somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোর গঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

ভুতের গল্পঃ- রাতের ছাদ

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




। রাত একটা বাজে বিদ্যুৎ নেই । খুবেই গরম । ইলিয়াস ছয়তলায় ফ্ল্যাটে থাকে । তাঁর পড়েই ছাদ । সব সময় ছাদে তালা দেয়া থাকে । কিন্তু আজ ছাদ থেকে কেন যেন মিষ্টি গানের গলায় রবি ঠাকুরের এসো হে বৈশাখ গান গাইছে । অন্ধকার ঘর থেকে সাদা টি সার্ট গায় দিয়ে ভাবল বিদ্যুৎ নেই হয়ত বাড়ির কেউ ছাদে গিয়েছে । তাই ইলিয়াস ছাদে গেল । আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ । হালকা কিছু মেঘ উড়ে যাচ্ছে । মেয়েটা ছাদের মধ্য থাকা একটা দুলনায় বসে গান গাইছে । ইলিয়াস এই বাড়ির প্রতিটা ফ্ল্যাটের নারীদের খুব ভাল করে চিনেন । কিন্তু এই মেয়েটা কে সে কিছুইতেই চিনতে পারছে না। সারা ছাদে অনেক গুলো ফুলের টব । মনে মনে ভাবতে লাগলো একটা সিগারেট খেলে ভাল হতো কিন্তু মেয়ে মানুষের সামনে সিগারেট খাওয়া হল একে বারে অভদ্র কাজ । মেয়েটা তাঁর দিকে মোটে খেয়াল করছে না। এত মিষ্টি করে একটার পর একটা রবি ঠাকুরের গান গেয়ে যাচ্ছে । যা খুবেই অপূর্ব । ছাদের গাছ গুলো থেকে একটা ফুলের গাছের গন্ধ তাঁর পরিচিত , সেই ফুলের গন্ধ পেয়ে খুবেই অবাক হয়ে গেল । কামিনি ফুল এই ছাদে আছে । মেয়েটা গান বন্ধ করে ছাদের কর্নারে গিয়ে চাদের দিকে তাকিয়ে রইল । তাঁর চুল গুলো বাতাসে উড়ছিল । ইলিয়াস বলতে লাগলো - আপনি কি এই বাড়িতে থাকেন । এত রাতে একা ছাদে আসলেন - ভয় লাগে না। মেয়েটা অদ্ভুত ভাবে ঘার বাকিয়ে বলল - একটু বাঙ্গা কণ্ঠে - কিসের ভয় । মেয়ে মানুষ দেখলে ভয় দেখাতে ইচ্ছা হয় । যান বলছি এই ছাদ থেকে । বাড়ি ভাড়া নেয়ার সময় বলে দেয় নাই যে ভুলেও ছাদে উঠবেন না । প্রথম বার মাপ করলাম কিন্ত দ্বিতীয় বার আসলে ছাদ থেকে ফেলে দিব । যান বলছি ছাদ থেকে ।
ইলিয়াস কোন কথা না বলে বরং ভয় পেয়ে ছাদ থেকে নেমে ঘরে চলে আসে । মেয়েটার কথা গুলো কেমন জানি অদ্ভুত মনে হচ্ছে । কিন্তু চেহারা টা ভাল করে দেখা গেল না। বাড়ি ভাড়ার সর্ত গুলো আবার জানে । যাই হউক ইলিয়াস ঘরে এসে ঘুমিয়ে গেল । সকালে ছাদের সিঁড়ি দিকে তাকিয়ে দেখে ছাদের দরজা তালা দেয়া । বিকালে অফিস থেকে ফিরে মনে মনে ভাবতে লাগলো । এত রাতে মেয়েটা ছাদে একা গেল । বিষয়টা বাড়ি ওয়ালে বলা উচিৎ । বাড়ি ওয়ালা কে ইলিয়াস মিয়া দেখেই বলল আঙ্কেল সালাম । আপনার ছাদ টা অনেক সুন্দর । বাড়ি ওয়ালা বলল না ছাদ সুন্দর হবে কেন ? ছাদে কিছুই নাই । ইলিয়াস বলল কি বলেন আঙ্কেল কত ফুলের গাছ কি সুন্দর দোলনা সত্যি অনেক সুন্দর । বাড়ি ওয়ালা বলল ইলিয়াস মিয়া আপনি মনে স্বপন দেখছেন । ছাদ তো একে বারে ফাকা । এমন সময় বাড়ি ওয়ালী বলল ছাদ তো সারা বছর তালা দেয়া থাকে । তুমি কি বলছ বাবা ?
ইলিয়াস বলতে লাগলো । কাল রাতে বিদ্যুৎ ছিল না । আমি দেখি চাঁদে কে জানি হাঁটছে আর গান গাইছে । পরে আমি সিঁড়ি দিয়ে ছাদে যাই । কি সুন্দর চাদের আলো । আর এক অপূর্ব মেয়ে রবীন্দ্রনাথের গান গাইছিল । বাড়ি ওয়ালী বলল কি জানি বাবা কি দেখেছ । তবে আজ থেকে ১২ বছর আগে ছাদে বাগান ছিল । আমার ছোট ছেলের বউ সেই বাগান করেছিল । কিন্তু কপাল সে ছাদ থেকে পড়ে আত্মহত্যা করেছিল । তাঁর পর থেকে কেউ ছাদে যায় না। বাগান দুলনা সবেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে । এখন তো ছাদ একে বারে খালি । বিশ্বাস না করলে চল দিখিয়ে নিয়ে আসি । ইলিয়াস মিয়া কে
নিয়ে ছাদে আসে বাড়ি ওয়ালা বাড়ি ওয়ালী । না ছাদে কিছুই নেই পানির ট্যাং ছাড়া । ইলিয়াস মিয়ার কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছে যা দেখেছে গত রাত । মনে মনে ভাবতে থাকে স্বপ্ন দেখেছে কি ? । রাতের খাবার খেয়ে টেলিভিশন দেখছিল আর ভবছিল গত রাতে তাহলে সে কি দেখেছিল । ঘড়ীতে রাত ১২ টা - আজও অন্য দিনের মতো হটাত বিদ্যুৎ চলে গেল । কিছু ক্ষণ পড়েই ছাদে সেই শব্দ শুনতে পাচ্ছে । কে যেন হাঁটছে আর গান গাইছে । ইলিয়াস ভয়ে ভয়ে সিঁড়ি বেয়ে ছাদের উপরে উঠতে থাকে । ছাদের গেইট খোলা । ইলিয়াস ছাদে প্রবেশ করে । সেই বাগান সেই দোলনা সেই মেয়ে । ইলিয়া পিছনে যাইতে চাইলে ছাদের গেইট যেন নিজ থেকে লেগে যায় । মেয়েটা বলে ছাদে আসা নিষেধ জানা ছিল না । তুমি কি ভুলে গেছ ? তুমিও ভুলে গেলেও আমি ভুলে যাই নাই । কিউরেসিটি থাকা ভাল তবে বেশী থাকা ভাল না। একটা ধমকা হাওয়ার মতো ইলিয়াসের সামনে মেয়েটা চলে আসে । ইলিয়াস চেয়ে দেখে তাঁর মাথা নাখ মুখ থেকে রক্ত ঝরছে । ইলিয়াস একটা চিৎকার দিতে চায় এর আগেই ছাদ থেকে ধক্কা দিয়ে ইলিয়াস কে ছাদ থেকে ফেলে দেয় মেয়েটা । আর হাসতে থাকে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:৫৩
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগে আসলেন, দেখলেন ও জয় করলেন

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:৩০




সম্প্রতি নতুন একজন ব্লগার ব্লগে আসলেন, দেখলেন ও জয় করলেন। খুব সহজেই জয় করলেন। কার কথা বলছি- নিশ্চয় এতক্ষণে বুঝে গেছেন।

আসলে ব্লগে আসা এবং নিজের একটা অবস্থান তৈরী করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রেজা ঘটক

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ২:৩৩


ছবিঃ একদিন রেজা ভাইয়ের সাথে দেখা পরীবাগের কাছে। তিনি শাহবাগ যাচ্ছিলেন। সাথে ক্যামেরা ছিল বলে অনুরোধ করে এই ছবিটা তুলে নিয়েছিলাম। ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী, শুক্রবার।

আমাদের রেজা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখ-স্বপ্নের খোঁজে।

লিখেছেন শাহরিয়ার কবীর, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৮:৫১


অদ্ভুত দুর্বোধ্য তোমার চোখের ভাষা
আর তোমার রূপের সরলতা আমায় মুগ্ধ করে
এ হৃদয়ে ভেসে ওঠে এক অকল্পনীয় প্রতিচ্ছবি
তাই তোমার রূপের নজরদারিতে আমি বন্দি_;
এ আমার হৃদয়ের গভীর অনুভবের কথা
আমি পারব না কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেলাপিয়া মাছ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১০:০১



লায়লা রাত তিনটায় আম গাছের সাথে গলায় ফাঁস নিয়ে মারা গেল। গলায় ফাঁস নেওয়ার আগে সে গোছল করে নামাজ পড়েছে। তারপর তার তিন বছরের মেয়েকে কোলে নিয়ে কিছুক্ষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর দিকে ফিরে এসো, তিনি ক্ষমার হাত বাড়িয়ে আছেন

লিখেছেন নতুন নকিব, ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১০:৪০



কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহা-নাহু ওয়াতাআ'-লা আমাদের মত গোনাহগার বান্দাদের জন্য অভয় বানী শুনিয়েছেন। পাপ করেছ? অন্যায় করেছ? অপরাধ করেছ? হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তোমার অপরাধ ক্ষমা করার জন্যই তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×