somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাদীর বিচারঃ আশায় থাকিও কাউয়া পাকিলে খাইবে গাউয়া

৩০ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা জামাত শিবির পছন্দ করন না তারা জামাত শিবির কে ছাগু বলে ডাকেন। তাই সেই জামাত-শিবির বিরোধীদের সম্মানে ছাগলের গল্পদিয়েই শুরু করছি। যারা গ্রামে শৈশব কাটিয়ে বড় হয়েছেন তারা নিশ্চই জানেন ছাগলকে দিন শেষে খোয়াড়ে ফিরিয়ে আনতে কৃষক কে অনেক কসরত করতে হয়। তবে সব গুলো কসরতের মধ্যে অতি কমন একটা পদ্ধতি হলো, ছাগলের মুখের সামনে কাঠাল পাতা ধরে রেখে মুখে চুক চুক শব্দ করে কৃষক ধীরে ধীরে বাড়ীর দিকে যেতে থাকে আর ছাগল আর একটু এগুলেই পাবে এমন ভেবে কাঠাল পাতা খাবার লোভে খোয়াড় পর্যন্ত এগিয়ে যায়। এভাবেই ছাগল কে প্রতিনিয়ত বোকা বানিয়ে কৌশলে কৃষক তার সিদ্ধি হাসিল করে থাকে। ছাগল যদিও প্রতিদিন কৃষক কে বিশ্বাস করে ঠকে, কিন্তু কোন জ্ঞানী লোক এই সকল কৃষক বা জ্ঞানীলোক কে মোটেও গ্রহন যোগ্য মনে করেন না। যেমনটি করেন নি ইমাম বুখারী (র)। তিনি একদা একটি হাদীস সংগ্রহ করার জন্য অনেক দূর সফর করে যখন কাংখিত লোকটির কাছে পৌছে দেখলেন, লোকটি তার গৃহপালিত পশুকে অনুরুপ ভাবে ধোকা দিয়ে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি এই ভেবে চলে এলেন যে যদি কোন লোক অবলা প্রানীর সাথে এরকম ধোকাবাজী করতে পারে তাহলে সে কিভাবে মানুষের সাথে নৈতিক আচরন করবে? তাই তিনি হাদীসটি না নিয়েই ফিরে এলেন।

আমার দেশের জনসংখ্যার সর্বাধীক সংখ্যার লোকজন মনে হয় এই ছাগলের ভুমিকায় আর রাজনৈতিক দলগুলো ঐ কৃষকের ভুমিকায় আছে। ভোটের আগে জনগনের মুখের কাছে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের মুলা ঝুলিয়ে জনগনের মহামুল্যবান ভোটগুলো আদায় করে ক্ষমতার গদীতে বসেছে ক্ষমতাসীন দল। প্রায়তো দু বছর হয়ে গেল, সেই প্রথম থেকেই শুনছি তথাকথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমানাদি আছে। যদি থেকেই থাকে তাহলে বিচার কেন হচ্ছে না? কেনইবা ফালতু এবং হাস্যকর সব কারন দেখিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে? সত্য সর্বদাই সরল সোজা এবং সন্দেহাতীত। সত্য বুঝাতে বা বুঝতে কোন কৌশল বা ছলনার আস্রয় নিতে হয়না। মিথ্যাকে সত্যে রুপান্তর করতে শত শত ব্যক্ষা দাড় করাতে হয়, প্রপাগান্ডা চালাতে হয়। কিন্তু সত্যের ক্ষেত্রে ব্যপারটা সম্পুর্ন সোজা ও সহজ। এখন যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমানাদি থেকেই থাকে তাহলে আর এত বাহানা কেন? মানুষ মাত্রই এই ব্যপারটা পরিষ্কার সবার কাছে। কিন্তু আমরা যে ছাগলের ভুমিকায় আছি তাই এই ব্যপারটা আমাদের মাথায় ঢুকছে না।

আর একটু ধৈর্য ধরুন বিচার হবে! আর একটু সময় দিন বিচার হবে!! এই বলে বলে অনেক দিনতো পার হল। কিন্তু আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? তাহলে কি এই প্রশ্ন করার সময় এসে পড়েনি যে আওয়ামী লীগ কি আদও এই বিচার করবে কিনা? অথবা এতসকল বাহানার উদ্দেশ্য কি? তারাকি কাউকে কাউকে কোউশলে বিচার থেকে মুক্তি দিতে কাজ করছে। যদি তাই না হবে তাহলে কেন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের বিষয়টা মানবতা বিরোধীতে নেমে এলো? কেন প্রধান মন্ত্রিকে বলতে হবে যে দেশে কোন রাজাকার নেই? আর যদি রাজাকারই না থাকে যুদ্ধাপরাধী কিভাবে আসে?

ইতিহাসের দিকে তাকালেও কিছু যৌক্তিক প্রশ্নের কখনই সন্তোষজনক উত্তর পাবে না জাতি। যেই জামায়াত কে একতরফা ভাবে এই ব্যপারে অভিযুক্ত করা হয় সে জামায়াত তখন কতটুকু বিস্ত্রিত ছিল? সাত কোটি মানুষের তৎকালিন বাংলাদেশের কয়জন এই দলের সাথে জড়িত ছিল? একা জামায়াতের পক্ষে সারাদেশে রাজাকার আলবদরদেরকে নেতৃত্ব দেয়া কিভাবে সম্ভব হলো? ইতিহাস যদি মিথ্যে নাহয়ে থাকে তাহলে একথা নিশ্চই সত্য যে ভিবিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রামের মেম্বার, চেয়ারম্যান, ও মোড়লরাই রাজাকার আলবদরদের নেতৃত্বে ছিল। সেসময় জামায়াতের মত এরকম একটি ছোট দলে কি এই সব চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মোড়লরা ছিল? তাই যদি হত তাহলে তৎকালিন নির্বাচনে কেন জামায়াত কোন আসন পায়নি? কেন অধিকাংশ আসনে জামায়াতকে জামানত পর্যন্ত হারাতে হয়েছিল? যে দল নির্বাচনে জামানত হারায় সেদলের পক্ষে নিশ্চই লোকবল ছিল অতি নগন্য। তাহলে এই নগন্য সংখ্যক লোকবল দিয়ে কিভাবে সারাদেশে রাজাকারি করা সম্ভব হল? আসল কথা হল এইসব ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রামের মেম্বার, চেয়ারম্যান, ও মোড়লরা সবাই তৎকালিন জায়ান্ট দল গুলোর সদস্য ছিলেন। তারা স্বাধীনতার পর কোন কোন দল করছেন বা করেছিলেন সেই তথ্য উপাত্ত কেন জনগনের সামনে আনা হচ্ছে না?

এখন সারাদেশে যুদ্ধাপরাধী ইস্যুটা এত বেশী চাঙ্গা যা আর কোন সময় দেখা যায় নি। এমন এক সময়ে তৎকালিন বাম্পন্থি রাজনোইতিক দল গুলোর নেতিবাচক ভুমিকার কথা কেন কেউ বলতে নারাজ? এর কারন কি এই নয় যে ঐ বামরা এখন মহাজোট ও সরকারের অংশ?

এভাবে লিখতে থাকলে আরও অনেক প্রশ্ন মাথায় আসে আর তখন একটাই উপসংহার আসে আর তা হল যুদ্ধাপরাধীর বিচার সেটা শুধুই মুখের বুলি। এর নিষ্পত্তি কোন কালেও সম্ভব নয়। আর যদি কোন কালে এর বিচার হয়েই যায় তাহলে তা হবে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রহসনের বিচার। আজকে যারা অনেক আসায় বুক বেধে আছেন এই বিচার দেখে যাবার জন্য তারা হলেন চরম অপ্টিমেস্টিক বা চরম আশাবাদী। আপনাদের মুখের সামনে যে মুলা ঝুলানো আছে সেটা অধরাই থেকে যাবে। অন্তত লীগ সরকার এই কাজ সমাধা করবেনা ১০০% শিউর। তার পরও যাদের বিন্দুমাত্র আশা অবশিষ্ট আছে তাদেরকে এই পোস্টের শিরোনামটি যাবার আগে আরেকবার পড়ে নিতে অনুরোধ রইল।
১০টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×