somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বালিশ-বন্দনা

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানব জীবনের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বালিশ একটি অতি প্রয়োজনীয় অথচ স্বল্প আলোচিত উপাদান, যা সাধারণত ঘুমানোর সময় মাথায় সাপোর্ট দিতে ব্যবহৃত হয়। অবশ্য অলঙ্করণময় বালিশ কমফোর্ট বা সাপোর্টের জন্য নয়, ঘরের ভেতরের শোভা বাড়ানোই এটার উদ্দেশ্য। কিন্তু স্বস্তিদায়ক ঘুম পেতে হলে যে বালিশ চাই।

ধারণা করা হয়, সভ্যতার ঊষালগ্নেই বালিশের প্রয়োজনীয়তা মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছিল। প্রাচীন বালিশ সাধারণত খড় বা পাথর দিয়ে তৈরি হতো। এটা অস্বস্তিকর হলেও মানুষ দীর্ঘকাল তা-ই ব্যবহার করেছে। বর্তমানে খড় বা পাথরের বালিশ আর নেই। তুলার তৈরি বালিশের প্রাধান্য এখন বেশি। অবশ্য আর্থিক সঙ্গতিপন্নরা পাখির গরম পালক বা রোম দিয়ে তৈরি বালিশ ব্যবহার করেন। কৃত্রিম আশের তৈরি বালিশের প্রচলনও বেড়ে গেছে।

বালিশ ধোয়া যায় না। কিন্তু বালিশের কভার ধোয়া যায়। তবে শুধু কভার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে বালিশকে নিরাপদ বা স্বাস্থ্যসম্মত রাখা যায় না। গবেষকরা বলেন, বালিশের দুটি সাধারণ সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, বালিশে প্রচুর ধূলিকণা জমে। দ্বিতীয়ত, বালিশে বাস করে কোটি কোটি অণুজীব। তাই প্রতি দুই বছর পরপর বালিশ পাল্টে ফেলা উচিত। বিশেষত যাদের অ্যালার্জি রয়েছে তাদের বেশি পুরনো বালিশ ব্যবহার ঠিক নয়।

এক সময় বালিশ শুধু ধনীরাই ব্যবহার করতেন। প্রাচীন মিসরের একাধিক সমাধিতেও বালিশ পাওয়া গেছে। তবে এসব বালিশ পাথরের তৈরি।

চীনাদের অদ্ভুত বিশ্বাস ছিল এ রকম : নরম বালিশ দেহের জীবনীশক্তি কেড়ে নেয়। আর এ বিশ্বাস থেকে তারা প্রাচীনকালে কাঠ, চামড়া, ধাতু ও সিরামিক দিয়ে বালিশ বানাতো। কিছু বালিশের ভেতর তারা ভেষজ লতাপাতাও রেখে দিতো। তাদের বিশ্বাস ছিল, এসব ভেষজ উপাদান নানা রোগ থেকে তাদের মুক্তি দেবে, সাদা চুল কালো বানাবে, পড়ে যাওয়া দাঁত গজাবে, এমনকি মধুর স্বপ্ন দেখতেও সহায়তা দেবে। আর জার্মানরা এক সময় বালিশ মাথার নিচে নয়, পায়ের নিচে ব্যবহার করতো। তাদের যুক্তি ছিল, সারাদিন পা সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করে।

ইতিহাসে রয়েছে, প্রাচীনকালে যখন পশ্চিমি বিশ্বের কোনো বিবাহিত ব্যক্তি কাজ উপলক্ষে বাইরে যেতেন, তখন তার স্ত্রী তাকে বাঁশের তৈরি একটি কোল বালিশ সরবরাহ করতেন, যাতে ওই ব্যক্তি রাতের বেলা একাকিত্ব অনুভব না করে। এ কারণে ইংরেজিতে কোল বালিশের একটি সমার্থক শব্দ হচ্ছে ব্যাম্বু ওয়াইফ।

তবে সারা দিনের কান্তি ছেড়ে ফেলতে আমরা যে বালিশে মাথা রেখে ঘুমের জগতে ঠাই নেই, সে বালিশটি কি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত? বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মোটেও নয়। তাদের দাবি, বালিশ হচ্ছে হাজার কোটি অণুজীবের একটি ক্ষুদে চিড়িয়াখানা। এখানে এমন কিছু ফাংগাল স্পোর বা ছত্রাকের বীজগুটি রয়েছে যা শুধু রোগই নয়, মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে।

ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এ তথ্য দিয়েছেন।

তারা প্রমাণ পেয়েছেন বালিশের প্রতি গ্রামে কিলবিল করছে লাখো ছত্রাক। প্রতিটি বালিশে তারা ১০ লাখেরও বেশি ছত্রাক শনাক্ত করেছেন।


জাপান সম্প্রতি 'গার্ল ফ্রেন্ড ল্যাপ' নামে এক হট বালিশ বাজারে ছেড়েছে। ব্লগের ছবিটি দেখুন।
১৭টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×