রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রেলওয়েকে বেসরকারীকরণ থেকে রক্ষায় এগিয়ে আসুন

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

গবেষক ও পরিবেশ বিশেষ্ণগদের মতো সড়ক পথে অপরিকল্পিত বিনিয়োগ বর্তমানে পরিবেশ দূষণ, দুঘর্টনা, অর্থনীতি ক্ষতিসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন পর বিগত কয়েক বছরে পূর্বে কিছু ঋণ প্রদানকারী সংস্থা রেলে বিনিয়োগে করে। কিন্তু এ সকল ঋণ সহায়তায় রেল উন্নয়নে স্টেশন রি মডেলিংয়ের নামে শত শত কোটি টাকা কিভাবে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করা হচ্ছে তা একটি স্টেশনের উদাহরন থেকেই অনুমান করা যথেষ্ট। রি মডেলিং প্রকল্পের একটি স্টেশন আখাউড়া রেলওয়ে জংশন। সর্ব সাকুল্যে ২৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা স্টেশন রি মডেলিং বরাদ্দ দেয়া হয়। এই রি-মডেলিংয়ের টাকা থেকে অনধিক ২৫ কোটি টাকায় একটি অত্যাধুনিক রেল ইঞ্জিন ক্রয় বা সংগ্রহ করেও অবশিষ্ট টাকা দিয়ে কাঁচামালের যোগান দেয়াসহ রেলওয়ে কারখানায় ওভার টাইম চালু করে কমপক্ষে ২০টি ইন্টারসিটি ট্রেনের অকেজো শোভন চেয়ার কোচ মেরামত করা যেত। দেড়শ কোটি টাকার অধিক ভূর্তুকি প্রতিষ্ঠানে এহেন রি-মডেলিং মানে রেলওয়েকে বাকীর খাতায় শূন্যই গুনতে হচ্ছে।

ঋণের টাকা যখন সিলেটের শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন রিমডেলিং করা হচ্ছে, ঠিক সমসাময়িক ঘটনা হচ্ছে অর্থের অভাবে সিলেট-খাজাঞ্চি-ছাতক রেলপথ সংস্কার করা যাচ্ছে না, ফলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে। ঋণের টাকা ব্যয় হচ্ছে স্টেশন আধুনিক করা জন্য। মানুষ যদি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছতে পারে তবে স্টেশনে বসে থাকবে কেন? স্টেশন আধুনিক করা অপেক্ষা রেল লাইন উন্নয়ন করা জরুরি, জরুরি রেলে বগি ও ইঞ্জিন বাড়ানো।

একদিকে বলা হচ্ছে ঋণ ছাড়া চলা সম্ভব নয়, অপর দিকে এমন খাতে ঋণ দেওয়া বা নেওয়া হচ্ছে যা অপ্রয়োজনীয়। যেসব স্টেশন রি-মডেলিং করা হয়েছে সেসব স্টেশনের আয় বৃদ্ধি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা, মূল্যায়ণ করে জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মালিক জনগণ। রাষ্ট্রায়িত প্রতিষ্ঠান হিসাবে রেলওয়ে জাতীয় সম্পদ বিধায় রেলের মালিকও আপামর জনগণ এবং তাদের এ তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানই নয়। এ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িয়ে আছে ঐতিহ্য, সাংবিধানিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ, জ্বালানি, দারিদ্র বিমোচন, জনগণের অধিকার ও আকাংখার বিষয়সমূহ। আমাদের ঐতিহ্যগত এই প্রতিষ্ঠানটিকে উন্নয়নের লক্ষ্যে সবাইকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস, পরামর্শ ও প্রচেষ্টা সরকারকে এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়নে শক্তি, সাহস ও সামর্থ যোগাবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রেল উন্নয়নে সরকার ও জনগণের এই প্রচেষ্টা নতুন করে ভাবতে শেখাবে এ দেশের জনগণ নিজেদের উন্নয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে জানে। এ প্রচেষ্টা আমাদের অহংকার, স্বপ্ন, সাহস, জাতীয় ঐক্যকে সুসংহতভাবে প্রকাশ করবে। আসুন আমাদের সম্পদ রক্ষায় আমরা উদ্যোগী হই।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রেলওয়েবেসরকারীকরণপরিবহণপরিবেশঋণদাতা‌TrafficTransportDhakaRickshawTransport planRoad ;

 

  • ১৮ টি মন্তব্য
  • ১৬৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ১৫ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৯
comment by: রাইডার বলেছেন: ১ম :)
২. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪২
comment by: গিফার বলেছেন: সৈয়দা তাহমিনা বেগম সিমা বলেছেন মাইনাস....
৩. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪৪
comment by: কুম্ভকর্ণ বলেছেন: ৫ম
৪. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪৫
comment by: নাঈম বলেছেন: ৬ষ্ঠ :)
৫. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৩
comment by: বিডি আইডল বলেছেন: ৭
৬. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৩
comment by: দ্রগবা বলেছেন: মাইনাচ দিচি কইলাম ভাইডি ;)
৭. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫০
comment by: . . . এখনো খুঁজি বলেছেন: ঈদ তো ঈদ, এমনি সময়ও সরকারি পরিচালনায় থাকা ট্রেন আর বেসরকারি পরিচালানায় থাকা ট্রেনের পার্থক্য বোঝা যায় খুব সহজে। ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের করিডোরে টিকিট ছাড়া লোক তোলা, চোরাচালানের কাজে মাঝ পথে ট্রেন থামানো থেকে শুরু করে বাজে খাবার, বাজে সিট, নোংরা কামরা . . . পার্থক্য অনেক।সুতরাং পুরো রেলই যদি বেসরকারি হয়ে যায়, ভালই হবে।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩২

লেখক বলেছেন: আমি আপনার মত রেলওয়ের অনেক সমস্যা দেখেছি। বাংলাদেশ রেলওয়ের নানা প্রকার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু বেসরকারীকরণ কি সমাধান?
তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সকল বাস মালিক বাসের ভাড়া বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ের ভাড়া বাড়েনি। কারণ রেলওয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ । ব্যবসা থেকেও জনগণের সেবা প্রদানই এর লক্ষ্য।
আমাদের বুঝতে হবে আর এই দেশের অল্প কিছু লোক উচ্চমূল্যে সেবা কেনার ক্ষমতা রাখে। রেল যদি বেসরকারি হয় তাহলে সবাই ঐ উচ্চ মূ্ল্যে সেবা কিনতে পারবেন।


আপনার কিছু অভিযোগের মধ্যে খাবার মানের কথা বললেন এই খাবার পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের। এটি তো বেসরকারী হওয়ার পরও আপনি ভাল বলতে পারেনি।

বিগত সময় অনেক প্রতিষ্ঠানই বেসরকারী করা হয়েছে। কিন্তু টিকে থাকেনি। কোন প্রতিষ্ঠান আজও চালু হয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠানের মেশিনপত্র বিক্রি করে ফেলা হয়েছে। বেসরকারীকরণ নামে এভাবেই লুটপাট হচ্ছে। শুধু মাত্র জনগণের সম্পদগুলো এক শ্রেণীর লোক অল্প টাকায় কিনে নিয়েছে। লাভের মধ্যে আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ হারিয়েছি।

সেবা আর ব্যবসার মাঝে পার্থক্য রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থা রেলওয়ে সেবা প্রদানকারী সংস্থা আর বেসকারি পরিচালানাধীন গুলো ব্যবসা করে। ঈদ, পূজাসহ যেকোন পিক সময় সকল বেসরকারী পরিবহনের ভাড়া বাড়ে কিন্তু রেলওয়ের ভাড়া বাড়ে না। কারণ ব্যবসাই রেল এর মূল উদ্দেশ্য নয়।

৮. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০৫
comment by: পথিক!!!!!!! বলেছেন: আমি আর কি বলব
অলরেডী উই আর ভুক্তভোগী
টি এন্ড টি কে ..কোম্পানী করার নামে ...একে অলরেডী পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে...
যে টি এন্ড টি শত সম্যস্যা আর অনুযোগের পরেও দেশের একমাত্র লাভজনক সরকারী প্রতিষ্ঠান ছিল
বিগত আট বছরে সরকারী কোষাগারে যার দেয়া লাভের পরিমাণ...১০০ কোটি টাকা।

যদি কোম্পানী করার পরে সেই হার কমেই যেতে থাকে দ্রুত গতিতে....তাতে কি বোধদয় হয়না....যে ন তেনো করে কোম্পানী হিসাবে হাস্যকর এক মুর্তিতে রূপান্তর ..নীতি নির্ধারক পর্যায়ের গোয়ার্তুমি..ভুল প্লানিং অথবা কোন অপ মতলব ছাড়া আর কি ভাববেন...

তাপরেএ সাধারণ জনগণ টি এন্ড টির উপর পূর্বে থেকই খ্যাপা...যেটার পেছনে সরকারী সিস্টেম আর টানাপোড়েন আর ডিলেমাই অনেকাংশে দায়ী হলেও ..কোম্পানীর সূতো সবই সেই সরকারেরর কাছে বাঁধা আর আরো বেশী শক্ত কেরই যেন বর্তমানে.....

জনগণের লাভ টাও কি হলো বুঝলাম না
মাঝখান দিয়ে পঙ্গুত্ব এগোচ্ছে যেন মৃত্যুর পানে।


রেলওয়ের ক্ষেত্রে আশা করলাম সে রকম হবেনা...কিন্তু আশা কি এ দেশে সত্য হয়...নিরাশাই জয়ী এখানে সদা....

তাই ভাবিয়া কাজ করা উচিৎ

জরূরী সরকার কি অত ভেব কাজ করে....সন্দেহ হয়....

দীর্ঘ দিনের ধারাবাহিক ভাবনা গুটিকয়েক ব্রেন এত দ্রুত সব ভেব ফেলবে আশা করাটাই বোকামী।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

৯. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫৮
comment by: টোকন বলেছেন: বেসরকারী করলেই কি সব মুশকিল আসান হবে।.... এই করেই তো আমরা পাটশিল্পকে ধংস করেছি।

জাতীয় নৈতিক অবকাঠামো যদি ঠিক না হয় তাহলে এপাশে তারেক ওপাশে এফ রহমান-রাই রাজত্ব করবে। আর জনগন চিপায় পড়ে সুশীলিয় ভঙিতে ঠিক-বেঠিকের আলোচনা করতে থাকবে ।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। দায়িত্বশীল উন্নয়নের আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদগুলোকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে ভাবতে হবে।

১০. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৪
comment by: মনুমনু বলেছেন: স হমত।

""টোকন বলেছেন: বেসরকারী করলেই কি সব মুশকিল আসান হবে।.... এই করেই তো আমরা পাটশিল্পকে ধংস করেছি।

জাতীয় নৈতিক অবকাঠামো যদি ঠিক না হয় তাহলে এপাশে তারেক ওপাশে এফ রহমান-রাই রাজত্ব করবে। আর জনগন চিপায় পড়ে সুশীলিয় ভঙিতে ঠিক-বেঠিকের আলোচনা করতে থাকবে । ""

স হমত। +
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। নিজের সম্পদ বুঝা এবং চিনে বার আপনার এই শক্তিকে আমি শ্রদ্ধা করি ।

১১. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:১১
comment by: মুসতাইন জহির বলেছেন: যথারীতি আপনার সাথে....

বেসরকারি করণ আর ব্যবস্থাপনাগত উৎকর্ষতা বাড়ানো যে এক জিনিস না এইটা অনেকেরেই বুঝানো মুশকিল।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:১০

লেখক বলেছেন: মুশকিল বিষয়গুলো সহজ করে জনগণকে বুঝাতে হবে। ধন্যবাদ

১২. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:১৬
comment by: . . . এখনো খুঁজি বলেছেন: অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত সরকারি কোন প্রতিষ্ঠান সারাজীবন খারাপ থেকে কোন জাদুবলে "ব্যবস্থাপনাগত উৎকর্ষতা" বাড়াবে? কাছে কি কি নজির আছে?

বেসরকারিকরণ কোন শখ না। ব্যবস্থাপনাগত উৎকর্ষতা বাড়ানোর জন্যই এমন হাতে ছেড়ে দেয়া যে সরকারের চেয়ে ব্যবসাটাকে ভাল ভাবে চালাবে। এখন যদি বেসরকারি খাতে না দিয়েই ব্যবস্থাপনাগত উৎকর্ষতা বাড়ানো যায়, খুব ভাল। তা ই হোক। চাওয়াটা হল ভাল সেবা, সেটা সরকারি খাতেই হোক আর বেসরকারি খাতেই হোক।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৩

লেখক বলেছেন: বেসরকারিকরণ শখ না এই বিষয়টি সত্যি।
বেসরকারীকরণ এক ধরনের ব্যবসা। আপনি কী জানেন দেশের অনেক লাভজনক প্রতিষ্ঠানই বেসরকারীকরণ করা হয়েছে। এই লাভজনক প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণের উদ্দ্যেশ কী। শুধু কী শখ নাকি অন্যকিছু!!
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারীকরণ কিংবা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারী করা হয়েছে। আর তার ফলাফল হয়েছে ভয়াবহ। মানুষকে জিম্মি করে কোম্পানীগুলো ব্যবসা করছে।

রেলওয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এটি সত্যি কিন্তু তার এই সীমাবদ্ধতার মাঝেও যে সেবা দেয় তার পরিসংখ্যান শুনলে আপনিও আশা করি গর্ব করবেন এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে।

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৮১৫১