' প্রস্তুত করা হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের অল্প কয়েকজন ছাড়া সবার কাছেই গোপন রাখা হয়। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় মাত্র এক সপ্তাহ আগে। চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও মশিউর রহমানকে শেষ মুহূর্তে এসে সম্পৃক্ত করা হয়। বার্তা অনুযায়ী রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমলাতন্ত্রের বিষয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন ড. রিজভী। আমলাদের সৃজনশীলতা ও দূরদৃষ্টির অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব নিয়ে গওহর রিজভীর নজর কাড়তে চাইলে বলেন, তিনি পদ্মা সেতুর এলাকা থেকে ঢাকা ফিরছেন। ফিরে পুরোটা পড়বেন এবং বলবেন। তবে তাকে যতবারই প্রশ্ন করা হবে ততবারই তিনি বলবেন, ওই সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টির সঙ্গে তার কোনো বৈঠকই হয়নি। ।সূত্র :

.
আরো দেখুন :

Click This Link


(অসমাপ্ত)
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা কখনো স্থায়ী না।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:১০




গ্রামের এক গরিব ছেলের নাম ছিল রাকিব। ছোটবেলা থেকেই সে একটা জিনিস খুব বুঝতে চাইতো- এই পৃথিবীতে আসলে সবচাইতে ক্ষমতাবান কে?

একদিন সে দেখল পুরো গ্রামের মানুষ চেয়ারম্যান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মি মিজানুর রহমান সিনহা সাহেবের ম্ৃত্যুতে কিছু কথা মনে পড়ছে।

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৮

মি মিজানুর রহমান সিনহা (৮২), ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এক্‌মি ল্যাবরেটরিজ মারা গেছেন। শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত ২টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ কি শুধু মক্কায় রয়?

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯

মক্কা গিয়ে "আল্লাহ খোঁজো" আল্লাহ শুধু মক্কায় রয়?
পাশের ঘরে ভুখা জাগে নিভৃতে তার রাত ফুরোয়।
পাশের ঘরের ভুখা জানে রাত কিভাবে প্রভাত হয়!
— শ্রাবণ আহমেদ ...বাকিটুকু পড়ুন

শোকের দিনে উল্লাস: শুরু হলো কখন থেকে?? বাংলাদেশের রাজনীতির নৈতিক পতনের এক কালো অধ্যায়

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩






বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, ছিল জাতির নৈতিক বোধের ওপর নির্মম আঘাত। একজন জাতীয় নেতার শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে একটি দলের নেত্রীর তথাকথিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে, পর সোনালি চেলি নব সোনাল ফুলে......

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:১৬


সেই ছোটবেলায় আমার বাড়ির কাছেই একটা বুনো ঝোপঝাড়ে ঠাসা জায়গা ছিলো। একটি দুটি পুরনো কবর থাকায় জঙ্গলে ছাওয়া এলাকাটায় দিনে দুপুরে যেতেই গা ছমছম করতো। সেখানে বাস করতো এলাকার শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×