somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোন এক বৃস্টির দিনে শুরু হয়েছিল নতুন পথ চলা !!

২০ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব

ছুটির দিন বারান্দায় বসে পেপার পড়ছি । হঠাত করে খেয়াল করলাম বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি । রিদিতাটা কি করছে কে জানে । হয়তো রান্না করছে । রান্না করতে আবার সে খুব ভালবাসে । প্রায়ই নতুন নতুন রেসিপি ট্রাই করে আর আমাকে টেস্ট করতে বলে । টেস্ট করার সময় ও আমার দিকে এমনভাবে আগ্রহ ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে যে সে দৃষ্টি দেখলে আর বলতে পারি না যে খাবারটা এত জঘন্য হয়েছে যে গলা দিয়ে নামছে না । যাই হোক বৃষ্টির ফোঁটা আমাকেও স্পর্শ করলো ।

এমনই এক বৃষ্টির দিনে আমি রিদিতাকে ক্যাম্পাসে প্রথম দেখি ।

সেদিন ছিল বৈশাখের প্রথম দিন । পুরো ক্যাম্পাস নতুন বছরকে স্বাগত জানানোয় ব্যস্ত । রাস্তায় রাস্তায় আল্পনা । সবাইকে শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে সুন্দর লাগছিল । কিন্তু হঠাত করে বেয়াড়া বৃষ্টি কোথা থেকে যেন উদয় হল ।একটু আগেও যেখানে রোদে-গরমে সবাই অতিষ্ঠ থাকলেও হঠাত করে বৃষ্টির আবির্ভাব মোটেও স্বস্তির ছিল না । সবাই রাস্তার পাশের টঙের দোকানগুলোতে আশ্রয় নিল । আমিও তাই করলাম । টঙ্গওয়ালা মামার কাছ থেকে গরম চায়ের পেয়ালা নিয়ে যখন রাস্তার দিকে তাকালাম তখন কিছুটা অবাক হলাম ।

দেখি একটা মেয়ে মনের আনন্দে নাচতে নাচতে বৃষ্টিতে ভিজছে । বৃষ্টির পানিতে তার সাদা-লাল শাড়ি ভিজে একাকার , চোখের কাজল পানিতে ধুয়ে মুখ বেয়ে পরছে । হাসি দেখে মনে হল যেন সেই হাসিতে মুক্তো ঝরে । আমি চায়ের পেয়ালা হাতে নিয়েই তাকে দেখতে থাকলাম । বুকের ভিতর কেমন চিনচিনে ব্যাথা শুরু হল । মনে হল , এই মেয়ে যদি আমার জীবনসঙ্গী হত !! হঠাত দিপ্ত এসে আমাকে ঝাঁকি দিয়ে বলল ,

- কিরে চা তো ঠান্ডা হয়ে গেল ।
আমি চোখ না সরিয়েই দিপ্তকে প্রশ্ন করলাম
- ঐ মেয়েটা কে রে ?
- কেন ? প্রেমে পরেছিস ? বড় আপু হতে পারে কিন্তু !
- আরে নাহ! এমনিই ।

বৃষ্টিতেই সবার বৈশাখের আনন্দ ধুয়ে গেল । বাসায় ফিরেও মেয়েটার চিন্তা মাথা থেকে দূর করতে পারলাম না । পুরো সেমিস্টার জুড়ে সবগুলো ক্যাম্পাসে আমি তাকে খুজলাম কিন্তু একটিবারের জন্যও তার দেখা পাওয়া গেল না । এসব করতে গিয়ে সেমিস্টার রেজাল্টও খারাপ হল ।

পরের সেমিস্টারে COA ক্লাসে ঢুক্তেই দেখতেই দেখি তিনি সামনে বসে বসে পাশের বান্ধবীর সাথে কথা বলছেন । চশমা পরা , খুবই সাধারণ পোশাক-আশাক । Name Call এর সময় শুনলাম তার নাম রিদিতা রাহমান । পরের দুইটা ক্লাসেও গিয়ে দেখি তিনি সেই দুই ক্লাসেও বর্তমান । আমার খুশি আর ঠেকায় কে ? সেমিস্টারের ৪ টা কোর্সের ৩ টাতেই তিনি আমার সাথে !! আল্লাহ মনে হয় আমার উপর অবশেষে মুখ তুলে তাকিয়েছেন !! বন্ধুদের মাধ্যমে জানলাম তিনি আমাদের ই ব্যাচের । ফার্স্ট সেমিস্টারে অন্য সেকশনে ছিল । ক্লাস শুরু হল পুরোদমে । তিনি পরাশুনায় খুব মনোযোগী , ক্লাসে স্যার-ম্যাডামদের লেকচার খুব মনোযোগ দিয়ে শুনত । আর আমার মনোযোগ থাকতো তার দিকে । পুরোটা ক্লাসে আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকতাম । চশমার আড়ালে তার সৌন্দর্য মোটেও ঢাকা পড়ে নি । সবসময় ক্লাসে ঢুকে তার একটু পিছে যেয়ে বসতাম । সে কি বুঝতো কি না জানতাম না । একদিন ক্লাস শেষে বের হচ্ছি , এমন সময় রিদিতার বান্ধবী অনি আমাকে দাঁড়া করাল , তার আমাকে কি জানো বলার আছে ।

- তুমি প্রত্যেকটা ক্লাসে রিদিতার দিকে তাকিয়ে থাকো কেন ?
- কৈ না তো ! আমি তো মনযোগ দিয়ে লেকচার শুনি । রিদিতাটা কে ?
- এইইই ! একদম মিথ্যা বলবানা । আমি দেখছি যে তুমি তাকায় থাকো । রিদিতা বলছে যেন তুমি তাকে ডিস্টার্ব যাতে না করো ।
- আমি মোটেও তাকিয়ে থাকি না , আর যদি তাকিয়েও থাকি তাতে ডিস্টার্ব করা কিভাবে হয় ?
- তা আমি জানি না । তুমি আর ওর দিকে তাকাবা না

অনির কথায় থেমে যাওয়ার পাত্র নাই । আমি তো শুধু তার দিকে চেয়ে থাকি । তাকে ডিস্টার্ব করার কোন ইচ্ছা তো আমার নেই । আর যদি সে ডিস্টার্ব ই ফিল করে সে নিজে এসে আমাকে বলুক । বান্ধবীকে দিয়ে বলাতে হবে কেন ?

এরপর থেকে সে ক্লাসে লেট করে আসা শুরু করল যাতে আমি তার কাছাকাছি বসতে না পারি ! আমিও নাছোড়বান্দা । আমিও তার থেকেও লেট করে আসতে লাগলাম , যথারীতি তার পিছনে বসতাম আর তার দিকে চেয়ে থাকতাম । একদিন সে নিজেই এল কথা বলতে

- তোমার সমস্যা কি ? আমার দিকে এভাবে তাকায় থাকো কেন ক্লাসে ?
- কৈ আমার তো কোন সমস্যা নেই !
- তোমার জন্য আমি ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছি না । কুইজগুলাও খারাপ হচ্ছে । এরকম চললে তো আমার সেমিস্টার ড্রপ দিতে হবে !
- আচ্ছা কাল থেকে আপনার আর কোন প্রব্লেম হবে না । আই অ্যাম সরি !

এরপর থেকে আমি ক্লাসে যাওয়া কমিয়ে দিলাম । ক্লাস করা ই বাদ দিয়ে দিলাম । সেমিস্টার ফাইনাল চলে আসলো । এক্সাম তো দিতেই হবে । গেলাম এক্সাম দিতে ! প্রত্যকটা কোর্সেই তার আর আমার নাম কাছাকাছি , এজন্য সিট ও কাছেই পরছে । নিজেকে অনেক কস্টে দমিয়ে রেখে এক্সাম গুলো দিলাম । সে যেন কোনভাবেই ডিস্টার্ব ফিল না করে তার চেস্টা করলাম । প্রতিটা এক্সাম শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বাসায় চলে যেতাম যাতে তার সাথে চোখাচোখি না হয় । শেষ এক্সাম দিয়ে বের হইসি যেদিন , দেখি বাইরে প্রচন্ড বৃস্টি । আমার কাছে ছাতাও নেই আবার বাসায়ও ফিরতে হবে তাড়াতাড়ি । তাই কোনকিছু না ভেবেই রাস্তায় নেমে পরলাম । হঠাত করে পাশ থেকে কে জানো ডাকলো ! আমার রিদিতা !

- এই ছেলে ছাতার নিচে আসো !
- আমাকে বলছো ?
- এখানে কি আর কোন গাধা আছে যে তাকে বলবো ?
আমি চুপ করে তার ছাতার নিচে গেলাম । তারপর হাটতে শুরু করলাম
- ছাতাটা ধরো ! ম্যানার শিখো নাই ?
আমি চুপ-চাপ ছাতাটা ধরলাম !
- ছাতাটা বাম হাত দিয়ে ধরে ডান হাত দিয়ে আমার হাত ধরো !
- মানে কি ?
- এতো মানে মানে করো কেন ? যা বলছি তা করো !
- আচ্ছা ! ( হাতটা ধরলাম )
- ক্লাস তো করো নাই একটাও ! এক্সাম কেমন দিসো ? রেজাল্ট খারাপ হলে কে ভুগবে ? পরের সেমিস্টার থেকে ঠিকমতো ক্লাস করবা !
- আচ্ছা ।
- আর ছাতা ছাড়া বৃস্টিতে বের হইছো কেন ? ভিজে জ্বর আসলে আমার সাথে ডেটিং এ যাবে কে শুনি !

এরকম বকা-ঝকা চলতে থাকলো ! আমার মাথায় কিচ্ছু ঢুকতেসিলো না তখন ! আমি শুধু তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম , কিরকম অনর্গল কথা বলেই চলছে সে বিরতি ছাড়া !! এরপর থেকেই আমাদের পথচলা শুরু । আমাকে পড়িয়ে পড়িয়ে ইঞ্জিনিয়ার বানিয়ে ফেলেছে ! তিনি না থাকলে যে আমার কি হতো !! বিয়ের আগেই আমার মা-বাবাকে পটিয়ে ফেলেছিল ! তারপর মহা ধুমধামে বিয়ে হল । এখন চলছে টোনা-টুনির সংসার ।
এসব চিন্তার মাঝে কোনসময় যে তিনি আমার পাশে এসে বসেছেন টের ই পাই নি ! হঠাত পিঠে হাত পরাতে টের পেলাম ,

- কি চিন্তা করতেস ?
- তোমাকে প্রথম দেখার স্মৃতি
- বৃস্টিতে ভিজবা ! অনেকদিন ভিজি না !
- চলো ! তারপর ভুনা খিচুড়ি রান্না করে খাওয়াবা !
- আচ্ছা জনাব ! চলেন চলেন !


(লেখাটি আবেগ আর কল্পনা নিয়ে লেখা । বাস্তব জীবনের সাথে মিল থাকতে পারে । ভবিষ্যৎ কেমন হবে কেও বলতে পারে না , কল্পনা করতে পারে মাত্র ।আর আমার বাংলা ভাষায় অনেক ভুল ত্রুটি আছে , আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । )
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:১৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফরজ বনাম সুন্নত

লিখেছেন আলামিন১০৪, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:০৫


বিভিন্ন রিওয়ায়েতে যখন একই বক্তব্য পাওয়া যায় তখন সেই হাদিসের সত্যতা নিয়ে আর সন্দেহ থাকে না। বিভিন্ন রেওয়ায়েতে পাওয়া বেশ কয়েকটি হাদিসের মধ্যে ২টি এখানে উল্লেখ করা হলোঃ

আবূ হুরায়রাহ্... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে AI, গণমাধ্যম, এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

বাংলাদেশে AI নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু “নতুন প্রযুক্তি” নিয়ে উত্তেজনা বা ভয় নয়। এখন বিষয়টা অনেক বড়। AI ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, সরকারি কাজ, জনবিশ্বাস, ভাষা, এবং নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাল্যবিবাহে আমারও আপত্তি নেই, তবে…(একটু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০



১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার বেলায় নীতি, তোমার বেলায় রাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২


২০২৪-এর গণ-আন্দোলনে বলপ্রয়োগ ও গণহত্যার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলা হয়েছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×