somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেম....

০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেমঃ সমর্থনের জায়গা থেকেই কিছু কঠিন কথা.....

ছয় মাস খুব দীর্ঘ সময় নয়- কিন্তু একটি সরকারের দিকনির্দেশনা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কিছুটা ধারণা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট সময়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যম, জনসম্পৃক্ততা, নাগরিকবান্ধব চিন্তা, আন্তরিকতা ও সততা নিয়ে আমার কোনো সংশয় নেই। তাঁর অনেক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা একজন ব্যক্তির সদিচ্ছায় হয় না- যোগ্য মানুষকে সঠিক জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে ফলাফল আদায় করাও নেতৃত্বেরই অংশ। এখানেই সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা চোখে পড়ছে।

দুঃখজনকভাবে অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে প্রত্যাশিত দক্ষতা দেখাতে পারেননি। কারও অতিকথন, কারও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, কারও প্রশাসনিক ব্যর্থতা বারবার সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অথচ এসব ব্যর্থতার পরও দৃশ্যমান জবাবদিহি বা কার্যকর সংশোধনমূলক ব্যবস্থা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

সব চাইতে বড় প্রশ্ন প্রশাসন নিয়ে। সরকারের ছয়মাস অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি দুদক এবং মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করতে ব্যার্থতা সরকারের সদিচ্ছা নিয়েই সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। একটি নতুন সরকার শুধু মন্ত্রী পরিবর্তন করলেই পুরোনো প্রশাসনিক সংস্কৃতি বদলে যায় না। প্রয়োজন দক্ষতা, জবাবদিহি এবং সরকারের নীতির প্রতি কার্যকর প্রশাসনিক সহযোগিতা। কিন্তু এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিতর্কিত ও অদক্ষ ব্যক্তিদের পুনর্বিন্যাস বা পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠছে। এটি চলতে থাকলে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।
বিশেষ করে তথ্য ও সম্প্রচার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, জনপ্রশাসন, সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে যে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেগুলো সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

জুলাইয়ের মতো একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের রাষ্ট্রীয় স্মরণ ও উপস্থাপনেও একাধিক ঘটনায় অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও প্রস্তুতির ঘাটতি চোখে পড়েছে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অতিথি নির্বাচন, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে আয়োজনে ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ (এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সচেতন থাকলে ইনস্ট্যান্ট সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীকে অপসারণ করতেন), ডকুমেন্টারি নির্মাণ এবং পরবর্তীতে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘর উন্মুক্ত করার প্রস্তুতির ঘাটতি- এসব ঘটনা নিছক ছোটখাটো ভুল বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
কারণ একটি সরকারের ছোট ভুলও কখনো কখনো রাষ্ট্রের বড় ভাবমূর্তি সংকটে পরিণত হয়।
Leadership is not only about having a vision; it is also about having the right team to deliver it.
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার ভালো কাজের প্রশংসা আমরা করব- কিন্তু ভুলকে ভুল বলতেও পিছপা হব না। কারণ আমরা সরকারের বিরোধিতা করার জন্য সমালোচনা করি না; সরকার যেন সফল হয়, সেই কারণেই সমালোচনা করি।

অন্ধ আনুগত্য কোনো সরকারের উপকার করে না। বরং চারপাশের মানুষ যখন শুধু প্রশংসা করতে থাকে, তখন নেতৃত্ব বাস্তব সমস্যাগুলো দেখতে পায় না।
তাই এখন প্রয়োজন কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত- কে যোগ্য, কে অযোগ্য; কে সরকারের সম্পদ, আর কে সরকারের বোঝা- সেটা নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা। প্রয়োজন হলে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করতে হবে, ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক সরকারের নীতি বাস্তবায়নের উপযোগী করে তুলতে হবে।
ছয় মাসে সবকিছু বদলে যাবে- এমন প্রত্যাশা অবাস্তব। কিন্তু ছয় মাসে ভুল চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া অবশ্যই সম্ভব।

শেষ কথা-
সমালোচনাকে শত্রুতা মনে করবেন না। অনেক সময় সবচেয়ে কঠিন কথাটিই সবচেয়ে আন্তরিক পরামর্শ।
সরকারের সাফল্য মানেই আমাদের সাফল্য; সরকারের ব্যর্থতার মূল্যও শেষ পর্যন্ত দিতে হয় জনগণকেই। তাই এখনো সময় আছে- ভুলগুলো স্বীকার করে, যোগ্য মানুষকে দায়িত্ব দিয়ে, প্রশাসনিক দূরদর্শিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে সরকার তার পথ সংশোধন করুক।
জনগণ প্রতিশ্রুতির চেয়ে ফলাফল দেখতে চায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১১
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ জানেনা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪২


কেউ জানেনা
আমার একটা জগৎ আছে,
খুব গহীনে, সংগোপনে,
বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা
একটা জগৎ....
নিজের জগৎ, নিজের মত
আমার একটা জগৎ লাগে।

রোজ বিকেলে কাজের পরে
একটু যখন অবসরে,
একটু সময় চায়ের কাপে
নিজের মত, নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদীরের জুলাই আন্দোলন: কারণটা কি একান্ত ব্যক্তিগত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০১


সালমান মুক্তাদীর বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েশন জগতের পথিকৃৎ। তার হাত ধরে এদেশে কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে কত তরুণ, তার কোনো হিসাব নেই। তার ভক্তের সংখ্যা অগণিত। তবে কাজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে পর্ণ এটাকের জনককে পাওয়া গিয়েছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৮



ব্লগার চারাগাছ সামুতে মডারেটর নেই বলে সন্দেহ করছেন। নিজের ধারণা পাকাপোক্ত করতে সামুতে পর্ণ এটাকের প্ল্যান করছেন। ইহা কি ব্লগার?

সামুতে পর্ণ এটাকের কারণে পর্ণ সাইটের ধুয়া তুলে বিগত সরকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ জানে না.....অপ্‌সরাপু মেইড মাই ডে!!!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১২

গানঃ কেউ জানে না
গানের লিংক - https://on.soundcloud.com/t6S1rpHbzq62HoSW98



হয়নি বলা হয়নি বলা...
সবচে' আপন যে জন ছিলো
সবচে' দূরের মানুষ সেও।
হঠাৎ কোথা হারিয়ে গেলো!
একটা অজান সূর।
কোন সুদূরে কোন অপারে
কোন সে অচিনপুর!


==========
কবিতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



যে কেউ যে কোনো ধরনের পোশাক পরে যে কোনো সমাজে যেতে পারেন, সাধারণত কেউ বাধা দেয় না। তবে সর্বসাধারণের ক্ষেত্রে “দৃষ্টিকটু” বলে একটি বিষয় উল্লেখ্যযোগ্য। যা সময় স্থান কাল পাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×