গবেষক ও পরিবেশ বিশেষ্ণগদের মতো সড়ক পথে অপরিকল্পিত বিনিয়োগ বর্তমানে পরিবেশ দূষণ, দুঘর্টনা, অর্থনীতি ক্ষতিসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন পর বিগত কয়েক বছরে পূর্বে কিছু ঋণ প্রদানকারী সংস্থা রেলে বিনিয়োগে করে। কিন্তু এ সকল ঋণ সহায়তায় রেল উন্নয়নে স্টেশন রি মডেলিংয়ের নামে শত শত কোটি টাকা কিভাবে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করা হচ্ছে তা একটি স্টেশনের উদাহরন থেকেই অনুমান করা যথেষ্ট। রি মডেলিং প্রকল্পের একটি স্টেশন আখাউড়া রেলওয়ে জংশন। সর্ব সাকুল্যে ২৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা স্টেশন রি মডেলিং বরাদ্দ দেয়া হয়। এই রি-মডেলিংয়ের টাকা থেকে অনধিক ২৫ কোটি টাকায় একটি অত্যাধুনিক রেল ইঞ্জিন ক্রয় বা সংগ্রহ করেও অবশিষ্ট টাকা দিয়ে কাঁচামালের যোগান দেয়াসহ রেলওয়ে কারখানায় ওভার টাইম চালু করে কমপক্ষে ২০টি ইন্টারসিটি ট্রেনের অকেজো শোভন চেয়ার কোচ মেরামত করা যেত। দেড়শ কোটি টাকার অধিক ভূর্তুকি প্রতিষ্ঠানে এহেন রি-মডেলিং মানে রেলওয়েকে বাকীর খাতায় শূন্যই গুনতে হচ্ছে।
ঋণের টাকা যখন সিলেটের শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন রিমডেলিং করা হচ্ছে, ঠিক সমসাময়িক ঘটনা হচ্ছে অর্থের অভাবে সিলেট-খাজাঞ্চি-ছাতক রেলপথ সংস্কার করা যাচ্ছে না, ফলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে। ঋণের টাকা ব্যয় হচ্ছে স্টেশন আধুনিক করা জন্য। মানুষ যদি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছতে পারে তবে স্টেশনে বসে থাকবে কেন? স্টেশন আধুনিক করা অপেক্ষা রেল লাইন উন্নয়ন করা জরুরি, জরুরি রেলে বগি ও ইঞ্জিন বাড়ানো।
একদিকে বলা হচ্ছে ঋণ ছাড়া চলা সম্ভব নয়, অপর দিকে এমন খাতে ঋণ দেওয়া বা নেওয়া হচ্ছে যা অপ্রয়োজনীয়। যেসব স্টেশন রি-মডেলিং করা হয়েছে সেসব স্টেশনের আয় বৃদ্ধি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা, মূল্যায়ণ করে জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মালিক জনগণ। রাষ্ট্রায়িত প্রতিষ্ঠান হিসাবে রেলওয়ে জাতীয় সম্পদ বিধায় রেলের মালিকও আপামর জনগণ এবং তাদের এ তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানই নয়। এ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িয়ে আছে ঐতিহ্য, সাংবিধানিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ, জ্বালানি, দারিদ্র বিমোচন, জনগণের অধিকার ও আকাংখার বিষয়সমূহ। আমাদের ঐতিহ্যগত এই প্রতিষ্ঠানটিকে উন্নয়নের লক্ষ্যে সবাইকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস, পরামর্শ ও প্রচেষ্টা সরকারকে এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়নে শক্তি, সাহস ও সামর্থ যোগাবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রেল উন্নয়নে সরকার ও জনগণের এই প্রচেষ্টা নতুন করে ভাবতে শেখাবে এ দেশের জনগণ নিজেদের উন্নয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে জানে। এ প্রচেষ্টা আমাদের অহংকার, স্বপ্ন, সাহস, জাতীয় ঐক্যকে সুসংহতভাবে প্রকাশ করবে। আসুন আমাদের সম্পদ রক্ষায় আমরা উদ্যোগী হই।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



