somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
আমার পুরো নাম শাইয়্যান মোহাম্মদ ফাছিহ-উল ইসলাম। অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

বাংলাদেশের সাথে চীন-ভারত-পাকিস্তান-কাশ্মীর সম্পর্কঃ কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি তখন পশ্চিমা একটি দেশে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছি। ভার্সিটি'র প্রথম দিন। এক বাংলাদেশী বন্ধু বললো- ''চলো, তোমার সাথে আমার ভারতীয় বন্ধুদের পরিচয় করিয়ে দিই।'' সে আমাকে লাইব্রেরীর কাছে নিয়ে যেতেই দেখি সেইখানে কিছু সাউথ-এশিয়ান ফেইসড ছেলে-মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

২০১০ সালের ঘটনা। প্রথম বারের মতো দেশের বাইরে গিয়েছি। তাই, কিছুটা সংকোচ বোধ করছি। জটলা থেকে হঠাৎ একটি ছেলে আমার দিকে এগিয়ে এলো। মোটা-সোটা ছেলেটি আমি বাংলাদেশী শুনেই আমার সাথে হিন্দীতে কথা বলা শুরু করলো। আমি কিছুক্ষণ চুপ মেরে থাকলাম। তারপর, তার সাথে যখন কথা বলা শুরু করি, তখন সে শুনতে পেলো আমি বাংলাতে কথা বলছি!!! এবারে তার চুপ মেরে থাকার পালা!!!

এরপর থেকে সে-সহ বাকি ভারতীয়রা সব সময় আমার সাথে ইংরেজীতেই কথা বলতো। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে সব বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা এক জোট হয়ে আমাকে স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রতিনিধি বানায়।



দ্বিতীয় ঘটনাটা আমার ছোট ভাইকে নিয়ে। সেও সেই দেশেই পড়েছে।

একবার সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা- গুগল হ্যাকাথনে সে আর দু'জন চায়নিজের সাথে জোট বেঁধে একটা দল গঠন করেছিলো। এক পর্যায়ে আমার ছোট ভাই একটা সফটওয়্যারের আইডিয়া দেয় টিমে। কোডিংও করে। যখন, টিমটি তাদের ফাইনাল প্রোগ্রাম জমা দিলো, তখন দেখা গেলো ডেভেলপার হিসেবে তাতে শুধু ঐ চায়নিজের নাম লেখা, পেটেন্টও তাদের! আমার ভাইয়ের নাম গায়েব। :P
আমার ভাইকে নিয়ে আমি এখনো হাসা-হাসি করি।



আরেকদিন হলো কি, আমি আন্ডারগ্রাঊন্ড ট্রেইনে যাচ্ছি। আমার এক চীনা সহপাঠিনীও উঠেছে। সে আমাকে দেখে 'হাই' দিয়ে বললো, 'শাই, আজ আমাদের সাথে আজ মুভি দেখতে যাবে? আমি দেখাবো।'

আমি কিছুটা আগ্রহী দেখিয়ে বললাম- 'তোমার সাথে কে যাচ্ছে, তোমার চীনা ব্রিটিশ বয়ফ্রেন্ড? আমার কি কাবাব মে হাড্ডি হওয়া উচিৎ!'

সে হেসে বললো- 'আরে নাহ! আমার সাথে সাদিক যাবে।'

তার ইঙ্গিতে পিছনে তাকিয়ে দেখি আমাদের পাকিস্তানী সহপাঠী সাদিক আমার দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলাচ্ছে।

আমি চায়নিজ সহপাঠিনীকে একটু কাষ্ঠ হেসে বললাম- 'আমার আসলে আজ পেট খারাপ। যাওয়া সম্ভব নয়। শি: শি!'



ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া-লেখা শেষে আরেকটি শহরে চাকরী নিয়ে গিয়েছি। উঠেছি একটি তিন তলা বাসায়। একটি রুমে আমি থাকি। বাড়ির মালিক এক ভারতীয় শিখ। বাসার অন্যান্য রুমগুলোতে কারা থাকে বাড়িতে উঠার সময় জানতে পারিনি। পরে দেখি, বাড়িটির একতলায় কাশ্মীরীরা, দুই তলায় রুশ এক দম্পতি আর তিন তালায় আমারে পাশের রুমগুলোতে পাকিস্তানীরা থাকে।

যাহোক, আমি সকালে অফিসে যেতাম, আর সন্ধ্যায় ফেরতাম। তাই, খুব একটা বাড়ির অন্যান্য মানুষদের সাথে দেখা হতো না। শুধু বাড়ির বিরাট কিচেনটা ব্যবহারের সময় 'হাই' বিনিময় হতো।

একদিন কিচেনে আমার পাশের রুমের পাকিস্তানী দুধ গরম করতে দিয়েছে। ওর পরেই আমার রান্নার পালা। সে আমাকে দেখে কিচেন থেকে বের হয়ে এক তলার কাশ্মীরী'র রুমে গিয়ে আড্ডা দিতে লাগলো। আমি অপেক্ষা করছি।

কিছুক্ষণ পর দেখি উনুনে থাকা দুধ উপচিয়ে পড়া শুরু করেছে। ওদিকে দেখি পাকিস্তানীর কোন খবর নেই। আমি চেয়ার থেকে উঠে দুধের ডেকচিটি নামিয়ে রাখলাম।

কিছুক্ষণ পর, পাকিস্তানীটি কিচেনে ফিরত এসে তার দুধের ডেকচিটি নামানো থেকে আমাকে চোখ লাল করে জিজ্ঞাসা করলো- 'এটা তুমি করেছো?'

আমি বললাম- 'হ্যাঁ। ওটা থেকে দুধ উপচিয়ে পড়ে যাচ্ছিলো। সেজন্যে নামিয়ে রেখেছি।'

সে হঠাৎ আমার বুকে একটা ধাক্কা লাগিয়ে বললো- 'কেন এটা করলে? ওটা কি তোমার?'

ব্যস। দু'জনের মধ্যে হঠাৎ করেই কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গেলো। এক পর্যায়ে হাতাহাতি। দু'জনেই মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছি। এমন সময়ে হঠাৎ দেখি, কে যেন পিছন থেকে আমার হাত ধরে বলছে- 'সালা কো আচ্ছা সে মার দে।'

তাকিয়ে দেখি কাশ্মীরী ছেলেটি!

এরপরে দু'জনের সাথে একসাথে আর পেরে উঠলাম না। আচ্ছে সে মার খেলাম। সুযোগ বুঝে আমিও কয়েকটি লাগিয়েছি। কিন্তু, বেশির ভাগ সময় ওদের দু'জনের কাছে মার খেতে হয়েছিলো।

পরের দিন সকালে, দরজায় ঠুক ঠুক বাড়ি শুনে উঠে দরজা খুলে দিতেই দেখি, শিখ বাড়িওয়ালা দাঁড়িয়ে। দরজার বাইরে থেকে বললো- 'তুমি বুঝি কাল আমার পাকিস্তানী বোর্ডারকে মেরেছো? তার অবস্থা তো খারাপ।'

সে আর কিছু না বলে নিচে নেমে গেলো। বাইরে গাড়ি স্টার্টের আওয়াজ শুনে জানালা দিয়ে নিচে তাকালাম। দেখি, শিখ বাড়িওয়ালা আর কাশ্মীরীটি ঐ পাকিস্তানীকে গাড়িতে উঠাচ্ছে। সেই তিন তলা থেকেও মনে হলো, সে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকে হাসি দি্লো।

ঘটনাটা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিলো।



সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:৪৬
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপরিচিতা

লিখেছেন মেহরাব হাসান খান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ২:১৮

আমার বড় ছেলের গানের পছন্দ বদলেছে। তার বন্ধ ঘর থেকে গান ভেসে আসছে_
"ফুরাইলে সাইকেলের বাতাস
সেদিন হবে সর্বনাশ
... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবৈধ উপার্জনের সুযোগ ও উৎস বন্ধ করুন - মদ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি এমনিতেই কমে যাবে ।

লিখেছেন স্বামী বিশুদ্ধানন্দ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:২৯

দুর্নীতিই বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা | আমরা যেমন অক্সিজেনের মধ্যে বসবাস করি বলে এর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি না, আমাদের গোটা জাতি এই চরম দুর্নীতির মধ্যে আকণ্ঠ নিমজ্জিত রয়েছে বিধায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রভাতী প্রার্থনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৫


প্রভাত বেলার নব রবি কিরণে ঘুচুক আঁধারের যত পাপ ও কালো ,
অনাচার পঙ্কিলতা দূর হোক সব ,ভালোত্ব যত ছড়াক আলো ।

আঁধার রাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মপক্ষ সমর্থন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৯



আর কিছুদিন পর সামুতে আমার রেজিস্ট্রেশনের ৮ বছর পূর্ণ হবে।রেজিস্ট্রেশনের আগে সামুতে আমার বিচরণ ছিল। এই পোস্ট সেই পোস্ট দেখে বেড়াতাম। মন্তব্য গুলো মনোযোগ সহকারে পড়তাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালোটাকা দেশে বিপুল পরিমাণে বেকারত্বের সৃষ্টি করছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৫



কালোটাকা হলো, দেশের উৎপাদনমুখী সেক্টর ও বাজার থেকে সরানো মুদ্রা; কালোটাকা অসৎ মালিকের হাতে পড়ে স্হবির কোন সেক্টরে প্রবেশ করে, কিংবা ক্যাশ হিসেবে সিন্ধুকে আটকা পড়ে, অথবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×