somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুই মৃত্যুন্জয়ীর গল্প (১)

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাফিন যখন আমার গর্ভে ৭ মাস হয়েছে, ও এতো বেশি নড়াচড়া করতো যে আমার সব সময় মনে হতো ও বের হয়ে আসতে চাচ্ছে। বাসার সবাই এটা শুনে হাসা হাসি করতো। বলতো আরেকটু ৈধর্য ধরো। সময় হলে বের করো। বেশ তাই হোক।

কোরবানী ঈদের ২দিন আগের রাতে হঠাৎ খিচুনির মতোন হলো। সামহোয়্যার আউট নিচের তলায় আব্বা-আম্মাকে খবর দিল। আম্মা কিছুক্ষন দেখে বললেন খিচুনি বাড়ছে। ক্লিনিকে নেয়া দরকার। আব্বা রেন্ট কার এ খবর দিলেন, মাইক্রোবাসে একপাসে শেখা ( আমার ছোট বোন) আর আরেক পাশে সামহোয়্যার আুট ধরে বসে রইলো। ক্লিনিকের ডিউটি ডাক্তার আমার অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেলেন। সিনিয়র নার্স সেই তুলনায় শক্ত ছিলেন, অন্তত: আমার সামনে। আমি যন্তনায় ছটফট করছিলাম আর উনি আমার সামনে দাড়িয়ে পর্যবক্ষন করছিলেন। ভোরের দিকে কিছুটা স্বাভাবিক হলাম না ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া হলো জানিনা।

পরের দিন বেশ ভালো বোধ করছিলাম। তবুও আর রিস্ক নিয়ে চাইলাম না। ডাক্তারকে সরাসরি বললাম, আমি সিজার করতে চাই। ডাক্তার বললেন আর একটা দিন আগে বলতেন কালকে ঈদ, যাই হোক আজই আপনার সিজার হবে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, আ্যানেস্তিশিয়ানকে খবর দিচ্ছি। দুপুর ১টার দিকে অপারেশন রুমে গেলাম। যখন চাপ দিয়ে শাফিনকে বের করা হচ্ছিল, আমার মনে হচ্ছিল আমার শরীরের সব কিছুটেনে বের করে ফেলছে ডাক্তার। চিৎকার করে উঠছিলাম। ডাক্তার অবস্থা দেখে বললেন থামুন রুগিকে শ্বাস নিতে দিন। এরমধ্যে আমি বমি করে ফেললাম। তিনবারের চেস্টায়, আমার সোনামনি, মায়ের শরীর থেকে বের হলেন। আমি কান্না শুনলাম, সেই সাথে শুনলাম ডক্টর ফরিদা আর নার্সকে আতকে উঠে বলছেন, দেখলেন কি অবস্থা, আমি এটা সবাইকে দেখাবো। আমাকে বাচ্চা উচু করে ধরে বললেন, দেখুন ছেলে হয়েছে। আর বললেন জেগে থাকুন আপনাকে একটা জিনিস দেখাচ্ছি..., এরপর বাচ্চার নাড়ি ধরে দেখালেন সেখানে শক্ত একটা গিট লেগে আছে। বললেন আর বেশি দেরি করলে বাচ্চা মারাও যেতে পারতো। শাহানা you have taken a great decision, a good decision.....a good decision. এই শুনতে শুনতে সব কিছু অন্ধকার হয়ে গেলো আমার সামনে..।

আমার ছেলে অল্রের জন্য বেঁচে গেল.... (আরেক মৃত্যুন্জয়ীর গল্প পরের পোস্টে বলব)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২৪
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×