অবশেষে বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে দেখে এলাম বহুল আলোচিত এবং রাতের রানী "সোহানা" খ্যাত সিনেমা "দেহরক্ষী"
কাহিনী সংক্ষেপঃ আসলাম (মিলন) শহরের অন্ধকার জগতের অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তি, তার প্রতিপক্ষের আরেক শীর্ষ ডন হলেন সিজার (ব্যাটার নাম ভুলে গেছি, অনেক বাংলা ছবিতেই ভিলেন হিসেবে থাকে) । আসলামকে মারার জন্য সিজার তার ভাইকে বিদেশ থেকে নিয়ে আসে, কিন্তু বিদেশ থেকে দেশের মাটিতে আসার পরেই আসলাম তাকে মেরে ফেলে আর তার লাশ গুম করে ফেলে! সিজারের সন্দেহ আসলামের দিকে থাকার ফলেও সে কিছুই করতে পারে না, কারণ তার কাছে কোন প্রমাণ নেই, তবে সে বলে " আমার ভাইকে যদি ফেরত না পাই, তবে তোর জানকেও (ববি) তুই পাবি না!"
এবার আসা যাক সেই "জানের" কথায়
ব্যবসার জরুরি কাজে আসলামকে ৭ দিনের জন্য বিদেশে যেতে হবে, সোহানাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না কারণ এত তাড়াতাড়ি আমেরিকার ভিসা পাওয়া সম্ভব না, আবার না গেলেও হবে না, আবার সোহানাকে একা রেখে যাওয়া মানে সিজারের হাতে সোহানার ক্ষতি হওয়া। তাই আসলা্ম তার ছোটবেলার বন্ধু তীব্র(কাজি মারুফ) কে সোহানার দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ করে
ছবির ভাল দিকঃ
প্রথমেই আসি অভিনয়ের কথায়, যার অভিনয়ের জন্য পুরো ছবিটা এক নিঃশ্বাসে দেখা যায় তিনি হলেন আনিসুর রহমান মিলন
ববি অভিনয়ের চেয়ে দেহ প্রদর্শনে বেশি মনোযোগী ছিলেন এবং তিনি বেশ ভালভাবেই দেহ প্রদর্শন করেছেন আর পাবলিক তা হা করে গিলেছে
কাজি মারুফের অভিনয় ভাল হয়নি তেমন, তবে তার এই অভিনয় না করাটাই যেন তার জন্য "শাপে বর" হয়েছে! কথাবার্তায় তেমন এক্সপ্রেশন না থাকায় তার চেহারায় রুক্ষ একটা ভাব এসেছে যা "বডিগার্ড" এর জন্য মানানসই
ছবির প্রাণ হল ছবির "গান"
ঝকঝকে ক্যামেরা এর কাজ, নায়ক নায়িকার অসাধারণ কস্টিউম, গানের অসাধারণ চিত্রায়ন, একশন দৃশ্যের নতুনত্ব ও দারুণ চিত্রায়ন চোখে অনেক বেশি আরাম দেয়
ছবির দুর্বল দিকঃ ববিকে তার পোশাকে যথেষ্ট মানিয়েছে এটা স্বীকার করতেই হবে, মুন্নি শিলার চেয়ে তাকে কোন অংশে কম সুন্দরী আর কম আবেদনময়ি মনে হয়নি
দুইটা গুলি খাওয়ার পর হাসপাতালে মারুফ যেভাবে গোলাগুলি করলেন তাতে মনে হয় গুলি খাইলে শক্তি বাড়ে
ছবিতে সমকামিতা নিয়ে জোকস আছে, সেটা সমস্যা কি সমস্যা না তা আমি জানি না, তবে এই ছবি বেশিরভাগ দেখতে গেছেন গার্মেন্টস এর কর্মীরা থেকে শুরু করে আমজনতা, তার সমকামিতার জোকস বুঝবেন কিনা এবং না বুঝলে এ ধরনের দৃশ্য রাখার মানে কি তা পরিচালকই ভাল জানেন
"মাইয়া মানুষ দেখাইলে পুরুষ কি না তাকাইয়া পারে?" টাইপ সংলাপ এ হলের সবাই শিস বাজিয়েছে, কিন্তু এ ধরনের সংলাপ যারা ছবি দেখতে গিয়েছেন তাঁদের চোখে মেয়েদেরকে আরও নিচে নামিয়ে দিচ্ছে কিনা বা মেয়েদের শুধুমাত্র "সেক্স সিম্বল" হিসেবে ইমেজ তৈরি করছে কিনা তা প্রশ্নের দাবি রাখে
পুরো ছবিতে ববি শুধু একবার সালওয়ার কামিজ পড়েছেন- ভাল্লাগে নাই! কি দরকার ছিল? অইসব ড্রেসেই বেশি ভাল্লাগে
সব মিলিয়ে কেমন ছবি? অবশ্যই অনেক ভাল ছবি, পুরা পয়সা উসুল আর ১০০% বিনোদনের ছবি, পরিচালক কাহিনীতে টানটান উত্তেজনা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছেন
কিছু কথাঃ কিছু "সুশীল" কে দেখলাম বলতে , এই ধরনের ছবি আমাদের সব নষ্ট করে দিচ্ছে, ববি একটা বেহাইয়া
দেহরক্ষী ভাল ছবি, প্লিজ হলে চলে যান দেখতে, আমাদের শিল্প যেমনই হোক, আমরা যদি ভাল না বাশি, না দেখেই যদি শুধু " বাংলা ছবি মানুষ দেখে?" বলে চিৎকার করি, তাহলে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নতি কখনও সম্ভব নয়
ফাইনাল কথাঃ "ববি" সম্পর্কে আপনাদের ভাবি হয়, খবরদার ওর দিকে কেও কুনজর দিবেন না,সবাই আমাদের দুজনের জন্য দোয়া করবেন
(সামুতে কি হইসে বুঝতেসি না, সিনেমার পোস্টার আপলোড করতে পারছি না, এরর দেখাচ্ছে- এ কারণে দুঃখিত )
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


