somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"জনগন আমাদের ৫ টার পর কাজ করার জন্য টাকা দেয়না"

০২ রা জুন, ২০১১ রাত ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"আন্তর্জাতিক যু্দ্বাপনরাধী ট্রাইবুনাল" বর্তমানকার সময়ের বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম, ইলকট্রনিক মিডিয়া বা প্রিন্ট মিডিয়ার এক অন্যতম আলোচ্য বিষয়। বাংলাদেশের সকল মানুষ তাকিয়ে আছে কি হতে যাচ্ছে সেখানে, তা দেখার জন্য।
এক জন নগন্য আইনজীবি হওয়ার প্রেক্ষিতে আমাকে প্রায় ট্রাইবুনালের বারান্দায় হাঁটা হাঁটি করা লাগে। আর তাই নিজের চোখকে ও কালের স্বাক্ষি হিসাবে পাচ্ছি, যেখানে সারা দেশের মানুষ টিভি বা অন্যান্য মিডিয়ার মাধ্যমে তা দেখছে অত্যন্ত আগ্রহ ও গুরুত্ব সহকারে।

আজ ছিলো ট্রাইবনালের এক কর্মময় দিন, আজ মওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ব্যাপারে তদন্ত টিম প্রায় ৫ হাজার পৃষ্টার একটি বিশাল তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। অন্যদিকে তার পক্ষথেকে ও জামিনের আবেদন করা হয়, তার অসুস্থতা কারন দেখিয়ে। তাকে ট্রাইবুনালে হাজির ও করা হয় সকালে কিন্তু হটাৎ তারঁ বুকে ব্যাথা অনুভব করায় তাকে তাৎক্ষনিক বারডেমে নিয়ে যাওয়া হয়, আর অপর দিকে যথারীতি তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।

আগামি কাল অর্থাৎ ০১/০৬/২০১১ এও ট্রাইবুনালের বসার দিন ধার্য্য আছে, সমস্থ কাজ শেষ করতে আমার প্রায় বিকাল ৩ টা ৪০ মিনিট হয়ে গেছে, কিন্তু এ দিকে আবার আকাশ থেকে শুরু হয়ে গেছে মুষলধারে বৃষ্টি, একটু থামার কোন প্রকার লক্ষণ দেখছি না। অতচ আমার হাতে থাকা পিটিশরে কপিটা এখনো জমা দেয়া হয়নি, আইনজীবি ভবন থেকে পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে যাওয়ার জন্য গাড়ি দিয়ে যাওয়ার পথটা ও অনেক উল্টো হয়ে যায়, আর আমি যদি ১০০ কিমি. বেগে দৌড়ও দিই তবু ও আমার শরীরের কোন অংশ বৃষ্টি স্নান থেকে বাদ যাওয়ার কোন প্রকার সম্ভাবনা ও নেই।

যা হোক বৃহৎ স্বার্থ্বে ক্ষুদ্র স্বর্থের ত্যাগ করে লাগালাম দৌড়, যাকে বাংলা ভাষায় বলা যায়, ভৈ-দৌড়। হে !!! অবশেষে আমি পৌছালাম, বিজয়ী হয়ে নই পরাজিত হয়ে (যেমন বলা হয় অমুক মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মারা গেছেন) ঠিক তেমনিই। বৃষ্টির সাথে লড়াই করলাম ঠিক কিন্তু ভিজে একাকার হয়ে গেলাম। আদলত চলা কালিন সময়ের মতো যদি, সামনে কোন টিভি চ্যানেল থাকতো, তাহলে হয়তে আমি হাত উচিঁয়ে "ভি" চিহ্ন দেখাতাম। না না না!!!! শুধু ভি চিহ্ন দেখিয়ে পোষাতো না, একটা সাক্ষাতকার ও দিতাম। কি বলতাম সাক্ষাতকারে?????

যা হোক একে বারে কাকঁ ভেজা অবস্থায় ট্রাইবুনালের দরজা দিয়ে ঢুক চলে গেলাম ট্রাইবুনালের সম্মানিত প্রসিকিউটরদের রুমে, অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢোকলাম, সম্মানিত চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু স্যার, জেয়াদ-আল-মালুম স্যার এবং ফজিলেতুণন্নছা বাপ্পি ম্যাডাম ও ভেতরে বসে কাজ করছিলেন, মালুম স্যার আমকে বসতে বলে প্রসিকিসনদের কপি রিসিভ করলেন, অতঃপর আমি অনুমতি নিয়ে বিদায় নিয়ে জাষ্টিসদের কপি জমা দেওয়ার জন্য আসলাম, এসে দেখি রেজিষ্টার সাহেব নেই, তার আফিস থেকে জানানো হলো তিনি উপরে মিটিং এ আছেন।যা হোক তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।........ অপেক্ষা আর অপেক্ষা..........

না অপেক্ষার সময়টুকুতে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট না করে. আপনাদের আমি তার রুমের(সম্মানিত রেজিষ্টার) একটি ছোট্ট চিত্র তুলে ধরতে চায়। রুমে ঢুকেই হাতের ডান দিকে দোয়ালের সাথে লাগানো একটা সোফা , তার পাশেই রয়েছে কাঠের আনেক বড় সাইজের একটি ইজি চেয়ার, প্রথমে দেখলে এই চেয়ার টি কে অনেকের কাছে একটি বিছানা মনে হতে পারে, আর তার পাশেই লাগোয় তার টেবিল এবং চেয়ার। রুমে রয়েছে একটি সেলফ, এতে তেমন কোন বই বা ফাইল পত্র নেই। রুমে সব কিছু কেমন জানি অগোছালে মনে হয়, শুধু মাত্র ইজি চেয়ার বা ছোট্ট বিছানা টা অনেকটা গোছালো মনে হয়। উপরে একটি ফ্যান ঘোরছে, আর তার সাথে ঝি. ঝি পোকার মতো ডেকে চলছে এসি টি, এবং আপ্রান চেষ্টা করছে রুমটিকে ঠান্ডা রাখার।

অবশেষে দৃপ্ত পায়ে হেঠেঁ তিনি এলেন, আমি আমার হাতে থাকা পিটিশনের কপি গুলো তাকে দিলাম, উত্তরে তিনি বললেন তার অফিস এখনো এই ব্যাপারে অবহিত নই, যার ফলে তিনি এগুলো গ্রহন করতে পারবেন না। অতঃপর আমি বৃষ্টি ভেজা শরীর এবং আপেক্ষার বোঝা মাথায় করে, নিষ্পল সময়নষ্টের ব্যাথা নিয়ে প্রস্থান করছিলাম। কিন্তু কিছু দূর হেটেঁ আসার পর লক্ষ করলাম একলোক আমাকে পেছন থেকে ডাকছে আর বলছে স্যার ডাকছেন, অতএব আমি আবার গেলাম, আর জমা দিলাম আমার হাতে থাকা পিটিশন গুলে, কিন্তু জমাদেওয়ার সময় লক্ষ করালাম যে, বৃষ্টিতে ভিজে পিটিশনে থাকা কোর্ট ফি টা পড়ে গেছে আমার অজান্তেয়। হায় কপাল!!!!!

যা হোক, আমি তার কাছ থেকে ৫ মিনিট সময় চাইলাম, তিনি তার হাত ঘড়িটির দিকে তাকিয়ে বললেন এখন বাজে ৪টা ২৫ আপনি আমাকে ৫টার মধ্যে দিয়ে যাবেন।
এরই মধ্যে যখন আমি দরজা দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিলাম তখনই তিনি বললেন...."জনগন আমাকে ৫টার পর অফিস করার জন্য বেতন দেয় না কিন্তু?"

আমি কিন্তু ৫ মিনিট পরে তা তাকে দিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু এতো কথা বলার কারন হচ্ছে, চারদিকে যে ভাবে কনটেম্ট করা হচ্ছে না জানি আমি আবার কিসের শিকার হয়, তাই পুরো বৃত্তান্ত তুলে ধরে বাচাঁর এক আপ্রাণ চেষ্টা আর কি!!!!!

কথায় বলে "ভাত রান্না করতে দিলে , তা ফুটেছে কিনা দেখার জন্য একটি ভাত দেখলেই হয়"। সম্মানিত রেজিষ্টার সাহেবের মন মানসিকতা বোঝার জন্য আমি মনে করি এই একটি কথাই যথেষ্ট।

বাংলাদেশর স্বধীনতা যুদ্বের সময় যে সব মানবতা বিরোধি অপরাধ সংঘটিত হয়েছিলো তার বিচার করার জন্য এই আদালত গঠন করা হয়েছে। সম্মানিত বিচারকদের পর বলতে গেলে এই ট্রাইবুনালের তার অবস্থান, তার অবস্থান অনেক গুরুত্ব পূর্ণ উক্ত ট্রাইবুনালের সমস্ত কাজ কারবার দেখা শুনা করার জন্য ।

অতচ তিনি যদি বলেন,"জনগন তাকে বিকাল ৫টার পর কাজ করার জন্য বেতন দেয়না", এর পরিপেক্ষিতে যদি উত্তর টা এমন হয়!!!!!
১. কর্মঘন্টা চলা কালে ঘুমানোর জন্য জনগন তাকে বেতন দেয় না।
২. এক সাথে এসি ও ফ্যান চালানোর জন্য জনগন তাকে বেতন দেয়না।
৩. দায়িত্বহীন এবং অসম্মারজনক আচরনে জন্য জনগন তাকে বেতন দেয়না।

অবশেষে এই বলে শেষ করতে চাই এ ধরনের নাবিক দিয়ে যদি ট্রাইবুনালের তরী চলতে থাকে তাহলে আদো তা তীরে এসে পৌছাতে পারবে কি না? না তার আগেই মাঝ সমুদ্রে ডুব দিবে তা ভবিষৎই এক মাত্র উত্তর দিতে পারে.........










সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০১১ রাত ১:১৪
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×