দিন বদলের নতুন নমুনা দেকতাসি নাকি?
সরকার কি তাদের গোলামদের দিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাচ্ছে?
জামায়াতের সেক্রেটারি পদটিই কি পুলিশের খাতায় আসামী হয়ে রয়েছে?
রাজশাহী নগর জামায়াতের সেক্রেটারির দায়িত্ব নেয়া মানেই কি তিনি হবেন যে কোন একটি মামলার আসামী? গত ৭ মাসে চারজন জামায়াত নেতা এই পদে দায়িত্ব পাবার পর চারজনকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পূর্বে এদের কারো বিরুদ্ধে সুস্পস্ট কোন অভিযোগ দেখাতে পারেনি পুলিশ। আটকের পর বিভিন্ন মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এতে করে জনগণের মনে প্রশ্ন উঠেছে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি পদটিই পুলিশের খাতায় আসামী হয়ে আছে কি না?
প্রশ্ন উঠেছে, যে এই পদে আসবে তাকেই বিনা অপরাধে গ্রেফতার করা হবে, অতঃপর মামলার আসামী করা হবে? গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় দায়ের করা ৪নং মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এই মামলায় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলে তাকে ৫নং মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তাকে গ্রেফতারের পর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় প্রচার সম্পাদক ইমাজ উদ্দিন মন্ডলকে। দায়িত্ব দেবার পর ২১ মার্চ রোববার রাতে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকেও ফারুক হোসেন হত্যায় দায়ের করা ১৪নং মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব দেয়া হয় সহকারী সেক্রেটারি আবু বকর সিদ্দিককে। দায়িত্ব দেবার পর ৩০ জুন গ্রেফতার হন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আবু বকর সিদ্দিক। তাকে দ্রুত বিচারের একটি মামলায় আটক দেখানো হয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব পান জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মালেক।
গত ৯ আগস্ট সকালে মাওলানা আব্দুল মালেককেও গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে এই পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিমকে। মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি পদে পর পর ৪ জন জামায়াত নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর প্রশ্ন উঠেছে জামায়াতের নগর সেক্রেটারির পদটিই কি পুলিশের খাতায় আসামী হয়ে আছে? যার কারণে যাকেই এই পদে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তাকেই গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠাচ্ছে পুলিশ। অথচ দায়িত্ব পাবার পূর্বে তাদের কারো বিরুদ্ধে পুলিশের কোন এ্যাকশন লক্ষ্য করা যায়নি। কারো বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগও করেনি পুলিশ। ঘটনার প্রেক্ষিতে বিষয়টি স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, মূলত রাজনৈতিকভাবে হয়রানী করতেই সরকার পুলিশকে দিয়ে জামায়াত নেতাদের বিনা দোষে গ্রেফতার করাচ্ছে। এটা জনগণের নিকট পরিষ্কার। সেক্রেটারির পদটি যেহেতু সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাই তাদেরকে টার্গেট করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তবে এভাবে জামায়াতকে সাময়িক দুর্বল করা গেলেও সরকারের উদ্দেশ্য হাসিল হবে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




