somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শোকের দিনে উল্লাস: শুরু হলো কখন থেকে?? বাংলাদেশের রাজনীতির নৈতিক পতনের এক কালো অধ্যায়

১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :






বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, ছিল জাতির নৈতিক বোধের ওপর নির্মম আঘাত। একজন জাতীয় নেতার শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে একটি দলের নেত্রীর তথাকথিত জন্মদিন পালন ছিল ঠিক তেমনই এক অন্ধকার ও লজ্জাজনক অধ্যায়।
যে দিনে পুরো জাতি শোকাহত, যে দিনে ইতিহাস রক্ত, কান্না আর বেদনার স্মৃতি বহন করে, সেই দিনটিকেই ইচ্ছাকৃতভাবে আনন্দ-উৎসবের দিনে পরিণত করা কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক আচরণ নয়। এটি ছিল প্রতিপক্ষকে কষ্ট দেওয়ার বিকৃত মানসিকতা, শোককে অপমান করার এক নগ্ন রাজনৈতিক প্রদর্শনী।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই তথাকথিত জন্মদিন নিয়ে বছরের পর বছর যে বিতর্ক, অসঙ্গতি এবং প্রশ্ন ছিল, সেগুলোকে উপেক্ষা করেই সেটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতীকে পরিণত করা হয়েছিল। যেন উদ্দেশ্য একটাই, “তোমাদের শোকের দিনেও আমরা বিদ্রূপ করবো।”
সেই দিন থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এক বিষাক্ত সংস্কৃতি। প্রতিপক্ষ আর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলো না, তারা পরিণত হলো ঘৃণার বস্তুতে। মানবিকতা হারিয়ে গেল দলীয় উন্মাদনার নিচে। আর আজ যখন আমরা দেখি কারও মৃত্যুতে উল্লাস, কারও বিপর্যয়ে বিদ্রূপ, তখন অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এই নোংরা রাজনীতির বীজ বহু আগেই বপন করা হয়েছিল।
একটি জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতি তখনই ভয়ংকর হয়ে ওঠে, যখন শোকের প্রতিও ন্যূনতম সম্মান থাকে না। যে রাজনীতি মানুষের মৃত্যু, বেদনা এবং জাতীয় ট্র্যাজেডিকেও প্রতিশোধের অস্ত্র বানায়, সেই রাজনীতি কখনো সভ্য হতে পারে না।
ইতিহাস সবকিছু মনে রাখে। ক্ষমতার উল্লাস একদিন শেষ হয়, কিন্তু শোককে উপহাস করার দাগ ইতিহাসের পাতায় চিরকাল থেকে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×