somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

:-& গলগন্ড. . . . . .রোগটি সামান্য নয়

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গলগন্ড একটি সাধারন রোগ এবং সাধারনত মারাত্মক নয়। থাইরয়েড গ্ল¬ান্ড ফুলে গেলে এ রোগ হয় এবং এর সংগে থাইরয়েডের অধিক সক্রিয়তা বা কম সক্রিয়তা যুক্ত থাকতে পারে। গলগন্ড এবং থাইরয়েড সমস্যা সাধারনত পুরুষের চেয়ে নারীর মধ্যে বেশি দেখা যায়। এর কারন এখনো স্পষ্ট নয়। অধিকাংশ গলগন্ডের সঙ্গে অন্যান্য থাইরয়েড রোগ যুক্ত নয় এবং এসব গলগন্ডকে তুচ্ছ গলগন্ড বলা হয়।
কারন ও লক্ষন সমুহ:
এ অবস্থার পেছনে অনেক কারন আছে। সবচেয়ে বেমি দৃষ্ট রোগকে গ্রেভের রোগ বলা হয়। থাইরোটক্সিকোসিস বা অধিক সক্রিয় থাইরয়েডের লক্ষন সমুহ নিম্ন রুপ:
ওজন কমে যাওয়া, তাপ সহ্য না করতে পারা, বুক ধরপরানি সহ দ্রুত হৃদস্পন্দন, ঘাম হওয়া ও অস্থিরতা। তাছাড়া গেভের রোগের জন্যে থাইরোটক্সিকোসিস হলে চোখ বড় বড় হয়ে যায়। ফলে দৃষ্টি বিষ্ফোরিত হয়। বেশির ভাগ লোকের মধ্যেই থাইরয়েড সমস্যার জন্যে এ অবস্থা দৃষ্ট হয়। কম সক্রিয় থাইরয়েডের পেছনে রয়েছে দেহের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইমিউন পদ্ধতি দারা থাইরয়েড আক্রান্ত হওয়া। থাইরয়েড কেন এত প্রভাবিত হয় তা জানা যায়নি। কম সক্রিয় থাইরয়েডের একটি বিশেষ ধরন হল হাশি খোটের রোগ এবং একটি এমন কম সক্রিয়তা, যা গলগন্ডের সাথে যুক্ত থাকতে পারে।
থাইরয়েড গ্ল¬ান্ডের কম সক্রিয়তার লক্ষন সমুহ নিম্নরুপ:
ওজন বৃদ্ধি, চুল পাতলা হয়ে যায় এবং ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা। গর্ভবতি হলে ছোট গলগন্ড সকলের মধ্যেই দেখা যায়। এটি মারাত্মক নয়। অন্যান্য হরমোন জনিত পরিবর্তনের প্রতি থাইরয়েড অত্যন্ত সংবেদনশীল। আর অবশ্যই এজন্যে গর্ভ কালে হরমোন জনিত পরিবর্তন হয়। সন্তান হওয়ার পরে গণগন্ড প্রায় সর্বক্ষেত্রে সর্বদা ভালো হয়ে যায়।গলগন্ডের অন্যান্য কারন গুলো সবার মধ্যে দেখা যায় না। থাইরয়েডের ক্যান্সার দেখা যায়, তবে তা বিরল ঘটনা। সবশেষে বলতে হয় একটি ভাইরাস দারা থাইরয়েডে ইনফেকশন হতে পারে যার ফলে গলগন্ড হয়। এই অবস্থাকে থাইরয়েডিটিস বলা হয়। ঔষধের সাহায্যে এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়া যায়। যখন থাইরয়েড গ্ল¬াড ফুলে যায় তখন কন্ঠমনির সমরেখার নিচে সেটি দেখা যায়। গলগন্ডের আকার খুব ছোট থেকে অনেক বড় হতে পারে। সাধারনত গলগন্ডের লক্ষন সমুহ অত্যন্ত তুচ্ছ। লোকের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রধান কারন হলো হয় তাদের থাইরয়েডের অধিক অথবা কম সক্রিয়তার লক্ষন থাকে নয়তো গলগন্ড দেখা যায়না।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা:
থাইরয়েড গ্ল¬াডের বৈশিষ্ট্য হলো, কিছু গলার সময় এটি উপরে ও নিচে নড়াচড়া করে। এ নড়াচড়া পর্যক্ষেন করে ডাক্তার নিশ্চিত হতে পারেন যে অন্যান্য সমস্যা নয়, তাইরয়েড ফুলে যাওয়াই প্রকৃত সমস্যা। ডাক্তার শুধু হাত দিয়ে ফোলা অনুভব করবেন না। তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় কান রেখে শুনবেন যে অধিক সক্রিয় গ্ল¬াডে অত্যাধিক রক্ত প্রবাহের ফলে কোন শব্দ হচ্ছে কিনা। এর পরে তিনি রোগীর রক্ত পরীক্ষা করবেন। রক্তে থাইরয়েড হরমোনের স্তর নির্ধারনের জন্যে এ রক্ত পরীক্ষা করা হয়। স্তর উচু হলে বুঝতে হবে যে রোগীর থাইরোটক্সিকোসিস আছে। যদি থাইরয়েড কে চাঙ্গা করার জন্যে পিটুইটারি গ্ল¬াড অত্যাধিক কাজ করে তাহলে কারন হল মাইক্লোয়ে ডেসা। সাধারন গলগন্ডের চেহারা অসুন্দর। এ গলগন্ডের আকার ছোট করা যায়। সে জন্যে ১৮ মাস বা তার বেশি সময় থাইরয়েড হরমোনের একটি কোর্স মুখে সেবন করতে হবে। যদি গলগন্ড বিরাট সমস্যা হয় ও অস্বাভাবিক হয় কিংবা নিচে বুকের দিকে বিস্তৃত হয় এবং কিছু গিলতে অসুবিধা হয় তাহলে অস্ত্রোপাচার করা আবশ্যক। কম সক্রিয় থাইরয়েডের জন্যে গলগন্ড দেখা দিলে মুখে সেব্য থাইরয়েড হরমোনের সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়। এটা এমন একটি চিকিৎসা যা আজীবন চালিয়ে যেতে হবে। বেশি সক্রিয় থাইরয়েডের চিকিৎসা করা যেতে পারে ট্যাবলেটের সাহায্যে। এ ট্যাবলেট গ্ল¬াডের সক্রিয়তা দমন করে। থাইরয়েড হরমোন গুলো থাইরয়েড গ্ল¬াডে গিয়ে জমা হয়। ট্যাবলেট থাইরয়েড হরমোন জমা হতে ও নিঃসৃত হতে দেয় না। এজন্যে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পরে গলগন্ড বড় হয়ে যেতে পারে। অবশ্য একমাস বা দুমাস পরে গলগন্ড আকার ছোট হওয়া শুরু করে। যদি বার বার এ অবস্থা হয় তাহলে থাইরয়েডের বেশির ভাগ অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে অপসারন করা যেতে পারে। এ চিকিৎসায় খুব ভাল ফল হতে পারে। অন্যথায় রোগীকে তেজস্ক্রিয় আয়োডিনের নিয়ন্ত্রিত মাত্রা পান করতে দিয়ে বেশি সক্রিয় থাইরয়েড টিস্যু ধ্বংস করা যেতে পারে।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×