সুব্লগার কৌশিক আহমেদ একটি হাইপোথিসিস খাড়া করে কইছেন যে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি থাইকা চোখ সরাইতে গিয়া সরকার তার মুজাহিদ বাহিনী দিয়া ,মুক্তিযুদ্ধ নয়-গৃহযুদ্ধ কইয়া নতুন আইটেম ছাড়ছে বাজারে ।এবং আমরা (উনার ভাষায় যাদের মাথায় গোবর ) মধ্যবিত্তরা এইটা নিয়া লাফাইয়া পড়ছি ।
উনি বিষয়টারে পুরা সরকারী ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখছেন ।
কৌশিক সাহেবের এই হাইপোথিসিসটা আমার কাছে "সুশীল বুদ্ধিজীবি সুলভ" মনে হইলো ।আমার কাছে বরং মনে হইলো ,কৌশিক আহমেদ বা উনার মতো যারা আছেন ,অর্থাৎ যাদের মাথায় আমাদের মতো গোবর পুরা নাই ,যারা হুজুগে লাফ দিয়া উঠেন না ,তারা আমাদের এই লাফালাফিটারে হালকা কইরা দেখানোর জন্য এইখানে একটি নতুন থিউরি দিতে চাইলেন ।
আমরা উনাদের সস্নেহ বকা খাইয়া এই ইস্যু থাইকা সইরা আইসা গরীববন্ধু সাজতে লাগবো ।
আমার হাইপোথিসিস হইলো ,কৌশিক আহমেদ সহ অনেক সুশীল বুদ্ধিজীবিরা বরং অন্য ধরনের ষড়যন্ত্রের সাথে বুইঝা হোক,না বুইঝা হোক জড়িত হইয়া গেছেন ।
জামাতি শুওরের বাচ্চারা (জামাতিদের শুওরের বাচ্চা বলায় যদি ব্যান খাই,আমি কেয়ার করি না )সঠিক টাইম ছাড়া কিছু করে না ।গোলাম আযমরে দেশে আনছে ৭৮ সালে,কিন্তু তারে আমীর হিসাবে প্রথম ঘোষনা দিছে আইসা ৯২ সালে ।খিয়াল কইরা দেখেন,তখন তাদের অবস্থা অনুকূলে ছিল মনে করছে ওরা ।১৪ বছর লাগছে এইটুকু করতে ।
এখন এই সরকারের সময় সবচাইতে অনুকূলে আছে জামাত ।সরকারে থাকা সত্বেও তারা অভিযুক্ত হইতেছে না,অভিযুক্ত হইতেছে খালি বিএনপি ।
এই সময়ে কিছু ব্যাপার ঘটছে :
১.সব বড়ো রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা জেলে নাইলে পলাতক ।
২.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রন ,শিক্ষক আর প্রগতিশীল ছাত্রনেতারা জেলে ।
৩.মিডিয়া চাপের মুখে ।টিভি স্টেশন বন্ধ হইছে একটা,ঈদ সংখ্যা বন্ধ হইছে দুইটা,বড়ো বড়ো দৈনিকগুলার সম্পাদক কিংবা মালিকের বিরুদ্ধে চাপ আছে ।
তাইলে দেখা যায়,এখন রাজনৈতিক অবস্থা খুব সুবিধার না ।
"মুক্তিযুদ্ধরে গৃহযুদ্ধ "বলা বা "দেশে যুদ্ধাপরাধী নাই " বলার এখনই উপযুক্ত সময় ।বড়ো কোন প্রতিরোধ আসবে না ।কয়েক বছর পরে কওয়া যাইবো যে,বহু বছর ধইরাই তো কইতাছি ,কোন প্রতিরোধ তো পাইলাম না ।
কিন্তু হিসাব নিকাশে ভূল হইছে ।
লড়াকু বাঙালি আরেকবার থাপ্পড় দিছে জামাতের গালে ।
এই ব্লগের কথাই ধরি ।গত দুইদিন এই ব্লগে একটাও জামাতি দাড়াইতে পারে নাই ।২৮ অক্টোবরের গান গাইতে আইলেই ,ডজন ডজন ব্লগার তার বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়া রাজাকারী পোস্ট গুলারে প্রথম পাতা থাইকা সরাইয়া দিছে,রাজাকারদের পোস্ট গুলায় গড়ে ৭/৮টা কমেন্ট পড়ছে বইলাও মনে হয় না ।
দেখা যাইতেছে যে জামাতিদের হিসাব নিকাশ আরো একবার প্যাচগুচ খাইয়া মুখ থুবড়াইয়া পড়ছে ।
তাই এখন এইটারে সামনে থাইকা সরানোর জন্য দ্রব্যমূল্য আর ইয়াবারে বড়ো কইরা আনা হবে ।এই আননের কাজটা আবার করবেন আমাদের কিছু সুশীল বুদ্ধিজীবি,যাতে কইরা একটা ধূয়াশা তৈরী হয় । এই সব সূশীল সমাজীয় ব্যক্তিরা এমনই ইউটোপিক জগতে থাকেন যে,উনারা বিশ্বাস করেন ৯৫ টাকা সোয়াবিন তেলের দাম হইলে মধ্যবিত্তের কিছু যায় আসে না ।
৮/১০ হাজার টাকা থাইকা ১৫/২০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া মাইনষের যদি ৯৫ টাকা সোয়াবিন কিনতে গায়ে লাগে না বইলা কেউ মনে করে,তাইলে তারে আর কী কইবো কন ?উনি সম্ভবত :কখনোই মধ্যবিত্ত ছিলেন না,এর চাইতে বেশি কিছু কইলাম না ।
আসল কথা হইলো,গায়ে লাগে ।দাম বাড়লে মধ্যবিত্তেরও খুবই গায়ে লাগে।
বাচ্চার জন্য দুধ কিনতে না পারলে যে মানুষটা কাতর হয়,ক্ষুব্ধ হয়,সে এই সমাজের মধ্যবিত্তই ।
কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়া কিছু কইলে মধ্যবিত্তের শুধু গায়ে লাগে না,লাগে অন্তরে ।তার অস্তিত্ব নিয়া টান পড়ে ।তখন সে তার ক্ষুধা ভুইলা ,তার সন্তানের দুধের কথা ভুইলা লাফাইয়া পড়ে ।
বাঙালির এই মধ্যবিত্তকে চিনতে বারবার ভুল করছে জামাতে ইসলামী ।
সেই একই ভুল (!)কৌশিক আহমেদও করলেন ,তাতে আর আশ্চর্য কী ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




