বাঁশের সাকো পাড় হতে নেবে ২ টাকা। একটি মাত্র বাঁশের অবলম্বন পায়ের নীচে। এক পাশে পাশ বেঁধে রেলিং দেয়া আছে। যাতে করে সাঁকো আরোহী পা পিছলে পানিতে পড়ে না যায় ।
ছোট্ট খালের এই অংশ টা কোন সময়ই শুকায় না। চৈত-বোশেখ মাসেও এখানে কোমর পানি থাকে । ফলে মানুষের চলাচলের জন্য একটা কিছু তো দরকার। আগে নৌকার গুদারা ছিল। এতো কম পানিতে নৌকা দিয়ে পোষেনা । কারণ নৌকার সার্বক্ষণিক এক জন লোক লাগে। সারা দিন এক জন লোক রাখা মেলা খরচের ব্যাপার। তাই খালের পানিতে যখন স্রোত কমে যায় বিশেষ করে আশ্বিন –কার্তিক মাসে তখন বাশের সাকো বানায় সোলেমান মিয়া।
এলাকায় যাদের বাঁশের ঝার আছে তাদের বাড়ি গিয়ে ফাউ বাঁশ চেয়ে নিয়ে আসে। প্রতি দিন যদি এক শত লোকও পার হয় তাহলে টাকা উঠার কথা ২০০০। কিন্তু কোন সঠিক হিসাব কাউকে বলা চলে না। এ ছাড়া এখন রাজনীতির খেলা চলে । দেখা যায় ছেলে –ছোকরাদের বেশীর ভাগই রাজনীতি করে। যারা রাজনীতি করে তাদের কাছে টাকা চাওয়া বৃথা । তাদের কাছে টাকা চেয়ে কোন অপরাধ করে বসে কে জানে?
এখন যেই জায়গায় সে সাঁকো বসিয়েছে শোনা যাচ্ছে এখানে নাকি খুব তাড়াতাড়ি পাকা সেতু হবে। তখন মানুষের নাকি আর টাকা লাগবে না। এই জায়গায় সাঁকো বসানোর জন্য তাকে জেলা পরিষদ থেকে ইজারা আনতে হয়েছে। সাঁকো তৈরীর খরচ আছে। প্রতি দিন এক জন লোক বাসিয়ে রাখতে হয় টাকা তোলার জন্য । এই সবের জন্য তো খয়-খরচার ব্যাপার আছে।
আচ্ছা, যদি কখনো সত্যি সত্যি পাকা সেতু হয়েই যায় তখন সরকার কি ইজারার টাকাগুলো হারাবে না? কারণ তখন তো কেউ আর টাকা দিয়ে সেতু পার হবে না। কেউ সেতুর জন্য জেলা পরিষদ থেকে ইজারা আনতেও যাবে না।
নেতা নাকি কথা দিয়েছেন তিনি পাস করেন আর যদি তার পার্টি ক্ষমতায় যায় এবং যদি তিনি মন্ত্রী হতে পারেন তাহলে এই খানে সেতু বানাবেনই । এটা তার নির্বাচনী ওয়াদা। নির্বাচনী ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার কোন নিয়ম নাই। কিন্তু নেতা এই বার তার কথা রাখবেন। কারণ এই পথ দিয়ে যারা যাতায়াত করে তারা সবাই গরীব খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের ভোট তার অনেক দরকার। তিনি জানেন যে তিনি ছাড়া আর কোন লোক তাদের ভোট পাবেনও না। এই এলাকার লোক নেতাকে বিশ্বাস করে। তিনি নিজেও তাদেরকে বিশ্বাস করেন। তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা তিনি রাখবেন। তিনি এক জন জননেতা হতে চান।
সোলেমান মিয়া আবার ভাবতে থাকেন সত্যি যদি এবার নেতা এবার ভোটে জেতেন তাহলে আগামী বছরে হয়তো তিনি আর এখানে সাকো বানাতে পারবেন না। যে সামান্য আয় হয় তাও বন্ধ হয়ে যাবে। সোলেমান মিয়া মনে মনে খুব ভয় পেয়ে যান। কি করে তার সংসার চলবে। তিনি আবার এটাও বুঝেন যে একটা সেতু আসলেই দরকার। শ্রাবণ মাসে যখন খালে খুব বেশী স্রোত থাকে তখন সাকো থাকে না। নৌকাই এক মাত্র ভরসা। রাত আটটা র পর আর নৌকা চালাতে পারেন না। অথচ মানুষ এর পরও আসে। মানুষের কষ্ট দুর হওয়া দরকার। তার এক জনের কথা ভেবে তো আর জীবন চলে না। জনগণের কথা ভাবতে হবে।
অনেক ভেবে অনেক চিন্তে অবশেষে সে এটা উপায় বার করে । নেতাকে বলে কয়ে নতুন সেতুর পাশে এটা পান বিড়ির দোকান দেবে সে। সেতুটাকে দেখে শুনে রাখার জন্যও তো একটা লোক দরকার। নেতা কি এটা বুঝবেন না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




