
আমার ছোটোবেলায় ইলিয়াস কাঞ্চন সুপারহিরো। খুব সম্ভবত জীবনে প্রথম হলে দেখা সিনেমা ছিলো জবরদোস্ত। ইলিয়াস কাঞ্চন ও ওয়াসিম নায়ক। মোট তিনবার দেখেছিলাম। বাড়ির কাছে হল। সেভাবে কড়াকড়ি ছিলো না বা ছোটো বাচ্চা হিসেবে হয়তো গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এদিকসেদিক দিয়ে ঢুকে পড়ে ফ্রী দেখেছিলাম। প্রথমবার একা। পরে একবার বন্ধু নজরুল, আরেকবার বান্ধবী রুবি। আশেপাশে ছ-সাতটা সিনেমা হল ছিলো তখন। ঢাকাই সিনেমার প্রধান নায়ক সে সময় ইলিয়াস কাঞ্চনই। অন্যরা পরে। জসীম, রুবেলের শক্ত অবস্থান ছিলো। পাশাপাশি ওয়াসিম, রাজ্জাক, আলমগিরও জনপ্রিয়। মান্না তখন স্ট্রাগল করছিলো। নব্বই দশকের কথা। ইলিয়াস কাঞ্চন তুমুল জনপ্রিয়। নামেই সিনেমা হিট। মনে পড়ছে, এমনও হয়েছে, প্রায় সবগুলো হলেই ইলিয়াস কাঞ্চনের সিনেমা একযোগে চলছে। নিজেও তাঁর বেশকিছু সিনেমা হলে বসে দেখেছি। অনেক আগের কথা। সেভাবে সবকিছু আজ আর মনে নেই। তখন মোবাইল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট কিচ্ছু ছিলো না। মানুষের বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিলো সিনেমা। সিনেমা নিয়ে খুব চর্চা হতো। আমি আমার স্কুলের দুজন শিক্ষককে কাছের একটি হলে ইভিনিং শো দেখে ফিরতে দেখেছিলাম। লজ্জায় দৌড়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। শহরজুড়ে নিয়মিত মাইকিং, ক্যানভাস হতো। দলবেঁধে লোকজন সিনেমা দেখতে যেতো। পরিবার পরিজন নিয়েও যেতো বিভিন্ন আলোচিত সিনেমা দেখতে। এরকম একটি সিনেমার কথা মনে পড়ছে, হুমায়ুন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’। সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে হলে গিয়ে উপভোগ করেছিলো সবাই। সড়কে সার বেধে লোকজনকে হল অভিমুখে যেতে দেখেছিলাম ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ দেখতে। শুরুর দিকে হুমায়ুন আহমেদের প্রতিটি সিনেমাতেই এরকম হতো। নারীপুরুষ আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই একসাথে হলে গিয়ে উপভোগ করতো। তখন গ্রাম থেকে কোনও আত্মীয় শহরে এলে, প্রথম বায়না ধরতো হলে গিয়ে সিনেমা দেখার। আহা, সময় চলে যায়! মনে হচ্ছে যেন কিছুদিন আগের কথা, অথচ দীর্ঘ সময় কেটে গেছে মাঝে! সর্বত্র কতো কতো পরিবর্তন! ২০০০ সালে আমি ঢাকার শেওড়াপাড়ায় ছিলাম। বিন্দুবৃত্ত গলি। সেখানে মিলেনিয়াম উদযাপন করতে দেখেছি মানুষদের। সে কী উৎসব, আয়োজন, হৈচৈ! মুহুর্মুহু ফটকা ফোটানোর তীব্র আওয়াজ, ঝলমলে আতশবাজি, হৈহল্লা। দীর্ঘসময় ধরে চলেছিলো সে উদযাপন। যাই হোক আবার ইলিয়াস কাঞ্চনেই ফিরে আসি। ইলিয়াস কাঞ্চনকে দুয়েকবার কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। একবার শীতকালে শিল্পকলা একাডেমির প্রধান ফটকে আয়েশ করে চিতই পিঠা ভর্তা দিয়ে খেতে দেখেছিলাম। দীর্ঘকায় সুদর্শন লোক। স্যুট পরে ছিলেন; লাল বা বেগুনি রঙ। ইউনিক একটি রঙ। স্যুটে তেমন কমন নয়। সিনেমার নায়ক বলে কথা। ব্যক্তিত্ব, বেশভুষাতেই ফুটে ওঠে। তাঁর চোখ দুটো অদ্ভুত রকমের মায়াময়। বারবার চোখ চলে যায় চোখে। হা হা হা।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




