হঠাৎ করেই মার শরীরটা খারাপ লাগতে শুরু করল। তখন রাত বারোটা। আমাকে একরকম জোর করেই ফোন করালো। বড়মামা, বড়মামি আর বু*দাকে আসতে বলা হলো। আমি বলছিলাম, কিছু হবে না। শুয়ে পড়।
বু* দা প্রেশার মেপে দেখল ১৯০ আর ১২০!!!
টিভি অন। চ্যানেল পাল্টাচ্ছে। এই এখন একটা, একটু পর অন্য কিছু। স্থির হলো এটিএন এ এসে। খবর। বড়মামির ব্যস্ততা। গামছা ভেজানো, মার চোখ মুখ মুছে দেয়া। বড়মামার একটানা বক্তৃতা। রহস্যের সমাধান। বরই এর সাথে আজ বিকেলে কাঁচা লবন খাওয়া হয়েছে বেশ, এজন্যই। মা বলল ইদানীং নাকি বেশি বাইরে বেরোচ্ছেন। হাসাহাসি হলো মাকে নিয়ে। তারপর বললেন, হ্যাঁ, আজ সব্জিতে লবণ বেশি ছিল। বড়মামা বললেন, কাঁচা লবণ না খাওয়ার জন্য তিনি আজ এমনকি আলুভর্তাও খান নি। খেলেও লবণটা ভাতের ভাঁপে সেদ্ধ করে নাকি খেয়েছেন ক দিন আগে।
আজ আমি আর মা নয়টাতেই রাতের ভাত খেয়ে ফেলেছি। মা আবার রান্না বসাবেন কি না ভাবতে শুরু করলেন। ভাত খেলে হয়ত ভালো লাগেবে। বড়মামা জোরেসোরে না করলেন। মা চুপসে গেলেন। অস্থির হয়ে কী সব বলতে লাগলেন। ওষুধ খুঁজতে খুঁজতে আমরা তখন ক্লান্ত। বড়মামা বকা দিলেন, কেন সব ওষুধ একসাথে রাখো না বুঝি না। মা বাচ্চাদের মতো কথা বলছিল।
ওরা আসার আগে আমি পা ঘষে দিচ্ছিলাম খুব জোরে জোরে। বেশ ঠাণ্ডা হয়ে এসেছিল।
সবাই চলে গেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লীগ চলছে। ম্যানইউ আর ইন্টার মিলান। মা নাক ডাকছে। মায়ের পায়ে অনেকগুলো মশা। উঠে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়তে বলব। কিছুটা শান্ত হয়ে এসেছে। যাওয়ার সময় আরেকবার মাপা হয়েছে। ১৭০ আর ১১০। ফ্যান ছাড়া থাকায় ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল সবকিছু। লাইটটাও অফ ছিল। নিশ্চিন্তেই ঘুমুচ্ছেন। কাল সকালেই আজ রাতের সমস্ত কিছু নিয়ে হাসাহাসি হবে সবাই মিলে। সবাই মানে আমি আর আমার মা।
২৫০২০৯০২৫৭
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


