somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অদৃশ্য মানব :-P :-P :-P

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাদাসিধে মানুষ সুলতান সাহেব। দেশকে ভালবাসেন। দশকে ভালবাসেন। সবার মঙ্গলের কথা ভাবেন। সমাজ থেকে সকল অনাচার দূর করার স্বপ্ন দেখেন। তিনি প্রতিদিন ভাবেন আজকে অন্তত একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন। কিন্তু পারেন না। এই তো সেদিনের ঘটনা। তখন সুলতান সাহেব বাজার থেকে ফিরছিলেন। পথে দেখলেন বিশাল এক জটলা। তাঁর প্রতিবেশী মাহমুদ সাহেবকে বাড়ি থেকে সপরিবারে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। উচ্ছেদকারী হচ্ছে এলাকার বিশিষ্ট সন্ত্রাসী জুপিটার। সে সরকার দলীয় বড় (!) নেতা। মাহমুদ সাহেব দীর্ঘ ত্রিশ বছর যাবত এ বাড়িতে সপরিবারে থাকছেন। এই জুপিটারকে তিনি নেংটা দেখেছেন। বড় হতে দেখেছেন। আর এখন সে-ই ক্ষমতার জোশে অন্ধ হয়ে গেছে। জাল দলিল বানিয়ে বাড়ি দখল করতে এসেছে। অসহায় মাহমুদ সাহেব সবার কাছে সাহায্য চাচ্ছেন, ভাই আমাকে বাঁচান। ওদের থামান। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সবাই বুঝতে পারছে এসব অন্যায়। তবুও প্রতিবাদ করার কারোর সাহস নেই। সুলতান সাহেব কি যেন বলতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু কে যেন গায়েবি কণ্ঠে বলল, "আপনে বাঁচলে বাপের নাম!" আসলেই তাই। একজনকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্যজনের চক্ষুশূল হয়ে কী লাভ। তাই তো সুলতান সাহেব বাড়ির পথ ধরলেন।
বাড়িতে এসেও তিনি স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। বার বার বিবেক তাকে দংশন করছিল। ইস্! কেন কিছু করলাম না। দীর্ঘদিনের জানাশোনা। ওঠাবসা। তার জন্য একটা কথাও খরচ করতে আমার এত ভয়! হ্যাঁ ভয়। কিছু বলিনি পাছে ওরা আমায় চিনে নেয়। পরে যদি খবর করে দেয়। যদি অদৃশ্য হয়ে যেতে পারতাম! একদিনের জন্য। মাত্র এক ঘন্টার জন্য। তাহলে অন্তত একটা খারাপ লোককে শাস্তি দিতে পারতাম। প্রতিবাদ করতে পারতাম। কেউ তো আর চিনতে পারত না।
আজকের সকাল সুলতান সাহেবের জন্য এত বিস্ময় নিয়ে আসবে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। ঘুম থেকে ওঠার পর তিনি অবাক হয়ে দেখলেন তার স্ত্রী, সন্তানরা তাকে খুঁজছে। অথচ তিনি ওদের সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন। তার মানে তিনি এখন অদৃশ্য হয়ে গেছেন। কী মজা! কে যেন বলল, " তুমি এক ঘণ্টার জন্য অদৃশ্য মানব হয়ে গেছ। এখন যা করার কর।" সুলতান সাহেবকে কে আর পায়! তিনি লাফিয়ে বাইরে নামলেন। দৌড়ে গেলেন জুপিটারের আস্তানায়। ধুমধাম মার লাগালেন। জুপিটার তো ভয়েই অস্থির। ভূত! ভূত! বলে চিৎকার করে উঠল সে। কিন্তু তাতে লাভ হলো না। বরং মার দ্বিগুণ হয়ে গেল। শেষে অদৃশ্য মানবের ধাক্কা সামলানোর জন্য সে মাহমুদ সাহেবের বাড়ি ফিরিয়ে দিতে রাজি হলো।
আহ্! কী শান্তি। সুলতান সাহেব যেন তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললেন। ঘড়িতে দেখলেন হাতে আরও আধ ঘন্টা সময় আছে। এবার কাকে ধরা যায়। ইউরেকা! পেয়েছি! সামনে দিয়ে যাচ্ছে কোব্বাত রাজাকার। ব্যাটা বড়ই বদ। একাত্তরে জ্বালিয়েছে। এখনও জ্বালাচ্ছে। অথচ ওর ক্ষমতার জন্য কেউ ওকে কিছু বলার সাহস পায় না। কী করা যায় ব্যাটাকে? ভাবছে অদৃশ্য মানুষ। শালাকে দুটো চড় মারি। নাহ্ এটা পুরনো পন্থা হুম পেয়েছি। ওর লুঙ্গি খুলে নিলে কেমন হয়। যেই ভাবনা সেই কাজ। বীরদর্পে এগিয়ে গেলেন তিনি। জোরসে টানো হেইয়ো। লুঙ্গি নিয়ে তুমুল টানাটানি শুরু হয়ে গেল। রাজাকার চিৎকার করতে লাগল, কে আছিস! বাঁচা, ভূত আমার ইজ্জতে হাত দিছেরে...। কিন্তু অদৃশ্য মানুষের মুখে বিকট হাসি, হা হা হা! আজ তোর রক্ষা নেই শয়তান।
হঠাৎ কে যেন সুলতান সাহেবকে প্রচণ্ড এক ধাক্কা দিল। কিন্তু অদৃশ্য বস্তু দেখতে পায় এমন তীক্ষ্ণ চোখ কার? একি আমি কোথায়? নিজেকে বিছানায় পেয়ে ঠিক সন্তুষ্ট হতে পারলেন না সুলতান সাহেব। স্ত্রীর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বললেন, সীমা, আমি এখানে কেন?
মাথামুণ্ডু কি সবই গেছে। বউ ক্ষেপেছে। রাত দুপুরে শাড়ি ধরে টানাটানি করছিলে কেন? যত্তসব। বুড়ো বয়সে ভিমরতি!!
সত্যিই কি ভিমরতি? এর উত্তর সুলতান সাহেবের ঠিক জানা নেই।
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×