রিকশাওয়ালাদের নানান রঙ
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪০
কিছু রিকশাওয়ালা আছে যারা সব সময়ই শর্টকাটে যাবার চিন্তা করে, রং সাইডে গিয়েই হোক বা ভি আই পি রোড দিয়ে গিয়েই হোক। এটা ঠিক এতে অনেক সময় বাঁচে। কিন্তু যখন রিকশা ঠিক করি তখন শর্টকাটে যাবো বলে ভাড়া ঠিক করি না, শর্টকাটে গেলে সেই ভাড়ায় যাওয়ার কথা না। তারপরও বেআইনী ভাবে তাড়াতাড়ি পৌঁছানোর পর সেই ভাড়াই দিতে হয়।
একদিন বাসা থেকে বের হয়ে এমন এক রিকশায় চড়েছিলাম। ঘুরে যেতে হবে বলে বেশী ভাড়াতেই রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু সে ঠিকই ভি আই পি রোড দিয়ে গিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট সময় বাঁচিয়ে ফেলল। শেষে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যখন বললাম ইউ টার্ন নিয়ে রাস্তার ঐ পাড়ে নামিয়ে দিন, তখন সে খুবই বিরক্ত হয়ে বারবার বলতে থাকল, আগেই কইতেন, তাইলে রং সাইড দিয়া নিয়া যাইতাম। আমি বললাম, সারাটা দিনতো রং সাইডেই চললেন, এবার একটু রাইট সাইডে চলেন। সে আর কোন কথা বাড়াল না। ভাড়া কম দেয়া উচিৎ ছিল, গরীব মানুষ এই চিন্তা করে সেটা করলাম না।
সেদিন ফেরার পথে যে রিকশায় উঠলাম, সে আবার আরেক চিজ। মোটামুটি সারা ঢাকা শহর ঘুরিয়ে দিল সে একই ভাড়ায়। কেন এত ঘুরতে ঘুরতে গেল কে জানে। তার কান্ড দেখে মনে হচ্ছিল সে মিটারে রিকশা চালায়। ভয় হচ্ছিল পৌঁছানোর পর ভাড়া বেশী চাইবে কি না, কিন্তু সে নির্বিকার ভাবেই ভাড়া নিল।
একই রাস্তায় একবার এক রিকশাওয়ালা খুব কম ভাড়া চাইল। আমি প্রথমে সন্দেহ করলাম সে জায়গাটা চেনে কি না। পরে মনে হল হয়ত এও ভি আই পি রোড দিয়ে যাবার চিন্তা করছে। কিন্তু দেখলাম ঠিক মতই নিয়ে গেল। পৌঁছানোর পর আমি নিজেই প্রতিদিন যে ভাড়ায় যাই তা দিয়ে দিলাম। রিকশাওয়ালা টাকা ফেরৎ দিতে গেল, বললাম, লাগবে না। সে খুবই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
একবার টারজানকে সাথে করে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলাম। রাস্তায় টারজান একটা জিনিস কেনার জন্য নামল। এর মধ্যে দেখলাম রিকশাওয়ালা রাস্তার পাশে বিক্রী হতে থাকা আখের রসের দাম জিজ্ঞেস করছে। কিন্তু নেয়ার আগেই টারজান চলে আসায় সে রিকশা চালানো শুরু করল। আমি টারজানকে বললাম, বেচারা আখের রস খেতে চাচ্ছিল। টারজান সাথে সাথে রিকশা থামিয়ে বলল, যান আপনি খেয়ে আসেন, আমরা অপেক্ষা করছি। রিকশাওয়ালা লজ্জায় কিছুতেই যাবে না। টারজান জোর করে পাঠিয়ে দিল তাকে। সে আবার আমাদের জন্যও আনতে চাইল। আমরা বললাম, আপনি খেয়ে আসুন, আমরা খাব না। সে লজ্জায় লাল হয়ে ঝটপট খেয়ে নিল। ভালো লাগল রিকশাওয়ালার সৌজন্যবোধ।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রিকশা, রিকশাওয়ালা ;
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সহেলী বলেছেন:
ভাল লাগল তোমার এই দেখার চোখ , বোঝার মন ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপু।
লেখক বলেছেন: সেরকমই তো মনে হয়।![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাবসাধক।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।![]()
লেখক বলেছেন: জ্বী, আলহামদুলিল্লাহ। ধন্যবাদ।
টারজানের সাথে রিক্সায় কেন, ওনার সাথে তো ঘুরবেন গাছের ডালে ডালে
ছবি আঁকতে পারলে একটা ট্রাই দিতাম
লেখক বলেছেন: হা হা হা, ছবিটা বড়ই সৌন্দর্য হয়েছে। কিন্তু আমার ডোরাকাটা কই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
বলাক০৪ বলেছেন:
টারজানের সাথে কি প্রায়ই ঘুরে বেড়ান?
লেখক বলেছেন: প্রায়ই? না রে ভাই, আমাদের পেশায় অত সময় কোথায়।
কালপুরুষ বলেছেন:
ভাল লাগলো তোমার লেখা।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।![]()
লেখক বলেছেন: এরা কারা? আপনার পরিবার?![]()
লেখক বলেছেন: এটা কী? কিছু দেখি না তো।
লেখক বলেছেন: সবাই একরকম হয় না।
অপ্রিয়কথা বলেছেন:
ঢাকা শহরের রিক্সাওয়ালা এরা যে কত প্রকারের তা লিখে শেষ করা যাবে না।
লেখক বলেছেন: তা তো বটেই।
ত্রিশোনকু বলেছেন:
টারজান-টারজানী দুইজনেরেই বালা পাই।
লেখক বলেছেন: হে হে হে, ধইন্যবাদ।
রৃষী বলেছেন:
ঠিকই ঢাকা শহরের রিক্সাওয়ালারা বহুরূপী।
লেখক বলেছেন: মানুষই তো, রকমভেদ তো হবেই।
অক্টোপাস বলেছেন:
ভালো লাগলো, ধন্যবাদ।কিন্তু টারজান বিষয়টা তো তো ঠিক বুঝলাম না। বাংলাদেশে টারজান নামে মানুষ আছে!!
লেখক বলেছেন: বাংলাদেশে "বড় বিলাই" নামে যদি কেউ থাকতে পারে তো "টারজান" নামেও আছে। সব কিছু কি আর বোঝা যায়?
_তানজীর_ বলেছেন:
এতো ভালো বলতেছেন- টারজানের দিকে কিন্তু অনেক রমনীর চোখ পড়তাছে- সাবধানে থাইকেন! লেখাটা ভালো লাগল!
লেখক বলেছেন: হে হে হে, সাবধান করায়া দেওনের জন্য ধইন্যবাদ। এর পর থেকে খেয়াল রাখব যাতে বেশী ভালো না বলি।
নিলাচল বলেছেন:
বেশিরভাগ সময়ই আমাকে যত ভাড়া তার চেয়ে বেশিই দিতে হয়েছে লেখক বলেছেন: আমার কাছেও একবার এক রিকশাওয়ালা পুরনো কাপড় চেয়েছিল। আমার হাতে সময় খুব কম ছিল, তারপরও তাকে আব্বার একটা পুরনো শার্ট খুঁজে বের করে দিয়েছিলাম, এরপর সেই ব্যাটা আমাকে মাঝরাস্তায় নামিয়ে দিয়ে বলে আমি আর যামু না, রিকশা নষ্ট। আসলে রিকশার কিছুই হয়নি। এত্ত মেজাজ খারাপ হয়েছিল যে ভাড়া দিইনি, সেও চায়নি।
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
হেহে!! রিক্সা ওয়ালা নিয়ে এত ছোট লেখা?!! মহা ভারত টাইপ জিনিস হয়ে যাবে!!!তবে এরা প্রচুর পরিশ্রম করে
লেখক বলেছেন: হুমম, পরিশ্রম করে বলেই অনেক সময় রাগ উঠলেও সহ্য করে যাই।
এখন ও বৃষ্টি ভালবাসি বলেছেন:
টারজান কী মাঝে মাঝে রিকশায়ও চড়ে নাকী ?মজার তো ।
টারজান রে দেখবার মুন চায়
লেখক বলেছেন: টারজানের ডিভিডি কিন্না লন।![]()
তাজা কলম বলেছেন:
সুন্দর পর্যবেক্ষণ। ভাল লাগল পোষ্টটি।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
ফারা তন্বী বলেছেন:
Darun laglo
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।![]()
লেখক বলেছেন: ![]()
![]()
![]()
নিলাচল বলেছেন:
আমার কাছে চেয়েছিল তখন কিনে আনা কাপড়। বলল যে, আফায় তো অনেক কাপড় কিনছেন, এখান থেইকা আমার বউয়ে লাইগা একটা কাফড় দেন।
লেখক বলেছেন: বলেন কী? আপনি কী করেছিলেন তখন?
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
রিক্সাওয়ালাদের বাহারী স্বভাব....
লেখক বলেছেন: সেটাই।
লেখক বলেছেন: এটা তো খুবই সামান্য লিখেছি। আরও যে কত রকম মানুষ আছে।
লেখক বলেছেন: বেশি জেদ করলে নিজেরই লস।
মেহবুবা বলেছেন:
ভাল লেগেছে তোমার পর্যবেক্ষন । একবার একটা রিকশায় উঠেছি পরিষ্কার কাপড় পরা চালাচ্ছিল ছেলেটি । কিছুক্ষন পর খেয়াল করেছি তার একপা হাটুর নিচ থেকে নেই , বাকা হয়ে চালাচ্ছে । অপরাধী লাগছিল । নেমে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশী দিতে গেলে নিতে চাইল না ছেলেটি । আমার তাকে বেশী অনুরোধ করবার মত মনের জোর ছিল না । দেই নি বেশী। মানুষ অনেক অনেক বড় হয় ।
লেখক বলেছেন: এরকম মানুষের মন অনেক বড় হয়।
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন:
আজ পর্যন্ত বহু রিকশায় চড়েছি। খারাপ স্বভাবের রিকশাওয়ালা হাতে গোণা ২-১ জন চোখে পড়েছে। উনারা বেশিরভাগই ভাল মানুষ। উনাদের সাথে ভাড়া নিয়ে ঝগড়া না করাই উচিত। ধন্যবাদ লেখাটার জন্য।
লেখক বলেছেন: হুমম। আপনাকেও ধন্যবাদ।
মেহবুবা বলেছেন:
@ খোলা_আকাশ , আপনার দেয়া ছবিটা কি ওয়াইজমূলার অভিনীত টারজানের ?পারলে আরো কিছু ছবি দেবেন । যত টারজান দেখেছি ওয়াইজমূলারকে বেশী পছন্দ ছিল ।
লেখক বলেছেন: আমার আবার অন্য টারজান বেশী পছন্দ।![]()
লেখক বলেছেন: তাই? সুযোগ পেলে একবার যশোর ঘুরে আসব।
চিকনমিয়া বলেছেন:
রিক্সাওলাগো ভাড়া দিতাম খারাপ লাগেনা, ২/১টা বেশী দেওন যায়তয় বদের বদ টেক্সী ড্রাইভারডিনেরে মাইর দিতাম ইচ্চা হয়। এইডি নীল শার্ট পরা সন্ত্রাসী
লেখক বলেছেন: একমত।
লেখক বলেছেন: কোন দেশে এইটা?
চিকনমিয়া বলেছেন:
টেক্সীওয়ালাডি বদের বদ, এইডিরে মাইর দিতাম মনে চায়
লেখক বলেছেন: শান্ত হোন ভাই, মারামারি ভালো না। (তবে সুযোগ পেলে ছাড়বেন না কিন্তু।)
চিকনমিয়া বলেছেন:
মাইর দিইনাই, তয় কইছি তুমাগো এত লোভ ক্যান? যেই টেক্সীয়ালা আচো হেইডাই থাকবা, বদের বদবিপদে আপদে একটা টেক্সীও পাইনা
লেখক বলেছেন: ঠিকই কইছেন।
অপ্সরা বলেছেন:
আপুনি, টারজান দুলাভাইটা দেখছি অনেক অনেক ভালো মানে দয়ালু। একদম সত্যিকারের টারজানদের মতই তাইনা???
লেখক বলেছেন: একদম ঠিক আপু।![]()
লেখক বলেছেন: হা হা হা। ধন্যবাদ।
অনন্ত দিগন্ত বলেছেন:
আসলেই কত রকমের যে রিক্সাওয়ালা আছে বাংলাদেশে হিসাব করে বের করাও মুষ্কিল !!!!ভাইয়া তো অনেক কিছুই খেয়াল করে দেখা যায় ...
সবকিছু কি খেয়াল করে ?
লেখক বলেছেন: সব কি আর খেয়াল করতে পারে? একটু খেয়াল করিয়ে দিতে হয়, এই আর কি।
এন এইচ আর বলেছেন:
আবার রিকশা!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!তবে ভালো লাগল আপনাদের অনূভুতি দেখে.............
লেখক বলেছেন: মাথায় একেকবার একেকটার পোকা ঢুকে।![]()
অনেক ধন্যবাদ।
কাব্য বলেছেন:
চাইরপাশে শুধু রিক্সা আর রিক্সা, মাগার যাইবোননি জিগাইলে আর যাইতে চায় নাহ। তাই অহন আর জিগাইনা। সোজা হাডন ধরি
লেখক বলেছেন: দরকারের সময় রিকশা না পাওয়াটা খুবই বিরক্তিকর।
রিমঝিম বৃষ্টি বলেছেন:
বিলাই রিক্সায় চড়ে এমনটি ত জানা ছিল না।
লেখক বলেছেন: বিলাই বইলা কি মানুষ না?
রাজসোহান বলেছেন:
কমেন্ট গুলো পড়ে মজা পাইলাম
লেখক বলেছেন: ![]()
![]()
![]()
আমি ভাল আছি বলেছেন:
রিকশাওয়ালারা ও মানুষ, রিকশাওয়ালাদের ও মন আছে, রিকশাওয়ালার মন আর আকাশের রঙ- দুটোই নানান রঙের হতে পারে লেখক বলেছেন: জ্বী জ্বী।
শাহানা বলেছেন:
rickshaw oyala r tarjan dujoner shoujonno bodhe Ami mugdho
লেখক বলেছেন: ![]()
মোহাম্মদ লোমান বলেছেন:
শাহানা বলেছেন: rickshaw oyala r tarjan dujoner shoujonno bodhe Ami mugdho আমারও ভাল লাগল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।![]()
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...






















