কোরবানী ঈদের ২দিন আগের রাতে হঠাৎ খিচুনির মতোন হলো। সামহোয়্যার আউট নিচের তলায় আব্বা-আম্মাকে খবর দিল। আম্মা কিছুক্ষন দেখে বললেন খিচুনি বাড়ছে। ক্লিনিকে নেয়া দরকার। আব্বা রেন্ট কার এ খবর দিলেন, মাইক্রোবাসে একপাসে শেখা ( আমার ছোট বোন) আর আরেক পাশে সামহোয়্যার আুট ধরে বসে রইলো। ক্লিনিকের ডিউটি ডাক্তার আমার অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেলেন। সিনিয়র নার্স সেই তুলনায় শক্ত ছিলেন, অন্তত: আমার সামনে। আমি যন্তনায় ছটফট করছিলাম আর উনি আমার সামনে দাড়িয়ে পর্যবক্ষন করছিলেন। ভোরের দিকে কিছুটা স্বাভাবিক হলাম না ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া হলো জানিনা।
পরের দিন বেশ ভালো বোধ করছিলাম। তবুও আর রিস্ক নিয়ে চাইলাম না। ডাক্তারকে সরাসরি বললাম, আমি সিজার করতে চাই। ডাক্তার বললেন আর একটা দিন আগে বলতেন কালকে ঈদ, যাই হোক আজই আপনার সিজার হবে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, আ্যানেস্তিশিয়ানকে খবর দিচ্ছি। দুপুর ১টার দিকে অপারেশন রুমে গেলাম। যখন চাপ দিয়ে শাফিনকে বের করা হচ্ছিল, আমার মনে হচ্ছিল আমার শরীরের সব কিছুটেনে বের করে ফেলছে ডাক্তার। চিৎকার করে উঠছিলাম। ডাক্তার অবস্থা দেখে বললেন থামুন রুগিকে শ্বাস নিতে দিন। এরমধ্যে আমি বমি করে ফেললাম। তিনবারের চেস্টায়, আমার সোনামনি, মায়ের শরীর থেকে বের হলেন। আমি কান্না শুনলাম, সেই সাথে শুনলাম ডক্টর ফরিদা আর নার্সকে আতকে উঠে বলছেন, দেখলেন কি অবস্থা, আমি এটা সবাইকে দেখাবো। আমাকে বাচ্চা উচু করে ধরে বললেন, দেখুন ছেলে হয়েছে। আর বললেন জেগে থাকুন আপনাকে একটা জিনিস দেখাচ্ছি..., এরপর বাচ্চার নাড়ি ধরে দেখালেন সেখানে শক্ত একটা গিট লেগে আছে। বললেন আর বেশি দেরি করলে বাচ্চা মারাও যেতে পারতো। শাহানা you have taken a great decision, a good decision.....a good decision. এই শুনতে শুনতে সব কিছু অন্ধকার হয়ে গেলো আমার সামনে..।
আমার ছেলে অল্রের জন্য বেঁচে গেল.... (আরেক মৃত্যুন্জয়ীর গল্প পরের পোস্টে বলব)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


