গতকাল ''প্রভাষক'' এর পোষ্টের একটি জবাব দিতে গিয়ে জবাবটি অনেক লম্বা হয়ে যাওয়ায় পোষ্ট আকারেই দিয়ে দিলাম।
ধন্যবাদ। আমার চোখে আপনার দুটি অপরাধ ধরা পড়েছে।
১. আপনি বিয়ে করেছেন। বিয়ে একটি ধর্মীয় ব্যাপার। যে মানুষটি ধর্মকে পছন্দ করেন না, ধর্ম ও ধার্মিকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখেন সেই একই মানুষ আবার ধর্মীয় কাজ করবেন এটা হবে কেন? এটা তো অনেকটা হুমায়ুন আযাদের মতো ব্যাপার হয়ে গেল। সারা জীবন ইসলামের বিপক্ষে কথা বলেছে অথচ শেষ যাত্রা জানাজার মাধ্যমে হলো। বেচারা মরেও ধর্ম থেকে রক্ষা পেল না। যে জিনিসটা (ধর্ম) স্বীকার করেন না সুযোগ বুঝে সেটার নিচে আশ্রয় নেয়ার হীন মানসিকতার নিন্দা জানাই।
২. আবু শায়েখ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান শাওন। চমৎকার একটি নাম। অনেকটা আরবদের মত লম্বা। এখন আমি যে কোন দেশের যে কোন ধর্মের লোককে যদি জিজ্ঞেস করি আবু শায়েখ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান শাওন নামটি কি হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ নাকি মুসলিম নাম সবাই একবাক্যে বলবে মুসলিম নাম। অথচ আবু শায়েখ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান শাওন কিন্তু কোন মুসলিম না, এমনকি কোন ধর্মেরই লোক না। অথচ একটি মুসলিম না দখল করে আছেন। আপনাদের, মানে নাস্তিক দের উচিত আলাদা নাম রাখা। যাতে শুনলেই বোঝা যায় আপনি নাস্তিক। কারণ নাম দিয়ে হিন্দু, মুসলিম, খ্রীষ্টান, ইহুদি বোঝা যায়। সেভাবে আপনাদেরও নামের একটি ব্যাবস্থা থাকা উচিৎ। এটাও এধরণের আইডেনটিটি।
আবু শায়েখ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান শাওন, আরিফুর রহমান, হাসান মাহবুব, নাম গুলো যখন কোন অপরাধ করে বা করবে সবাই কিন্তু মনে করে কাজগুলো মুসলিমেরা করছে। আল্লাহ না করুক, আপনারা কেউ যদি ধর্ষন, মাদক, নারী নির্যাতনসহ কোন অপরাধে ধরা পড়েন তখন অন্য ধর্মের লোকেরা যাতে আমাদের দিকে অঙ্গুল তুলে বলতে না পারে তোমরা মুসলিমরা এত খারাপ, এই তোমাদের ধর্মের শিক্ষা? আবার কোন মুসলিম অপরাধ করলে আমরাও হয়তো বলব যে মুসলিম নাম ধারণ করলেই মুসলিম হয় না। যেমন আরিফুর রহমান। এখন তার মতো কেউ অপরাধ করলে আমরা তার দ্বায়িত্ব নেব কেন? সে নিশ্চয় নাস্তিক, শুধু মুসলিম নাম ধারণ করে আছে।
আমি জানি আপনি কোন খারাপ মানুষ নয়। কিন্তু বেশীর ভাগ নাস্তিকের যেহেতু ধর্মীয় বিধিনিষেধ মানতে হয় না, পাপ পুণ্য বলে কিছু নেই সেহেতু তারা সব কিছু করতে পারে। একটি লোককে গলাটিপে মেরে পেলা আর একজন লোককে বিপদ থেকে রক্ষা করার মধ্যে কোন অর্জন নাই। শুধু মনের সুখটুকু ছাড়া। সুতরাং আমি মনে করি নাস্তিকদের পক্ষেই খারাপ কাজ বেশী করা সম্ভব। কেউ যদি কারো গলাটিপে মনের সুখ পায় তাতে যেমন কোন দোষ নাই, কাউকে বিপদ থেকে বাঁচিয়ে সুখ পেলেও কোন দোষ নাই।
আপনারা নাস্তিকেরা ধর্মীয় ছায়াতল থেকে বের হয়ে আসলে আমাদের এবং আপনাদের উভয়েরই উপকার হয়। আপনাদের উপকার হলো, আপনাদের ভাল কাজ এবং খারাপ কাজের সুফল কুফল আপনাদেরই থাকবে। আপনাদের আইডেনটিটি থাকবে।
আমাদের উপকার হলো আপনাদের খারাপ, ভাল কোন কাজের দ্বায়িত্ব আমাদের নিতে হবে না। আবার আপনাদের খারাপ কাজগুলোর দায়ও আমাদের উপর বর্তাবে না।
আপনারা কেউ কেউ হয়ত ভাবছেন আমি নাস্তিকদের কে অযথা ঘৃনা করি। আসলে কথাটি সত্য নয়। অনেক নাস্তিকের ভক্ত আমি। যেমন সুনিল গঙ্গোপাধ্যায়। আমার খুবই প্রিয় একজন মানুষ। তার লেখা আমার খুব পছন্দ। সে মানুষ আমিও মানুষ আমি এভাবেই দেখি। কারণ মানুষ হিসেবে আমার প্রতি তার শ্রদ্ধা তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। সে কখনও আমার ধর্ম নিয়ে আক্রমন করে না, আমি বা আমরাও তার নাস্তিকতা নিয়ে আক্রমন করি না। সে ধর্ম মানে না এটাই শেষ কথা। তাই বলে যারা ধর্ম মানে তাদের নিয়ে খোঁচাখুঁচিও করে না। সে তার নিজ কাজ নিয়ে ব্যাস্ত। কে মসজিদে গেল, কে মন্দিরে গেল এই নিয়ে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। এই কারণে তাকে সম্মান করি। আর আপনাদের সম্মান করতে পারিনা কারণ আপনারা মানুষকে সম্মান করতে পারেন না। আমাদের বিশ্বাস নিয়ে প্রতিনিয়ত আঘাত দিয়ে যান। যারা আমার বিশ্বাসকে আঘাত করে তাদের কি করে সম্মান করি বলুন তো? আমি যত ভালই হই, যত জ্ঞানীই হয় আমি যদি প্রতিনিয়ত আপনার নাস্তিকতা নিয়ে খোঁচাখুঁচি করি আপনি কি আমাকে সম্মান করতে পারবেন?
সুনিল বা আরো বড় নাস্তিকের সমান বড় নাস্তিক হয়ে উঠুন সেই আশা রাখি। কারণ যত বড় নাস্তিক হবেন তত আমাদের জন্য ভাল। বড় নাস্তিকেরা কখনও কাউকে আঘাত করে না। চোট নাস্তিকেরও যত নষ্টের মূল। একই কথা ধার্মিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বড় ধার্মিকেরা কাউকে আঘাত করে না। চোট ধার্মিকতার আঘাত করে। এই লেখার প্রেক্ষাপটে আমাকে চোট ধার্মিক বলতে পারেন। আশা করছি আপনাদের সহযোগীতা পেলে বড় ধার্মিক হয়ে উঠতে পারব, তখন আর আপনাদের আঘাত করতে হবে না।
পরিশেষে আমার একটি প্রিয় কবিতা দিয়ে শেষ করছি। আশা করি কবিতাটা জীবনে ধারণ করবেন।
নাস্তিক
নির্মলেন্দু গুণ
নেই স্বর্গলোভ কিংবা কল্প-নরকের ভয়,
অলীক সাফল্যমুক্ত কর্মময় পৃথিবী আমার৷
চর্মচোখে যা যা দেখি, শারীরিক ইন্দ্রিয় যা ধরে,
তাকেই গ্রহন করি৷ জানি, নিরাকার অপ্রত্যক্ষ
শুধুই ছলনা, বিশ্বাস করি না ভাগ্যে, দেবতার বরে৷
আমার জগত্ মুগ্ধ বাস্তবের বস্তুপুঞ্জে ঠাসা,
তাই সে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, অতীন্দ্রিয় নয়৷
অন্ধতার বধ্যভূমি আমার হদৃয়৷
সেই শ্রেষ্ঠ মানব-সন্তান, যার মন মুক্ত ভগবান৷
আমার মস্তক নিত্য নত সেই নাস্তিকের তরে৷
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১০:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



