somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে সক্রিয় সিক্রেট সোসাইটি: গত ৫ বছর ধরে (কমপক্ষে) তারাই চালাচ্ছে বাংলাদেশ (এই লেখাটা পড়ার কারণে তারা আপনাকে খুন করতে পারে, সাবধান!!!)

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Update : দুষ্টের শিরোমনি, লংকার রাজা : উইকিলিকসের প্রতিবেদন তোমার মুখোশ খুলে দিচ্ছে

আপডেট :

১২:৩৩(বুধবার) মধ্যরাত
লেখাটা দিয়েছিলাম আজ দুপুরে । বাংলাদেশের কিছু হোমরা-চোমরা-র নাম ছিল সেটাতে । ফোনে একটা হালকা হুমকি পেয়েছি, কেউ ফান করেছে হতে পারে । কিছু মন্তব্য পেয়েছি , যার মূলভাব - আমার মাথা খারাপ হয়েছে, আমার রেস্ট নেয়া দরকার - হেনো-তেনো ।

লেখার অনেকটাই হাইপোথেটিকাল, এটা সত্যি । কিন্তু কল্পনাপ্রসূত নয় ।.আমার প্রত্যেকটা অনুমানের পেছনে যুক্তি আছে এবং প্রত্যেকটা সাক্ষ্য প্রমাণের লিংক দেয়ার চেষ্টা করেছি । সেই লিংকগুলো দেখার পরে যদি মনে হ্য় অযৌক্তিক মনে হ্য় সমালোচনা করুন এবং সেটা যুক্তি দিয়ে । ভাল না লাগলে পড়বেন না । কিন্তু প্লীজ , অযৌক্তিক ফালতু উপদেশ দেবেন না ।

আরেকটা ব্যপার পরিষ্কার করা দরকার । আমি সিক্রেট সোসাইটি বলতে সেই প্রাচীন ফ্রাটারনিটি ভাবধারা, ডেমন্স সাইন, - ইত্যাদি বোঝাচ্ছি না । প্রাচীন সিক্রেট সোসাইটির মত এটার কোনো ধর্মীয় ভিত্তি না-ও থাকতে পারে । এটা একটা বা একাধিক গোপন দল, যারা পৃথিবীটাকে নিজের মত করে চালাতে চাইছে বা ক্ষমতার গোপন কেন্দ্রবিন্দু হতে চাইছে । মোদ্দাকথা, তাদের মূল লক্ষ্য ক্ষমতা ও নি্যন্ত্রণ ।

আমার শুভানুধ্যায়ীরা অনেকে লেখাটা দিতে বারন করেছিল , আমার কোনো বিপদ হতে পারে ভেবে । এখন এমন যুগ , রাতেরবেলা বেরুলেই সন্ত্রাসী হতে হয়, রাস্তায় বেরুলে দূর্ঘটনায় পড়তে হয়, ফেসবুক স্ট্যটাস দিয়ে আদালতের কোপানলে পড়তে হয় । আগুন নিয়ে খেলার চেষ্টা হয়ে গিয়েছে, তা হোক- ব্যপারনা । আমি জানিনা বিপদ হবে কীনা। তবে যদি বিপদ না হয় লেখাটা নিয়মিত আপডেট করব, ইনশাআল্লাহ ।


মূল লেখা :

সিক্রেট সোসাইটি, যারা গোটা বিশ্বের ক্ষমতা হাতের মুঠোয় নিতে চায় । বাংলাদেশে সক্রিয় সিক্রেট সোসাইটি: গত ৫ বছর ধরে (কমপক্ষে) তারাই চালাচ্ছে বাংলাদেশ ...তাদের সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাই ড্যান ব্রাউনের বই পড়ে । তারপরেই নির্দোষ কৌতুহল থেকে খুজঁতে থাকি তাদের কার্যকলাপ । আর এই অনুসনধানেই খুঁজে পাই কিছু চমকে যাবার মত তথ্য , বাংলাদেশে সিক্রেট সোসাইটির সক্রিয় সদস্যদের মুখোশ খুলে যায় আমার সামনে । আপনাদের জন্য সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম প্রকাশ করছি, সহমত-দ্বিমত যা'ই থাকুক জানাবেন ।

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক সিক্রেট সোসাইটি কী
উইকিপিডিয়া-তে এই সম্পর্কীত খুব বেশী কিছু পেলাম না । মামুন বিদ্রোহীর ব্লগ থেকে সিক্রেট সোসাইটি ( পর্দার আড়ালের বিশ্ব) থেকে কিছু অংশ তুলে দিলাম ।

''যখন চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রে বিশ্বাসের প্রশ্ন আছে, তখন এই ষড়যন্ত্রকারীর তালিকায় আমেরিকানরা কোন অংশে দ্বিতীয় হওয়ার মতো না। যারা এই স্টেটমেন্ট এ বিশ্বাস করে তাদের মতে ষড়যন্ত্রকারীরাই আমেরিকাকে ২য় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল যার অজুহাত ছিলো জন. এফ কেনেডির বিশ্বাসঘাতকতামূলক গুপ্ত হত্যা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে এইচআইভি ছড়ানো। এবং ষড়যন্ত্র ধাপের সর্বচ্চে অবস্থান করে আছে সেই সিক্রেট সোসাইটি এবং ধারণা করা হয় তারাই পুরো বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়টা নিশ্চিত যে কিছু মানুষ যে কোন প্রেসিডেন্ট, রাজা কিংবা একনায়কের চাইতেও অধিক ক্ষমতা রাখেন। কারা এই সুক্ষ ষড়যন্ত্রকারী এবং কেনইবা তাদের সর্বক্ষমতাধর ধারণা করা হয়?

সুইজ্যারল্যাণ্ডের সশস্ত্র বাহিনী পাহারা দেয় বিশ্বের ক্ষমতাবান এলিটদের, ধোয়ায় আচ্ছন্ন একটি কক্ষে বসে ক্ষমতাবান গুপ্তচরগন বিশ্ব অর্থনীতি নিপূণভাবে পরিচালনা করে---- ধারনা অনুযায়ী এগুলো কিছু মার্কিন সিক্রেট সোসাইটির কার্যকলাপ। যেমন- Bilderberg, Skull and Bones এবং trilateral commission। অনেক পরিচিত এবং বিখ্যাত কিছু মুখ এই সিক্রেট সোসাইটির সাথে যুক্ত, হেনরি ক্যাসিঞ্জার (Henry Kissinger ), ডেভিড রকারফিলার (David Rockefeller ) বিল ক্লিন্টন (Bill Clinton )....সহ আরো অনেকে। তবে সোজাসুজিভাবে ধরে নেওয়া যায় একশ জন উচ্চপদস্থ এবং অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ আছেন যারা এই সিক্রেট সোসাইটির প্রাণশক্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিকটতম ইতিহাস থেকে কিছু সিক্রেট সোসাইটির অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়। যেমন- Freemason এবং ArtFellas। তাদের অফিসিয়াল সঙ্কেত বা সিম্বলগুলো অসংখ্য চটুলতা এবং ফটকাবাজিতার প্রমাণ বহণ করে। বর্তমানে অল্পসংখ্যক কিন্তু ক্রমবর্ধমান ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের (conspiracy theorist) মতে এই রহস্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোই অশুভ চক্রের মূল হোতা। এটা সত্য যে প্রতিটি দৃশ্যের পিছনে এবং প্রতিটি স্পষ্টতই সম্পর্কহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর পেছনে একটি গোপন হাত কাজ করছে। এবং তারা অগ্রসর হচ্ছে অদৃশ্য একটি এজেন্ডা নিয়ে কিছু বিষয় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। যেমন- বিশ্ব শাষণব্যবস্থা, বিশ্বব্যাংক, কারেন্সি, বিশ্ব অর্থনীতি এবং ক্ষুদ্র জনগষ্ঠী। এসব সিদ্ধান্ত কখনো প্রকাশ্যে হয় না কারণ আমরা যদি প্রকৃত এজেন্ডা বা আলোচ্যসূচি জেনে যাই, তা কখনেই হয়তো মেনে নেওয়া সম্ভব হবে না।



যদি আমরা ইতিহাস দেখি তাহলো আমরা দেখবো ষড়যন্ত্রের একটা লম্বা লিস্ট যা কখনো ষড়যন্ত্র চলাকালে ধরা পড়ে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের প্রায় কয়েক দশক পরে এই ষড়যন্ত্রের অংশবিশেষ বিশ্ববাসী জানতে পারে। এমনকি গ্রীক মিথলজির সেই ডেল্ফী মন্দিরে (The Temple of Delphi) কোন গডের অস্থিত্ব বাস্তবে ছিলো না, এটাও ছিলো একটা ষড়যন্ত্রের অংশ বলে প্রতিয়মান হয়। মুসলীম বিশ্বও এই ষড়যন্ত্রের উর্ধে নয়।

নীল আর্মস্ট্রং এর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং কয়েক দশক পর যা ভুয়া প্রমাণিত হয়- এই বিতর্কের মধ্যেও ছিলো সুক্ষ ষড়যন্ত্র যা এখন অনেকটাই স্পষ্ট।

নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে বসে কিছু শব্দ শুনেছিলেন, যেগুলোকে তিনি তখন বুঝতে পারেন নি কিন্তু পৃথিবীতে ফিরে তিনি সেই শব্দগুলোর সাথে আযানের শব্দের সাথে মিল পান। সুতরাং চাদ থেকে ফিরে এসে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। অথবা নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে গিয়ে দেখতে পান চাঁদের বুকে একটি বড় রেখা যা কোনআনে বর্ণিত হযরত মুহাম্মদ (স) এর ইশারায় চাঁদের দিখণ্ডিত হয়ে যাওয়ার প্রমাণ বহন করে। এগুলাই মোটামুটি নীল আর্মস্ট্রং নিয়ে মুসলীম সমাজে প্রচলিত গালগপ্প। নীল আর্মস্ট্রং কি সত্যিই ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেছিলেন? না, বছর খানেক আগে তিনি নিজেই মিডিয়ার সামনে বিষয়টি স্পষ্ট করেন। নীল আর্মস্ট্রংকে নিয়ে যখন এ বিতর্ক তুঙ্গে তখন তিনি নিজে একেবারেই লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতেন। কিন্তু কেন? আমরা যদি উনিশ শতকের মাঝামাঝির বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করি তাহলে সহজেই বিষয়টা অনুমান করা যায় যে নীল আর্মস্ট্রং নাটকে কোন আমেরিকান সিক্রেট সোসাইটির ইন্ধন রয়েছে।

বিশ্বে তখন সমাজতন্ত্রের জয় জয়কার চলছিল এবং ভেঙে পড়ছিলো পুঁজিবাদ তথা ধনতন্ত্র রক্ষার সর্বৎকৃষ্ট হাতিয়ার ধর্ম। এখন পুঁজিবাদ বা ধণীকশ্রেণী রক্ষার স্বার্থে অবশ্যই ধর্মগুলোকে আগে রক্ষা করতে হবে। করণ এই ধর্মীয় সিম্পেথিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের একটি বিরাট জনগোষ্ঠিকে বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যাস্তরাখা সম্ভব হবে এবং এর অন্তরালে একের পর এক নীলনকশা বাস্তবায়ন করে যাবে টিকে থাকবে ধণীকশ্রেণী। যেমন- ইরাকের তেলাবিব, ফিলিস্তিনের বায়তুল আকসা, ভারতের কাশ্মির, আফগানিস্থানের তালেবান, পাকিস্তানের শিয়া-সুন্নি বিরোধ...এসব জিয়ে রেখে হুজুগে, ধর্মান্ধ এবং তুলনামূলকভাবে অশিক্ষিত অর্থশিক্ষিত দেশগুলোকে সদাব্যস্ত রাখা হয়। এবং এরই অন্তরালে একের পর এক আত্নঘাতি চুক্তি-স্বাক্ষর এবং নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হয় যা থেকে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে।''


বাংলাদেশে কারা এর প্রতিনিধিত্ব করছে?
বুশ ক্লিনটন ,হালের বারাক ওবামা, জর্জ ওয়াশিংটন, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, গুস্তাভ আইফেল এমনকি এফবিআইয়ের প্রথম ডিরেক্টর জে এডগার হুভার পর্যন্ত সবাই ফ্রিমেসন সোসাইটির সদস্য বলে জানা যায় । এটি কোন কাল্পনিক সোসাইটি নয় এবং সিক্রেট সোসাইটিও নয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং বাকি পৃথিবীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষই এই অতি প্রাচীন সংগঠনটির সদস্য। সিক্রেট সোসাইটি-র বেশ কিছু সক্রিয় ও শক্তিশালী গ্রুপ আছে । অন্যতম শক্তিশালী গ্রুপ হচ্ছে
ফ্রিমেসন "ফ্রিমেসনারী" নিয়ে একটি ভিডিও

ফ্রীমেসনদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন সিসিল রোডস । জিম্বাবুয়ের পুরনো নাম রোডেশিয়া, যা নামকরণটা হয়েছে তার নাম থেকেই । তার সম্পদ থেকে এখন প্রবর্তিত আছে রোডস স্কলারশীপ , যেটাকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর সবচে মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি । বলা হয়ে থাকে তরুন রোডস স্কলাররা মূলত: ফ্রীমেসনারির সদস্য ।

এই সুত্রটা পাওয়ার পর খুঁজতে শুরু করলাম বাংলাদেশে রোডস স্কলার কারা আছেন । পাওয়া গেল আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমেদ একজন রোডস স্কলার ! তাহলে সূত্রমতে তিনি নিশ্চয়ই ফ্রীম্যসন সিক্রেট সোসাইটির সদস্য । তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ পদ এ ছিলেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে সরকারের প্রশাসনিক পদে যোগ দিয়েছিলেন হ্য়ত নিজের সিক্রেট সোসাইটির নির্দেশেই । আবার তাদের বদৌলতেই নিশ্চয়ই বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নরের পদের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছিলেন (তাঁর মেধাকে অস্বীকার করছি না) ।যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে তাঁকে প্রধান উপদেষ্টার পদে বসিয়েছিলেন কে?
নিশ্চয়ই জেনারেল মইণ ইউ আহমেদ , একজন হার্ভার্ড গ্রাজুয়েট । ভাল, এইখানে হালকা আমেরিকান ফ্লেভার পাওয়া যাচ্ছে , সাথে হার্ভার্ডের গন্ধ । তাহলে মইন- এর সাথে কী সিক্রেট সোসাইটির কোনো সম্পর্ক আছে? থাকতে পারে ।

দ্বিতীয় রোডস স্কলার যাকে পাওয়া গেল তিনি হলেন গওহর রিজভি , শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা । তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে তিনিই বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কগুলো নিয়ন্তরণ করছেন । হার্ভার্ড দ্বন্দ নিরসনের উপরে কোর্স করে আসা পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপুমনি এবং এডওয়ার্ড ম্যাসন স্কলার , হার্ভার্ড গ্রাজুয়েট বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সচিব, পররাস্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস আসলে কতটুকু প্রভাব রাখতে পারছেন ? আজকে তাই প্রশ্ন উঠছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালায় কে? এখানে দুজনের ব্যকগ্রাউন্ডেই দেখা যাচ্ছে হার্ভার্ডের নাম । ঘটনা কী? সেটা জানার আগে গওহর রিজভী সম্পর্কে আরো কিছুটা জেনে আসি ।

তিনি পড়ালেখা করেছেন অক্সফর্ডের ট্রিনিটি কলেজে একজন রোডস স্কলার হিসেবে । পড়িয়েছেন হার্ভার্ডে (আবারো হার্ভার্ড!!)। এখন ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়াতে শিক্ষক এবং গবেষক হিসেবে আছেন । ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়াইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া - যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সোসাইটির অন্যতম প্রাণকেন্দ্(৫টির মধ্যে ১টি)র বলে বিবেচিত ।আরো দেখুন এইখানেSecret societies at the University of Virginia Secret societies at the University of Virginia

নিচের অংশটুকু আমার দেশ পত্রিকার একটি রিপোর্ট থেকে নেয়া

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ৩৯ বছর তাকে এদেশে দেখা গেছে কমই। তবে বছর দেড়েক ধরে বাংলাদেশের সরকার তার উপস্থিতি অনুভব করছে প্রবলভাবে। আর নিজেকে তর্কে-বিতর্কে জড়িয়ে ফেলছেন অনায়াসে। ব্রিটেন ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী তিনি। তবে তার স্থায়ী ঠিকানা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজের ৭৯নং জন এফ কেনেডি স্ট্রিট। বড় একটা সময় কেটেছে ভারতে। লেখালেখি, ধ্যান-জ্ঞান, গবেষণা সবই ভারতকে ঘিরে। স্ত্রী ইতালির। পারিবারিক প্রধান ভাষা উর্দু, হিন্দি। সালামের পরিবর্তে ‘আদাব’ বলে সম্ভাষণ জানাতে অভ্যস্ত। ধর্মবিশ্বাসে কাদিয়ানী। সব মিলিয়ে এক রহস্যময় চরিত্র। বাংলাদেশের এ সময়ের সবচেয়ে ব্যস্ত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ড. গওহর রিজভী। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা। বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ ভাগ্য নির্ধারণ করছেন। দ্রুততম সময়ে ভারতকে ট্রানজিট-করিডোর দেয়ার বেপরোয়া ভূমিকার জন্য দেশজুড়ে হালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য শুনে অনেক সময় ভিমরি খেতে হয়। বুঝে উঠতে কষ্ট হয় তিনি কি ঢাকার না দিল্লির প্রতিনিধি। দেশপ্রেম, দেশের স্বার্থ বিষয়েও জ্ঞান দিয়ে চলেছেন তিনি। শোনা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে কিছুদিন পড়িয়েছেন তিনি। ড. রিজভীর পুরো পরিবার হালে অনেকটা আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো বাংলাদেশে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা পার্টনার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পারিবারিক জীবনে ড. গওহর রিজভীরা চার ভাই ও দু’বোন। তার বাবা মরহুম নাসির উদ্দিন হায়দার রিজভী। ভাইদের মধ্যে সবার বড়জন বিমানের ক্যাপ্টেন। তিনি ক্যাপ্টেন রিজভী হিসেবে পরিচিত। দ্বিতীয়জন হায়দার রিজভী। তিনি বিটিভিতে প্রোগ্রাম ম্যানেজার ছিলেন। পরে বৈশাখী টিভিতে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এখন কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও অংশীদার। তার স্ত্রী পোল্যান্ডের। ভাইদের মধ্যে তৃতীয় হচ্ছেন ড. গওহর রিজভী। তার স্ত্রী ইতালির নাগরিক। ছোট ভাই সৈয়দ আলী জওহর রিজভী সাধারণত শাহেনশাহ রিজভী হিসেবে পরিচিত। বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের সহযোগী সামিট এলায়েন্স পোর্ট লি, ওশান কন্টেইনার লি, ও গ্লোবাল বেভারেজ লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। গওহর রিজভীর দুই বোনই ইংল্যান্ড প্রবাসী এবং ব্রিটিশ নাগরিক। এছাড়াও ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে রিজভী পরিবার। সামিট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচালকের তালিকায় আরও রয়েছেন সোবেরা আহমেদ রিজভী, সৈয়দ ইয়াসের হায়দার রিজভী ও সৈয়দ নাসের হায়দার রিজভী।
২০০৯ সালের ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭ম উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. গওহর রিজভী। তিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতাদি এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। অন্য ৬ উপদেষ্টার মতোই তিনিও মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন রীতি ভেঙে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. গওহর রিজভী ওই বছরের ১৮ জুলাই বাংলাদেশে এসে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
ড. গওহর রিজভী উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে তার নামটি এদেশে খুব একটা পরিচিত ছিল না। নিয়োগের পর মিডিয়া অত্যন্ত কৌতূহল নিয়ে তার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে। খোদ সরকারি দলের অধিকাংশ নেতার কাছেও নামটি ছিল অপরিচিত।
উপদেষ্টা নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, কার্য প্রণালী বিধির ৩-এর বি (আই) ধারার আওতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গওহর রিজভীকে তার উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রায় পুরোটা সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতে বসবাসকারী ব্রিটিশ নাগরিক গওহর রিজভীকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগের বৈধতা নিয়েও তখন প্রশ্ন ওঠে। কেন তাকে উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে এবং কেনইবা বর্তমান শেখ হাসিনার সরকারে তার দোর্দণ্ড প্রতাপ সে সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে কিছুদিন পড়িয়েছিলেন তিনি। সে সুবাদেই প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা। তার চেয়েও বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায় ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী মইন-ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন জরুরি সরকারের সময়ে তার ভূমিকা। জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনের সেনা নায়কদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা ছিল তার। বিশেষত, সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার বহুল আলোচিত ও প্রভাবশালী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কারাগারে গওহর রিজভীর বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ডে সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে যে সেমিনারে জেনারেল মইন যোগ দিয়ে আলোচিত বক্তব্য দিয়েছিলেন তারও আয়োজক ছিলেন গওহর রিজভী। এছাড়াও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার বিষয়ে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের সঙ্গে সেতুবন্ধন রচনায় তার মুখ্য ভূমিকা ছিল বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সঙ্গে ড. গওহর রিজভীর গভীর সম্পর্কটাও বেশ কাজে লেগেছিল।
ড. গওহর রিজভীর অফিসিয়াল জীবন বৃত্তান্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনোভেশন এর পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারও আগে তিনি ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত একই সংগঠনের গভর্ননেন্স অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি প্রোগ্রামের উপ-পরিচালক হিসেবে নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালন করেন। ফাউন্ডেশনে যোগদানের আগে তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ইতিহাসে পিএইচডি করেন। এছাড়া ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গওহর রিজভী আফগানিস্তান, জেনেভা, ইসলামাবাদ ও কাবুলে ইউএনডিপি’র সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।
ড. গওহর রিজভী বেশ কয়েকটি জার্নালে একক ও যৌথভাবে লিখেছেন। তার বেশিরভাগ লেখাই ভারতের সমস্যা, সম্ভাবনা, পররাষ্ট্রনীতি, বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ে। ইন্দো-ব্রিটিশ রিলেশনস ইন রেট্রোসপেক্ট এবং বিওন্ড বাউন্ডারিজ শীর্ষক যৌথভাবে লেখা তার দুটি নিবন্ধ ভারতের উচ্চ পর্যায়ে প্রশংসিত।


অনেক্ষন থেকে লিখতে লিখতে ক্লান্ত লাগছে, পরে আবার আপডেট করব............।




সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৪৮
২৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা কখনো স্থায়ী না।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:১০




গ্রামের এক গরিব ছেলের নাম ছিল রাকিব। ছোটবেলা থেকেই সে একটা জিনিস খুব বুঝতে চাইতো- এই পৃথিবীতে আসলে সবচাইতে ক্ষমতাবান কে?

একদিন সে দেখল পুরো গ্রামের মানুষ চেয়ারম্যান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মি মিজানুর রহমান সিনহা সাহেবের ম্ৃত্যুতে কিছু কথা মনে পড়ছে।

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৮

মি মিজানুর রহমান সিনহা (৮২), ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এক্‌মি ল্যাবরেটরিজ মারা গেছেন। শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত ২টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ কি শুধু মক্কায় রয়?

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯

মক্কা গিয়ে "আল্লাহ খোঁজো" আল্লাহ শুধু মক্কায় রয়?
পাশের ঘরে ভুখা জাগে নিভৃতে তার রাত ফুরোয়।
পাশের ঘরের ভুখা জানে রাত কিভাবে প্রভাত হয়!
— শ্রাবণ আহমেদ ...বাকিটুকু পড়ুন

শোকের দিনে উল্লাস: শুরু হলো কখন থেকে?? বাংলাদেশের রাজনীতির নৈতিক পতনের এক কালো অধ্যায়

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩






বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, ছিল জাতির নৈতিক বোধের ওপর নির্মম আঘাত। একজন জাতীয় নেতার শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে একটি দলের নেত্রীর তথাকথিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে, পর সোনালি চেলি নব সোনাল ফুলে......

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:১৬


সেই ছোটবেলায় আমার বাড়ির কাছেই একটা বুনো ঝোপঝাড়ে ঠাসা জায়গা ছিলো। একটি দুটি পুরনো কবর থাকায় জঙ্গলে ছাওয়া এলাকাটায় দিনে দুপুরে যেতেই গা ছমছম করতো। সেখানে বাস করতো এলাকার শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×