বন্দর নগরীতে জন্ম আমার। শিশুকাল, কৈশর এমনকি পুরো ছাত্রজীবনটা কেটেছে ওখানেই। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পরিবারের আশানুরুপ ফলাফলে ব্যর্থ হওয়ায় দুইয়ের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তি ফরম নেয়া হয়নি। একটি ছিল সরকারি, অপরটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি যুগপোযোগী না হওয়ার কারনে শেষ পর্যন্ত গতি হলো বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে। উল্লেখ্য ছোটবেলা থেকেই রাজাকারদের ঘৃণা করি চরম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদেরই একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হলাম। প্রথম দিন থেকেই দেখতে লাগলাম তাদের কার্যক্রম। বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে নতুন ছাত্রদের দলে ভেড়ানোর নতুন নতুন কৌশল। যেকোন কারনেই হোক অনেক চেষ্টা করেও শেষ দিন পর্যন্ত আমাকে তাদের দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়নি তারা। তাই অনেকের ক্ষোভ ছিল আমার উপর চরম।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন অবস্থায় গ্রুপ স্টাডি, নোট সংগ্রহ এমনই আরো অনেক কারণেই হোস্টেলে যেতে হয় কম বেশী সবারই। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। তাই দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার আগে একরাতে ছিলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের এক কক্ষে। এমন আরো অনেক রাত ছিলাম, কিন্তু সেই রাতের কথা আজও মনে আছে পরিষ্কার। ছাত্রাবস্থা থেকেই আমার ধুমপানের মত এক বদাভ্যাস ছিল। কিন্তু আমাদের সেই হোস্টেলের ভেতরে ধুমপান ছিল নিষিদ্ধ। তাই সেই রাতে খাবার পর, বাহিরে গেলাম একটু সুখটান দিয়ে আসতে। ফেরার সময়, গেইটে দারোয়ান সাহেব আর আমাকে আর ঢুকতে দিচ্ছেন না। যদিও সে আমাকে খুব ভাল করেই চিনতো। জামায়াতের যেকোন প্রতিষ্ঠানে দারোয়ান থেকে শুরু করে সবচেয়ে উঁচু পদটিতেও যে তাদের দলীয় লোকজন থাকেন একথা আশা করি এখন আর কারো অজানা নয়। তাই তাদের ভাবটিও থাকে মালিকের মতই।
যাই হোক, দারোয়ানের সাথে কিছুটা কথা কাটাকাটিই লেগে গেল। এক পর্যায়ে হোস্টেলের এক সিনিয়র ছাত্র এসে আমাকে কলার চেপে ধরে বলে, "ঐ তুই মুসলমান নাকি আওয়ামীলীগ?"
কোন মতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "তুই মানুষ নাকি শিবির?"
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



