দেশবাসী যখন ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বিভোর তখন জ্বলছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। এই মুহুর্তে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার বগাছত্তর এবং গুলশাখালী ইউনিয়নের বাঙ্গালীদের ঘর-বাড়ি জ্বলছে। গত পরশু (১৫ ফেব্রুয়ারী) গুলশাখালী ইউনিয়নের অধীবাসী ছাবের আলী পাহাড়ে লাকড়ি কাটতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। গতকাল (১৬ তারিখ) তার লাশ পাওয়া যায়। একই দিন সাগু শেখ নামের অপর এক কিশোর পাহাড়ে ফুল কাটতে গেলে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা তাকে মারদোর করে আহত করে। প্রশাসন প্রথমে প্রথমে ছাবের আলীর মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ঘটনা দামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু লাশের গায়ে নিহত হওয়ার মত আলামত দেখে জনসাধারণ ফুসে ওঠলে প্রসাশন নমনীয় হয়। এর প্রতিবাদে আজ গুলখালীবাসীরা লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্ত তারা স্মারকলিপি দিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখে অনেকের ঘরই জ্বলছে। জ্বলে পুড়ে নিঃশেষ হচ্ছে তাদের সাজানো স্বপ্নের সংসার।
নিহত হতভাগ্য ছাবের আলীর লাশ
এই মুহুর্তে বগাছত্তর ইউনিয়নের হ্যালিপেড এলাকায় বাঙ্গালীদের ঘর-বাড়ি আগুনে জ্বলছে। রাজনগর জোনের বডার গাড বাহিনীর কমান্তার তার জোয়ানদের নিয়ে সশস্ত্র পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের সাথে মুখোমুখি অ্যাম্বুসে আছেন। অপরদিকে রাজনগর এবং যুবলক্ষী পাড়ার সীমান্তের ঘর-বাড়িতেও আগুন লাগানো হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের তান্ডবে এলাকার মানুষ এখন দিকবিদিক ছুটাছুটি করছে। ঘর -বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। এই তান্ডব দাঙ্গায় পরিণত হতে হয়ত বেশি সময় লাগবে না। আমার ধারণা, ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কারণে আজ সারা বিশ্বের মিডিয়া তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের দিকে। আর বিশ্বমিডিয়ার দৃষ্টি আর্কষণের এই সহজ সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্যই সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে। তাই সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমার অনুরোধ, অবিলম্বে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা করুন। আক্রান্ত এলাকার মানুষগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। একই সাথে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



